শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৪৫ পি.এম
রাঙ্গামাটি, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’ উপলক্ষে রাঙ্গামাটিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব বর্ণিল আনন্দের সাথে শুরু হয়েছে।
মূল অনুষ্ঠানটি আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে, তবে আজ শুক্রবার থেকে জেলার বিভিন্ন বিহারে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজন শুরু হয়ে গেছে।
আজ সকালে রাঙ্গামাটি সদরের বালুখালি এলাকার ‘তপোবন অরণ্য কুটিরে’ হাজারো বৌদ্ধ নর-নারীর সমাগম ঘটে। সাদা পোশাকে সমবেত পুণ্যার্থীরা প্রার্থনা করেন এবং ‘সাধু সাধু’ ধ্বনিতে পুরো কুটির প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। এ সময় সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান ও বুদ্ধপ্রতিবিম্ব দানসহ নানা পুণ্যকর্ম সম্পাদন করা হয়।
ধর্মীয় এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান।
সংঘপ্রধান হিসেবে উপস্থিত থেকে পুণ্যার্থীদের পঞ্চশীল প্রদান করেন এবং ধর্মদেশনা দেন বনভান্তের শিষ্যসংঘের প্রধান ও রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান ভদন্ত প্রজ্ঞালংকার মহাথের।
এ সময় অন্যান্য বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পাহাড়ের দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো পুণ্যার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান শুরুর দিকে দেশের মানুষের মঙ্গল কামনায় সমবেত ভাবনা ও প্রার্থনা করা হয়।
বৌদ্ধ ভিক্ষুরা দীর্ঘ তিন মাসের প্রথাগত ‘বর্ষাবাস’ (উপাসনা ও ধ্যান) যাপন শেষে মানবকল্যাণে ধর্ম প্রচারে বেরিয়ে পড়বেন। ২৫ অক্টোবর মূল প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হবে। আর এই শুভ তিথির পরদিনই শুরু হবে বৌদ্ধদের পরম পবিত্র ও কাঙ্ক্ষিত মাসব্যাপী ‘কঠিন চীবর দান’ উৎসব।
পাপমোচন, মৈত্রীভাব এবং জগতের সকল প্রাণির সুখ-শান্তি কামনায় পাহাড়ে এখন ছড়িয়ে পড়েছে অপরূপ ধর্মীয় ও উৎসবের আবহ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পেশাদার ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনায় আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে মেগা ক্রীড়া আসর ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’।
এই টুর্নামেন্টের প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এবিজি স্পোর্টস সিটির জুলকান ইনডোর অ্যারেনায় একটি বর্ণাঢ্য ‘অধিনায়ক সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ১০টি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট ও ফুটবলের ২০ জন দলনেতা (অধিনায়ক), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতার সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা, খেলার নিয়মাবলি নিয়ে আলোচনা এবং গ্রুপ বিন্যাসের জন্য আনুষ্ঠানিক লটারি অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি প্রতিযোগিতার অফিশিয়াল জার্সি ও ট্রফি উন্মোচন এবং খেলোয়াড়দের মাঝে জার্সি বিতরণ করা হয়।
এবিজি চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণ হলো- প্রথমবারের মতো রাতের ফ্লাডলাইটের আলোয় একই সঙ্গে ক্রিকেট ও ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট ও ফুটবলের পৃথক ক্যাটাগরিতে দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতিযোগিতা করবে।
গ্রুপ বিন্যাস:
ক্রিকেট টুর্নামেন্ট:
গ্রুপ 'এ': ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি), ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব), ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
গ্রুপ 'বি': আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) এবং ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
ফুটবল টুর্নামেন্ট:
গ্রুপ 'এ': নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি), ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ), ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
গ্রুপ 'বি': আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব), সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স।
তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও উৎসাহিত করার জন্য ক্রিকেট ও ফুটবলের পৃথক ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ১০ লাখ টাকা এবং রানার্স-আপ দলের জন্য ৫ লাখ টাকা প্রাইজমানি ঘোষণা করা হয়েছে।
অধিনায়ক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবিজি স্পোর্টস সিটির ডিরেক্টর মো. ইমরুল হাসান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া এডভাইজার আব্দুল বারী, এবিজি স্পোর্টস সিটির অ্যাডভাইজার মো. লিয়াকত হোসেন ও মো. নাজমুল আলম ভূঁইয়া, টি স্পোর্টসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তাসভির উল ইসলাম, অপারেশন্স ম্যানেজার (ফুটবল) সালমান হাসান এবং অপারেশন্স ম্যানেজার (ক্রিকেট) ইকরাম হোসেন রাফি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক মো. ইমরুল হাসান উল্লেখ করেন, এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের যাত্রা শুরু হচ্ছে ফুটবল ও ক্রিকেট দিয়ে। ভবিষ্যতে আরও নানা ইভেন্ট যুক্ত করে এ আয়োজনকে আমরা আরও বৃহৎ পরিসরে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের জন্য এমন একটি মঞ্চ তৈরি করা, যেখানে তারা নিজেদের মেধা ও সামর্থ্য প্রদর্শন করে জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রাখার সুযোগ পাবে।
বসুন্ধরা গ্রুপের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের অবদান নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন খেলায় পৃষ্ঠপোষকতা, বিশ্বমানের অবকাঠামো নির্মাণ এবং নতুন নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্রীড়াখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছি। এই উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়া অবকাঠামো ‘এবিজি স্পোর্টস সিটি’ সেই স্বপ্ন ও অঙ্গীকারেরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ-এর চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর সাহেবের পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনাতেই এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬ শুরু হচ্ছে। এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ সময়ের পরিক্রমায় আরও বড় ও সমৃদ্ধ হবে এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে নেবে।
আয়োজক কর্তৃপক্ষ ও অংশগ্রহণকারী অধিনায়কদের প্রত্যাশা, এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলগত সংহতি ও নেতৃত্বগুণ বিকশিত হবে এবং এখান থেকেই আগামী দিনের জাতীয় পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা উঠে আসবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইউরোপজুড়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কম বেতন, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা। ফ্রান্সে সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হওয়ার পর ইউরোপের অন্তত সাতটি দেশের তরুণেরা এতে যোগদান করেছেন।
স্পেন ও পর্তুগালে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তরুণেরা রাজধানীতে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। ফ্রান্স ও ইতালিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে বড় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রিসে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাড়তি অর্থ বরাদ্দের দাবি নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। অন্যদিকে, আলবেনিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে কিছু তরুণ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবিতে দেশভেদে ভিন্নতা থাকলেও তাঁদের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে মিল রয়েছে—ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ। মাদ্রিদের কেন্দ্রস্থলে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তাঁবুর শিবিরে অবস্থান করছেন স্পেনের তরুণেরা। মঙ্গলবার সেখানে ২৭ বছর বয়সী কনসার্ট মঞ্চকর্মী সাচা কোসি বলেন, “ভবিষ্যৎহীন প্রজন্ম আবার ফিরে এসেছে।”
কোসি আরও বলেন, কম বেতন, উচ্চ বাড়িভাড়া, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অসহায়ত্ব এবং চাকরির অনিশ্চয়তা তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়াচ্ছে। আগের প্রজন্মের মতো সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক সুবিধা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও তাঁদের শঙ্কা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আমরা সবকিছুতেই ক্লান্ত। পরিস্থিতি ক্রমাগত এমনভাবে বদলাচ্ছে, যা আমাদের কোনো উপকারে আসছে না।”
ইউরোপের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিও তরুণদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। জনসংখ্যার বার্ধক্য, পেনশনসহ সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপে সরকারগুলোকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলানোর চ্যালেঞ্জ এবং রাশিয়ার আগ্রাসন ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের মিত্র ডেনমার্কের ভূখণ্ড নিয়ে হুমকি দিয়েছেন। একই সময়ে ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কমে আসায় ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা-সম্পর্কিত প্রতিশ্রুতি কমার প্রেক্ষাপটে ইউরোপে সামরিক ব্যয়ও বেড়েছে, যা সরকারি বাজেটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
ইতালির পাদুয়া শহরের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী স্টেলা সালিস বলেন, তরুণদের মধ্যে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ও ক্লান্তির অনুভূতি রয়েছে। তাঁর মতে, ইউরোপের তরুণেরা ক্রমেই মনে করছেন, তাঁদের প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।
বর্তমান আন্দোলনগুলো বিক্ষোভের সংখ্যা ও স্থায়িত্বের দিক থেকে ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর ছড়িয়ে পড়া কৃচ্ছ্রসাধনবিরোধী বিক্ষোভের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে বিভিন্ন দেশের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ছে। ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বেলজিয়ামের তরুণদের উৎসাহিত করেছে। ইতালি ও জার্মানির বিক্ষোভকারীরাও ফ্রান্সে শুরু হওয়া একটি স্লোগান ব্যবহার করছেন। সালিস আশা করছেন, আন্দোলনটি জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হবে।
তবে কিছু দেশে বিক্ষোভের সঙ্গে সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। গত সপ্তাহান্তে উত্তর ইতালিতে দাঙ্গার ঘটনায় কয়েক ডজন মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর দেশটির সরকারের মন্ত্রী ও কট্টর ডানপন্থী নেতা মাত্তেও সালভিনি মিলানে ৫০০ সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেন। তাঁর বক্তব্য, শহরটিকে অপরাধীদের হাত থেকে রক্ষা করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিবাসনবিরোধী অবস্থানও তুলে ধরেন।
ফ্রান্সে কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালি দলও সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। আগামী বসন্তের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলটির প্রার্থী মেরিন লে পেন রোববার বলেন, ছয় মাসের মধ্যে ফরাসি জনগণ কর্তৃত্ব ও নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ বেছে নিতে পারবেন। দলটির সভাপতি জর্দান বারদেলাও একই দিন দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন।
তবে ইউরোপের সরকারগুলোর সামনে তরুণদের সমস্যা সমাধানের পথ সহজ নয়। সীমিত সম্পদের মধ্যে শিক্ষা, পেনশন, আবাসন, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবায় অর্থ বরাদ্দের ভারসাম্য রাখতে হবে। এর সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, সরকারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধি এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মতো অর্থনৈতিক চাপও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
ফ্রান্সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সালোমে রেনো বলেন, তিনি এমন একটি চাকরি চান, যা করতে তাঁর ভালো লাগবে। প্রতি মাসে খরচের হিসাব করে কোনো কিছু কেনার সামর্থ্য আছে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে চান না তিনি।
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে আবাসন ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। তাঁদের একজন ২৯ বছর বয়সী মনোবিজ্ঞানী মোরানা মন্টেইরো বলেন, তরুণেরা কাজ করতে চান, তবে মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে। তাঁর প্রশ্ন, কাজ করেও যদি বাড়ি কেনা, মাসিক বিল পরিশোধ কিংবা পরিবার গড়ার সামর্থ্য না থাকে, তাহলে সেই কাজের অর্থ কী?
আলবেনিয়ায় শিক্ষার্থীরা দুর্নীতিবিরোধী বৃহত্তর ‘ফ্লেমিঙ্গো’ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের দাবিতে চলা এই আন্দোলনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা শিক্ষা খাতে সুরক্ষা ও বাড়তি বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছেন। আন্দোলনটির নাম এসেছে এমন একটি এলাকার পাখির আবাসস্থল থেকে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের একটি বিলাসবহুল পর্যটন প্রকল্পের জন্য সরকার অনুমোদন দিয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো প্রকল্পটির বিরোধিতা করছে।
২২ বছর বয়সী অভিনেতা ও আন্দোলনকর্মী রেডজান শকেম্বি বলেন, “আমরা এমন একটি প্রজন্ম, যারা নীরব না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” তাঁর ভাষ্য, আগের প্রজন্ম একই মাত্রার স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার ভোগ করতে পারেনি। আলবেনিয়ার শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বাড়তি অর্থ বরাদ্দের দাবিতে প্রায় ১৫০ দিন আগে জ্ভেরনেভে শুরু হওয়া বিক্ষোভে তিনি যোগ দেন। তাঁর লক্ষ্য আরও স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক আলবেনিয়া গড়ে তোলা। শকেম্বি বলেন, “আমরা একটি ভালো দেশ চাই এবং আমরা সেই দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অবদান রাখতে চাই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন।
আজ শুক্রবার (২৩) সকালে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি মঈন খানের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। মঈন খান হুইলচেয়ারে বসে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় হাসপাতালের হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ শাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ অন্যান্য চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান দুই দিন ধরে অসুস্থ হয়ে এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে এভারকেয়ার হাসপাতালে ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে গিয়ে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, ‘শ্বাসকষ্ট ও হৃদ্রোগের সমস্যা নিয়ে অসুস্থ হয়ে বুধবার রাতে তিনি ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তাঁর চিকিৎসা চলছে। গতকালের চেয়ে আজ তার অবস্থা স্থিতিশীল আছে।’
ডা. জাহিদ জানান, এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আতিকুর রহমান, ডা. জিয়াউল হক ও ডা. জাফর ইকবালের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন ড. আবদুল মঈন খান।
এছাড়া বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে যান। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হন।
ড. আবদুল মঈন খানের দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনায় তার পরিবার দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে। মঈন খানের সহধর্মিণী রোকসানা খন্দকার এবং তিন কন্যা তার শয্যাপাশে রয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) চোরাচালানকৃত ২০০ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক, ৬৫৩ পিস ওষুধ এবং একটি ইজিবাইক জব্দ করেছে। এ অভিযানের সময় এক দালালসহ তিন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ অক্টোবর আনুমানিক দুপুর ২টা ২০ মিনিটে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ নতুনপাড়া বিওপির একটি দল সীমান্ত পিলার-৬৬/৭-এস হতে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান চালায়। নায়েব সুবেদার মোহা. শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে একটি আম বাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২০০ প্যাকেট ভারতীয় অবৈধ কীটনাশক উদ্ধার করা হয়।
খোসালপুর বিওপির একটি টহলদল যোশপুর গ্রাম থেকে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় তিন বাংলাদেশি নাগরিক ও এক দালালকে আটক করে। আটক দালাল হলেন মহেশপুর থানার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের বিল্লাল হোসেন (৩৫)। আটক হওয়া তিন বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে রয়েছেন কুমিল্লার সায়েদ আলম (২২), সাব্বির হোসাইন (২৩) এবং চাঁদপুরের মো. মাহমুদুল হাসান (২১)। তাদের কাছ থেকে একটি ইজিবাইকও জব্দ করা হয়।
এদিকে, আজ ২৩ অক্টোবর ভোরে যাদবপুর বিওপির এলাকা থেকে নায়েব সুবেদার মো. আবু বকরের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বেতবাড়িয়া এলাকার একটি ক্ষেতের পাশ থেকে ৬৫৩ পিস ভারতীয় চোরাচালানি ওষুধ উদ্ধার করে বিজিবি।
৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী এমদাদুর রহমান জানান, আটকদের বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা গ্রহণ করে উদ্ধারকৃত মালামাল ও ইজিবাইকসহ তাদের মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ