শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩২ পি.এম
এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রাজু আহমেদ লিখেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, রিকমেন্ডেড জজ, ১৮তম বিজেএস’। এটি তখন ছিল তার ভবিষ্যতের একটি স্বপ্ন। এক বছর পর সেই স্বপ্নটি বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তার মেধাক্রম ২৬তম।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ২০০ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ১৯ জন শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত আছেন। এই ১৯ জনের মধ্যে আইন বিভাগের ১৪ জন, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের চারজন এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের একজন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
রাজু আহমেদ বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের স্নাতকোত্তর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। মাস্টার্স শেষ হওয়ার আগেই তিনি সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ১২ নম্বর খাসকররা ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রামে। রাজুর এই সাফল্যে তার গ্রামবাসী এবং বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
রাজু আহমেদ বলেন, "মাস্টার্সে পড়াশোনা চলমান থাকায় একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি জুডিশিয়ারির প্রস্তুতি নেওয়া এবং দুটোকে সামলে চলা চ্যালেঞ্জিং ছিল।" তিনি উল্লেখ করেন, "ইবিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই জজ হওয়ার ইচ্ছা ছিল। প্রথম থেকেই পড়াশোনার ইচ্ছা থাকলেও সেভাবে শুরু করতে পারিনি। মূল প্রস্তুতি শুরু করি তৃতীয় বর্ষ থেকে। নিজের স্বপ্নের কথা এক বছর আগে লিখে রেখেছিলাম। এক বছর পর সেটি বাস্তবে দেখতে পেয়ে আপ্লুত।"
এক বছর আগে দেওয়া সেই ফেসবুক পোস্টের প্রসঙ্গে রাজু আহমেদ বলেন, "সময়টা তখন ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, বাংলাদেশের বিজয় দিবস। সেদিন থেকেই মনে মনে একটি স্বপ্ন বুনেছিলাম—১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে (বিজেএস) একজন সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হতে হবে।" তিনি আরও জানান, "সেই স্বপ্ন পূরণের পথ মোটেও সহজ ছিল না। এই দীর্ঘ যাত্রায় জীবনের অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হয়েছে, অনেক কিছু থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হয়েছে।"
তিনি বলেন, "প্রতিটি কঠিন সময়ে পাশে পেয়েছি আমার মা-বাবা, বোন, দুলাভাই, মামা, বন্ধুবান্ধব, শিক্ষক, প্রিয়জন ও বড় ভাইদের। তাদের দোয়া, ভালোবাসা, সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা আমাকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যেতে সাহস দিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, আজ সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। ১৮তম বিজেএসে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি, মেধাক্রম ২৬তম।"
নিজের সাফল্যের জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাজু বলেন, "আল্লাহ তাআলা আমাকে আমার প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি দান করেছেন। তার এই অশেষ রহমত ও মেহেরবানির জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। এই অর্জন শুধু আমার একার নয়। আমার পথচলায় যারা কোনো না কোনোভাবে পাশে ছিলেন, সাহস দিয়েছেন, উৎসাহ দিয়েছেন, দোয়া করেছেন কিংবা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছেন—প্রত্যেকের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।"
রাজুর এই সাফল্যে তার পরিবার, গ্রামের মানুষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। মাস্টার্সের পড়াশোনার পাশাপাশি ধারাবাহিক প্রস্তুতি নিয়ে এমন সাফল্য অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আজ ২৫ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব ফুসফুস দিবস। ফুসফুস শরীরে অক্সিজেন পৌঁছানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং শরীর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দেওয়ার কাজ করে। তবে ধূমপান, বায়ুদূষণ, ঘরের ধোঁয়া এবং বিভিন্ন পরিবেশগত কারণে ফুসফুস প্রতিনিয়ত ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।
ফুসফুসের স্বাস্থ্য সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফুসফুস দিবস উদযাপন করা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৬ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দীর্ঘস্থায়ী বাধাজনিত ফুসফুসের রোগ বা সিওপিডির কারণে প্রায় ৩৪ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। একই সময়ে হাঁপানিতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ৩৬ কোটি ৩০ লাখ ছিল এবং এই রোগে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার মানুষের।
ফুসফুসের ক্ষতির একটি প্রধান কারণ হলো ধূমপান। সিগারেট, বিড়ি, চুরুট অথবা হুক্কার ধোঁয়া দীর্ঘদিন ধরে গ্রহণ করলে দীর্ঘস্থায়ী বাধাজনিত ফুসফুসের রোগ, দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিস, এমফিসেমা এবং ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। শুধু নিজের ধূমপান নয়, অন্যের ধোঁয়ার সংস্পর্শেও ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এছাড়া যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গত ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা এবং আবর্জনা পোড়ানোর ধোঁয়া শ্বাসতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ঘরের পরিবেশও ফুসফুসের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাঠ বা কয়লার মতো জ্বালানি দিয়ে রান্নার সময় যদি পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে ঘরের ভেতরে ধোঁয়া জমে যায়। দীর্ঘ সময় এমন পরিবেশে থাকলে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বাড়তে পারে। শিশু, নারী এবং বয়স্করা এই ধরনের ঝুঁকিতে তুলনামূলক বেশি পড়তে পারেন।
ফুসফুসের রোগের লক্ষণ সবসময় একই রকম হয় না। দীর্ঘদিন ধরে কাশি, কফ, বারবার শ্বাসকষ্ট, সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে যাওয়া, শ্বাস নেওয়ার সময় শব্দ হওয়া, বুক ভার লাগা অথবা ঘন ঘন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ হলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।
দীর্ঘস্থায়ী কাশি, জ্বর, রাতে ঘাম এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে যক্ষ্মার বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ফুসফুসের স্বাস্থ্য রক্ষার প্রথম পদক্ষেপ হলো ধূমপান এবং তামাক থেকে দূরে থাকা। ঘরে ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, বায়ুদূষণ এড়িয়ে চলা এবং ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত হাত ধোয়া এবং প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
তবে দীর্ঘস্থায়ী কিংবা তীব্র শ্বাসকষ্টকে অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বুকের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, শ্বাসের পরীক্ষা, রক্ত বা কফ পরীক্ষা এবং অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন।
হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট, ঠোঁট নীলচে হয়ে যাওয়া, তীব্র বুকব্যথা অথবা কাশির সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রক্ত গেলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
ফুসফুসের যত্ন নেওয়া শুধুমাত্র একটি দিনের বিষয় নয়। প্রতিদিন ধোঁয়ামুক্ত বাতাসে থাকা, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে ফুসফুসকে সুস্থ রাখা সম্ভব। নিরাপদ শ্বাসের জন্য সচেতনতা ও যত্ন—দুটিই অপরিহার্য।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস, যা পাহাড়, ঝরনা এবং সবুজের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা, সেখানে ভোরের নীরবতায় একটি মায়া হরিণের দেখা মিলেছে। ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্যের এক অনন্য দৃশ্য হিসেবে হরিণটির এমন বিচরণ একটি শিক্ষার্থীর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর পৌনে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলের খোলা উঠোনে হরিণটিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। হলটির বাসিন্দা ও হল সংসদের নির্বাহী সদস্য উম্মে হাবিবা এই দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করেন।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে উম্মে হাবিবা জানান, সকাল ৬টার দিকে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকানোর সময় হঠাৎ দূরে একটি প্রাণী চোখে পড়ে, যা হরিণের মতো মনে হচ্ছিল। তবে তখনো স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছিল না। প্রাণীটি কিছু একটা খাচ্ছিল, প্রথমে মনে হয়েছিল কুকুর কিংবা বুনো ছাগল। পরে তার মাথা ওঠানো-নামানোর ধরন দেখে বুঝতে পারি, এটি সম্ভবত একটি হরিণ। এরপর কৌতূহল সামলাতে না পেরে হলের চতুর্থ তলা থেকে দ্রুত নিচে নেমে যাই।
নিচে নেমে হরিণটিকে আরও কাছ থেকে দেখতে পান উম্মে হাবিবা। সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, নিচে গিয়ে দেখি, মাঝারি আকৃতির একটি মায়া হরিণ দূরের ঝোপঝাড়ের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দেখে সেটি ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। কিছুক্ষণ সে আমার দিকে অপলক তাকিয়ে ছিল। মুহূর্তটি এতটাই বিস্ময়কর ছিল যে, আমিও স্থির হয়ে গিয়েছিলাম।
কিছুক্ষণ পর হরিণটি আবার পাহাড়ের দিকে চলে যায়। উম্মে হাবিবা বলেন, এরপর হঠাৎ কী ভেবে যেন দৌড়ে পাহাড়ের দিকে চলে যায়। এত কাছ থেকে তাকে দেখেছি যে, আমার দিকে এগিয়ে আসা ও তাকিয়ে থাকার ভঙ্গি দেখে একসময় আমিই কিছুটা ভয় পেয়ে আর সামনে এগোতে পারিনি।
এই ঘটনাকে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্যাম্পাস জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দৃশ্যগুলোর একটি হয়ে থাকবে এই মুহূর্তটি। মাঝে মাঝে ভাবি, ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় হয়েছে, অথচ চোখে পড়ার মতো তেমন কিছুই তো দেখলাম না। হয়তো আল্লাহ আমার সেই আক্ষেপটুকুও কবুল করে নিয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তৃত পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাস রয়েছে। এসব প্রাণীর আবাস ও বিচরণস্থল নিরাপদ রাখা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
চবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ড. ফরিদ আহসান বলেন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। হরিণগুলোর বিচরণস্থল অবাধ ও নিরাপদ রাখতে হবে। বিকেলে ক্যাম্পাসের গহিনে প্রাণীদের চলাচলের এলাকায় হাঁটাহাঁটি করা যাবে না।
ক্যাম্পাসে আগে বিভিন্ন সময়ে মায়া হরিণের দেখা মিললেও বর্তমানে লোকালয়ের কাছাকাছি তাদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম চোখে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে হরিণসহ বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল ও চলাচলের পথ রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ দল আসিয়ান কাপের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে। তবে প্রথম ম্যাচেই লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা বড় পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে। শক্তিশালী মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৩-০ গোলের ব্যবধানে হেরেছে জামাল-হামজারা। এই পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের টুর্নামেন্টের শুরু হলো হতাশার সঙ্গে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ দলের ওপর চাপ সৃষ্টি করে খেলতে থাকে মালয়েশিয়া। চতুর্থ মিনিটে কর্নার থেকে বল ফিরে আসার পর মালয়েশিয়ার হালিম ফয়সালের দূরপাল্লার শট গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ ফিস্ট করে কর্নারের বিনিময়ে ফেরান।
এরপর সোহেল রানাকে ফাউল করে মালয়েশিয়ার বার্গসন ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন। তবে নবম মিনিটে চেং কুয়েন্টিংকে অহেতুক ফাউল করে হলুদ কার্ড পান বাংলাদেশের রাকিব হোসেন। রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত থাকা বাংলাদেশ প্রথম ধাক্কাটি খায় ম্যাচের ১৮তম মিনিটে।
নিজেদের অর্ধ থেকে লিয়ানে নোয়ার উড়িয়ে মারা বল বাংলাদেশের রক্ষণদেয়াল পেরিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন আরিফ আইমান। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ তপুরের কড়া পাহারা এড়িয়ে কোনাকুনি নিচু শটে বল জালে জড়ান এই মালয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড।
পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় সোহেল রানার দল। ২৫ মিনিটে মাঝ মাঠে হামজা চৌধুরী ও ফাহামিদুলরা নিজেদের মধ্যে বল দেওয়া-নেওয়া করে দারুণ আবহ তৈরি করলেও সোহেল রানার ভুল পাসে তা ভেস্তে যায়। উল্টো বল পেয়ে বার্গসন কাউন্টার অ্যাটাকে গিয়ে নিচু শট নেন, যা অল্পের জন্য ডান পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।
কিছুক্ষণ পরেই সোহেল রানার দারুণ এক পাস ধরে বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন অভিষিক্ত ফারহান। বল নিয়ে প্রতিপক্ষের বিপদসীমায় ঢুকে পড়লেও মালয়েশিয়ান ডিফেন্ডারদের বাধায় শট নিতে ব্যর্থ হন ইংলিশ ক্লাব বোরহাম উডে খেলা এই উইঙ্গার। ৩৩ মিনিটে ফাহামিদুলের কাছ থেকে বল নিয়ে বক্সে ক্রস দেন সমিত সোম। ফাঁকায় বল পেলেও রাকিব হোসেনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
খেলার ৩৭ মিনিটে তপুর চরম ভুলে ব্যবধান ২-০ করে মালয়েশিয়া। বক্সের সামনে তপুর পায়ে বল দেখে অনেকটা দূর থেকে ছুটে এসে বল কেড়ে নেন বার্গসন। তার পাস থেকেই এগিয়ে আসা গোলরক্ষক শ্রাবণের মাথার ওপর দিয়ে জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেন আরিফ আইমান।
বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান ৩-০ হতে পারত। তবে ফয়সাল হালিমের স্লাইড শট শেষ মুহূর্তে রুখে দিয়ে বাংলাদেশকে আরও বড় বিপদ থেকে বাঁচান শ্রাবণ। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতির ড্রেসিংরুমে ফেরে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
বিরতির পর ব্যবধান বাড়াতে দেরি করেননি বার্গসন। কোরবিন লাভেরের লং পাসে বক্সে বা পায়ে বল নামিয়ে ঘুরে ডান পায়ের নিচু শটে শ্রাবণকে পরাস্ত করেন বার্গসন। ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া। খানিক পর মাঠে নামেন মোরসালিন ও জিদান ইউসুফ। বাংলাদেশের জার্সিতে এটিই জিদানের প্রথম ম্যাচ।
৭৬ মিনিটে ব্যবধান কমানোর দারুণ সুযোগ আসে বাংলাদেশের সামনে। শাহরিয়ার ইমনের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে প্রতিপক্ষের বিপদসীমায় ঢুকে পড়েন হামজা। এরপর কয়েকজন ডিফেন্ডারের বাধা অতিক্রম করে পোস্টের কোনা থেকে ডান পায়ের জোরালো শট নেন। কিন্তু গোলকিপার দারুণ ক্ষীপ্রতায় রুখে দেন। এরপর হামজার দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও আটকে দেন এই গোলকিপার।
এই সময় দারুণ ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। ৮২ মিনিটে ইমনের শটে আরেকটু জোর থাকলে গোল পেতে পারতেন তিনি। প্রতি আক্রমণে মালয়েশিয়ার টিয়ার্নি ফার্গুসের গতিময় উচু শট লাফিয়ে রুখে দেন শ্রাবণ। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলে হেরে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি, বিতর্কিত ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা পরিচালনার জন্য পরিচিত এবং কোটিপতি ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানিকে টেকসই উন্নয়নবিষয়ক অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে উত্তর ইংল্যান্ডের এই বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক পরিবেশবিদ, গবেষক এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনন্ত আম্বানিকে ‘প্রফেসরশিপ অব প্র্যাকটিস’ পদবি দেওয়া হয়েছে পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও টেকসই ভবিষ্যতে অবদানের জন্য। তারা উল্লেখ করেছে যে, অনন্তের প্রতিষ্ঠিত চিড়িয়াখানা ‘ভানতারা’র কার্যক্রম তাদের বিশ্বমানের গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে, বিশিষ্ট ভারতীয় ইতিহাসবিদ ও লেখক রামচন্দ্র গুহ এই নিয়োগের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, "এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। ভারতে এমন অনেক যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন, যারা টেকসই উন্নয়নে প্রকৃত ভূমিকা রাখছেন।"
পরিবেশকর্মী প্রেরণা সিং বিন্দ্রাও এই নিয়োগের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, একটি ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানাকে সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে প্রচার করা ভুল বার্তা দেয়। তিনি বলেন, "খাঁচায় প্রাণী বন্দি করা প্রকৃত সংরক্ষণ হতে পারে না।"
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ ইউনিয়নের নিউক্যাসল শাখার সভাপতি অধ্যাপক ম্যাট পেরি জানান, পরিবেশগত ঝুঁকি ও বিতর্কের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা শুরুতেই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছিলেন।
ভারতে অনন্ত আম্বানির ভানতারা প্রকল্প ৩ হাজার ৫০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। অভিযোগ রয়েছে, বিতর্কিত ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপন্ন প্রাণী সেখানে আনা হয়েছে। জাতিসংঘের বিপন্ন প্রজাতি বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা সাইটসও তাদের এক তদন্তে প্রাণী আমদানির অনুমতিপত্রে অনিয়মের আভাস পায়।
যদিও ভানতারা ও আম্বানি পরিবার শুরু থেকেই বন্যপ্রাণী পাচার ও সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, ভানতারা মূলত একটি প্রাণী উদ্ধার ও সেবা কেন্দ্র।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ