শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩৩ পি.এম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস, যা পাহাড়, ঝরনা এবং সবুজের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা, সেখানে ভোরের নীরবতায় একটি মায়া হরিণের দেখা মিলেছে। ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্যের এক অনন্য দৃশ্য হিসেবে হরিণটির এমন বিচরণ একটি শিক্ষার্থীর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর পৌনে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলের খোলা উঠোনে হরিণটিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। হলটির বাসিন্দা ও হল সংসদের নির্বাহী সদস্য উম্মে হাবিবা এই দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করেন।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে উম্মে হাবিবা জানান, সকাল ৬টার দিকে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকানোর সময় হঠাৎ দূরে একটি প্রাণী চোখে পড়ে, যা হরিণের মতো মনে হচ্ছিল। তবে তখনো স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছিল না। প্রাণীটি কিছু একটা খাচ্ছিল, প্রথমে মনে হয়েছিল কুকুর কিংবা বুনো ছাগল। পরে তার মাথা ওঠানো-নামানোর ধরন দেখে বুঝতে পারি, এটি সম্ভবত একটি হরিণ। এরপর কৌতূহল সামলাতে না পেরে হলের চতুর্থ তলা থেকে দ্রুত নিচে নেমে যাই।
নিচে নেমে হরিণটিকে আরও কাছ থেকে দেখতে পান উম্মে হাবিবা। সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, নিচে গিয়ে দেখি, মাঝারি আকৃতির একটি মায়া হরিণ দূরের ঝোপঝাড়ের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দেখে সেটি ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। কিছুক্ষণ সে আমার দিকে অপলক তাকিয়ে ছিল। মুহূর্তটি এতটাই বিস্ময়কর ছিল যে, আমিও স্থির হয়ে গিয়েছিলাম।
কিছুক্ষণ পর হরিণটি আবার পাহাড়ের দিকে চলে যায়। উম্মে হাবিবা বলেন, এরপর হঠাৎ কী ভেবে যেন দৌড়ে পাহাড়ের দিকে চলে যায়। এত কাছ থেকে তাকে দেখেছি যে, আমার দিকে এগিয়ে আসা ও তাকিয়ে থাকার ভঙ্গি দেখে একসময় আমিই কিছুটা ভয় পেয়ে আর সামনে এগোতে পারিনি।
এই ঘটনাকে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্যাম্পাস জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দৃশ্যগুলোর একটি হয়ে থাকবে এই মুহূর্তটি। মাঝে মাঝে ভাবি, ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় হয়েছে, অথচ চোখে পড়ার মতো তেমন কিছুই তো দেখলাম না। হয়তো আল্লাহ আমার সেই আক্ষেপটুকুও কবুল করে নিয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তৃত পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাস রয়েছে। এসব প্রাণীর আবাস ও বিচরণস্থল নিরাপদ রাখা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
চবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ড. ফরিদ আহসান বলেন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। হরিণগুলোর বিচরণস্থল অবাধ ও নিরাপদ রাখতে হবে। বিকেলে ক্যাম্পাসের গহিনে প্রাণীদের চলাচলের এলাকায় হাঁটাহাঁটি করা যাবে না।
ক্যাম্পাসে আগে বিভিন্ন সময়ে মায়া হরিণের দেখা মিললেও বর্তমানে লোকালয়ের কাছাকাছি তাদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম চোখে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে হরিণসহ বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল ও চলাচলের পথ রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ দল আসিয়ান কাপের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে। তবে প্রথম ম্যাচেই লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা বড় পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে। শক্তিশালী মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৩-০ গোলের ব্যবধানে হেরেছে জামাল-হামজারা। এই পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের টুর্নামেন্টের শুরু হলো হতাশার সঙ্গে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ দলের ওপর চাপ সৃষ্টি করে খেলতে থাকে মালয়েশিয়া। চতুর্থ মিনিটে কর্নার থেকে বল ফিরে আসার পর মালয়েশিয়ার হালিম ফয়সালের দূরপাল্লার শট গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ ফিস্ট করে কর্নারের বিনিময়ে ফেরান।
এরপর সোহেল রানাকে ফাউল করে মালয়েশিয়ার বার্গসন ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন। তবে নবম মিনিটে চেং কুয়েন্টিংকে অহেতুক ফাউল করে হলুদ কার্ড পান বাংলাদেশের রাকিব হোসেন। রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত থাকা বাংলাদেশ প্রথম ধাক্কাটি খায় ম্যাচের ১৮তম মিনিটে।
নিজেদের অর্ধ থেকে লিয়ানে নোয়ার উড়িয়ে মারা বল বাংলাদেশের রক্ষণদেয়াল পেরিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন আরিফ আইমান। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ তপুরের কড়া পাহারা এড়িয়ে কোনাকুনি নিচু শটে বল জালে জড়ান এই মালয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড।
পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় সোহেল রানার দল। ২৫ মিনিটে মাঝ মাঠে হামজা চৌধুরী ও ফাহামিদুলরা নিজেদের মধ্যে বল দেওয়া-নেওয়া করে দারুণ আবহ তৈরি করলেও সোহেল রানার ভুল পাসে তা ভেস্তে যায়। উল্টো বল পেয়ে বার্গসন কাউন্টার অ্যাটাকে গিয়ে নিচু শট নেন, যা অল্পের জন্য ডান পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।
কিছুক্ষণ পরেই সোহেল রানার দারুণ এক পাস ধরে বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন অভিষিক্ত ফারহান। বল নিয়ে প্রতিপক্ষের বিপদসীমায় ঢুকে পড়লেও মালয়েশিয়ান ডিফেন্ডারদের বাধায় শট নিতে ব্যর্থ হন ইংলিশ ক্লাব বোরহাম উডে খেলা এই উইঙ্গার। ৩৩ মিনিটে ফাহামিদুলের কাছ থেকে বল নিয়ে বক্সে ক্রস দেন সমিত সোম। ফাঁকায় বল পেলেও রাকিব হোসেনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
খেলার ৩৭ মিনিটে তপুর চরম ভুলে ব্যবধান ২-০ করে মালয়েশিয়া। বক্সের সামনে তপুর পায়ে বল দেখে অনেকটা দূর থেকে ছুটে এসে বল কেড়ে নেন বার্গসন। তার পাস থেকেই এগিয়ে আসা গোলরক্ষক শ্রাবণের মাথার ওপর দিয়ে জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেন আরিফ আইমান।
বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান ৩-০ হতে পারত। তবে ফয়সাল হালিমের স্লাইড শট শেষ মুহূর্তে রুখে দিয়ে বাংলাদেশকে আরও বড় বিপদ থেকে বাঁচান শ্রাবণ। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতির ড্রেসিংরুমে ফেরে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
বিরতির পর ব্যবধান বাড়াতে দেরি করেননি বার্গসন। কোরবিন লাভেরের লং পাসে বক্সে বা পায়ে বল নামিয়ে ঘুরে ডান পায়ের নিচু শটে শ্রাবণকে পরাস্ত করেন বার্গসন। ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া। খানিক পর মাঠে নামেন মোরসালিন ও জিদান ইউসুফ। বাংলাদেশের জার্সিতে এটিই জিদানের প্রথম ম্যাচ।
৭৬ মিনিটে ব্যবধান কমানোর দারুণ সুযোগ আসে বাংলাদেশের সামনে। শাহরিয়ার ইমনের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে প্রতিপক্ষের বিপদসীমায় ঢুকে পড়েন হামজা। এরপর কয়েকজন ডিফেন্ডারের বাধা অতিক্রম করে পোস্টের কোনা থেকে ডান পায়ের জোরালো শট নেন। কিন্তু গোলকিপার দারুণ ক্ষীপ্রতায় রুখে দেন। এরপর হামজার দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও আটকে দেন এই গোলকিপার।
এই সময় দারুণ ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। ৮২ মিনিটে ইমনের শটে আরেকটু জোর থাকলে গোল পেতে পারতেন তিনি। প্রতি আক্রমণে মালয়েশিয়ার টিয়ার্নি ফার্গুসের গতিময় উচু শট লাফিয়ে রুখে দেন শ্রাবণ। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলে হেরে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি, বিতর্কিত ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা পরিচালনার জন্য পরিচিত এবং কোটিপতি ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানিকে টেকসই উন্নয়নবিষয়ক অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে উত্তর ইংল্যান্ডের এই বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক পরিবেশবিদ, গবেষক এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনন্ত আম্বানিকে ‘প্রফেসরশিপ অব প্র্যাকটিস’ পদবি দেওয়া হয়েছে পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও টেকসই ভবিষ্যতে অবদানের জন্য। তারা উল্লেখ করেছে যে, অনন্তের প্রতিষ্ঠিত চিড়িয়াখানা ‘ভানতারা’র কার্যক্রম তাদের বিশ্বমানের গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে, বিশিষ্ট ভারতীয় ইতিহাসবিদ ও লেখক রামচন্দ্র গুহ এই নিয়োগের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, "এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। ভারতে এমন অনেক যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন, যারা টেকসই উন্নয়নে প্রকৃত ভূমিকা রাখছেন।"
পরিবেশকর্মী প্রেরণা সিং বিন্দ্রাও এই নিয়োগের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, একটি ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানাকে সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে প্রচার করা ভুল বার্তা দেয়। তিনি বলেন, "খাঁচায় প্রাণী বন্দি করা প্রকৃত সংরক্ষণ হতে পারে না।"
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ ইউনিয়নের নিউক্যাসল শাখার সভাপতি অধ্যাপক ম্যাট পেরি জানান, পরিবেশগত ঝুঁকি ও বিতর্কের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা শুরুতেই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছিলেন।
ভারতে অনন্ত আম্বানির ভানতারা প্রকল্প ৩ হাজার ৫০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। অভিযোগ রয়েছে, বিতর্কিত ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপন্ন প্রাণী সেখানে আনা হয়েছে। জাতিসংঘের বিপন্ন প্রজাতি বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা সাইটসও তাদের এক তদন্তে প্রাণী আমদানির অনুমতিপত্রে অনিয়মের আভাস পায়।
যদিও ভানতারা ও আম্বানি পরিবার শুরু থেকেই বন্যপ্রাণী পাচার ও সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, ভানতারা মূলত একটি প্রাণী উদ্ধার ও সেবা কেন্দ্র।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বন্ধুদের মাঝে বসে আছেন, চারপাশের সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছে এবং গল্প করছে। তবুও অনুভূতি হচ্ছে যে আপনি অত্যন্ত একা। কখনো কি এমন অনুভূতি আপনার হয়েছে? বিজ্ঞানের পরিভাষায়, এমন অবস্থাকে বলা হয় সাবজেক্টিভ লনলিনেস বা আত্মগত একাকিত্ব।
মনোবিজ্ঞানী রবার্ট এস ভাইসের মতে, মানুষের একাকিত্বের দুটি প্রধান প্রকার রয়েছে। প্রথমটি হলো Social Loneliness, যা আশেপাশে মানুষের অভাব নির্দেশ করে। অপরটি হলো Emotional Loneliness, যা ভালোবাসার মানুষের অভাব বোঝায়। যখন কেউ মানুষের ভিড়ে বা বন্ধুদের মাঝে থেকেও নিজের আবেগ প্রকাশ করতে অক্ষম হয়, অথবা অপরপক্ষের কাছ থেকে পারস্পরিক বোধগম্যতা পায় না, তখনই তার মধ্যে Emotional Loneliness তৈরি হয়।
মূলত, যখন আমরা আশেপাশের মানুষের সাথে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারি এবং চলাফেরা করতে পারি, তখন আমাদের দেহে অক্সিটোসিন নামক 'বন্ডিং হরমোন' নিঃসৃত হয়। কিন্তু যদি সেই পরিবেশে মানিয়ে নিতে না পারি, অথবা সামাজিক প্রত্যাখ্যান, উপেক্ষা বা অস্বস্তির সম্মুখীন হই, তাহলে দেহে স্ট্রেস বৃদ্ধিজনিত কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে, ভিড়ের মাঝেও একাকিত্ব অনুভব হতে পারে।
সাবজেক্টিভ লনলিনেসের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে আশেপাশের মানুষের আচরণ। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি বন্ধুদের সঙ্গে বাসে করে কোথাও ঘুরতে যান এবং তারা সবাই পাশাপাশি বসে, আর আপনাকে বারবার একা অন্য একটি সিটে বসতে হয়, তাহলে তা একাকিত্বের অনুভূতি তৈরি করতে পারে। আবার, যখন তারা হাঁটতে হাঁটতে নিজেদের মধ্যে গল্প করছে এবং আপনি নীরবে তাদের পেছনে হাঁটছেন, তাও একাকিত্বের অনুভূতি সৃষ্টি করে। যদি আপনি কথা বলার চেষ্টা করেন কিন্তু কেউ গুরুত্ব না দেয় বা বারবার কথার মাঝেই থামিয়ে দেয়, তাহলে সেটিও একাকিত্বের অনুভূতি বাড়ায়। বন্ধুদের মাঝে হাসি-ঠাট্টা স্বাভাবিক হলেও, যদি সবসময় আপনাকেই লক্ষ্য করে মজা করা হয়, তাহলে এসব অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে আত্মগত একাকিত্বের অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রথমে প্রয়োজন সোশ্যাল মাস্কিং কমানো—অর্থাৎ অন্যদের খুশি করতে গিয়ে নিজের প্রকৃত অনুভূতি সবসময় লুকিয়ে না রাখা। আশেপাশের ফ্রেন্ড সার্কেলে পরিবর্তন আনাও জরুরি। এমন বন্ধুদের সাথে চলা উচিত যারা আপনার মতামতকে গুরুত্ব দেবে এবং আপনাকে মূল্যায়ন করবে। তবে প্রত্যাশা করা উচিত নয় যে, সবাই আপনাকে সবসময় সমানভাবে গুরুত্ব দেবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজের সাথে একা সময় কাটানোকে শাস্তি হিসেবে না দেখে, বরং উপভোগ করার অভ্যাস গড়ে তোলা।
লেখক: আতিক মাহবুব তানজিম
শিক্ষার্থী,রসায়ন বিভাগ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, জাতীয় নেতৃত্বাধীন শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রমে টেকসই সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ খাতে আরও ধারাবাহিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। তিনি এই বক্তব্যটি বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চলমান অধিবেশনের ফাঁকে জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের (পিবিসি) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তুলে ধরেন। ঢাকায় প্রাপ্ত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আসুন, আমাদের সম্মিলিত ভবিষ্যতের জন্য শান্তি বিনির্মাণকে আরও শক্তিশালী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরিণত করি।’ হুমায়ুন কবির শান্তি বিনির্মাণ জোরদারে পাঁচটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় শিল্পকে বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত করে নারী ও তরুণদের জন্য শোভন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
তিনি শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রমে পর্যাপ্ত, পূর্বানুমেয় ও টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এ অধিবেশনে বাংলাদেশ পিবিসির ভাইস-চেয়ার নির্বাচিত হয়েছে। সদস্য দেশগুলোর আস্থার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং শান্তি টেকসই করতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, জাতীয় সরকার ও জাতিসংঘের মধ্যে সহযোগিতার ভিত্তিতে কমিশনের কাজ এগিয়ে নেওয়া উচিত।
শান্তিরক্ষা কার্যক্রম থেকে শান্তি বিনির্মাণে উত্তরণের সময় পিবিসির পরামর্শমূলক ভূমিকা আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রতিটি দেশের নিজস্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে কমিশনের সব কার্যক্রমে ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এবং ‘যুব, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এজেন্ডা সমন্বিত করা এবং ২০২৫ সালের শান্তি বিনির্মাণ কাঠামো পর্যালোচনার সুপারিশ কার্যকরভাবে ও সময়মতো বাস্তবায়ন করা।
হুমায়ুন কবির বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের তিন দশকেরও বেশি সময়ের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে বলেন, নারীসহ বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অবদান সংঘাতের মূল কারণ মোকাবিলায় দেশের অঙ্গীকারকে আরও গভীর করেছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমান সুযোগ নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করছে। একই সঙ্গে সরকার মানুষের অধিকার সুরক্ষা, নারী ও যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সংহতি জোরদারে গুরুত্ব দিচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন যাতে জাতিসংঘের শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রম আরও কার্যকর হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ