ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আম্বানির ছেলেকে অধ্যাপক বানিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়


আম্বানির ছেলেকে অধ্যাপক বানিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়

যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি, বিতর্কিত ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা পরিচালনার জন্য পরিচিত এবং কোটিপতি ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানিকে টেকসই উন্নয়নবিষয়ক অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে উত্তর ইংল্যান্ডের এই বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক পরিবেশবিদ, গবেষক এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনন্ত আম্বানিকে ‘প্রফেসরশিপ অব প্র্যাকটিস’ পদবি দেওয়া হয়েছে পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও টেকসই ভবিষ্যতে অবদানের জন্য। তারা উল্লেখ করেছে যে, অনন্তের প্রতিষ্ঠিত চিড়িয়াখানা ‘ভানতারা’র কার্যক্রম তাদের বিশ্বমানের গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে, বিশিষ্ট ভারতীয় ইতিহাসবিদ ও লেখক রামচন্দ্র গুহ এই নিয়োগের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, "এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। ভারতে এমন অনেক যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন, যারা টেকসই উন্নয়নে প্রকৃত ভূমিকা রাখছেন।"

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

পরিবেশকর্মী প্রেরণা সিং বিন্দ্রাও এই নিয়োগের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, একটি ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানাকে সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে প্রচার করা ভুল বার্তা দেয়। তিনি বলেন, "খাঁচায় প্রাণী বন্দি করা প্রকৃত সংরক্ষণ হতে পারে না।"

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ ইউনিয়নের নিউক্যাসল শাখার সভাপতি অধ্যাপক ম্যাট পেরি জানান, পরিবেশগত ঝুঁকি ও বিতর্কের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা শুরুতেই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

ভারতে অনন্ত আম্বানির ভানতারা প্রকল্প ৩ হাজার ৫০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। অভিযোগ রয়েছে, বিতর্কিত ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপন্ন প্রাণী সেখানে আনা হয়েছে। জাতিসংঘের বিপন্ন প্রজাতি বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা সাইটসও তাদের এক তদন্তে প্রাণী আমদানির অনুমতিপত্রে অনিয়মের আভাস পায়।

যদিও ভানতারা ও আম্বানি পরিবার শুরু থেকেই বন্যপ্রাণী পাচার ও সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, ভানতারা মূলত একটি প্রাণী উদ্ধার ও সেবা কেন্দ্র।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সবার মাঝে থেকেও একাকিত্বের অনুভূতি: মনোবিজ্ঞানী রবার্ট এস ভাইসের বিশ্লেষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৪ পি.এম


সবার মাঝে থেকেও একাকিত্বের অনুভূতি: মনোবিজ্ঞানী রবার্ট এস ভাইসের বিশ্লেষণ

বন্ধুদের মাঝে বসে আছেন, চারপাশের সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছে এবং গল্প করছে। তবুও অনুভূতি হচ্ছে যে আপনি অত্যন্ত একা। কখনো কি এমন অনুভূতি আপনার হয়েছে? বিজ্ঞানের পরিভাষায়, এমন অবস্থাকে বলা হয় সাবজেক্টিভ লনলিনেস বা আত্মগত একাকিত্ব।

মনোবিজ্ঞানী রবার্ট এস ভাইসের মতে, মানুষের একাকিত্বের দুটি প্রধান প্রকার রয়েছে। প্রথমটি হলো Social Loneliness, যা আশেপাশে মানুষের অভাব নির্দেশ করে। অপরটি হলো Emotional Loneliness, যা ভালোবাসার মানুষের অভাব বোঝায়। যখন কেউ মানুষের ভিড়ে বা বন্ধুদের মাঝে থেকেও নিজের আবেগ প্রকাশ করতে অক্ষম হয়, অথবা অপরপক্ষের কাছ থেকে পারস্পরিক বোধগম্যতা পায় না, তখনই তার মধ্যে Emotional Loneliness তৈরি হয়।

মূলত, যখন আমরা আশেপাশের মানুষের সাথে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারি এবং চলাফেরা করতে পারি, তখন আমাদের দেহে অক্সিটোসিন নামক 'বন্ডিং হরমোন' নিঃসৃত হয়। কিন্তু যদি সেই পরিবেশে মানিয়ে নিতে না পারি, অথবা সামাজিক প্রত্যাখ্যান, উপেক্ষা বা অস্বস্তির সম্মুখীন হই, তাহলে দেহে স্ট্রেস বৃদ্ধিজনিত কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে, ভিড়ের মাঝেও একাকিত্ব অনুভব হতে পারে।

সাবজেক্টিভ লনলিনেসের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে আশেপাশের মানুষের আচরণ। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি বন্ধুদের সঙ্গে বাসে করে কোথাও ঘুরতে যান এবং তারা সবাই পাশাপাশি বসে, আর আপনাকে বারবার একা অন্য একটি সিটে বসতে হয়, তাহলে তা একাকিত্বের অনুভূতি তৈরি করতে পারে। আবার, যখন তারা হাঁটতে হাঁটতে নিজেদের মধ্যে গল্প করছে এবং আপনি নীরবে তাদের পেছনে হাঁটছেন, তাও একাকিত্বের অনুভূতি সৃষ্টি করে। যদি আপনি কথা বলার চেষ্টা করেন কিন্তু কেউ গুরুত্ব না দেয় বা বারবার কথার মাঝেই থামিয়ে দেয়, তাহলে সেটিও একাকিত্বের অনুভূতি বাড়ায়। বন্ধুদের মাঝে হাসি-ঠাট্টা স্বাভাবিক হলেও, যদি সবসময় আপনাকেই লক্ষ্য করে মজা করা হয়, তাহলে এসব অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে আত্মগত একাকিত্বের অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রথমে প্রয়োজন সোশ্যাল মাস্কিং কমানো—অর্থাৎ অন্যদের খুশি করতে গিয়ে নিজের প্রকৃত অনুভূতি সবসময় লুকিয়ে না রাখা। আশেপাশের ফ্রেন্ড সার্কেলে পরিবর্তন আনাও জরুরি। এমন বন্ধুদের সাথে চলা উচিত যারা আপনার মতামতকে গুরুত্ব দেবে এবং আপনাকে মূল্যায়ন করবে। তবে প্রত্যাশা করা উচিত নয় যে, সবাই আপনাকে সবসময় সমানভাবে গুরুত্ব দেবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজের সাথে একা সময় কাটানোকে শাস্তি হিসেবে না দেখে, বরং উপভোগ করার অভ্যাস গড়ে তোলা।

লেখক: আতিক মাহবুব তানজিম

শিক্ষার্থী,রসায়ন বিভাগ

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শান্তি বিনির্মাণে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৩ পি.এম


শান্তি বিনির্মাণে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, জাতীয় নেতৃত্বাধীন শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রমে টেকসই সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ খাতে আরও ধারাবাহিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। তিনি এই বক্তব্যটি বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চলমান অধিবেশনের ফাঁকে জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের (পিবিসি) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তুলে ধরেন। ঢাকায় প্রাপ্ত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আসুন, আমাদের সম্মিলিত ভবিষ্যতের জন্য শান্তি বিনির্মাণকে আরও শক্তিশালী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরিণত করি।’ হুমায়ুন কবির শান্তি বিনির্মাণ জোরদারে পাঁচটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় শিল্পকে বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত করে নারী ও তরুণদের জন্য শোভন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

তিনি শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রমে পর্যাপ্ত, পূর্বানুমেয় ও টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এ অধিবেশনে বাংলাদেশ পিবিসির ভাইস-চেয়ার নির্বাচিত হয়েছে। সদস্য দেশগুলোর আস্থার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং শান্তি টেকসই করতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, জাতীয় সরকার ও জাতিসংঘের মধ্যে সহযোগিতার ভিত্তিতে কমিশনের কাজ এগিয়ে নেওয়া উচিত।

শান্তিরক্ষা কার্যক্রম থেকে শান্তি বিনির্মাণে উত্তরণের সময় পিবিসির পরামর্শমূলক ভূমিকা আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রতিটি দেশের নিজস্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে কমিশনের সব কার্যক্রমে ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এবং ‘যুব, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এজেন্ডা সমন্বিত করা এবং ২০২৫ সালের শান্তি বিনির্মাণ কাঠামো পর্যালোচনার সুপারিশ কার্যকরভাবে ও সময়মতো বাস্তবায়ন করা।

হুমায়ুন কবির বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের তিন দশকেরও বেশি সময়ের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে বলেন, নারীসহ বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অবদান সংঘাতের মূল কারণ মোকাবিলায় দেশের অঙ্গীকারকে আরও গভীর করেছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমান সুযোগ নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করছে। একই সঙ্গে সরকার মানুষের অধিকার সুরক্ষা, নারী ও যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সংহতি জোরদারে গুরুত্ব দিচ্ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন যাতে জাতিসংঘের শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রম আরও কার্যকর হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানালেন তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৩ পি.এম


জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানালেন তারেক রহমান

জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফিলিস্তিন ও এর জনগণের প্রতি অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তিনি স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন এবং এই সমর্থন জানান।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গ্লোবালাইজেশনের এই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যা কিছু ঘটছে, প্রতিটি রাষ্ট্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। মানবসৃষ্ট বিরাজমান সংঘাতের কারণে বর্তমানে অনেক দেশে অশান্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশাল সংখ্যক জনগণ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ছে, যা মানবিক সংকট তৈরি করছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে তীব্র চাপের মুখে রয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা-সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে।

তারেক রহমান আরও বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত। বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদা রক্ষাই হওয়া উচিত দ্বিপাক্ষিক কিংবা বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, একটি শান্তিময় বিশ্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে— এমন একটি মানবিক সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্রের পরিবর্তে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে। বাংলাদেশ জাতিসংঘকে একে অপরের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি সমঝোতামূলক বিশ্বসমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বাজেট সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বিশ্বশান্তির অন্তরায়। শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এরপর তিনি স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে তাদের দুর্দশা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ, তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায়, তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।

বাংলাদেশ সরকারপ্রধান আরও বলেন, চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্য “Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations that Delivers for All” অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং সময়োপযোগী। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বহুপাক্ষিকতার নীতিতে অটল বাংলাদেশ।

তারেক রহমান বলেন, ‘পিসবিল্ডিং কমিশন’-এর ভাইস-চেয়ার হিসেবে টেকসই শান্তি, সংঘাত প্রতিরোধ, এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্য হিসেবেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন এদেশের শান্তিরক্ষীরা।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নারীদের সাহসী অংশগ্রহণ ‘নারীর অগ্রযাত্রা, শান্তি ও নিরাপত্তা’ বিষয়ক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এ বছর ‘উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক ঘোষণা’র ৪০তম এবং ‘ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা’র ২৫তম বার্ষিকী পালন করছে। অভিবাসন প্রক্রিয়া মানবসভ্যতার মতোই প্রাচীন। বিশ্বের অনেক দেশে অভিবাসীগণ তাদের জন্মভূমি এবং অভিবাসিত দেশ— উভয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। নিরাপদ, সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ সরকার। অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতা আশা করে বাংলাদেশ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরল ইতিহাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৪ পি.এম


বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরল ইতিহাস

১৯৮০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ প্রদান করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতিসংঘের একই মঞ্চে ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাবা-মায়ের পর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়ে তার পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে বিরল এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।

একই পরিবারের তিন সদস্য, বাবা, মা ও সন্তান, রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার ইতিহাস দ্বিতীয়টি নেই। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ প্রদান করে প্রধানমন্ত্রী তার পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে বিরল ইতিহাস গড়লেন। জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কের ৮১তম অধিবেশনে তিনি প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দেন।

বাংলা ভাষায় দেওয়া সেই ভাষণ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন দিগন্তের উন্মোচনের পাশাপাশি জাতিসংঘের ইতিহাসেও একটি বিরল অধ্যায় রচনা করেছে। পারিবারিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বিশ্ব দরবারে নিজের মাতৃভাষায় কোটি কোটি বাংলাদেশির আশা-আকাঙ্ক্ষা, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক চেতনার কথা তুলে ধরেছেন।

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে সাধারণ পরিষদ হলে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে ভাষণে সম্বোধন করে বলেন, "জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে এ মুহূর্তে আজ আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর। এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়েই আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশ এবং জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। একইভাবে আজ আমিও আমার দেশ ও জনগণের স্বার্থের পক্ষে এবং একটি শান্তিময় বিশ্বসমাজের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়েছি।"

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরেন। এতে জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবিক বিষয়াবলি ও রোহিঙ্গা সংকটের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তারেক রহমানের এই ভাষণ তার পরিবারের সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পৃক্ততার একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে। পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন। ওই ভাষণে জিয়াউর রহমান ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধান, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেছিলেন।

পাশাপাশি তিনি শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং দেশগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এরপর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মা ও দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ভাষণ দেন। জাতিসংঘের নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তিনি মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন।

১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সভা, ২০০২ সালে শিশু বিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন ও ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশন চলাকালীন দুটি পৃথক সভায়ও খালেদা জিয়া ভাষণ দিয়েছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%