প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রাজু আহমেদ লিখেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, রিকমেন্ডেড জজ, ১৮তম বিজেএস’। এটি তখন ছিল তার ভবিষ্যতের একটি স্বপ্ন। এক বছর পর সেই স্বপ্নটি বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তার মেধাক্রম ২৬তম।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ২০০ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ১৯ জন শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত আছেন। এই ১৯ জনের মধ্যে আইন বিভাগের ১৪ জন, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের চারজন এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের একজন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
রাজু আহমেদ বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের স্নাতকোত্তর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। মাস্টার্স শেষ হওয়ার আগেই তিনি সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ১২ নম্বর খাসকররা ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রামে। রাজুর এই সাফল্যে তার গ্রামবাসী এবং বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
রাজু আহমেদ বলেন, "মাস্টার্সে পড়াশোনা চলমান থাকায় একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি জুডিশিয়ারির প্রস্তুতি নেওয়া এবং দুটোকে সামলে চলা চ্যালেঞ্জিং ছিল।" তিনি উল্লেখ করেন, "ইবিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই জজ হওয়ার ইচ্ছা ছিল। প্রথম থেকেই পড়াশোনার ইচ্ছা থাকলেও সেভাবে শুরু করতে পারিনি। মূল প্রস্তুতি শুরু করি তৃতীয় বর্ষ থেকে। নিজের স্বপ্নের কথা এক বছর আগে লিখে রেখেছিলাম। এক বছর পর সেটি বাস্তবে দেখতে পেয়ে আপ্লুত।"
এক বছর আগে দেওয়া সেই ফেসবুক পোস্টের প্রসঙ্গে রাজু আহমেদ বলেন, "সময়টা তখন ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, বাংলাদেশের বিজয় দিবস। সেদিন থেকেই মনে মনে একটি স্বপ্ন বুনেছিলাম—১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে (বিজেএস) একজন সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হতে হবে।" তিনি আরও জানান, "সেই স্বপ্ন পূরণের পথ মোটেও সহজ ছিল না। এই দীর্ঘ যাত্রায় জীবনের অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হয়েছে, অনেক কিছু থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হয়েছে।"
তিনি বলেন, "প্রতিটি কঠিন সময়ে পাশে পেয়েছি আমার মা-বাবা, বোন, দুলাভাই, মামা, বন্ধুবান্ধব, শিক্ষক, প্রিয়জন ও বড় ভাইদের। তাদের দোয়া, ভালোবাসা, সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা আমাকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যেতে সাহস দিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, আজ সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। ১৮তম বিজেএসে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি, মেধাক্রম ২৬তম।"
নিজের সাফল্যের জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাজু বলেন, "আল্লাহ তাআলা আমাকে আমার প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি দান করেছেন। তার এই অশেষ রহমত ও মেহেরবানির জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। এই অর্জন শুধু আমার একার নয়। আমার পথচলায় যারা কোনো না কোনোভাবে পাশে ছিলেন, সাহস দিয়েছেন, উৎসাহ দিয়েছেন, দোয়া করেছেন কিংবা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছেন—প্রত্যেকের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।"
রাজুর এই সাফল্যে তার পরিবার, গ্রামের মানুষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। মাস্টার্সের পড়াশোনার পাশাপাশি ধারাবাহিক প্রস্তুতি নিয়ে এমন সাফল্য অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন