শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:২৮ পি.এম
সৌদি আরবের পবিত্র দুই মসজিদে আগামীকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জুমার নামাজে ইমামতি কারা করবেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মক্কার মসজিদুল হারামে ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন শায়খ সালেহ বিন হুমাইদ। অন্যদিকে, মদিনার মসজিদে নববিতে ইমামতি করবেন শায়খ আলী হুযাইফি।
হিজরি ১৪৪৮ সালের ১২ জমাদিউল আউয়াল তারিখে পবিত্র দুই মসজিদে তাদের ইমামতির বিষয়টি জানানো হয়েছে। শায়খ সালেহ বিন হুমাইদ একজন প্রখ্যাত আলেম, ইসলামি চিন্তাবিদ এবং পবিত্র মসজিদুল হারামের জ্যেষ্ঠ ইমাম। তিনি ১৯৫০ সালে সৌদি আরবের কাসিম প্রদেশের বুরাইদাহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরিয়াহ বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৮৪ সালে তিনি মসজিদুল হারামের ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সেখানে ইমামতি, খুতবা প্রদান এবং ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ আলেম পরিষদের সদস্য এবং রাজদরবারের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ইসলামি জ্ঞানচর্চা ও ইসলামের সেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে তিনি কিং ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর একাধিক ধর্মীয় গ্রন্থও রয়েছে।
অন্যদিকে, শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুযাইফি সৌদি আরবের একজন প্রখ্যাত কোরআন তিলাওয়াতকারী এবং মদিনার মসজিদে নববির জ্যেষ্ঠ ইমাম। ১৯৪৭ সালে সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলের দক্ষিণাঞ্চলে তাঁর জন্ম। শৈশবে তিনি পবিত্র কোরআন হিফজ করেন এবং পরবর্তীতে শরিয়াহ ও ইসলামি শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সৌদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরিয়াহ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর এবং ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি মদিনার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৭৯ সালে তিনি মসজিদে নববির ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এ পবিত্র মসজিদে ইমামতি ও খুতবা প্রদানের দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৮১ সালে তিনি মসজিদুল হারামেও ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন।
কোরআনের বিভিন্ন কিরাআতে তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। তাঁর ধীরস্থির, স্পষ্ট এবং সুমধুর তিলাওয়াত মুসলিম বিশ্বের বহু মানুষের কাছে পরিচিত। তিনি মদিনার মুসহাফ পর্যালোচনাসংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক কমিটির প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
সূত্র: ইসলামিক ইনফরমেশন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সউদি আরবে হুথিদের হামলার কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মক্কা ও মদিনায় আটকা পড়ে আছেন কয়েক হাজার ভারতীয় ওমরাহযাত্রী। তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩ হাজার যাত্রী দেশে ফিরেছেন। তবে আরও প্রায় ৪ হাজার ভারতীয় আটকা রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির এক সংসদ সদস্য।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সউদির দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। পরদিন বৃহস্পতিবার সউদি কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলায় একজন ভারতীয় ও একজন সউদি নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আটজন, যাঁদের মধ্যে দুইজন ভারতীয় ও দুইজন বাংলাদেশি রয়েছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জানান, রিয়াদে ভারতীয় দূতাবাস এবং জেদ্দায় কনস্যুলেট বিমান সংস্থা ও ভ্রমণ পরিচালনাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। আটকে পড়া যাত্রীদের দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি ভারতীয় বিমান সংস্থা সউদিগামী এবং সউদি থেকে ছেড়ে আসা ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস এবং ইন্ডিগোর ফ্লাইট ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত এবং আকাসা এয়ারের ফ্লাইট ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে। যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করতে বলা হয়েছে।
আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তায় ভারতীয় দূতাবাস ও কনস্যুলেটে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার পাশাপাশি যাত্রীদের দেশে ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে ভারত সরকার।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার প্রচেষ্টাকালে এক দালালসহ চারজনকে আটক করেছে। এ সময় ভারতীয় কীটনাশক ও ওষুধ জব্দ করা হয়। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।
বিজিবি জানায়, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে নতুনপাড়া বিওপির একটি দল সীমান্ত পিলার ৬৬/৭-এস থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় একটি আমবাগানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২০০ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, খোসালপুর বিওপির একটি টহল দল যোশপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তিন বাংলাদেশি নাগরিক ও এক দালালকে আটক করে। আটক দালালের নাম বিল্লাল হোসেন (৩৫), যিনি মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা।
আটক তিন বাংলাদেশি নাগরিক হলেন— কুমিল্লার সায়েদ আলম (২২), সাব্বির হোসাইন (২৩) এবং চাঁদপুরের মো. মাহমুদুল হাসান (২১)। তাদের কাছ থেকে একটি ইজিবাইকও জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে, শুক্রবার ভোরে যাদবপুর বিওপির আওতাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬৫৩ পিস ভারতীয় ওষুধ উদ্ধার করে বিজিবি। অভিযানে বেতবাড়িয়া এলাকার একটি খেতের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় এসব ওষুধ।
৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী এমদাদুর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মালামাল ও ইজিবাইকসহ আটককৃতদের মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সবজিবাহী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া সবুজ পাহাড় এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজন হলেন কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ফুলের ডেইল এলাকার আবুল কালামের ছেলে আবদুল্লাহ (২৭) এবং অন্যজন চকরিয়া উপজেলার রামপুরা এলাকার মো. দুলালের ছেলে মো. ইয়াছিন (৩০)।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পিকআপটি চকরিয়া থেকে টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরের উদ্দেশ্যে সবজি নিয়ে যাচ্ছিল। পথে চট্টগ্রামগামী শ্যামলী এন আর পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে পিকআপটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় পিকআপে থাকা আবদুল্লাহ ও ইয়াছিন গুরুতর আহত হন। তবে নিহতদের মধ্যে কে চালক এবং কে সহকারী ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিম মিয়া বলেন, ‘বেপরোয়া গতিতে চলা যাত্রীবাহী বাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়ে তাদের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করে থানায় নেয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে খবর দেয়া হয়েছে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জুমআর দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য রয়েছে অনেক ফজিলতপূর্ণ আমল। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ‘সুরা কাহফ’ তেলাওয়াত করা। যদি কেউ সম্পূর্ণ সুরাটি তেলাওয়াত করতে না পারে, তবে এ সুরার প্রথম এবং শেষ ১০ আয়াত তেলাওয়াত করলেও ফজিলত রয়েছে। হাদিসে উল্লেখ রয়েছে-
"যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা আল কাহাফ পড়বে, তার ইমানের নুর এ জুমাহ থেকে আগামী জুমাহ পর্যন্ত চমকাতে থাকবে।" (মিশকাত ২১৭৫)
"যে ব্যক্তি সূরা আল কাহাফ এর প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, তাকে দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রাখা হবে।" (মুসলিম) (মিশকাত)
"যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য এমন একটি নুর হবে, যা তার অবস্থানের জায়গা থেকে মক্কা পর্যন্ত আলোকিত করবে। আর যে ব্যক্তি এ সুরার শেষ দশটি আয়াত পাঠ করবে, তার জীবদ্দশায় দাজ্জাল বের হলেও সে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।" (সিলসিলায়ে সহীহা -২৬৫১)।
"যে ব্যক্তি জুমার রাতে সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য স্বীয় অবস্থানের জায়গা হতে পবিত্র মক্কা পর্যন্ত একটি নুর হবে।" (সহীহ তারগীব ওয়াত্ তারহীব - ৭৩৬)।
"জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠ করলে কিয়ামত দিবসে তার পায়ের নীচ থেকে আকাশের মেঘমালা পর্যন্ত নূর আলোকিত হবে এবং দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ মাফ হবে।" (আত তারগীব ওয়াল তারহীব- ১/২৯৮)
"একজন ব্যক্তি সূরাহ আল কাহফ পড়ছিল। তখন সে দেখতে পেল একখণ্ড মেঘ তাকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে। বারা ইবনু আযিব বর্ণনা করেছেন যে, লোকটি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম এর কাছে বললেন। তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে অমুক তুমি সুরাটি পড়তে থাক। কারণ এটি ছিল আল্লাহর রহমত বা প্রশান্তি যা কোরআন তেলাওয়াতের কারণে বা কোরআন তেলাওয়াতের জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল।" (মুসলিম- ১৭৪২)।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ