শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:২৮ পি.এম
সউদি আরবে হুথিদের হামলার কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মক্কা ও মদিনায় আটকা পড়ে আছেন কয়েক হাজার ভারতীয় ওমরাহযাত্রী। তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩ হাজার যাত্রী দেশে ফিরেছেন। তবে আরও প্রায় ৪ হাজার ভারতীয় আটকা রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির এক সংসদ সদস্য।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সউদির দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। পরদিন বৃহস্পতিবার সউদি কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলায় একজন ভারতীয় ও একজন সউদি নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আটজন, যাঁদের মধ্যে দুইজন ভারতীয় ও দুইজন বাংলাদেশি রয়েছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জানান, রিয়াদে ভারতীয় দূতাবাস এবং জেদ্দায় কনস্যুলেট বিমান সংস্থা ও ভ্রমণ পরিচালনাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। আটকে পড়া যাত্রীদের দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি ভারতীয় বিমান সংস্থা সউদিগামী এবং সউদি থেকে ছেড়ে আসা ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস এবং ইন্ডিগোর ফ্লাইট ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত এবং আকাসা এয়ারের ফ্লাইট ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে। যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করতে বলা হয়েছে।
আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তায় ভারতীয় দূতাবাস ও কনস্যুলেটে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার পাশাপাশি যাত্রীদের দেশে ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে ভারত সরকার।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার প্রচেষ্টাকালে এক দালালসহ চারজনকে আটক করেছে। এ সময় ভারতীয় কীটনাশক ও ওষুধ জব্দ করা হয়। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।
বিজিবি জানায়, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে নতুনপাড়া বিওপির একটি দল সীমান্ত পিলার ৬৬/৭-এস থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় একটি আমবাগানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২০০ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, খোসালপুর বিওপির একটি টহল দল যোশপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তিন বাংলাদেশি নাগরিক ও এক দালালকে আটক করে। আটক দালালের নাম বিল্লাল হোসেন (৩৫), যিনি মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা।
আটক তিন বাংলাদেশি নাগরিক হলেন— কুমিল্লার সায়েদ আলম (২২), সাব্বির হোসাইন (২৩) এবং চাঁদপুরের মো. মাহমুদুল হাসান (২১)। তাদের কাছ থেকে একটি ইজিবাইকও জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে, শুক্রবার ভোরে যাদবপুর বিওপির আওতাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬৫৩ পিস ভারতীয় ওষুধ উদ্ধার করে বিজিবি। অভিযানে বেতবাড়িয়া এলাকার একটি খেতের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় এসব ওষুধ।
৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী এমদাদুর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মালামাল ও ইজিবাইকসহ আটককৃতদের মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সবজিবাহী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া সবুজ পাহাড় এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজন হলেন কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ফুলের ডেইল এলাকার আবুল কালামের ছেলে আবদুল্লাহ (২৭) এবং অন্যজন চকরিয়া উপজেলার রামপুরা এলাকার মো. দুলালের ছেলে মো. ইয়াছিন (৩০)।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পিকআপটি চকরিয়া থেকে টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরের উদ্দেশ্যে সবজি নিয়ে যাচ্ছিল। পথে চট্টগ্রামগামী শ্যামলী এন আর পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে পিকআপটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় পিকআপে থাকা আবদুল্লাহ ও ইয়াছিন গুরুতর আহত হন। তবে নিহতদের মধ্যে কে চালক এবং কে সহকারী ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিম মিয়া বলেন, ‘বেপরোয়া গতিতে চলা যাত্রীবাহী বাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়ে তাদের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করে থানায় নেয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে খবর দেয়া হয়েছে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জুমআর দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য রয়েছে অনেক ফজিলতপূর্ণ আমল। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ‘সুরা কাহফ’ তেলাওয়াত করা। যদি কেউ সম্পূর্ণ সুরাটি তেলাওয়াত করতে না পারে, তবে এ সুরার প্রথম এবং শেষ ১০ আয়াত তেলাওয়াত করলেও ফজিলত রয়েছে। হাদিসে উল্লেখ রয়েছে-
"যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা আল কাহাফ পড়বে, তার ইমানের নুর এ জুমাহ থেকে আগামী জুমাহ পর্যন্ত চমকাতে থাকবে।" (মিশকাত ২১৭৫)
"যে ব্যক্তি সূরা আল কাহাফ এর প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, তাকে দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রাখা হবে।" (মুসলিম) (মিশকাত)
"যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য এমন একটি নুর হবে, যা তার অবস্থানের জায়গা থেকে মক্কা পর্যন্ত আলোকিত করবে। আর যে ব্যক্তি এ সুরার শেষ দশটি আয়াত পাঠ করবে, তার জীবদ্দশায় দাজ্জাল বের হলেও সে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।" (সিলসিলায়ে সহীহা -২৬৫১)।
"যে ব্যক্তি জুমার রাতে সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য স্বীয় অবস্থানের জায়গা হতে পবিত্র মক্কা পর্যন্ত একটি নুর হবে।" (সহীহ তারগীব ওয়াত্ তারহীব - ৭৩৬)।
"জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠ করলে কিয়ামত দিবসে তার পায়ের নীচ থেকে আকাশের মেঘমালা পর্যন্ত নূর আলোকিত হবে এবং দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ মাফ হবে।" (আত তারগীব ওয়াল তারহীব- ১/২৯৮)
"একজন ব্যক্তি সূরাহ আল কাহফ পড়ছিল। তখন সে দেখতে পেল একখণ্ড মেঘ তাকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে। বারা ইবনু আযিব বর্ণনা করেছেন যে, লোকটি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম এর কাছে বললেন। তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে অমুক তুমি সুরাটি পড়তে থাক। কারণ এটি ছিল আল্লাহর রহমত বা প্রশান্তি যা কোরআন তেলাওয়াতের কারণে বা কোরআন তেলাওয়াতের জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল।" (মুসলিম- ১৭৪২)।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জুমার সুন্নত নামাজের কত রাকাত হওয়া উচিত, এ বিষয়ে হাদিস ও সাহাবিদের আমল কী নির্দেশ করে? জুমার দিন মুসলমানদের জন্য বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলত রয়েছে। এ দিন দুই রাকাত ফরজ নামাজের পাশাপাশি সুন্নত নামাজ আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে জুমার আগে ও পরে কত রাকাত সুন্নত পড়তে হবে, এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের আমলের আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা যাক।
প্রতিদিন ১২ রাকাত সুন্নত নামাজের ফজিলত সম্পর্কে জানা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত সুন্নত নামাজ আদায়ের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন। হজরত উম্মে হাবিবা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি দিনে-রাতে ১২ রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে।" সহিহ মুসলিমের ৭২৮ নম্বর হাদিসে উল্লেখিত ১২ রাকাত সুন্নত হলো জোহরের ফরজের আগে চার রাকাত ও পরে দুই রাকাত, মাগরিবের ফরজের পরে দুই রাকাত, ইশার ফরজের পরে দুই রাকাত এবং ফজরের ফরজের আগে দুই রাকাত।
জুমার নামাজে জোহরের চার রাকাত ফরজের পরিবর্তে দুই রাকাত ফরজ আদায় করা হয়। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, জুমার ফরজের আগে চার রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা এবং ফরজের পরে চার রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা আদায় করা হয়। এ ছাড়া জুমার ফরজের পরে ছয় রাকাত নামাজ আদায়ের প্রচলনও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে চার রাকাতের পর আরও দুই রাকাত নফল বা অতিরিক্ত সুন্নত হিসেবে পড়া হয়। জুমার পর দুই বা চার রাকাত নামাজ আদায়ের বিষয়ে হাদিসে বর্ণনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে ফিকহি মতপার্থক্যও বিদ্যমান।
জুমার আগে চার রাকাত নামাজের দলিল
সাহাবায়ে কেরামের আমলেও জুমার আগে চার রাকাত নামাজ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বায় উল্লেখ করা হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) জুমার আগে চার রাকাত নামাজ আদায় করতেন। তাবেয়ি হজরত ইবরাহিম নাখঈ (রহ.) থেকেও জানা যায়, সাহাবায়ে কেরাম জুমার আগে চার রাকাত নামাজ আদায় করতেন। এসব বর্ণনা জুমার পূর্ববর্তী সুন্নত নামাজের বিষয়ে আলেমদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত।
হাদিসে সুন্নত নামাজের গুরুত্ব
সুন্নত নামাজের ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
مَنْ صَلَّى اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً فِي يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ بُنِيَ لَهُ بِهِنَّ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ অর্থ: যে ব্যক্তি দিনে-রাতে ১২ রাকাত নামাজ আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭২৮)
এ হাদিস থেকে নিয়মিত সুন্নত নামাজ আদায়ের গুরুত্ব ও ফজিলত স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। জুমার দিন মুসলমানদের জন্য ইবাদত ও নেকি অর্জনের বিশেষ সুযোগ। তাই জুমার ফরজ নামাজের পাশাপাশি সুন্নত নামাজও গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করা উচিত। একই সঙ্গে নামাজের রাকাতসংখ্যা ও বিধান সম্পর্কে মতপার্থক্য থাকলে নির্ভরযোগ্য আলেমদের ব্যাখ্যা অনুসরণ করা এবং অন্যের আমল নিয়ে অযথা বিতর্ক এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ