ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জরিপে চীনের জনপ্রিয়তা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি


জরিপে চীনের জনপ্রিয়তা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বেশি। সম্প্রতি পিউ রিসার্চের একটি জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। ৩৬টি দেশে পরিচালিত জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ২৫টিতে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রতি আগ্রহ বেশি।

দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ব রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তৃত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। हालের সময়ে ভূরাজনৈতিক অঙ্গনে চীনের আধিপত্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন জরিপেও এ বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার সম্প্রতি ৩৬টি দেশে জরিপ পরিচালনা করেছে। নতুন জরিপ বলছে, ৩৬টি দেশের মধ্যে ২৫টিতে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের প্রতি ইতিবাচক ভাবনা বেশি। ২০০২ সাল থেকে বৈশ্বিক জনমত পর্যবেক্ষণ করে পিউ রিসার্চ সেন্টার, এবারই প্রথম এতগুলি দেশে এ ধরনের ফলাফল পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ফেব্রুয়ারি থেকে মে, এই চার মাসে ৪২ হাজারেরও বেশি মানুষের মতামত নিয়ে করা এ জরিপে দেখা যায়, ইতালি, স্পেন, কানাডা, গ্রিস, ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কিছু দেশে চীনের গ্রহণযোগ্যতা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রকে এখনও বেশি সমর্থন করে এমন দেশের সংখ্যা নেমে এসেছে ছয়ে। এই তালিকায় রয়েছে ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপিন্স, পোল্যান্ড ও ইসরাইল।

এই জরিপে দুই পরাশক্তির শীর্ষ নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিংয়ের প্রতি আস্থার দিকটিও তুলে ধরা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে উভয়ের প্রতি আস্থা খুব বেশি নয়। তবে বেশিরভাগ দেশে ট্রাম্পের তুলনায় শি জিনপিংয়ের প্রতি আস্থা কিছুটা বেশি দেখা গেছে। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে এখনও এগিয়ে মনে করলেও, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়সমূহে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে অনেক উত্তরদাতার মতে, ওয়াশিংটনকে অনেক বেশি সক্রিয় মনে করা হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে চীনকে তারা কম হস্তক্ষেপকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অনিশ্চয়তা, সামরিক হস্তক্ষেপ এবং শুল্ক ও বাণিজ্যনীতির ওঠানামা অনেক দেশকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। অন্যদিকে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবকাঠামো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছে বেইজিং। এর ফলস্বরূপ, চীনের ভাবমূর্তি আগের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে।

তবে গবেষকরা বলছেন, চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বৃদ্ধি পেলেও, এটি দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থা অথবা শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থনের প্রতিফলন নয়। বরং অনেকের কাছে চীন একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে দেখা যাচ্ছে। যদিও মানবাধিকার, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাই বৈশ্বিক জনমতের এই পরিবর্তনকে কেবল জনপ্রিয়তার নয়, বরং পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যা এসেছে আবারও, কিন্তু ওয়াসিম আর ফেরেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৫ পি.এম


বন্যা এসেছে আবারও, কিন্তু ওয়াসিম আর ফেরেনি

জুলাই মাসে শহীদ ওয়াসিম আকরামের পেকুয়ার দক্ষিণ মেহেরনামার বাড়িতে আবারও দেখা দিয়েছে বন্যার পানি। বাড়ির দক্ষিণের উঠোন এবং ইটের রাস্তা তখনও হাঁটুসমান পানিতে ডুবে রয়েছে। বন্যার পানি বর্তমানে নামতে শুরু করেছে। ২০২৩ সালের আগস্টের ঘটনাক্রমে, তিন বছর পর ২০২৬ সালের একই পরিস্থিতিতে পুরো গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

এ বন্যা দেখলেই মা জোসনা বেগমের বুকের ভেতর জমে ওঠে দীর্ঘশ্বাস। কারণ, ২০২৩ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় চট্টগ্রাম শহর থেকে ছুটে এসেছিলেন ছেলে ওয়াসিম। গ্রামের রাস্তা পানিতে তলিয়ে থাকার কারণে সাঁতার কেটেই বাড়ি পৌঁছাতে হয়েছিল। দোকান থেকে শুকনো খাবার কিনে তিনি পরিবারের খোঁজখবরও নিয়েছিলেন, এবং ঘরের নানা কাজও সামলেছিলেন।

কিন্তু তিন বছর পর আবারও একইভাবে বন্যার পানি উঠোন ছুঁয়েছে, অথচ এবার ওয়াসিম আর ফেরেননি। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে হারানোর দুই বছর পূর্ণ হলো। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংঘর্ষে ২৪ বছর বয়সী এই তরুণ নিহত হন।

ওয়াসিমের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার মা জোসনা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, ছেলের স্মৃতিই এখন তার জীবনের অবলম্বন। ঘরের এক কোণে যত্ন করে সাজানো আছে ওয়াসিমের পাওয়া ক্রেস্ট, বিভিন্ন সম্মাননা, উপহার এবং ছবিগুলো। কথার ফাঁকে ফাঁকে তিনি সেগুলো স্পর্শ করেন, আর অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।

জোসনা বেগম বলেন, ‘ছেলের কথা খুব বেশি মনে পড়ে। তিন বছর আগে এমন বন্যার সময় সাঁতার কেটে বাড়ি এসেছিল ওয়াসিম। আসার পথে বাজার থেকে খাবারও নিয়ে এসেছিল। এরপর বাড়িঘর গুছিয়ে নিতে অনেক পরিশ্রম করেছিল।’

কথার ফাঁকে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “কবরের পাশে গেলে আর ফিরে আসতে মন চায় না। মনে হয়, আমার ছেলেটা যেন এখানেই আছে। খুব কষ্ট লাগে।”

ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম সৌদি আরবে থাকাকালে ছেলের মৃত্যুসংবাদ শুনে তাঁর যেন পৃথিবীটাই থমকে গিয়েছিল। তবে ভিসা জটিলতার কারণে সঙ্গে সঙ্গে দেশে ফিরতে পারেননি। এক মাস ১৭ দিন পর দেশে ফিরে প্রথমবারের মতো ছেলের কবরের সামনে দাঁড়ান। এরপর তিনি আর প্রবাসে ফেরেননি।

সম্প্রতি পেকুয়া সদর ইউনিয়নের চৈরভাঙ্গা এলাকায় ইজারা নেওয়া তার মাছের ঘেরে কথা হয়। দিনের বেশিরভাগ সময় এখন সেখানেই কাটান। ঘের থেকে কিছুটা দূরেই ছেলের কবর রয়েছে। প্রতিদিন সেখানে যান।

বারবার তার মনে ফিরে আসে ছেলের বলা একটি বাক্য, ‘শেষ বেলা, শেষবার।’ তখন তিনি বুঝতে পারেননি যে, সেটিই ছিল বিদায়ের ইঙ্গিত।

শফিউল আলম বলেন, ‘দুই বছর হয়ে গিয়েছে, ছেলের মুখে ‘বাবা’ ডাক আর শুনতে পাই না। এই কষ্টটা বুকের ভেতর জমে আছে।’

তিনি জানান, একসময় তার স্বপ্ন ছিল ছেলে সরকারি চাকরি করবে। কিন্তু ওয়াসিমের পরিকল্পনা ছিল কানাডায় যাওয়ার। সে স্বপ্ন পূরণে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে জমি বন্ধক রেখে প্রায় ১৯ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল।

শফিউল আলম বলেন, ‘বড় ছেলে আর ওয়াসিমকে নিয়ে সংসারটা দাঁড় করাতে চেয়েছিলাম। সবকিছু ধীরে ধীরে গুছিয়ে আসছিল। কিন্তু ছেলের মৃত্যু আমাদের সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে।’

ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত ৫ এপ্রিল ২২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট ওয়াসিমের মা জোসনা বেগম চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

তবে মামলার অগ্রগতি নিয়ে খুব একটা খোঁজ রাখেন না শফিউল আলম। তিনি বলেন, ‘মামলার বাদী ওর মা। আমি শুধু চাই, দোষীদের শাস্তি হোক, আর নির্দোষরা যেন মুক্তি পায়। কেউ বিনা অপরাধে শাস্তি পেলে আমাদের সন্তানরা কবরে শান্তি পাবে না।’

মা জোসনা বেগমের কণ্ঠেও একই আকুতি, ‘দুই বছর হয়ে গিয়েছে। এখনো বিচার হল না। আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই।’

ওয়াসিমের ছোট বোন সাবরিনা ইয়াসমিন সোমা বলেন, ‘আমার ভাই দেশের গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন। আজ দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। এখন আমাদের একটাই চাওয়া-আমার ভাইসহ যারা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের হত্যাকারীদের বিচার হোক। সেটাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

ওয়াসিমের পরিবার জানায়, গত ১৩ জুন পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মেহেরনামার মুরারপাড়ায় ওয়াসিমের কবর জেয়ারত পরবর্তী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাক্ষাৎকালে ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম ও মা জোসনা বেগমের হাতে সরকারের পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকার পারিবারিক সঞ্চয়পত্র হস্তান্তর করেন।

এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে তিন দফায় ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা এবং এনসিপি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়েছে পরিবারটি।

জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাহাদুর শাহ বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ওয়াসিমের কবর পাকা করা হয়েছে, নামফলক বসানো হয়েছে। ওয়াসিম স্মৃতি সংসদ গঠন করা হয়েছে। তাদের বাড়ির সড়ক সংস্কার করা হয়েছে।’

পেকুয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা গ্রামের বাসিন্দা ওয়াসিম আকরাম চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংঘর্ষে ২৪ বছর বয়সী তরুণ ওয়াসিম আকরাম নিহত হন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবু সাঈদ হত্যা: সাজাপ্রাপ্ত ৪ আসামির আপিল দাখিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৮ পি.এম


আবু সাঈদ হত্যা: সাজাপ্রাপ্ত ৪ আসামির আপিল দাখিল

চব্বিশের জুলাইয়ে কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ছাত্র আবু সাঈদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা, আমির হোসেন ও সুজন চন্দ্র, তাদের সাজার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন।

এ ছাড়া, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল এবং ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী, যিনি আকাশ নামে পরিচিত, এছাড়াও পাঁচ বছর সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা এই আপিল করেছেন।

আইনজীবী, আজিজুর রহমান দুলু, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আসামিদের আপিল সম্পর্কিত তথ্য নিশ্চিত করেন।

আইনজীবী এই বিষয়টি জানিয়ে বলেন, তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয় এবং প্রসিকিউশন ক্ষমমাণ অপরাধের বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি; তাই এজন্য তারা এ ধরনের আপিল করেছে।

মামলার প্রেক্ষিতে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আন্দোলন চলাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে আবু সাঈদ পুলিশ গুলিতে নিহত হন। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলমান ছিল এবং চলতি বছরের ৯ এপ্রিল রায় দেওয়ার সময় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন, পাঁচজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং আটজনকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, ১১ জনকে ৩ বছর করে সাজা দেওয়া হয়। এক আসামির হাজতবাসের সময়কে সাজার মেয়াদ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান, যিনি জীবন নামে পরিচিত, তাজহাট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, যিনি নয়ন এবং বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায়, যিনি মাধব নামে পরিচিত।

১০ বছর করে সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ, যিনি বাচ্চু নামে পরিচিত, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান, যিনি বেল্টু এবং বেরোবির গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল, যিনি আসাদ এবং ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সভাপতি পোমেল বড়ুয়া। তারা সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

৫ বছর করে সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন আরএমপির সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী, যিনি সুমন নামে পরিচিত, সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী, যিনি আকাশ বা দিশা নামেও পরিচিত, ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান, যিনি মাসুদ, বেরোবির অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান, যিনি বাবু এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সারোয়ার হোসেন, যিনি চন্দন নামে পরিচিত।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজনৈতিক বিভাজনে বিশ্বাস নেই: মির্জা ফখরুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩১ পি.এম


রাজনৈতিক বিভাজনে বিশ্বাস নেই: মির্জা ফখরুল

এলজিইআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, "রাজনৈতিক বিভাজনে আমরা বিশ্বাস করি না, আমরা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী।" তিনি বলেন, "সকল ধর্মের সকল বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণের বাংলাদেশ আমরা কামনা করি।"

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর স্বামীবাগে রথযাত্রার আয়োজন নিয়ে ঢাকা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল আরও জানান, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতি অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের মন জয় করেছেন। তার কাজের প্রধান জায়গাই হলো সাধারণ মানুষের উন্নয়ন।

তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মের উপর কাজ করতে চাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতার জন্য তিনি চিন্তা করেছেন।

তিনি বলেন, নারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে প্রত্যেক ধর্মের মানুষের প্রতিনিধিত্ব এনেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং নৃ-তাত্ত্বিক মানুষের প্রতিনিধিও আছেন।

প্রত্যেক শ্রেণির উন্নয়নে আর্থ সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনে কাজ করা হবে। আমরা বিভাজন করতে চাই না বলেও জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, "আমরা ৭১ সালে সকলে মিলে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিলাম, সেই বোধকে একটা অপশক্তি বারবার আঘাত করার চেষ্টা করে, তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসলামপন্থি ৭ দলের শীর্ষ নেতাদের একসঙ্গে বৈঠক, ঐক্যের বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩৩ পি.এম


ইসলামপন্থি ৭ দলের শীর্ষ নেতাদের একসঙ্গে বৈঠক, ঐক্যের বার্তা

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে ইসলামি ৭টি দলের শীর্ষ নেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা হয়ে গেল।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়িস্থ ঐতিহ্যবাহী জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভাটিতে দেশে চলমান সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, ইসলামি অঙ্গনের ঐক্য এবং বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও মতবিনিময়ের কর্মকাণ্ড সম্পন্ন হয়।

আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অনেক উল্লেখযোগ্য নেতা অংশগ্রহণ করেন। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী, নায়েবে আমির আল্লামা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল আওয়াল, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরীসহ হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ষোলহাজরির বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবাইদুল্লাহ ফারুক, সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদের, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানসহ মোট ৭টি ইসলামি দলের শীর্ষ নেতারা সভাটিতে অংশ নেন।

সভায় দীর্ঘ আলোচনা শেষে ইসলামি অঙ্গনের বৃহত্তর স্বার্থে পারস্পরিক সমন্বয় ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে ৭ দলের নেতারা একটি নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছান। দেশের চলমান নানা ইস্যুতে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদারের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। নেতৃবৃন্দের বক্তব্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, কক্সবাজারের চকরিয়া, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি, খাদ্যসামগ্রী ও জীবিকার উপকরণ হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি মানবিক দায়িত্ব।

সভায় আলোচকদের মধ্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী হেফাজতের জেলা, মহানগর ও উপজেলা শাখাসমূহকে ত্রাণ বিতরণ দ্রুত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে বলা হয়। এর উল্লেখযোগ্যভাবে দেশের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্তরের জনগণের প্রতি বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজী, মাওলানা আলী ওসমান, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মাওলানা মোখলেসুর রহমান কাসেমী, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মুফতি বশিরুল্লাহ, মাওলানা রেজাউল করিম আবরার, মাওলানা মোস্তফা কামাল জিহাদী, মাওলানা ইমরান সিকদার, মাওলানা ফারুক আহমদ ভূঁইয়া, আলহাজ জান্নাতুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%