বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:২৫ পি.এম
জুলাই মাসে শহীদ ওয়াসিম আকরামের পেকুয়ার দক্ষিণ মেহেরনামার বাড়িতে আবারও দেখা দিয়েছে বন্যার পানি। বাড়ির দক্ষিণের উঠোন এবং ইটের রাস্তা তখনও হাঁটুসমান পানিতে ডুবে রয়েছে। বন্যার পানি বর্তমানে নামতে শুরু করেছে। ২০২৩ সালের আগস্টের ঘটনাক্রমে, তিন বছর পর ২০২৬ সালের একই পরিস্থিতিতে পুরো গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
এ বন্যা দেখলেই মা জোসনা বেগমের বুকের ভেতর জমে ওঠে দীর্ঘশ্বাস। কারণ, ২০২৩ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় চট্টগ্রাম শহর থেকে ছুটে এসেছিলেন ছেলে ওয়াসিম। গ্রামের রাস্তা পানিতে তলিয়ে থাকার কারণে সাঁতার কেটেই বাড়ি পৌঁছাতে হয়েছিল। দোকান থেকে শুকনো খাবার কিনে তিনি পরিবারের খোঁজখবরও নিয়েছিলেন, এবং ঘরের নানা কাজও সামলেছিলেন।
কিন্তু তিন বছর পর আবারও একইভাবে বন্যার পানি উঠোন ছুঁয়েছে, অথচ এবার ওয়াসিম আর ফেরেননি। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে হারানোর দুই বছর পূর্ণ হলো। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংঘর্ষে ২৪ বছর বয়সী এই তরুণ নিহত হন।
ওয়াসিমের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার মা জোসনা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, ছেলের স্মৃতিই এখন তার জীবনের অবলম্বন। ঘরের এক কোণে যত্ন করে সাজানো আছে ওয়াসিমের পাওয়া ক্রেস্ট, বিভিন্ন সম্মাননা, উপহার এবং ছবিগুলো। কথার ফাঁকে ফাঁকে তিনি সেগুলো স্পর্শ করেন, আর অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।
জোসনা বেগম বলেন, ‘ছেলের কথা খুব বেশি মনে পড়ে। তিন বছর আগে এমন বন্যার সময় সাঁতার কেটে বাড়ি এসেছিল ওয়াসিম। আসার পথে বাজার থেকে খাবারও নিয়ে এসেছিল। এরপর বাড়িঘর গুছিয়ে নিতে অনেক পরিশ্রম করেছিল।’
কথার ফাঁকে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “কবরের পাশে গেলে আর ফিরে আসতে মন চায় না। মনে হয়, আমার ছেলেটা যেন এখানেই আছে। খুব কষ্ট লাগে।”
ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম সৌদি আরবে থাকাকালে ছেলের মৃত্যুসংবাদ শুনে তাঁর যেন পৃথিবীটাই থমকে গিয়েছিল। তবে ভিসা জটিলতার কারণে সঙ্গে সঙ্গে দেশে ফিরতে পারেননি। এক মাস ১৭ দিন পর দেশে ফিরে প্রথমবারের মতো ছেলের কবরের সামনে দাঁড়ান। এরপর তিনি আর প্রবাসে ফেরেননি।
সম্প্রতি পেকুয়া সদর ইউনিয়নের চৈরভাঙ্গা এলাকায় ইজারা নেওয়া তার মাছের ঘেরে কথা হয়। দিনের বেশিরভাগ সময় এখন সেখানেই কাটান। ঘের থেকে কিছুটা দূরেই ছেলের কবর রয়েছে। প্রতিদিন সেখানে যান।
বারবার তার মনে ফিরে আসে ছেলের বলা একটি বাক্য, ‘শেষ বেলা, শেষবার।’ তখন তিনি বুঝতে পারেননি যে, সেটিই ছিল বিদায়ের ইঙ্গিত।
শফিউল আলম বলেন, ‘দুই বছর হয়ে গিয়েছে, ছেলের মুখে ‘বাবা’ ডাক আর শুনতে পাই না। এই কষ্টটা বুকের ভেতর জমে আছে।’
তিনি জানান, একসময় তার স্বপ্ন ছিল ছেলে সরকারি চাকরি করবে। কিন্তু ওয়াসিমের পরিকল্পনা ছিল কানাডায় যাওয়ার। সে স্বপ্ন পূরণে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে জমি বন্ধক রেখে প্রায় ১৯ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল।
শফিউল আলম বলেন, ‘বড় ছেলে আর ওয়াসিমকে নিয়ে সংসারটা দাঁড় করাতে চেয়েছিলাম। সবকিছু ধীরে ধীরে গুছিয়ে আসছিল। কিন্তু ছেলের মৃত্যু আমাদের সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে।’
ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত ৫ এপ্রিল ২২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট ওয়াসিমের মা জোসনা বেগম চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
তবে মামলার অগ্রগতি নিয়ে খুব একটা খোঁজ রাখেন না শফিউল আলম। তিনি বলেন, ‘মামলার বাদী ওর মা। আমি শুধু চাই, দোষীদের শাস্তি হোক, আর নির্দোষরা যেন মুক্তি পায়। কেউ বিনা অপরাধে শাস্তি পেলে আমাদের সন্তানরা কবরে শান্তি পাবে না।’
মা জোসনা বেগমের কণ্ঠেও একই আকুতি, ‘দুই বছর হয়ে গিয়েছে। এখনো বিচার হল না। আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই।’
ওয়াসিমের ছোট বোন সাবরিনা ইয়াসমিন সোমা বলেন, ‘আমার ভাই দেশের গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন। আজ দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। এখন আমাদের একটাই চাওয়া-আমার ভাইসহ যারা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের হত্যাকারীদের বিচার হোক। সেটাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
ওয়াসিমের পরিবার জানায়, গত ১৩ জুন পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মেহেরনামার মুরারপাড়ায় ওয়াসিমের কবর জেয়ারত পরবর্তী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাক্ষাৎকালে ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম ও মা জোসনা বেগমের হাতে সরকারের পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকার পারিবারিক সঞ্চয়পত্র হস্তান্তর করেন।
এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে তিন দফায় ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা এবং এনসিপি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়েছে পরিবারটি।
জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাহাদুর শাহ বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ওয়াসিমের কবর পাকা করা হয়েছে, নামফলক বসানো হয়েছে। ওয়াসিম স্মৃতি সংসদ গঠন করা হয়েছে। তাদের বাড়ির সড়ক সংস্কার করা হয়েছে।’
পেকুয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা গ্রামের বাসিন্দা ওয়াসিম আকরাম চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংঘর্ষে ২৪ বছর বয়সী তরুণ ওয়াসিম আকরাম নিহত হন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চব্বিশের জুলাইয়ে কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ছাত্র আবু সাঈদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা, আমির হোসেন ও সুজন চন্দ্র, তাদের সাজার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন।
এ ছাড়া, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল এবং ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী, যিনি আকাশ নামে পরিচিত, এছাড়াও পাঁচ বছর সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা এই আপিল করেছেন।
আইনজীবী, আজিজুর রহমান দুলু, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আসামিদের আপিল সম্পর্কিত তথ্য নিশ্চিত করেন।
আইনজীবী এই বিষয়টি জানিয়ে বলেন, তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয় এবং প্রসিকিউশন ক্ষমমাণ অপরাধের বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি; তাই এজন্য তারা এ ধরনের আপিল করেছে।
মামলার প্রেক্ষিতে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আন্দোলন চলাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে আবু সাঈদ পুলিশ গুলিতে নিহত হন। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলমান ছিল এবং চলতি বছরের ৯ এপ্রিল রায় দেওয়ার সময় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন, পাঁচজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং আটজনকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, ১১ জনকে ৩ বছর করে সাজা দেওয়া হয়। এক আসামির হাজতবাসের সময়কে সাজার মেয়াদ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান, যিনি জীবন নামে পরিচিত, তাজহাট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, যিনি নয়ন এবং বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায়, যিনি মাধব নামে পরিচিত।
১০ বছর করে সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ, যিনি বাচ্চু নামে পরিচিত, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান, যিনি বেল্টু এবং বেরোবির গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল, যিনি আসাদ এবং ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সভাপতি পোমেল বড়ুয়া। তারা সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
৫ বছর করে সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন আরএমপির সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী, যিনি সুমন নামে পরিচিত, সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী, যিনি আকাশ বা দিশা নামেও পরিচিত, ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান, যিনি মাসুদ, বেরোবির অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান, যিনি বাবু এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সারোয়ার হোসেন, যিনি চন্দন নামে পরিচিত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
এলজিইআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, "রাজনৈতিক বিভাজনে আমরা বিশ্বাস করি না, আমরা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী।" তিনি বলেন, "সকল ধর্মের সকল বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণের বাংলাদেশ আমরা কামনা করি।"
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর স্বামীবাগে রথযাত্রার আয়োজন নিয়ে ঢাকা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল আরও জানান, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতি অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের মন জয় করেছেন। তার কাজের প্রধান জায়গাই হলো সাধারণ মানুষের উন্নয়ন।
তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মের উপর কাজ করতে চাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতার জন্য তিনি চিন্তা করেছেন।
তিনি বলেন, নারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে প্রত্যেক ধর্মের মানুষের প্রতিনিধিত্ব এনেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং নৃ-তাত্ত্বিক মানুষের প্রতিনিধিও আছেন।
প্রত্যেক শ্রেণির উন্নয়নে আর্থ সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনে কাজ করা হবে। আমরা বিভাজন করতে চাই না বলেও জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, "আমরা ৭১ সালে সকলে মিলে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিলাম, সেই বোধকে একটা অপশক্তি বারবার আঘাত করার চেষ্টা করে, তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে ইসলামি ৭টি দলের শীর্ষ নেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা হয়ে গেল।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়িস্থ ঐতিহ্যবাহী জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভাটিতে দেশে চলমান সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, ইসলামি অঙ্গনের ঐক্য এবং বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও মতবিনিময়ের কর্মকাণ্ড সম্পন্ন হয়।
আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অনেক উল্লেখযোগ্য নেতা অংশগ্রহণ করেন। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী, নায়েবে আমির আল্লামা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল আওয়াল, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরীসহ হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ষোলহাজরির বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবাইদুল্লাহ ফারুক, সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদের, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানসহ মোট ৭টি ইসলামি দলের শীর্ষ নেতারা সভাটিতে অংশ নেন।
সভায় দীর্ঘ আলোচনা শেষে ইসলামি অঙ্গনের বৃহত্তর স্বার্থে পারস্পরিক সমন্বয় ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে ৭ দলের নেতারা একটি নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছান। দেশের চলমান নানা ইস্যুতে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদারের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। নেতৃবৃন্দের বক্তব্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, কক্সবাজারের চকরিয়া, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি, খাদ্যসামগ্রী ও জীবিকার উপকরণ হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি মানবিক দায়িত্ব।
সভায় আলোচকদের মধ্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী হেফাজতের জেলা, মহানগর ও উপজেলা শাখাসমূহকে ত্রাণ বিতরণ দ্রুত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে বলা হয়। এর উল্লেখযোগ্যভাবে দেশের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্তরের জনগণের প্রতি বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানান।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজী, মাওলানা আলী ওসমান, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মাওলানা মোখলেসুর রহমান কাসেমী, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মুফতি বশিরুল্লাহ, মাওলানা রেজাউল করিম আবরার, মাওলানা মোস্তফা কামাল জিহাদী, মাওলানা ইমরান সিকদার, মাওলানা ফারুক আহমদ ভূঁইয়া, আলহাজ জান্নাতুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে পদস্থগিত উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার সময় উপজেলা সদরের কামালপুরে নিজ বাড়ির সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ ওই রাতেই ঘটনাস্থল থেকে একজনকে এবং করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখোলা থেকে অপর দুজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারদের মাঝে রয়েছেন বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতানের ছেলে মো. হেলাল (২৫), লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার দুধরাজপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মো. মহিউদ্দিন (৩২), এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাকিল হোসেন ওরফে শাহীন (২৫)।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার জানালেন, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার অপরাধী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা স্বীকার করেছেন যে, পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডের জন্য তাদের ঢাকা থেকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল। তবে কারা নেপথ্যে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং এর কারণ কী, সেই ব্যাপারে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরো জানান, গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মিঠামইন থানায় এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফজলুর রহমান নেপথ্যের কারিগরদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি তিন হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার করায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।
ফজলুর রহমান বলেন, ‘নিহত জাহাঙ্গীর বিএনপির জন্য একজন নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। তার জীবনাবসান পর্যন্ত তিনি দলের জন্য কাজ করে গেছেন। শান্তির হাওরে একজন ভালো মানুষকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করা হলো, এটি কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।’
জানা গেছে, বুধবার রাতে জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর মিঠামইন বাজারে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির সামনে পৌঁছালে, আগে থেকেই অপেক্ষা করা তিন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়া তাকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করে। তবে ঘটনাস্থল থেকেই চাপাতিসহ হেলালকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় জনতা।
গুরুতর আহত অবস্থায় জাহাঙ্গীর ও হাদিস মিয়াকে প্রথমে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হাদিস মিয়া হাসপাতলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবী, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এই নেতাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারা দ্রুত হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মিঠামইন বেড়িবাঁধের গাছ কাটার অভিযোগে জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পদ স্থগিত করেছিল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ