ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আজ বয়ফ্রেন্ড দিবস, প্রিয়জনকে দিন ছোট্ট চমক


আজ বয়ফ্রেন্ড দিবস, প্রিয়জনকে দিন ছোট্ট চমক

প্রেমের সম্পর্কের মধ্যে প্রিয় মানুষটির প্রতি ভালোবাসা ও গুরুত্ব প্রকাশের জন্য বিভিন্ন বিশেষ দিন পালন করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে একটি বিশেষ দিন হলো বয়ফ্রেন্ড দিবস। প্রতি বছর ৩ অক্টোবর এই দিবসটি উদযাপন করা হয়। এই দিনটি মূলত প্রেমিকের (বয়ফ্রেন্ড) প্রতি তার গুরুত্ব, ভালোবাসা ও মূল্য বোঝানোর একটি বিশেষ উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়।

এই বিশেষ দিনে বয়ফ্রেন্ড বা প্রেমিকের সঙ্গে সময় কাটানো, তার পছন্দের কাজ করা কিংবা ছোট কোনো উপহার দিয়ে তাকে বিশেষ অনুভূতি প্রদান করা যায়। সম্পর্কটি নতুন হোক বা দীর্ঘদিনের—দুজনের মধ্যে ভালোবাসা ও বন্ধন আরও দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি করে এই দিনটি।

কেন শুরু হলো বয়ফ্রেন্ড দিবস?

আরও পড়ুন: পূজার ছুটিতে প্রকৃতির অপরূপ দ্বীপ চর হেয়ার ঘুরে আসুন

গার্লফ্রেন্ড দিবস ১ আগস্ট পালনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার পর প্রেমিকদের জন্যও একটি বিশেষ দিন থাকা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। যদিও গার্লফ্রেন্ড দিবসের সূচনা মূলত নারী বন্ধুদের বন্ধুত্ব উদযাপনকে কেন্দ্র করে ছিল, সময়ের সাথে এটি প্রেমের সম্পর্ক উদযাপনের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, বয়ফ্রেন্ড দিবস শুরু থেকেই প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পালিত হয়ে আসছে। তবে এই দিনে পুরুষ বন্ধুদের প্রতি ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের গুরুত্ব প্রকাশের সুযোগও রয়েছে।

কীভাবে উদযাপন করবেন দিনটি?

প্রেমিককে খুশি করার জন্য বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। তার পছন্দের কোনো জায়গায় ঘুরতে যাওয়া, একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়া কিংবা সিনেমা দেখা হতে পারে দিনের আয়োজন। তার পছন্দের শখ অনুযায়ী মাছ ধরা, খেলাধুলা দেখা কিংবা অন্য কোনো কাজে সঙ্গী হওয়াও হতে পারে আনন্দের উপায়।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সাধু-গুরু ও লালন অনুসারীদের মিলনমেলা শেষ হচ্ছে আজ

প্রেমিকের পছন্দের খাবার তৈরি করে দিতে পারেন। আবার দুজনের প্রথম দেখা বা প্রথম ঘোরার জায়গায় ফিরে গিয়ে পুরোনো স্মৃতি মনে করাও হতে পারে বিশেষ আয়োজন।

ছোট চমকেই হতে পারে বড় আনন্দ

প্রেমিককে চমকে দিতে তার জন্য ছোট কোনো উপহার দিতে পারেন। চাইলে বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে তাকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে গিয়ে সেখানে পছন্দের কিছু দিয়ে চমকে দেওয়া যায়।

ঘরেই আয়োজন করতে চাইলে তার পছন্দের সিনেমা, খাবার ও আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করে একসঙ্গে সময় কাটাতে পারেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তাকে বোঝানো যে তিনি আপনার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: স্বপ্নের নারীকে বিয়ে করতে ১২০০ মাইল পাড়ি, প্রেমিকা এআই জানালেন

প্রথম দেখা বা প্রথম দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনুন

বয়ফ্রেন্ড দিবস উদযাপনের আরেকটি সুন্দর উপায় হলো প্রথম দেখা বা প্রথম ঘোরার স্মৃতি ফিরিয়ে আনা। যেদিন প্রথম দেখা হয়েছিল, সম্ভব হলে সেই জায়গায় আবার যাওয়া কিংবা সেদিনের কোনো বিশেষ মুহূর্ত মনে করা সম্পর্কের পুরোনো স্মৃতি নতুন করে ফিরিয়ে আনতে পারে।

শুধু প্রেমিক নয়, বন্ধুত্বও হোক উদযাপিত

এই দিনটি শুধুমাত্র প্রেমের সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পুরুষ বন্ধুদের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার সুযোগ হিসেবেও দিনটি পালন করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: আজ নতুন বন্ধু বানানোর দিন, পুরোনো বন্ধুত্বের গুরুত্বও তুলে ধরা হচ্ছে

দীর্ঘদিন কথা না হওয়া কোনো বন্ধুকে ফোন করে খোঁজ নেওয়া, বার্তা পাঠানো কিংবা একসঙ্গে সময় কাটানো—এসব ছোট উদ্যোগও বন্ধুত্বকে আরও গভীর করতে পারে। পুরুষদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও পরস্পরের প্রতি যত্ন প্রকাশের সুযোগ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

বয়ফ্রেন্ড দিবসের শুরু কীভাবে?

বয়ফ্রেন্ড দিবসের সঠিক সূচনা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য খুব বেশি পাওয়া যায় না। দিবসটির নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠাতা বা শুরুর ইতিহাসও স্পষ্ট নয়। তবে এর মূল উদ্দেশ্য হিসেবে প্রেমিকের প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও সম্পর্কের আনন্দ উদযাপন করাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তাহলে ৩ অক্টোবর বড় কোনো আয়োজনের চেয়ে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো, তার কথা শোনা এবং জীবনে তার গুরুত্ব বোঝানোই হতে পারে বয়ফ্রেন্ড দিবস পালনের একটি সুন্দর উপায়।

আরও পড়ুন: পূজায় মিষ্টিমুখ, ঘরেই বানান সুস্বাদু নারকেলের নাড়ু

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় জাতীয় ক্রিকেট লিগের উদ্বোধন, শুরু হলো ক্রিকেটের উন্মাদনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ পি.এম


খুলনায় জাতীয় ক্রিকেট লিগের উদ্বোধন, শুরু হলো ক্রিকেটের উন্মাদনা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, খুলনা বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঘরোয়া ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী ও বড় আসর নিয়ে নতুন উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। আজ থেকে শুরু হলো ২৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের পর্দা।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি পরিচালক, নারী উইংয়ের ভাইস চেয়ারম্যান ও খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল আলম তুহিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোল্লা খায়রুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম হোসেনসহ বিসিবি ও ক্রীড়াঙ্গনের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আজ থেকে দেশের আটটি বিভাগীয় দল নিয়ে শুরু হয়েছে ৪ দিনের এই ক্রিকেট মহাযজ্ঞ। প্রথম রাউন্ডে স্বাগতিক খুলনা বিভাগের মুখোমুখি হয়েছে বরিশাল বিভাগ। পুরো টুর্নামেন্টে প্রতিটি দল মোট ৭ টি করে ম্যাচ খেলবে। আগামী ১৭ নভেম্বর টুর্নামেন্টের সমাপ্তি ঘটবে।

এর আগে, শুক্রবার বিকেলে খেলার সর্বশেষ প্রস্তুতি দেখতে খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন বিসিবি পরিচালক মো. শফিকুল আলম তুহিনের নেতৃত্বে বিসিবি’র টেকনিক্যাল টিম।

বিসিবি পরিচালক মো. শফিকুল আলম তুহিন বাসস’কে জানান, এনসিএলের ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর খুলনায় জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেট মাঠে গড়ালো। মাঠে খেলোয়াড়, ম্যাচ অফিসিয়াল ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বিসিবি থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কেবল এনসিএল নয়, আগামী ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘ডি-থ্রি’ টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলোও খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিসিবি টিমের এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল এনসিএল সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং ডি-থ্রি ও ভবিষ্যতে বিসিবি’র পরিকল্পিত বড় পরিসরের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসরের ভেন্যু হিসেবে খুলনার সক্ষমতা যাচাই করা। যদিও ভেন্যুর কিছু সংস্কার কাজ এখনও চলমান রয়েছে।

এদিকে, এনসিএলের এই ম্যাচ শুরুর মাধ্যমে খুলনায় নিয়মিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট ফেরানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় ক্রীড়ামোদী ও আয়োজকরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মমতাজ আওয়ামী লীগেও একটা ছিল, এখন জামায়াতেও একটা আসছে: রফিকুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪০ পি.এম


মমতাজ আওয়ামী লীগেও একটা ছিল, এখন জামায়াতেও একটা আসছে: রফিকুল ইসলাম

ইসলামিক বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান কার্যক্রম এবং পশ্চিমের সমর্থন পাওয়ার প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) তার ফেসবুক পোস্টে তিনি জামায়াতকে পশ্চিমা সন্তুষ্টির পথ পরিহার করার আহ্বান জানান এবং বলেন, আল্লামা সাঈদীর রক্তের বিনিময়ে গড়া দলটির মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা উচিত।

রফিকুল ইসলাম মাদানী উল্লেখ করেন, "মমতাজ আওয়ামী লীগেও একটা ছিল, এখন জামাতেও একটা আসছে।" তিনি বলেন, পার্থক্য হলো আওয়ামী লীগেরটা খোলামেলা, বাউল শিল্পী হিসেবে তার কাজ সরাসরি, তিনি "ওপেন ফাইট্টা যায় ছিঁইড়া যায় বলত!"

তিনি আরও বলেন, "এটা হিজাব পরে ইসলামের নামে ধোঁকা দিয়ে সবকিছু ফাটাইলতাছে, ছিঁড়ালতাছে, ইসলামের ক্ষতি করতাছে!"

মাদানী লেখেন, ঐ মমতাজ সংসদে সবজান্তা মাতব্বরের মতো সিয়াসিত্তার হাদিস কউত, এটাও সবজান্তা হাদিস বলে! তার ভাবসাবও একই।

তিনি মনে করেন, জামাত পশ্চিমাদের থেকে ক্ষমতা পাওয়ার আশায় এদেশের ইসলামপন্থীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চ্যালেঞ্জ করে বসছে। "আমরা ইসলামের নামে যা তা করব, পারলে কী করবা কর?"

মাদানী আরও লেখেন, "এরা ভাবতেছে, আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ক্লোজ, বিএনপি এখন পাওয়ারে আছে, আর বাঙালি টানা ২ টার্মে কাউকে ভোট দিয়ে পাস করাবে না।" তিনি বলেন, "অতএব, আগামী টার্মে আমরা কনফার্ম সমস্যা ভোটের মাঠে নাই!"

তিনি পশ্চিমাদের প্রতি সতর্ক করে বলেন, "যদি তারা মনে করে আমরা ইসলামপন্থী, তাহলে আমাদের আসতে দিবে না।" এই বক্তব্যটি উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের কথায় বুঝা যায়, "এবারই হইছে!"

মাদানী বলেন, "অতএব, পশ্চিমের কাছে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে আওয়ামী লীগ-বিএনপির চেয়েও আমরা আল্ট্রা ফ্রো-মেক্স স্টাইলে আরও আপডেট পুরোপুরি সেকুলার আমরাও!" তিনি উল্লেখ করেন, "পূর্বে যা কেউ করে নাই, সেগুলোও আমরা করব।"

তিনি বলেন, "এগুলো করে পশ্চিমকে বুঝাচ্ছে, এই দেখুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা প্রথম হাফ প্যান্ট পরে বাস্কেটবল আয়োজন করছি মেয়েদের!" তিনি উল্লেখ করেন, সারাদেশে এত এত সমালোচনা সত্ত্বেও, "আমরা আমাদের মহিলা এমপিকে দিয়ে খেলার পুরস্কার দিয়েছি। এটাই আমাদের কাছে ইসলাম!"

রফিকুল ইসলাম জামাত-শিবিরকে বলেন, "ভাইরে আমার কষ্টের জীবনে আপনারা সহযোগিতা করছেন, খোঁজখবর নিছেন।" তিনি জানান, "তাই আপনাদের প্রতি একটা ইমোশন-সিমপ্যাথি কাজ করে।"

তিনি বলেন, "আপনারা যদি এভাবে পশ্চিমাদের খুশি করার জন্য ওপেন আমাদের চ্যালেঞ্জ করেন, তাহলে শুধুমাত্র ইস্যুভিত্তিক বিরোধিতা করব না!"

মাদানী লেখেন, "আমাকে মেরে ফেলা না হলে, আমি একা বিরোধিতায় লাগলে লোড নিতে পারবেন না, পাগল হয়ে যাবেন!"

তিনি শেষ করেন, "প্লিজ, আল্লাহর ওয়াস্তে, আল্লামা সাঈদী রহ.এর শাহাদাতে রঞ্জিত দলটাকে আর নিচে নামায়েন না! আপাতত এতটুকু চাওয়া!

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরায় অন্যের ঝগড়া থামাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪১ পি.এম


সাতক্ষীরায় অন্যের ঝগড়া থামাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবক

সাতক্ষীরার একটি চায়ের দোকানে কথা-কাটাকাটি থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে এক যুবক ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে শহরের পশু হাসপাতালের গেটের সামনে রবিউলের চায়ের দোকানে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম জাকারিয়া খান, যিনি শহরের কাটিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং রুচিরা বেকারীর মালিক আব্দুর গফুর খানের পুত্র।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, চায়ের বিল পরিশোধ নিয়ে কয়েকজন যুবকের সঙ্গে ওই চায়ের দোকানির বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে জাকারিয়া বিরোধ মেটাতে গেলে হামলাকারীরা তাকে বুকে ও পিঠে চাকু দিয়ে আঘাত করে। হামলার ফলে চায়ের দোকানের কর্মচারী বাপীও আহত হন।

পরে দুজনকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাকারিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার ইন্সপেক্টর শাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পুরো বক্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পুরো বক্তব্য

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সংলাপের প্রতিপাদ্য হলো ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স, ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন এ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’। বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তন, ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রযুক্তির বিকাশ এবং পারস্পরিক আস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আয়োজিত এই সংলাপে দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজনেরা অংশগ্রহণ করছেন।

আরটিভির পাঠকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পুরো বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হল:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

সন্মানিত সুধীবৃন্দ, সাবেক রাষ্ট্রপতিগণ, প্রধানমন্ত্রীগণ এবং মন্ত্রীগণ, বিশিষ্ট অতিথিবর্গ, ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,

'বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬' আয়োজনের জন্য আমি সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিপুল জনম্যান্ডেট নিয়ে বাংলাদেশে একটি নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। জনগণের সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে আমাদের একটি ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের অগ্রাধিকারগুলো হলো জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। আমরা এখন প্রতিশ্রুতি থেকে সরাসরি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

আমরা বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করছি। একই সাথে দেশকে একটি শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলছি। উৎপাদন, সেবা, রপ্তানিসহ সকল খাতে আমরা ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তা অপরিহার্য, আর আমাদের দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতাই সেই নিশ্চয়তা প্রদান করবে।

আমাদের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা অগ্রাধিকার পান। 'ফ্যামিলি কার্ড' এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে, যা সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু হবে। 'কৃষক কার্ড' কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষি সেবা ও বাজার ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করবে। 'হেলথ কার্ড' নিশ্চিত করবে সবার জন্য চিকিৎসাসেবা। আর চূড়ান্তভাবে, 'ইউনিভার্সেল কার্ড'-এর মাধ্যমে নাগরিকরা এক ছাতার নিচে সমন্বিত সরকারি সেবাসমূহ গ্রহণ করতে পারবেন।

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। আমরা ১ লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগে কাজ করছি, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। তাঁরা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা প্রদান করবেন। পাশাপাশি আমরা মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।

আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের শুধু সনদের জন্য নয়, বরং বাস্তব জীবনের জন্য তৈরি করবে। আমরা আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছি। আমাদের সন্তানদের চরিত্র গঠনে পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। তাঁদের জন্য একটি তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগও থাকবে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে। আমাদের সরকার প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি প্রদান করবে। এ ছাড়া স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি আমরা সম্প্রসারিত করছি।

আমাদের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী জাতীয় অগ্রগতির এক অনন্য চালিকাশক্তি। তবে এই জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে প্রয়োজন দক্ষতা ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান। আমরা ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে গ্রহণ করছি। আমরা উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং স্টার্ট-আপগুলোকে সহায়তা দিচ্ছি। আমরা চাই আমাদের তরুণেরা বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করুক এবং ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশন এ রূপান্তর করুক।

আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষিখাত। আমরা প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজার সংযোগ আরও সহজলভ্য করছি। আমরা মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা প্রদান করছি। খাদ্য নিরাপত্তার পরিপূরক হিসেবে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষি রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। কারণ আমি বিশ্বাস করি, একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ।

পানি নিরাপত্তাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ৫ বছরে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আমরা পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছি। এছাড়া আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছি। এসব পদক্ষেপ কৃষিখাতকে সহায়তা করবে এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করবে।

পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আগামী ৫ বছরে আমরা ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করব। আমরা সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারিত করছি। বাংলাদেশ বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড সার্টিফাইড ফ্যাকটরির মধ্যে ৫৩টিই এখন বাংলাদেশে। পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার মাধ্যমে আমরা বর্জ্য হ্রাস, জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে পারি।

উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সুদৃঢ় করছি। মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে। আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। আমরা এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তুলব, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।

বাংলাদেশ একই সঙ্গে একটি বড় বৈশ্বিক দায়িত্ব পালন করে চলেছে। আমরা এখনও প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মিয়ানমারে তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। এর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি এই সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান করাও জরুরি; যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে মিয়ানমারেই।

বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে চলেছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে আমাদের সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতি পুরো বিশ্বের সাথে যুক্ত হতে পারে। জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আঞ্চলিকভাবে আমাদের এই অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে হবে। আর সেজন্য প্রয়োজন আরও গভীর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা।

আমরা বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করতে পারি। আমরা নতুন বাজার উন্মুক্ত করতে পারি এবং আমাদের তরুণদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি। সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আমরা আরও শক্তিশালী সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের একত্রিত করেছে; আর আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণের সাথে জনগণের নিবিড় সম্পর্ক আমাদের আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারিত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী। আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব। একই সাথে, আমরা আমাদের সকল আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সাথে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাব। কারণ শান্তি ও সম্প্রীতিই হলো যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি।

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলটি এমন একটি এলাকায় পরিণত হোক যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসাথে বিকশিত হবে, পারস্পরিক সমান সুবিধা গ্রহন করবে এবং নাগরিকরা অর্থবহ সহযোগিতার হাতকে প্রসারিত করবে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে তার যথাযথ ভূমিকা পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

আপনাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। আপনাদের দিনটি শুভ হোক। আল্লাহ হাফেজ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%