ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পুরো বক্তব্য


‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পুরো বক্তব্য

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সংলাপের প্রতিপাদ্য হলো ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স, ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন এ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’। বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তন, ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রযুক্তির বিকাশ এবং পারস্পরিক আস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আয়োজিত এই সংলাপে দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজনেরা অংশগ্রহণ করছেন।

আরটিভির পাঠকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পুরো বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হল:

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

সন্মানিত সুধীবৃন্দ, সাবেক রাষ্ট্রপতিগণ, প্রধানমন্ত্রীগণ এবং মন্ত্রীগণ, বিশিষ্ট অতিথিবর্গ, ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,

'বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬' আয়োজনের জন্য আমি সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিপুল জনম্যান্ডেট নিয়ে বাংলাদেশে একটি নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। জনগণের সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে আমাদের একটি ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের অগ্রাধিকারগুলো হলো জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। আমরা এখন প্রতিশ্রুতি থেকে সরাসরি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

আমরা বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করছি। একই সাথে দেশকে একটি শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলছি। উৎপাদন, সেবা, রপ্তানিসহ সকল খাতে আমরা ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তা অপরিহার্য, আর আমাদের দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতাই সেই নিশ্চয়তা প্রদান করবে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

আমাদের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা অগ্রাধিকার পান। 'ফ্যামিলি কার্ড' এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে, যা সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু হবে। 'কৃষক কার্ড' কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষি সেবা ও বাজার ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করবে। 'হেলথ কার্ড' নিশ্চিত করবে সবার জন্য চিকিৎসাসেবা। আর চূড়ান্তভাবে, 'ইউনিভার্সেল কার্ড'-এর মাধ্যমে নাগরিকরা এক ছাতার নিচে সমন্বিত সরকারি সেবাসমূহ গ্রহণ করতে পারবেন।

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। আমরা ১ লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগে কাজ করছি, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। তাঁরা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা প্রদান করবেন। পাশাপাশি আমরা মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।

আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের শুধু সনদের জন্য নয়, বরং বাস্তব জীবনের জন্য তৈরি করবে। আমরা আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছি। আমাদের সন্তানদের চরিত্র গঠনে পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। তাঁদের জন্য একটি তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগও থাকবে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে। আমাদের সরকার প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি প্রদান করবে। এ ছাড়া স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি আমরা সম্প্রসারিত করছি।

আমাদের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী জাতীয় অগ্রগতির এক অনন্য চালিকাশক্তি। তবে এই জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে প্রয়োজন দক্ষতা ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান। আমরা ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে গ্রহণ করছি। আমরা উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং স্টার্ট-আপগুলোকে সহায়তা দিচ্ছি। আমরা চাই আমাদের তরুণেরা বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করুক এবং ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশন এ রূপান্তর করুক।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষিখাত। আমরা প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজার সংযোগ আরও সহজলভ্য করছি। আমরা মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা প্রদান করছি। খাদ্য নিরাপত্তার পরিপূরক হিসেবে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষি রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। কারণ আমি বিশ্বাস করি, একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ।

পানি নিরাপত্তাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ৫ বছরে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আমরা পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছি। এছাড়া আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছি। এসব পদক্ষেপ কৃষিখাতকে সহায়তা করবে এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করবে।

পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আগামী ৫ বছরে আমরা ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করব। আমরা সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারিত করছি। বাংলাদেশ বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড সার্টিফাইড ফ্যাকটরির মধ্যে ৫৩টিই এখন বাংলাদেশে। পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার মাধ্যমে আমরা বর্জ্য হ্রাস, জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে পারি।

উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সুদৃঢ় করছি। মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে। আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। আমরা এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তুলব, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

বাংলাদেশ একই সঙ্গে একটি বড় বৈশ্বিক দায়িত্ব পালন করে চলেছে। আমরা এখনও প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মিয়ানমারে তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। এর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি এই সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান করাও জরুরি; যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে মিয়ানমারেই।

বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে চলেছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে আমাদের সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতি পুরো বিশ্বের সাথে যুক্ত হতে পারে। জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আঞ্চলিকভাবে আমাদের এই অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে হবে। আর সেজন্য প্রয়োজন আরও গভীর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা।

আমরা বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করতে পারি। আমরা নতুন বাজার উন্মুক্ত করতে পারি এবং আমাদের তরুণদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি। সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আমরা আরও শক্তিশালী সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের একত্রিত করেছে; আর আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণের সাথে জনগণের নিবিড় সম্পর্ক আমাদের আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারিত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী। আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব। একই সাথে, আমরা আমাদের সকল আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সাথে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাব। কারণ শান্তি ও সম্প্রীতিই হলো যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলটি এমন একটি এলাকায় পরিণত হোক যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসাথে বিকশিত হবে, পারস্পরিক সমান সুবিধা গ্রহন করবে এবং নাগরিকরা অর্থবহ সহযোগিতার হাতকে প্রসারিত করবে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে তার যথাযথ ভূমিকা পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

আপনাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। আপনাদের দিনটি শুভ হোক। আল্লাহ হাফেজ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রূপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৭ পি.এম


রূপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর পৌঁছেছে পাবনার ঈশ্বরদীতে। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে প্রকল্প এলাকায় গাড়িবহরটি প্রবেশ করে।

জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান নিরাপত্তার মধ্যে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।

এর আগে, শনিবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহরটি রূপপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তিনটি লরিতে ইউরেনিয়াম এবং অন্য একটি গাড়িতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পরিবহন করা হয়। বহরের সঙ্গে রাশিয়া থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরাও ছিলেন।

ইউরেনিয়াম পরিবহনের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, এসআরবি এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ কার্গো বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি, মোট নয়টি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে সব চালান সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের আশা, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুরে মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় ছাত্রদল নেতার ওপর হামলা, বিচার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৭ পি.এম


শেরপুরে মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় ছাত্রদল নেতার ওপর হামলা, বিচার দাবি

শেরপুরে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত থাকার কারণে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে শেরপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদল এবং ডা. সেকান্দর আলী কলেজ ছাত্রদল।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শহরের গৌরীপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন শেরপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রায়হান ইসলাম রাব্বী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন যে, সম্প্রতি তিনি এবং ডা. সেকান্দর আলী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি স্বাধীন মিয়া সহ কয়েকজন মাদকবিরোধী সভা-সমাবেশ ও বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছেন। এর ফলস্বরূপ গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে গৌরীপুর ব্র্যাক অফিসসংলগ্ন এলাকায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৬ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় মো. খোকন মিয়া ও মো. কুরবান আলীকে গ্রেপ্তার করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের এবং মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

শেরপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রায়হান ইসলাম রাব্বী বলেন, "ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স করতে চাই। যাতে করে আমরাসহ আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম মাদকের দিকে আর ঝুঁকে না পড়ে।"

এ সময় শেরপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল কোরাইশী, ডা. সেকান্দর আলী কলেজ ছাত্রদল সভাপতি মো. স্বাধীন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. সৌরভ হাসান, শেরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদল সভাপতি মো. জুয়েল রানা, বিএম কলেজ ছাত্রদল সভাপতি স্বাধীনুর ইসলাম শ্রাবণ, কসবা বিএম কলেজ ছাত্রদল সভাপতি ঝলক আহমেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সম্পত্তি হস্তান্তরে নতুন আইনের দিগন্ত উন্মোচন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৮ পি.এম


সম্পত্তি হস্তান্তরে নতুন আইনের দিগন্ত উন্মোচন

সম্পত্তি দান করার পরও নিজের জীবদ্দশায় তা ভোগ ও ব্যবহার করার পূর্ণ আইনি অধিকার সংরক্ষণের সুযোগ রেখে দেশে সম্পত্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলো এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬’ পাস হওয়ার মাধ্যমে এ নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

নতুন আইনের আওতায় সম্পত্তি হস্তান্তরের আইনি কাঠামোয় ‘জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান’ নামে একটি নতুন পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে সম্পত্তির চূড়ান্ত মালিকানা গ্রহীতার অনুকূলে হস্তান্তর হলেও দাতা যতদিন জীবিত থাকবেন, ততদিন ওই সম্পত্তি নিজের মতো ভোগদখল ও ব্যবহার করার অধিকার পাবেন।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, ‘সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে একটা নতুন দিগন্ত আমরা উন্মোচন করলাম। এই আইন দ্বারা হেবা কিংবা গিফট বা অন্য কোনোভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরকে বাধাগ্রস্ত করবে না বা ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের একটা বিকল্প করোনারি আনছি। কেউ যদি হেবা করতে চায়, হেবা করতে পারবেন। সেখানে কোনো বাধা নেই। কেউ যদি অন্য আইনে সম্পত্তি ডিল করতে চান, সেটাও করতে পারবেন। সেখানেও কোন বাধা নেই।’

ইসলামী আইনের সঙ্গে বৈপরীত্যের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, ‘ইসলামিক ল’ বা হেবা আইনের ওপর কারো হাত দেওয়ার ক্ষমতা নেই। আমরা সেখানে হাত দিইনি। আমরা হেবাকে সংরক্ষণ করেছি। আইনের মধ্যে এক্সপ্রেসলি সেটা বলেছি।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘একটা গ্রুপ এটা নিয়ে পলিটিক্স করার চেষ্টা করছে। এগুলো সাধারণ মানুষ গ্রহণ করছে না। সাধারণ মানুষ এই আইনটাকে খুব পজিটিভলি দেখছে।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬-কে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ট্রান্সফার অব প্রপারটি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। দেশের বিদ্যমান আইনি কাঠামোয় এটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, আইনটির সংশোধনীর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাবা-মা, দাদা-দাদি বা নানা-নানি, সন্তান-সন্ততি বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার নিজের কাছে রাখতে পারবেন। আইনটিতে এ বিধান সময়োপযোগী সংশোধনী।

সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত সংশোধনী আইনটি যথাযথভাবে যেন সর্বত্র প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয় এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের পর পিতা-মাতার করুণ পরিণতির বহু ঘটনা আমরা দেখেছি। পিতা-মাতার প্রতি নিজ সন্তানদের অবজ্ঞার বহু নজিরও আমাদের সামনে রয়েছে।

একলাছ ভূঁইয়া বলেন, আমাদের দেশ চলে সাংবিধানিক আইনের অধীনে। দেশে প্রচলিত ও বিদ্যমান আইনি কাঠামোয় সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত পুরনো আইনটির সংশোধন করে জাতীয় সংসদ যে বিধান নিশ্চিত করেছে, এজন্য সরকারকে স্বাগত জানান তিনি।

সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ্ মিয়া বলেন, ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬ অনুযায়ী সম্পত্তি হস্তান্তর বা দানে দাতার জীবনকালীন নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে। দাতা তার জীবদ্দশায় সম্পত্তির পূর্ণ ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার নিজের কাছে অক্ষুন্ন রেখেই পরবর্তী প্রজন্মের অনুকূলে মালিকানা হস্তান্তর করতে পারবেন।

বিশিষ্ট এই আইনজীবী বলেন, সংশোধিত আইনটি সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। এটি পিতা-মাতার প্রতি সন্তানদের দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা এবং পারিবারিক সম্পর্কের ভিতকে মজবুত করবে। পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্বহীন, অমানবিক আচরণ পরিহার ও সতর্ক করতে এ আইনটি সময়োপযোগী এবং আইনি ও সামাজিক সঙ্কটের টেকসই সমাধান।

তিনি বলেন, পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা এবং প্রবীণ বয়সে নিজের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা-এই দ্বৈত সংকটের একটি সুষম ও আইনি সমাধান দেবে এই বিধান।

জাতীয় সংসদে পাস ও রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর গত ৮ সেপ্টেম্বর আইনটি সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়। এটি ২০২৬ সালের ১০৫ নং আইন, যা সম্পত্তি হস্তান্তর আইন তথা ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট, ১৮৮২ এর অধিকতর সংশোধনকল্পে প্রণীত আইন।

আইনটি সংশোধন করে প্রকাশিত গেজেটে বলা হয়েছে, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ এর অধীন জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান সংক্রান্ত বিধান সুনির্দিষ্ট করা এবং ওই ভোগাধিকার সুরক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়। আইনটি ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) এ্যাক্ট, ২০২৬ নামে অভিহিত হবে। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

আইনটির ধারা ১২২ক-জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে বলা হয়েছে, এই আইনে বা বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো দাতা তার জীবদ্দশায় কোনো সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার নিজের জন্য সংরক্ষণ করে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দান করলে, সেই দান বৈধ হবে।

উপ-ধারা (১)-এর অধীন দান বৈধ হওয়ার জন্য শর্ত হলো-এই ধরনের দান করতে পারবেন পিতা বা মাতা তার সন্তান বা সন্তানদেরকে; দাদা-দাদি বা নানা-নানি তার নাতি বা নাতনিকে; সন্তান তার পিতা-মাতা বা দাদা-দাদিকে; নাতি-নাতনি তার দাদা-দাদি বা নানা-নানিকে; অথবা স্বামী ও স্ত্রী পরস্পরকে। তবে, দানটি যদি স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত হয়, তাহলে এই ধারার অধীনে ঘোষণা করে এবং রেজিষ্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী নিবন্ধিত দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে দান করতে হবে।

দাতার জীবদ্দশায় যদি গ্রহীতা মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী সম্পত্তিটি গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরিত হবে। তবে সম্পত্তির ওপর দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার বহাল থাকবে এবং সম্পত্তির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। অর্থাৎ, দানগ্রহীতা মারা গেলেও দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার নষ্ট হবে না।

এই ধারায় সম্পত্তি হস্তান্তরকে এই আইনের অধীনে একটি স্বতন্ত্র বা পৃথক ধরনের হস্তান্তর পদ্ধতি হিসেবে গণ্য করা হবে। এর ফলে এই আইন বা অন্য কোনো প্রচলিত আইনে স্বীকৃত সাধারণ দান, হেবা অথবা অন্য কোনো বৈধ হস্তান্তর পদ্ধতির বৈধতা সীমিত, ক্ষুণ্ন বা প্রভাবিত হবে না।

ধারা ১২২খ-জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক বিষয়ে বলা হয়েছে, কোনো দান একবার নিবন্ধিত হয়ে গেলে সাধারণভাবে তা অপ্রত্যাহারযোগ্য হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হবে- দাতা ও গ্রহীতা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে একটি নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে দানের ফলে সৃষ্ট অধিকার পরিবর্তন, বাতিল বা অন্য কোনোভাবে ব্যবস্থা করতে পারবেন, যদি তা প্রয়োজন হয়-আর্থিক প্রয়োজনের কারণে; চিকিৎসাগত প্রয়োজনের কারণে; শিক্ষাগত প্রয়োজনের কারণে; পারিবারিক প্রয়োজনের কারণে; অথবা অন্য কোনো প্রকৃত ও যৌক্তিক প্রয়োজনের কারণে। অথবা কোনো পক্ষের সম্মতি নেওয়া সম্ভব না হলে-যেমন-সে অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে; নিখোঁজ থাকলে; মানসিকভাবে অক্ষম হলে; আইনগত অক্ষমতা থাকলে; অথবা অন্য কোনো যথেষ্ট কারণ থাকলে, অন্য পক্ষ জেলা জজের কাছে আবেদন করতে পারবেন।

জেলা জজ ধারা ১২২ক-এর অধীনে সৃষ্ট অধিকার পরিবর্তন, বাতিল বা অন্য কোনোভাবে ব্যবস্থাপনার অনুমতি দিতে পারবেন, যদি উপ-ধারা (১)(ক)-এ বর্ণিত প্রয়োজনীয়তার কোনো একটি বিদ্যমান থাকে। জেলা জজের আদেশের আগে করণীয় (২) উপ-ধারা (১)-এর (খ) দফার অধীনে কোনো আদেশ দেওয়ার আগে জেলা জজকে-(ক) সম্পত্তি বা সংশ্লিষ্ট অধিকারে স্বার্থ রয়েছে এমন সব ব্যক্তিকে নোটিশ দিতে হবে (খ) প্রয়োজন মনে করলে যথাযথ তদন্ত বা অনুসন্ধান করতে হবে; এবং (গ) নিশ্চিত হতে হবে যে আবেদনটি সৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি সুষম আইনি সুরক্ষা ব্যবস্থা। বিদ্যমান পারিবারিক সংকট দূর করার পাশাপাশি প্রবীণদের আত্মমর্যাদা ও আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই নতুন আইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিলুপ্ত লোমশ হাতি ম্যামথদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৮ পি.এম


বিলুপ্ত লোমশ হাতি ম্যামথদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শুরু

বিজ্ঞানীরা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া লোমশ ম্যামথকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেকনোলজি প্রতিষ্ঠান কলোসাল বায়োসায়েন্সেস এশীয় হাতির জিনে পরিবর্তন এনে ম্যামথের মতো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রাণী তৈরির পরিকল্পনা করছে। তবে, কবে নাগাদ এ ধরনের প্রাণীর জন্ম হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা বিদ্যমান।

ম্যামথ ছিল বিশাল আকৃতির একটি হাতির প্রজাতি। তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল লম্বা বাঁকানো দাঁত এবং ঘন লোমে ঢাকা শরীর। বরফযুগের কঠোর ঠান্ডা পরিবেশে টিকে থাকার জন্য এসব বৈশিষ্ট্য তাদের সহায়তা করেছিল। কিন্তু হাজার হাজার বছর আগে অধিকাংশ ম্যামথ বিলুপ্ত হয়ে যায়।

বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনা অনুসারে, এশীয় হাতির জিন সম্পাদনা করে ম্যামথের মতো ঘন লোম, ঠান্ডা সহ্য করার ক্ষমতা এবং অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য তৈরি করার চেষ্টা করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় জিন সম্পাদনা প্রযুক্তি ও আধুনিক জীবপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

এ প্রকল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও জিনগত তথ্য বিশ্লেষণের মতো প্রযুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে, এশীয় হাতির জিনে পরিবর্তন আনলেই যে সম্পূর্ণ ম্যামথ তৈরি করা সম্ভব হবে, এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই। বরং বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য হলো, বিলুপ্ত ম্যামথের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হাতি তৈরি করা।

প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে ম্যামথের মতো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শাবকের জন্ম দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে ২০৩০ সালের মধ্যে এ ধরনের প্রাণীকে পৃথিবীতে দেখা যেতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে এই উদ্যোগের সঙ্গে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য তৈরি, প্রাণীর সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করা এবং প্রজনন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করা সহজ নয়। পাশাপাশি, প্রচণ্ড ঠান্ডার পরিবেশে এসব প্রাণীকে বাঁচিয়ে রাখা এবং তাদের জন্য উপযুক্ত আবাসস্থল তৈরি করাও বড় চ্যালেঞ্জ।

বিলুপ্ত প্রজাতিকে ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ সফল হলে তা জীবপ্রযুক্তি গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে বিলুপ্ত প্রাণী পুনরুদ্ধারের নৈতিকতা, প্রাণিকল্যাণ এবং পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%