ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন


এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ  মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

 চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আজ সোমবার সকাল ১০টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে আন্ত:শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয় যে, এ বছর দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৮ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৭ হাজার ৯৩৯ জন।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

২০২৬ সালের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। অন্যদিকে, গত বছর (২০২৫ সাল) পাসের হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার এবং জিপিএ-৫ উভয়েই কমেছে।

৯টি সাধারণ বোর্ডের ফলাফলের চিত্র

প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৪ লাখ ৪ হাজার ৫৩৯জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৬১০জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৮১৪ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৩ হাজার ৭৯৬জন। পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন।

মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের চিত্র :

আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ

প্রকাশিত ফলাফলে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষায় ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ জন। এ বোর্ডে পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭১৬ জন।

অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৪ হাজার ৪৭০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এ বোর্ডে পাসের হার ৫৮.২০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ জন।

বোর্ডভিত্তিক পাসের হার ও জিপিএ-৫

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বোর্ডভিত্তিক পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৭১.৬৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৫৩ জন।

আরও পড়ুন: ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করলেন

অন्य বোর্ডের মধ্যে রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৬৩.৬৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ হাজার ৩২৭ জন, যশোর বোর্ডে পাসের হার ৬৬.২৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন। সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন। দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৫৮.০৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন। চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫৯.৪৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন। বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৬০.৩৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭৭৮ জন। ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫৭.৩৯ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭০০ জন। কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৬৫.৪২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮১৪ জন।

গ্রুপভিত্তিক উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী ও পাসের হার:

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর গ্রুপভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পাস করেছে। বিজ্ঞান বিভাগে মোট উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী ৪ লাখ ৫৭ হাজার ১৮৮ জন, পাসের হার ৮০.৬৪ শতাংশ। আর মানবিক বিভাগে মোট উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী ৩ লাখ ০১ হাজার ১৭৪ জন, পাসের হার ৪৮.৭৪ শতাংশ। অন্যদিকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৪১ হাজার ২৪৮ জন, পাসের হার ৬৪.২৯%।

বেলা ১০টা থেকে একযোগে দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: চিরিরবন্দরে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার, দেয়ালে আবেগঘন বার্তা

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেকসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৮১৪ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩০ পি.এম


কুমিল্লা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৮১৪ জন

কুমিল্লা, ১০ আগস্ট, ২০২৬ : ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ বছর কুমিল্লা বোর্ড থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮১৪ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্র ৩ হাজার ৯৬৬ জন এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৮৪৮ জন।

সোমবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন। অর্থাৎ ৫০ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী এ বছর কৃতকার্য হতে পারেননি।

ফলাফলে দেখা যায়, বিভাগভেদে বিজ্ঞানে শিক্ষার্থীদের তুলনামূলক ভালো ফলাফল এসেছে। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮২ দশমিক ৮৮ শতাংশ, মানবিক বিভাগে ৫০ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৭ দশমিক ৪০ শতাংশ।

জিপিএ-৫ অর্জনে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। মোট ৯ হাজার ৮১৪ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫ হাজার ৮৪৮ জনই ছাত্রী, বাকি ৩ হাজার ৯৬৬ জন ছাত্র। এবারের কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কুমিল্লাসহ ৬টি জেলার ১ হাজার ৮২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।

ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মোঃ সিপন মিয়াসহ বোর্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।

বোর্ড কর্মকর্তা, বাসস’কে জানান যে, প্রকাশিত ফলাফল শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অনলাইন এবং সংশ্লিষ্ট মাধ্যমে জানতে পারবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামালপুরে জনদুর্ভোগ লাঘবে রাস্তা সংস্কার করেছে বিজিবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৪ পি.এম


জামালপুরে জনদুর্ভোগ লাঘবে রাস্তা সংস্কার করেছে বিজিবি

জামালপুর জেলা শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বেহাল সড়কে জনদুর্ভোগ লাঘবে ৩০০ মিটার রাস্তা মেরামত করেছে ৩৫ বিজিবি।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে পৌর শহরের চন্দ্রাঘন্টি এলাকা থেকে আবদুল হাকিম স্টেডিয়াম পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কার করা হয়েছে।

জানা গেছে, জেলার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও খানাখন্দের কারণে এই রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা চরমভাবে বিপাকের মুখোমুখি হন। ফলে, পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে স্থানীয়দের সমন্বয়ে রাস্তাটি সংস্কারের কার্যক্রম শুরু করেন জামালপুর ৩৫ বিজিবি।

রাস্তার সংস্কার কাজের নেতৃত্ব দেন জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল হাসানুর রহমান। এসময় বিজিবির সহকারী পরিচালক ইমাম হোসেন, বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তা, সৈনিক এবং স্থানীয় এলাকার বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। রাস্তাটি সংস্কারের পর রিকশাচালক, অটোরিকশা চালক, পথচারীরা বিজিবির এই জনহিতকর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল হাসানুর রহমান বলেন, "এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করে কিন্তু রাস্তাটিতে জলাবদ্ধতা ও খানাখন্দের কারণে বেহালদশার সৃষ্টি হয়। জনস্বার্থে বিজিবি স্থানীয়দের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে রাস্তাটি মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামালপুরে ধর্ষণের মামলায় দুই আসামিকে মৃ/ত্যু/দণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৮ পি.এম


জামালপুরে ধর্ষণের মামলায় দুই আসামিকে মৃ/ত্যু/দণ্ড

জামালপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণের মামলায় দুই জন আসামীকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্র্যাইব্যুনাল-১।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্র্যাইব্যুনাল ১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানিয়েছেন, ২০২২ সালের ৩১ মার্চ রাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার নিমাইমারী গ্রামের ভুক্তভোগী গৃহবধূ (৪০) কে তার নিজ ঘরে একা পেয়ে, আসকর আলী ও জাহিদুল ইসলাম একই গ্রামের, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনার পর, ভুক্তভোগী নারীর ছেলে সোহাগ মিয়া বাদী হয়ে জামালপুর কোর্টে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলার কার্যক্রম দীর্ঘদিন চলার পর এবং ৬ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণের শেষে সোমবার মামলার রায় দেয়া হয়।

মামলাটিতে রায়ে আসামী ১ নম্বর আসকর আলী ও ২ নম্বর আসামী জাহিদুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম প্রত্যেক আসামীর ক্ষেত্রে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে আসামীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার বাসযোগ্যতা ফেরাতে ডিএসসিসির ‘ব্যতিক্রমী উদ্যোগ’, ‘গুড-ব্যাড সিটিজেন’ ঘোষণার পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫০ পি.এম


ঢাকার বাসযোগ্যতা ফেরাতে ডিএসসিসির ‘ব্যতিক্রমী উদ্যোগ’, ‘গুড-ব্যাড সিটিজেন’ ঘোষণার পরিকল্পনা

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে পাইলট প্রকল্প হাতে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)৷ এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমটি ছয় মাসের জন্য চলবে। ইতিবাচক সাড়া দেওয়া নাগরিকদের ‘গুড সিটিজেন’ এবং অসহযোগিতা করা নাগরিকদের ‘ব্যাড সিটিজেন’ হিসেবে চিহ্নিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সিটি করপোরেশনের৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাগরিকদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন হলে তবেই রাজধানী পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। অপর দিকে, আইনজীবীদের মতে, কোনো নাগরিককে ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’ তকমা দেয়ার ক্ষমতা সিটি করপোরেশনের নেই।

সরেজমিনে মতিঝিলের ফকিরাপুল এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, মাথার ওপর অসংখ্য বৈদ্যুতিক ও ইন্টারনেটের তারে ঝুলছে ময়লার স্তূপ৷ জামাকাপড়, ডিমের খোসা, পলিথিনসহ এসব ময়লার স্তূপে মিশে গেছে নোংরা আবর্জনা৷ বাতাসে দুলতে থাকা এসব আবর্জনা কখনো কখনো পথচারীর মাথার ওপরও পড়ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন অলিগালি ঘুরে দেখা যাচ্ছে, অনেক জায়গায় এখনও এলোমেলোভাবে পড়ে আছে বর্জ্য৷ কোথাও বাসাবাড়ির সামনে, কোথাও আবার দোকানের সামনেই জমে আছে ময়লার স্তূপ৷ নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য না ফেলে যত্রতত্র ফেলার প্রবণতা নগর ব্যবস্থাপনাকে কঠিন করছেও৷

বাসার গেটের সামনেই যত্রতত্র পড়ে থাকা ময়লার স্তূপ নাগরিকদের অসচেতনতার চিত্র ফুটিয়ে তুলছে৷ প্রতিদিন যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং নাগরিকদের অসচেতনতার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে৷ বন্ধ হচ্ছে ড্রেন, সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, নোংরা হচ্ছে আশপাশের পরিবেশও৷

এমন বাস্তবতার মধ্যে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার লক্ষ্যে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সরকার প্রধান তারেক রহমান৷ তিনি বলেন, নির্দিষ্ট জায়গায় আবর্জনা জমা করে নির্দিষ্ট উপায়ে তা ধ্বংস করতে পারলে পরিবেশ সুন্দর রাখা সম্ভব।

তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখনও বাসাবাড়ি থেকে চলাচলের পথেই ময়লা ফেলা হচ্ছে৷ এমনকি পরিত্যক্ত ভবনের সামনেও বড় বড় ময়লার স্তূপ দেখা যাচ্ছে৷ এসব পরিস্থিতি নাগরিক হিসেবে আমাদের সচেতনতার প্রশ্ন তুলছে৷

নগর ব্যবস্থাপনার সচেতনতার উদ্দেশ্যে সিটি করপোরেশন মাঠে নেমে এসেছে। শুরুতে ৯ নম্বর ওয়ার্ডকে মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে একজন সুপারভাইজার এবং ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করেছে দক্ষিণ সিটি৷ তারা রাস্তা, বাসাবাড়ি এবং দোকানে গিয়ে বাসিন্দাদের সচেতন করছেন এবং নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার প্রতি গুরুত্বারোপ করছেন৷ এখন দেখার বিষয় হলো, নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এই পাইলট প্রকল্প কতটা কার্যকরী ফলাফল আনতে সক্ষম হয়৷

নাগরিকরা বলছেন, রাস্তাঘাটে ময়লা ফেললে নিজেদেরও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে৷ সচেতন নাগরিক হিসেবে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা জমিয়ে নিয়মিত সিটি করপোরেশনের কর্মীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত৷ অন্য দিকে, সুইপাররা রাস্তার ময়লা পরিষ্কার করলেও তারা সরকারি অনুমোদনের উপর নির্ভরশীল৷ প্রতিটি দোকান থেকেও তাদের অর্থ প্রদান করা হয়৷ কিন্তু ময়লা বেশি থাকলে অথবা বস্তায় ময়লা থাকলে অনেক সময় তারা তা নিতে চান না৷

এদিকে স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, একটি এলাকায় দুটি ভবনের মাঝখানে জমে থাকা ময়লার দায়িত্ব কেউ নিতে চাচ্ছিলেন না৷ পরে তারা বাসিন্দাদের উৎসাহিত করে জানিয়েছেন, এক মাস এক পক্ষ ও পরের মাস অন্য পক্ষ পরিষ্কারের দায়িত্ব নিতে পারে৷ নির্দিষ্ট সময় পরে গিয়ে তারা আগের তুলনায় অনেক পরিবর্তন দেখতে পান৷

নগর পরিকল্পনাবিদ আদিলুর রহমান খান মন্তব্য করেছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে নগরের পরিচ্ছন্নতার চিত্র বদলে যেতে পারে৷ যদি মানুষ সচেতন হয় এবং সিটি করপোরেশন সরাসরি নজরদারি করে, তবে নাগরিকরা যত্রতত্র ময়লা ফেলার আগে বেশ কয়েকবার ভাববেন৷ পরিদর্শকদের নিয়মিত নজরদারি করলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই সতর্ক হওয়ার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে৷

এদিকে, ছয় মাসের কার্যক্রম শেষে ‘গুড সিটিজেন’ ও ‘ব্যাড সিটিজেন’ ঘোষণা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সিটি করপোরেশন৷ ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, ছয় মাসের জন্য এই ক্যাম্পেইন চালানো হবে৷ প্রতি ১৫ দিন পর কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হবে৷ পুনরায় যদি দেখা যায়, চার থেকে সাড়ে চার মাস পরেও কোন বাড়ি থেকে কাঙ্ক্ষিত সাড়া আসেনি, তাহলে যারা সহযোগিতা করেছেন এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা চেষ্টা করেছেন, তাদের বাসার সামনে ‘গুড সিটিজেন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে৷ আর যারা অসহযোগিতা করেছেন বা যত্রতত্র ময়লা ফেলেছেন, তাদের ‘ব্যাড সিটিজেন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে৷

তবে নাগরিকদের ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’ তকমা দেয়ার সুযোগ সিটি করপোরেশনের নেই বলে অভিমত জানিয়েছেন আইনজীবীরা৷ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান বলেছেন, সরকার আইন-২০০৯ অনুযায়ী ‘গুড সিটিজেন’ বা ‘ব্যাড সিটিজেন’ নামক কোনো শব্দ নেই৷ আইনে না থাকা কোনো শব্দকে ট্যাগ হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ নেই৷ কেউ যদি আইন অমান্য করে, তবে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে৷ প্রয়োজনে জরিমানা বা শোকজ করা হতে পারে, কিন্তু কাউকে ডিফেম বা মানহানি করতে দেওয়া হয়নি৷

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানী পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়৷ নাগরিক সচেতনতা, নিয়ম মেনে বর্জ্য ফেলা এবং সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণই শুধু একটি বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন রাজধানী গড়ে তুলতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%