প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে পাইলট প্রকল্প হাতে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)৷ এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমটি ছয় মাসের জন্য চলবে। ইতিবাচক সাড়া দেওয়া নাগরিকদের ‘গুড সিটিজেন’ এবং অসহযোগিতা করা নাগরিকদের ‘ব্যাড সিটিজেন’ হিসেবে চিহ্নিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সিটি করপোরেশনের৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাগরিকদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন হলে তবেই রাজধানী পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। অপর দিকে, আইনজীবীদের মতে, কোনো নাগরিককে ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’ তকমা দেয়ার ক্ষমতা সিটি করপোরেশনের নেই।
সরেজমিনে মতিঝিলের ফকিরাপুল এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, মাথার ওপর অসংখ্য বৈদ্যুতিক ও ইন্টারনেটের তারে ঝুলছে ময়লার স্তূপ৷ জামাকাপড়, ডিমের খোসা, পলিথিনসহ এসব ময়লার স্তূপে মিশে গেছে নোংরা আবর্জনা৷ বাতাসে দুলতে থাকা এসব আবর্জনা কখনো কখনো পথচারীর মাথার ওপরও পড়ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন অলিগালি ঘুরে দেখা যাচ্ছে, অনেক জায়গায় এখনও এলোমেলোভাবে পড়ে আছে বর্জ্য৷ কোথাও বাসাবাড়ির সামনে, কোথাও আবার দোকানের সামনেই জমে আছে ময়লার স্তূপ৷ নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য না ফেলে যত্রতত্র ফেলার প্রবণতা নগর ব্যবস্থাপনাকে কঠিন করছেও৷
বাসার গেটের সামনেই যত্রতত্র পড়ে থাকা ময়লার স্তূপ নাগরিকদের অসচেতনতার চিত্র ফুটিয়ে তুলছে৷ প্রতিদিন যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং নাগরিকদের অসচেতনতার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে৷ বন্ধ হচ্ছে ড্রেন, সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, নোংরা হচ্ছে আশপাশের পরিবেশও৷
এমন বাস্তবতার মধ্যে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার লক্ষ্যে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সরকার প্রধান তারেক রহমান৷ তিনি বলেন, নির্দিষ্ট জায়গায় আবর্জনা জমা করে নির্দিষ্ট উপায়ে তা ধ্বংস করতে পারলে পরিবেশ সুন্দর রাখা সম্ভব।
তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখনও বাসাবাড়ি থেকে চলাচলের পথেই ময়লা ফেলা হচ্ছে৷ এমনকি পরিত্যক্ত ভবনের সামনেও বড় বড় ময়লার স্তূপ দেখা যাচ্ছে৷ এসব পরিস্থিতি নাগরিক হিসেবে আমাদের সচেতনতার প্রশ্ন তুলছে৷
নগর ব্যবস্থাপনার সচেতনতার উদ্দেশ্যে সিটি করপোরেশন মাঠে নেমে এসেছে। শুরুতে ৯ নম্বর ওয়ার্ডকে মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে একজন সুপারভাইজার এবং ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করেছে দক্ষিণ সিটি৷ তারা রাস্তা, বাসাবাড়ি এবং দোকানে গিয়ে বাসিন্দাদের সচেতন করছেন এবং নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার প্রতি গুরুত্বারোপ করছেন৷ এখন দেখার বিষয় হলো, নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এই পাইলট প্রকল্প কতটা কার্যকরী ফলাফল আনতে সক্ষম হয়৷
নাগরিকরা বলছেন, রাস্তাঘাটে ময়লা ফেললে নিজেদেরও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে৷ সচেতন নাগরিক হিসেবে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা জমিয়ে নিয়মিত সিটি করপোরেশনের কর্মীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত৷ অন্য দিকে, সুইপাররা রাস্তার ময়লা পরিষ্কার করলেও তারা সরকারি অনুমোদনের উপর নির্ভরশীল৷ প্রতিটি দোকান থেকেও তাদের অর্থ প্রদান করা হয়৷ কিন্তু ময়লা বেশি থাকলে অথবা বস্তায় ময়লা থাকলে অনেক সময় তারা তা নিতে চান না৷
এদিকে স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, একটি এলাকায় দুটি ভবনের মাঝখানে জমে থাকা ময়লার দায়িত্ব কেউ নিতে চাচ্ছিলেন না৷ পরে তারা বাসিন্দাদের উৎসাহিত করে জানিয়েছেন, এক মাস এক পক্ষ ও পরের মাস অন্য পক্ষ পরিষ্কারের দায়িত্ব নিতে পারে৷ নির্দিষ্ট সময় পরে গিয়ে তারা আগের তুলনায় অনেক পরিবর্তন দেখতে পান৷
নগর পরিকল্পনাবিদ আদিলুর রহমান খান মন্তব্য করেছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে নগরের পরিচ্ছন্নতার চিত্র বদলে যেতে পারে৷ যদি মানুষ সচেতন হয় এবং সিটি করপোরেশন সরাসরি নজরদারি করে, তবে নাগরিকরা যত্রতত্র ময়লা ফেলার আগে বেশ কয়েকবার ভাববেন৷ পরিদর্শকদের নিয়মিত নজরদারি করলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই সতর্ক হওয়ার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে৷
এদিকে, ছয় মাসের কার্যক্রম শেষে ‘গুড সিটিজেন’ ও ‘ব্যাড সিটিজেন’ ঘোষণা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সিটি করপোরেশন৷ ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, ছয় মাসের জন্য এই ক্যাম্পেইন চালানো হবে৷ প্রতি ১৫ দিন পর কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হবে৷ পুনরায় যদি দেখা যায়, চার থেকে সাড়ে চার মাস পরেও কোন বাড়ি থেকে কাঙ্ক্ষিত সাড়া আসেনি, তাহলে যারা সহযোগিতা করেছেন এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা চেষ্টা করেছেন, তাদের বাসার সামনে ‘গুড সিটিজেন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে৷ আর যারা অসহযোগিতা করেছেন বা যত্রতত্র ময়লা ফেলেছেন, তাদের ‘ব্যাড সিটিজেন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে৷
তবে নাগরিকদের ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’ তকমা দেয়ার সুযোগ সিটি করপোরেশনের নেই বলে অভিমত জানিয়েছেন আইনজীবীরা৷ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান বলেছেন, সরকার আইন-২০০৯ অনুযায়ী ‘গুড সিটিজেন’ বা ‘ব্যাড সিটিজেন’ নামক কোনো শব্দ নেই৷ আইনে না থাকা কোনো শব্দকে ট্যাগ হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ নেই৷ কেউ যদি আইন অমান্য করে, তবে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে৷ প্রয়োজনে জরিমানা বা শোকজ করা হতে পারে, কিন্তু কাউকে ডিফেম বা মানহানি করতে দেওয়া হয়নি৷
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানী পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়৷ নাগরিক সচেতনতা, নিয়ম মেনে বর্জ্য ফেলা এবং সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণই শুধু একটি বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন রাজধানী গড়ে তুলতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন