ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকার বাসযোগ্যতা ফেরাতে ডিএসসিসির ‘ব্যতিক্রমী উদ্যোগ’, ‘গুড-ব্যাড সিটিজেন’ ঘোষণার পরিকল্পনা


ঢাকার বাসযোগ্যতা ফেরাতে ডিএসসিসির ‘ব্যতিক্রমী উদ্যোগ’, ‘গুড-ব্যাড সিটিজেন’ ঘোষণার পরিকল্পনা

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে পাইলট প্রকল্প হাতে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)৷ এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমটি ছয় মাসের জন্য চলবে। ইতিবাচক সাড়া দেওয়া নাগরিকদের ‘গুড সিটিজেন’ এবং অসহযোগিতা করা নাগরিকদের ‘ব্যাড সিটিজেন’ হিসেবে চিহ্নিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সিটি করপোরেশনের৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাগরিকদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন হলে তবেই রাজধানী পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। অপর দিকে, আইনজীবীদের মতে, কোনো নাগরিককে ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’ তকমা দেয়ার ক্ষমতা সিটি করপোরেশনের নেই।

সরেজমিনে মতিঝিলের ফকিরাপুল এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, মাথার ওপর অসংখ্য বৈদ্যুতিক ও ইন্টারনেটের তারে ঝুলছে ময়লার স্তূপ৷ জামাকাপড়, ডিমের খোসা, পলিথিনসহ এসব ময়লার স্তূপে মিশে গেছে নোংরা আবর্জনা৷ বাতাসে দুলতে থাকা এসব আবর্জনা কখনো কখনো পথচারীর মাথার ওপরও পড়ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন অলিগালি ঘুরে দেখা যাচ্ছে, অনেক জায়গায় এখনও এলোমেলোভাবে পড়ে আছে বর্জ্য৷ কোথাও বাসাবাড়ির সামনে, কোথাও আবার দোকানের সামনেই জমে আছে ময়লার স্তূপ৷ নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য না ফেলে যত্রতত্র ফেলার প্রবণতা নগর ব্যবস্থাপনাকে কঠিন করছেও৷

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

বাসার গেটের সামনেই যত্রতত্র পড়ে থাকা ময়লার স্তূপ নাগরিকদের অসচেতনতার চিত্র ফুটিয়ে তুলছে৷ প্রতিদিন যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং নাগরিকদের অসচেতনতার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে৷ বন্ধ হচ্ছে ড্রেন, সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, নোংরা হচ্ছে আশপাশের পরিবেশও৷

এমন বাস্তবতার মধ্যে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার লক্ষ্যে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সরকার প্রধান তারেক রহমান৷ তিনি বলেন, নির্দিষ্ট জায়গায় আবর্জনা জমা করে নির্দিষ্ট উপায়ে তা ধ্বংস করতে পারলে পরিবেশ সুন্দর রাখা সম্ভব।

তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখনও বাসাবাড়ি থেকে চলাচলের পথেই ময়লা ফেলা হচ্ছে৷ এমনকি পরিত্যক্ত ভবনের সামনেও বড় বড় ময়লার স্তূপ দেখা যাচ্ছে৷ এসব পরিস্থিতি নাগরিক হিসেবে আমাদের সচেতনতার প্রশ্ন তুলছে৷

নগর ব্যবস্থাপনার সচেতনতার উদ্দেশ্যে সিটি করপোরেশন মাঠে নেমে এসেছে। শুরুতে ৯ নম্বর ওয়ার্ডকে মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে একজন সুপারভাইজার এবং ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করেছে দক্ষিণ সিটি৷ তারা রাস্তা, বাসাবাড়ি এবং দোকানে গিয়ে বাসিন্দাদের সচেতন করছেন এবং নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার প্রতি গুরুত্বারোপ করছেন৷ এখন দেখার বিষয় হলো, নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এই পাইলট প্রকল্প কতটা কার্যকরী ফলাফল আনতে সক্ষম হয়৷

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

নাগরিকরা বলছেন, রাস্তাঘাটে ময়লা ফেললে নিজেদেরও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে৷ সচেতন নাগরিক হিসেবে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা জমিয়ে নিয়মিত সিটি করপোরেশনের কর্মীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত৷ অন্য দিকে, সুইপাররা রাস্তার ময়লা পরিষ্কার করলেও তারা সরকারি অনুমোদনের উপর নির্ভরশীল৷ প্রতিটি দোকান থেকেও তাদের অর্থ প্রদান করা হয়৷ কিন্তু ময়লা বেশি থাকলে অথবা বস্তায় ময়লা থাকলে অনেক সময় তারা তা নিতে চান না৷

এদিকে স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, একটি এলাকায় দুটি ভবনের মাঝখানে জমে থাকা ময়লার দায়িত্ব কেউ নিতে চাচ্ছিলেন না৷ পরে তারা বাসিন্দাদের উৎসাহিত করে জানিয়েছেন, এক মাস এক পক্ষ ও পরের মাস অন্য পক্ষ পরিষ্কারের দায়িত্ব নিতে পারে৷ নির্দিষ্ট সময় পরে গিয়ে তারা আগের তুলনায় অনেক পরিবর্তন দেখতে পান৷

নগর পরিকল্পনাবিদ আদিলুর রহমান খান মন্তব্য করেছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে নগরের পরিচ্ছন্নতার চিত্র বদলে যেতে পারে৷ যদি মানুষ সচেতন হয় এবং সিটি করপোরেশন সরাসরি নজরদারি করে, তবে নাগরিকরা যত্রতত্র ময়লা ফেলার আগে বেশ কয়েকবার ভাববেন৷ পরিদর্শকদের নিয়মিত নজরদারি করলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই সতর্ক হওয়ার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে৷

এদিকে, ছয় মাসের কার্যক্রম শেষে ‘গুড সিটিজেন’ ও ‘ব্যাড সিটিজেন’ ঘোষণা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সিটি করপোরেশন৷ ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, ছয় মাসের জন্য এই ক্যাম্পেইন চালানো হবে৷ প্রতি ১৫ দিন পর কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হবে৷ পুনরায় যদি দেখা যায়, চার থেকে সাড়ে চার মাস পরেও কোন বাড়ি থেকে কাঙ্ক্ষিত সাড়া আসেনি, তাহলে যারা সহযোগিতা করেছেন এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা চেষ্টা করেছেন, তাদের বাসার সামনে ‘গুড সিটিজেন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে৷ আর যারা অসহযোগিতা করেছেন বা যত্রতত্র ময়লা ফেলেছেন, তাদের ‘ব্যাড সিটিজেন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে৷

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

তবে নাগরিকদের ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’ তকমা দেয়ার সুযোগ সিটি করপোরেশনের নেই বলে অভিমত জানিয়েছেন আইনজীবীরা৷ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান বলেছেন, সরকার আইন-২০০৯ অনুযায়ী ‘গুড সিটিজেন’ বা ‘ব্যাড সিটিজেন’ নামক কোনো শব্দ নেই৷ আইনে না থাকা কোনো শব্দকে ট্যাগ হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ নেই৷ কেউ যদি আইন অমান্য করে, তবে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে৷ প্রয়োজনে জরিমানা বা শোকজ করা হতে পারে, কিন্তু কাউকে ডিফেম বা মানহানি করতে দেওয়া হয়নি৷

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানী পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়৷ নাগরিক সচেতনতা, নিয়ম মেনে বর্জ্য ফেলা এবং সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণই শুধু একটি বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন রাজধানী গড়ে তুলতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি ও পুষ্টি মেলার শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


নোয়াখালীতে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি ও পুষ্টি মেলার শুরু

নোয়াখালী, ১০ আগস্ট, ২০২৬ : কৃষি উন্নয়নকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারকরণ প্রকল্পের অধীনে নোয়াখালীতে আজ থেকে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি ও পুষ্টি মেলা শুরু হয়েছে।

সোমবার বেলা ১১টায় নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিকটে অবস্থিত ঈদগাহ মাঠে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে মেলার উদ্বোধন করেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। উদ্বোধনের পর জেলা প্রশাসক মেলার প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন এবং আলোচনা সভায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সুস্থ জীবনযাপন ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তার জন্য কৃষির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফরমালিন ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে নিজেদের কৃষি পণ্য উৎপাদনের বিকল্প নেই। বর্তমানে অনেকেই বাড়ির ছাদে শাক-সবজি চাষ করছেন সনাতন পদ্ধতির বাইরে বেরিয়ে। কৃষকদের উন্নতির জন্য বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব নানা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কৃষি কার্ড চালু করেছে এবং কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে।

আলোচনা সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নোয়াখালীর উপ পরিচালক আশীষ কুমার করের সভাপতিত্বে দপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তারা, এনজিও প্রতিনিধিরা এবং কৃষি উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, এ ধরনের মেলা কৃষকদের আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলবে এবং টেকসই কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার প্রসারে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদিত হবে এবং ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও এই আয়োজন কার্যকর ভূমিকা রাখবে, এমন প্রত্যাশা করেন।

মেলায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরার জন্য ১২টি স্টল স্থাপন করা হয়েছে। এই স্টলগুলোতে ছাদ বাগান, পুকুর পাড়ে কৃষি পদ্ধতি, সর্জন পদ্ধতি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ফসল প্রদর্শিত হচ্ছে।

মেলা ১০ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা অবধি সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অষ্টম শ্রেণি পাস করলেই পুলিশ একাডেমিতে চাকরি পদের সংখ্যা: ১১টি ডাকযোগে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৮ পি.এম


অষ্টম শ্রেণি পাস করলেই পুলিশ একাডেমিতে চাকরি  পদের সংখ্যা: ১১টি ডাকযোগে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।

বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদা রাজশাহী একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ‘অফিস সহায়ক (এমএলএসএস)’ পদে মোট ১১ জনকে নিয়োগ দেবে। এইসব পদে নারী ও পুরুষ উভয় প্রার্থী অস্থায়ী ভিত্তিতে আবেদন করতে পারবেন। আগ্রহী প্রার্থীদের ডাকযোগে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।

প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ পুলিশ।

বিভাগ: বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি।

পদের নাম: অফিস সহায়ক (এমএলএসএস)।

পদের সংখ্যা: ১১টি।

বেতন স্কেল: জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ মোতাবেক।

গ্রেড-২০: ৮,২৫০-২০,০১০/-।

চাকরির ধরন: অস্থায়ী।

প্রার্থীর ধরন: নারী ও পুরুষ।

শিক্ষাগত যোগ্যতা: অষ্টম শ্রেণি পাস।

কর্মস্থল: রাজশাহী।

বয়স: ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ১৮-৩২ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।

আবেদন ফি: পরীক্ষার ফি বাবদ ১০০ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে জমা দিতে হবে।

আবেদনপত্র সংগ্রহ: আগ্রহী প্রার্থীরা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন: https://bpa.police.gov.bd/

আবেদনের প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীদের ‘প্রিন্সিপাল, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদা, রাজশাহী’ বরাবর ডাকযোগে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে নির্ধারিত আবেদন ফরমে আবেদন করতে হবে। খামের ওপর স্পষ্ট অক্ষরে পদের নাম এবং বাঁ পাশে আবেদনকারীর পূর্ণ নাম ও ঠিকানা লিখতে হবে। বিস্তারিত জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনের সময়সীমা: আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২৮ আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগামীকাল থেকে এসএসসি পরীক্ষা ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০১ পি.এম


আগামীকাল থেকে এসএসসি পরীক্ষা ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শুরু

ঢাকা, ১০ আগস্ট, ২০২৬ : চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আজ সকাল ১০টায় প্রকাশিত হয়েছে। ফলে সন্তুষ্ট না হওয়া শিক্ষার্থীরা, প্রতিবারের মতো এবারও, খাতা চ্যালেঞ্জ বা ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের সুযোগ পাবেন।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এবার সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতিতে ফলাফলে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীরা প্রতি বিষয়ে ১৫০ টাকা ফি দিয়ে খাতা চ্যালেঞ্জ বা পুনঃনিরীক্ষণ করতে পারবেন।

পুনঃনিরীক্ষণের নিয়ম অনুযায়ী, ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। সেই সাথে https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd -এ গিয়ে নির্ধারিত স্থানে রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর পূরণ করতে হবে এবং বোর্ড ড্রপ ডাউন থেকে বোর্ড নির্বাচন করতে হবে। এরপর সাবমিট বাটনে ক্লিক করতে হবে এবং মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশিত হলে ওই নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে। পরবর্তী স্ক্রিনে শিক্ষার্থীর বিষয় ভিত্তিক ফল দেখা যাবে। এক বা একাধিক বিষয়ে ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য বিষয়গুলো নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি প্রযোজ্য হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, দ্বিপত্র বিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয়পত্রের আবেদন করতে হবে। পরবর্তী স্ক্রিনে দেয়া ফি-এর পরিমাণ দেখা যাবে। ফি পরিশোধ বিকাশ, নগদ, সোনালী সেবার মাধ্যমে করা যাবে। ফি পরিশোধের বিস্তারিত ধাপগুলো উপরে উল্লেখিত পোর্টালের ‘হেল্প’ বাটনে ক্লিক করে দেখে নেওয়া যাবে। ফি পরিশোধ করে আবেদনের পোর্টালে এসে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

উল্লেখ্য যে, ফি দিয়ে একবার আবেদন জমা দেওয়ার পরে আরও বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একইভাবে তা করা যাবে। তবে এক্ষেত্রে নতুনভাবে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এছাড়া ফি পরিশোধের আগেই যদি আবেদন পরিবর্তন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে নির্বাচিত বিষয়গুলো (যেগুলোর জন্য এখনও ফি প্রদান করা হয়নি) প্রত্যাহার করা যাবে এবং নতুন করে বিষয় নির্বাচন করা যাবে। তবে একবার ফি জমা দিলে আবেদনকৃত বিষয়গুলো আর বাতিল করা যাবে না এবং কোন অবস্থাতেই ফি ফেরত দেয়া হবে না। ম্যানুয়াল কোন আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যাসিবাদী সময়ের কৃত্রিম ফলাফলের সংস্কৃতি ভেঙে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা হয়েছে: মাহদী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


ফ্যাসিবাদী সময়ের কৃত্রিম ফলাফলের সংস্কৃতি ভেঙে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা হয়েছে: মাহদী আমিন

ঢাকা, ১০ আগস্ট, ২০২৬ : সদ্য প্রকাশিত চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও দক্ষতার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।

 

তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে কৃত্রিমভাবে পাসের হার কিংবা জিপিএ-৫ বাড়ানোর যে সংস্কৃতি চালু ছিল, বর্তমান নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার তা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে।’

 

আজ সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা।

 

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামানসহ বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

শিক্ষায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চিত্র তুলে ধরে ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের মাত্র দুই মাস পর গত ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথমবারের মতো আমরা সারাদেশে একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করেছি। কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও বডি ওন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে খাতার শতভাগ নিরপেক্ষ ও নির্মোহ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘যে শিক্ষার্থী যেভাবে পড়াশোনা করেছে, ফলাফল ঠিক সেভাবেই এসেছে। এরফলে ফলাফলের ভালো বা মন্দের দিকে না তাকিয়ে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, এটিই শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার প্রতিফলন। যারা প্রত্যাশিত ফলাফল পায়নি, তাদের ভেঙে পড়ার কিছু নেই। সরকার প্রতিটি শিক্ষার্থীর পাশে রয়েছে।’

 

বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামো রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে আমাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে। গণতান্ত্রিক সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর যা শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মনির্ভরশীলতা তৈরি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।’

 

শিক্ষা খাতের চলমান সংস্কার ও নানা উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য পাঠ্যক্রম পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে। এতে নতুন চারটি বই যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া তৃণমূল থেকে শুরু করে ঢাকা পর্যন্ত বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ফুটবল টুর্নামেন্ট, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে 'স্টার্টআপ কম্পিটিশন' এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একই সাথে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, ক্রীড়া-সংস্কৃতির সন্নিবেশ এবং শিক্ষায় প্রযুক্তির সঠিক সংমিশ্রণে (টেকনোলজিক্যাল ইন্টিগ্রেশন) শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ চলমান রয়েছে।

 

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় শিক্ষক, অভিভাবক, পরীক্ষার্থী, শিক্ষা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।

 

একই সাথে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভালো ফল করেছে, তাদের কৃতিত্ব তুলে ধরে অনুপ্রেরণা দিন। আর যেসব জায়গায় ঘাটতি বা সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সবাই মিলে সমন্বিতভাবে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কাজ করি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%