ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সমুদ্রে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, কোস্ট গার্ডের সতর্কতা


সমুদ্রে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, কোস্ট গার্ডের সতর্কতা

ভোলা, ১২ আগস্ট, ২০২৬ : ভোলার চরফ্যাসনে সমুদ্রের আবহওয়ার বিরুপ প্রভাবের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভোলার আবহাওয়া অধিদপ্তরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বাসস'কে জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সমুদ্রে কোনো মাছধরা ট্রলার যেতে পারবেনা।

এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন উপকূলীয় এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ সতর্কতামূলক নোটিশ জারি করেছে।

কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন্স) মো. জামিলুর রহমান কর্তৃক জারিকৃত এই নোটিশে বলা হয়েছে- সব জেলে, ট্রলার ও নৌযানের মালিক, ঘাটের কমিটির সভাপতি, বোট মালিক সমিতির সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বর্তমানে সমুদ্রে ঢেউয়ের উচ্চতা আনুমানিক ১২-১৮ ফুটের মধ্যে ওঠানামা করছে। সেইসাথে সমুদ্রে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বর্তমানে বহাল রয়েছে। সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল ও বৈরী হয়ে আছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এমতাবস্থায়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা এবং সমুদ্রে চলাচলের ক্লিয়ারেন্স না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ট্রলার বা নৌযান মাছ ধরা, বাণিজ্যিক কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সমুদ্রে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করাও অত্যন্ত কঠিন হবে, ফলে উদ্ধারকারী সদস্যদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

উল্লেখ্য, আবহাওয়ার এই বিরুপ পরিস্থিতি আরও ৪-৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেও ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসী শান্ত, খেলতে চান ৫ দিনই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ পি.এম


অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসী শান্ত, খেলতে চান ৫ দিনই

রাত পোহালেই বাংলাদেশের দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মাঠে নামবে। পরিসংখ্যান ও শক্তিতে অস্ট্রেলিয়ার থেকে পিছিয়ে থাকলেও টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৫ দিন লড়াই করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) ডারউইনে ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেছেন, নির্বাচকদের সাথে এই বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছিল যে, ২৩ বছর আগের মতো এই দলটি আর নেই। এই টিমের ওপর তার বিশ্বাস আছে। খেলোয়াড় হিসেবে তারা ৫ দিনই ক্রিকেট খেলতে চান। তারা ভালো ক্রিকেট খেলার আশা করছেন। এক একটা সেশন তারা খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। তিনি আরও বলেন, তিন দিন নাকি চার দিন লাগবে এমন আলোচনা থাকবেই। কিন্তু প্লেয়ার হিসেবে লক্ষ্য হবে, তারা কতটা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারে।

টাইগার অধিনায়ক লড়াই করতে চান বললেও, অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরুতে বাংলাদেশের জন্য একদম ভাল হয়নি। প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হেরে সফর শুরু করেছে শান্তর দল। সেই ম্যাচে দুই ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটাররা ব্যর্থ ছিলেন, যারা মূল ম্যাচে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউডের পেস ত্রয়ের মোকাবিলা করতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ার এই শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ সামলানোকে শান্ত প্রথম টেস্ট শুরুর আগে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন। তার মতে, নতুন বলে সব জায়গায় চ্যালেঞ্জ থাকে, এখানে হয়তো একটু বেশি থাকবে। তিনি আলাদা কোনো বার্তা দেননি, জানিয়েছেন যে যিনি ব্যাটিং করবেন, তিনি তার স্বাভাবিক খেলা খেলবেন এবং রানের জন্য খেলবেন।

তিনি আরও মন্তব্য করেছেন, খুব ভালো একটা বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে তাদের ব্যাটিং করতে হবে। তারা কতটুকু ধারাবাহিকতা ও মনোযোগ ধরে রাখছেন সেটাই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। লম্বা সময় মনোযোগ ধরে রাখা খুব জরুরি, কারণ ওদের বোলিং আক্রমণ যথেষ্ট শক্তিশালী। এই আক্রমণকে সামলাতে হলে তাদের অনেক বেশি মনোযোগ ও চিন্তাভাবনা নিয়ে ব্যাটিং করতে হবে।

ডারউইনে ২৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। শেষবার বাংলাদেশ দলের বিপক্ষেই এই মাঠে খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। তাই দুই দলের জন্য উইকেটটি অনেকটা অপরিচিত।

তবে প্রথম টেস্টের আগে শেষ অনুশীলনে উইকেট দেখে শান্ত জানিয়েছেন, বোলারদের জন্য কিছুটা বেশি সুবিধা দিতে পারে ডারউইনের উইকেট।

উইকেট প্রসঙ্গে টাইগার অধিনায়ক বলেন, উইকেটে অবশ্যই স্বাভাবিকভাবেই ঘাস আছে। তবে তার মনে হয় উইকেটটি ভালো হবে। এখানে বোলিং এবং ব্যাটিং, দুই ক্ষেত্রেই সাহায্য থাকবে। তবে বোলাররা হয়তো একটু বেশি সুবিধা পেতে পারে। উইকেট দেখে তিনি ভালোই মনে করেছেন। তার মতে, ব্যাটিং-বোলিং দুই দিক থেকেই চ্যালেঞ্জ হবে। চেষ্টা করতে হবে দুই বিভাগেই ভালো করতে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে বাজার করতে যাওয়ার সময় মুসলিম নারীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫৯ পি.এম


ভারতে বাজার করতে যাওয়ার সময় মুসলিম নারীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে পুলিশ

ভারতের মুম্বাইয়ে বাজার করতে যাওয়ার পথে এক মুসলিম গৃহবধূকে আটক করেছে পুলিশ এবং তাকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। এই ভুক্তভোগী নারীর নাম সাইদা ফকির। সাইদা এবং তার স্বামী জুম্মান ফকিরের পৈত্রিক বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে রয়েছে। তারা কর্মসূত্রে প্রায় ২০ বছর ধরে ভারতের নভি মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন। জুম্মান বর্তমানে একটি হাউজিং সোসাইটিতে কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত আছেন এবং তাদের ১২ বছরের একটি ছেলে রয়েছে, যে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে।

ফিরে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই সকালে বাজারে যাওয়ার সময় সাইদাকে মুম্বাই পুলিশ আটক করে। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে একটি হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। খবর পেয়ে তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা মহারাষ্ট্রের চেম্বুর থানায় গিয়েছিলেন। তারা পুলিশের কাছে সাইদার জন্মসনদ, স্কুলের সনদ, বাবা-মায়ের পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথি জমা দেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়ে থাকে যে, পুলিশ এসব নথি যাচাই করার কথা জানিয়েছিল, কিন্তু তিনদিন পর জুম্মানকে জানানো হয় যে, সাইদাকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে। বাংলাদেশে পৌঁছানোর পরে, সাইদা তার স্বামীকে ফোন করে নিজের দুরবস্থার কথা জানান। তিনি জানান, সাতক্ষীরায় পৌঁছানোর পর চাষের জমি এবং কাদার মধ্যে অনেক কিলোমিটার হাঁটতে হয়েছে। পরে একটি প্রধান সড়কে পৌঁছালে স্থানীয় কয়েকজন তাকে দেখতে পান এবং একটি স্থানীয় পরিবার তাকে আশ্রয় দেয়। তারা সাইদাকে পোশাক ও খাবারও সরবরাহ করেন।

জুম্মান আরও বলেছেন, তার স্ত্রী বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন এবং তিনি ভারতে ফিরতে চান। বিশেষ করে তিনি ১২ বছরের ছেলে সঙ্গে দেখা করতে ব্যাকুল। তিনি আরও দাবি করেছেন, তিনি ও তার স্ত্রী দুজনেই জন্মগতভাবে ভারতের বাসিন্দা এবং দীর্ঘ সময় ধরে তারা মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন। এই সমস্যা নিয়ে জুম্মানের অভিযোগ, ভারতীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও সাইদাকে প্রথমে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছিল এবং পরে তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। জুম্মানের দাবি, পরিবারের সদস্যকে দ্রুত ভারতে ফেরত আনার জন্য তাদের একমাত্র দাবি।

সাইদাকে ফেরাতে কলকাতা ইতোমধ্যে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তার পরিবার। এ ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে অভিযোগ দায়ের করেছে পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম)। সংগঠনটি দাবি করেছে, বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে সাইদাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, যদিও তার ভারতীয় নথিপত্র ছিল। ঘটনার প্রেক্ষাপটে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের গ্রে/প্তা/রের ক্ষমতা আইসিইর বৃদ্ধির ঘো/ষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:০৩ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের গ্রে/প্তা/রের ক্ষমতা আইসিইর বৃদ্ধির ঘো/ষণা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রশাসনিক পরোয়ানা ছাড়াই অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের ক্ষমতা এবং সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্তৃক। সংস্থাটির এক অভ্যন্তরীণ নীতিমালার নতুন ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ অতিরিক্ত এখতিয়ার প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) প্রকাশিত একটি নথিতে, আইসিইর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টড লায়ন্স এক মেমোর মাধ্যমে পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে অভিবাসন আইনের "likely to escape" বা সটকে পড়ার সম্ভাবনার আইনি অনুচ্ছেদটির নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আগের নিয়ম অনুযায়ী, আদালতে হাজির না হওয়ার ঝুঁকি বিবেচনা করা হতো। তবে নতুন নীতিতে বলা হয়েছে—কোনো কর্মকর্তার প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করতে যে সময় লাগবে, তার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্থান ত্যাগ করতে পারেন কিনা, তার ওপর ভিত্তি করেই সঙ্গে সঙ্গে পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার করা যাবে।

এই নতুন ব্যাখ্যা কার্যকর হওয়ার ফলে মাঠপর্যায়ে অভিযানের সময় মূল লক্ষ্যবস্তুর বাইরে থাকা অন্য কোনো অবৈধ অভিবাসীর মুখোমুখি হলে আইসিই কর্মকর্তারা দ্রুত তাদের পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার বা 'কোল্যাটারাল অ্যারেস্ট' করার জন্য বাড়তি আইনি সুবিধা পাচ্ছেন।

তবে, এই ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে কলোরাডোর একটি ফেডারেল আদালত ইতোমধ্যেই আইসিইকে সতর্ক করে জানিয়েছে, কেবল অবৈধ অবস্থানের সন্দেহই পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তারের জন্য যথেষ্ট হতে পারে না। প্রতিটি ঘটনার পেছনে নির্দিষ্ট ও যৌক্তিক আইনি ভিত্তি থাকতে হবে।

আইসিইর নজিরবিহীন ক্ষমতা বৃদ্ধির ঘোষণার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট রাইটস সংস্থা এবং মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস ও সিএমএইচে চিকিৎসা: নতুন আলোয় জুলাই-যোদ্ধা মিতুর লড়াই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:০৭ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস ও সিএমএইচে চিকিৎসা: নতুন আলোয় জুলাই-যোদ্ধা মিতুর লড়াই

/ মো. তানভীর হায়াত খান /

নেত্রকোণা, ১২ আগস্ট, ২০২৬ : 'আমি সেদিন বাসা থেকে বের হয়েছিলাম পুরোপুরি জীবনের অনিবার্য ঝুঁকি নিয়েই- হয় মরবো, না হয় বাঁচবো মাথা উঁচু করে।' ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোর স্মৃতি স্মরণ করে নিজের অদম্য মানসিকতার কথা এভাবেই ব্যক্ত করেন নেত্রকোণার তরুণী সোমাইয়া আক্তার মিতু।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ৪ আগস্ট নেত্রকোণা শহরের কুরপাড় এলাকায় একদফা দাবিতে অংশ নিয়ে মারাত্মক হামলার মুখে পড়েন ২৪ বছর বয়সী এই তরুণী। আত্মরক্ষার্থে দৌড়ে একটি দোকানে আশ্রয় নিতে গেলে ওপর থেকে পড়ে যাওয়া শাটারের তীব্র আঘাতে তার কোমর ও মুখের চোয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকদের মতে, কোমরের পিএলআইডি (PLID) এবং চোয়ালের জয়েন্টের জটিলতার পাশাপাশি থ্যালাসেমিয়া মাইনরজনিত শারীরিক সমস্যার কারণে বর্তমানে হুইলচেয়ারেই থমকে গেছে তার স্বাভাবিক চলাচল। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও দীর্ঘ চিকিৎসার চরম আর্থিক ভোগান্তি সত্ত্বেও অসীম আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গড়ার স্বপ্নে অবিচল রয়েছেন তিনি।

নেত্রকোণা শহরের বাসিন্দা প্রয়াত মোফাজ্জল হোসেন ও রেহেনা খানমের সন্তান সোমাইয়া আক্তার মিতু। ৮ বোন ও ৫ ভাইয়ের বিশাল পরিবারে বেড়ে ওঠা মিতু ২০১৭ সালে দত্ত উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৯ সালে নেত্রকোণা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। শৈশবে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও পিতৃহীন পরিবারের আর্থিক বাস্তবতায় তা সম্ভব হয়নি।

পরে ২০২১ সালে সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়ে সফলভাবে সম্পন্ন করেন 'ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি' কোর্স। মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হওয়া এই তরুণী ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদ ও ওয়াসিম আকরামের রক্তাক্ত ছবি দেখে ঘরে বসে থাকতে পারেননি। পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে রাজপথ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার হয়ে ওঠেন তিনি।

প্রতিবাদের এই কঠিন যাত্রায় নানা হুমকি ও ছাত্রলীগের হেনস্তার মুখে পড়লেও পরিবারের সদস্যরা একপর্যায়ে মিতুর পাশে এসে দাঁড়ান। মিতুর এই দূরন্ত পথচলার বিষয়ে তার সহোদর বড় বোন কবি, লেখক ও উন্নয়নকর্মী তহুরা আক্তার বলেন, 'মিতু শুধু আমার ছোট বোন নয়; সে আমাদের পরিবার ও নতুন প্রজন্মের সাহস ও প্রতিবাদের এক জীবন্ত প্রতীক। আন্দোলন চলাকালে ওর নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ ছিল, নানা হুমকি-ধমকিও এসেছে। কিন্তু ওর অদম্য জেদ আর সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর মানসিকতা দেখে আমরা পিছু হটতে পারিনি। আমরা ওকে বলেছিলাম- 'তুমি সবার মতো ন্যায্য প্রতিবাদ চালিয়ে যাও।' আজ হুইলচেয়ারে থমকে গেলেও ওর চিন্তার স্বাধীনতা ও স্বপ্নের জায়গায় ও একটুও হারেনি। আমরা চাই সে দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার নিজের পায়ে দাঁড়াক।'

একইসাথে মিতু জানান, তার বড় বোন তহুরা আক্তারের নিবিড় ছায়ার পাশাপাশি তহুরার স্বামী কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক স্বাধীন চৌধুরীর মুক্তচিন্তা, সততা, প্রগতিশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর নৈতিক শক্তিকে আরও মজবুত করেছে।

২০২৪ এর ৪ আগস্ট জেলা শহরের কুরপাড় এলাকায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে মিতুর স্বাভাবিক চলাফেরার সক্ষমতা কমতে থাকে। এ পর্যন্ত চিকিৎসায় পরিবারের প্রায় ৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ৫ আগস্টের পর সহযোদ্ধাদের সঙ্গে শহরের বিভিন্ন দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিলেও পরবর্তীতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিকে পুঁজি করে ব্যক্তিগত সুবিধা নিতে চাওয়া সুযোগসন্ধানী ভুয়া আন্দোলনকারীদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কথা বলায় নতুন করে সাইবার বুলিং ও হেনস্তার শিকার হতে হয় তাকে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় সাবাবা হক ও প্রাপ্তিসহ তাদের মতো সক্রিয় নারী শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো অপপ্রচারের বিষয়ে স্থানীয় সেনাক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ জানালে কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের ডেকে এনে মিতুর সামনে ক্ষমা চাওয়ায় এবং ভবিষ্যতে হেনস্তা না করার লিখিত অঙ্গীকার নেয়।

নিজের শারীরিক কষ্ট ও আন্দোলনের অবদানকে কোথাও বিক্রি না করে নীরব থেকে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া এবং জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার না করার এই বিরল দৃষ্টান্ত সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন নিশাত তাবাসসুম প্রাপ্তি।

বিষয়টি সিএমএইচে আহতদের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বরত সিনিয়র প্রতিনিধি নুসরাত জাহানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পৌঁছালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সিএমএইচে মিতুর উন্নত চিকিৎসার সুব্যবস্থা করা হয়।

এ বছর ২০২৬ এর ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ আমন্ত্রণে যোগ দিলে সময়সূচির কারণে বক্তব্য বাদ পড়লেও বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে প্রত্যক্ষ করেন এবং পরবর্তীতে মিতুকে ডেকে নেন।

প্রধানমন্ত্রী তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়ে বলেন, 'সোমাইয়া, তোমার শরীরের কী অবস্থা এখন? তোমার কথা তো অনেক শুনলাম!' জবাবে মিতু বলেন, 'খানিকটা উন্নতি হলে আবার অবনতি হয়, এভাবেই চলছে সিএমএইচে চিকিৎসা। দেখা যাক, আল্লাহ ভরসা।' তখন প্রধানমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, 'আমি সেনাপ্রধানকে বলে দিয়েছি তোমার সকল প্রকার চিকিৎসা যেন সঠিকভাবে চলে সে ব্যবস্থা নিতে। তোমার উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাহিরে যেতে হলে আমি আমার নিজের অর্থায়নে বাহিরে পাঠাবো, চিন্তা করো না।'

প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসের জবাবে মিতু নিজের ব্যক্তিগত সুবিধার চেয়ে দেশ ও নারীদের নিরাপত্তার কথা তুলে ধরে বলেন, 'ধন্যবাদ স্যার, লাগবে না। আপনাদের দোয়া চাই এবং একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে, একজন নারী হিসেবে আমাদের নিরাপত্তা চাই।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর নতুন বাংলাদেশ তো আমরা এমন চাইনি, যেখানে নারীদের নিরাপত্তা দিন দিন কমতে শুরু করবে কিংবা অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হবে। আমরা নারীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষের খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের নিশ্চয়তাটুকু চাই।' উত্তরে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, 'ইনশাআল্লাহ, সব হবে। তোমার চিকিৎসা তো একটা লম্বা প্রসেস, তাই এমআইএস (গওঝ) প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে। এটা লাগবেই। আগে তুমি সুস্থ হও, এরপর আবার একসাথে বসে তোমার কথা শুনবো।'

সাক্ষাৎকালে এক অনন্য হৃদ্যতাপূর্ণ মুহূর্তের সৃষ্টি হয়, যখন প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে মিতুর সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক ও সহজ-সরলভাবে কুশল বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগ ও খোঁজখবর রাখার বিষয়ে মিতু বলেন, 'যে বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা এখনো পুরোপুরি হয়ে ওঠেনি। আমি সেই বাংলাদেশের অপেক্ষাতেই আছি।' সিএমএইচে চিকিৎসাধীন মিতু সুস্থ হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, চাকরি এবং পিছিয়ে পড়া নারীদের কল্যাণে কাজ করার অদম্য প্রত্যয় নিয়ে আজও পথচেয়ে আছেন সেই স্বপ্নের বাংলাদেশের দিকে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%