০৫:৫৯ পি.এম
ভারতের মুম্বাইয়ে বাজার করতে যাওয়ার পথে এক মুসলিম গৃহবধূকে আটক করেছে পুলিশ এবং তাকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। এই ভুক্তভোগী নারীর নাম সাইদা ফকির। সাইদা এবং তার স্বামী জুম্মান ফকিরের পৈত্রিক বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে রয়েছে। তারা কর্মসূত্রে প্রায় ২০ বছর ধরে ভারতের নভি মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন। জুম্মান বর্তমানে একটি হাউজিং সোসাইটিতে কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত আছেন এবং তাদের ১২ বছরের একটি ছেলে রয়েছে, যে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে।
ফিরে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই সকালে বাজারে যাওয়ার সময় সাইদাকে মুম্বাই পুলিশ আটক করে। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে একটি হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। খবর পেয়ে তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা মহারাষ্ট্রের চেম্বুর থানায় গিয়েছিলেন। তারা পুলিশের কাছে সাইদার জন্মসনদ, স্কুলের সনদ, বাবা-মায়ের পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথি জমা দেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়ে থাকে যে, পুলিশ এসব নথি যাচাই করার কথা জানিয়েছিল, কিন্তু তিনদিন পর জুম্মানকে জানানো হয় যে, সাইদাকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে। বাংলাদেশে পৌঁছানোর পরে, সাইদা তার স্বামীকে ফোন করে নিজের দুরবস্থার কথা জানান। তিনি জানান, সাতক্ষীরায় পৌঁছানোর পর চাষের জমি এবং কাদার মধ্যে অনেক কিলোমিটার হাঁটতে হয়েছে। পরে একটি প্রধান সড়কে পৌঁছালে স্থানীয় কয়েকজন তাকে দেখতে পান এবং একটি স্থানীয় পরিবার তাকে আশ্রয় দেয়। তারা সাইদাকে পোশাক ও খাবারও সরবরাহ করেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
জুম্মান আরও বলেছেন, তার স্ত্রী বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন এবং তিনি ভারতে ফিরতে চান। বিশেষ করে তিনি ১২ বছরের ছেলে সঙ্গে দেখা করতে ব্যাকুল। তিনি আরও দাবি করেছেন, তিনি ও তার স্ত্রী দুজনেই জন্মগতভাবে ভারতের বাসিন্দা এবং দীর্ঘ সময় ধরে তারা মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন। এই সমস্যা নিয়ে জুম্মানের অভিযোগ, ভারতীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও সাইদাকে প্রথমে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছিল এবং পরে তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। জুম্মানের দাবি, পরিবারের সদস্যকে দ্রুত ভারতে ফেরত আনার জন্য তাদের একমাত্র দাবি।
সাইদাকে ফেরাতে কলকাতা ইতোমধ্যে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তার পরিবার। এ ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে অভিযোগ দায়ের করেছে পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম)। সংগঠনটি দাবি করেছে, বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে সাইদাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, যদিও তার ভারতীয় নথিপত্র ছিল। ঘটনার প্রেক্ষাপটে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন