বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:৫২ পি.এম
পাহাড়ে বৃষ্টি থামছে না। কখনো ভারি, কখনো মাঝারি, আবার কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অফিস গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। এর মধ্যে, রাঙামাটির ১৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৮০০ এর বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
রাঙামাটি সদর, বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলাবাসি পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় পাহাড় ধসে এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছে। এখনও তার নাম পরিচয় জানা যায়নি। এছাড়া, রাঙামাটি সদর এলাকার মগবানে ইউনিয়নে বানের পানিতে তলিয়ে মৃত্যু হয়েছে দলমনি চাকমা নামের এক ব্যক্তির।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচদিনের টানা ভারি বৃষ্টিতে ব্যাপক পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে রাঙামাটিতে। পাহাড় ধসে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম, কাপ্তাই-আসামবস্তি, রাজস্থলী-বাঙ্গালহালিয়া, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি দীঘিনালা ও সাজেক সড়ক চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া রাঙামাটি শহরের উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন আভ্যন্তরীণ সড়ক ভেঙে গেছে। রাঙাপানি ভেদভেদী সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, রাঙামাটিতে ১৬টি স্থানে পাহাড় ধসের ফলে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আপাতত মাটি সরিয়ে সড়ক চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা চলছে। তবে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে যানচালাচল বন্ধ হয়ে রাঙামাটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
এদিকে, পাহাড় ধসে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিলাইছড়িতে ৩৭টি স্থানে। কাউখালী উপজেলার বেশ কিছু মানুষের ঘর ভেঙে গেছে। নিন্মাঞ্চলে প্লাবিত হয়ে রাঙামাটি তিনটি উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, রাঙামাটির ১৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৮০০ এর বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে এবং তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া, ১০৪টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কাচালং নদীতে পানি বৃদ্ধি এবং দীঘিনালায় সড়কে পাহাড় ধসের কারণে পর্যটকদের সাজেকে অবস্থান করতে নিষেধ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। মাঠে কাজ করছে পুলিশ, সেনাবাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেট, ফায়ার সার্ভিস, সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং স্বেচ্ছাসেবক দলগুলো।
এদিকে, গত বুধবার রাতে রাঙামাটিতে হঠাৎ সফর করেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দীন। তিনি রাঙামাটির বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। পরে সাংবাদিকদের বলেন, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ১৩০০ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের পরবর্তীতে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।
এছাড়া, রাঙামাটির বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তিনিও আশ্রয় কেন্দ্রের মানুষদের খাবার বিতরণ করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটির মানিকছড়িস্থ সাপছড়ি এলাকায় ঘটে যাওয়া আকস্মিক পাহাড় ধসের কারণে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে সম্পূর্ণরূপে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ছাত্রদল সেই রাস্তা পরিষ্কার করেছে।
টানা বর্ষণের ফলে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সাপছড়ি এলাকায় পাহাড় ধসে রাস্তার ওপর পড়ে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা কোদাল দিয়ে রাস্তা থেকে পাহাড় ধসে পড়া মাটি পরিষ্কারের কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ে রাস্তার মাটি সরিয়ে যান চলাচল আবারও স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে।
রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অলি আহাদ এবং সাধারণ সম্পাদক নাইমুল ইসলাম রনির নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা রাস্তা পরিষ্কার করার কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অলি আহাদ বলেন, "রাজনীতি কেবল ক্ষমতার জন্য নয়, রাজনীতি হোক মানুষের সেবায়, সংকটে ও জনকল্যাণে— এটিই আবারও প্রমাণ করলো ছাত্রদল।"
তিনি জানান, সাধারণ মানুষের যেকোনো দুর্যোগে ও প্রয়োজনে ছাত্রদল এমন ইতিবাচক ভূমিকা সর্বদা অব্যাহত রাখবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি বর্ণাঢ্য ও পরিপাটি পরিবেশে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো গোছানো তৎপরতায় কোথাও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছিল না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে অনেকেই বিষয়টিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সাভার থেকে আসা পরিবেশকর্মী সোলায়মান নিলয় মন্তব্য করেন, ‘এটা খুবই দৃষ্টি আকর্ষণ হওয়ার মতো ঘটনা। আজকের অনুষ্ঠানে ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর কোনো ছবি নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুইদিন আগে পত্রিকায় একটি নিউজ দেখেছিলাম যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্দেশ দিয়েছেন যে, সরকারি অনুষ্ঠানে তার ছবি যেন ব্যবহার না করা হয়। তার নির্দেশের প্রতিফলন আমরা আজকের অনুষ্ঠানে দেখতে পাচ্ছি। আগে দেখা গেছে, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর একটি বড় ছবি থাকতো, কিন্তু আজ সেটা নেই। সত্যি অসাধারণ ব্যাপার।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সংক্রান্ত নির্দেশের প্রেক্ষিতে গত ৫ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি পরিপত্র জারি করে। ওই পরিপত্রে উল্লেখ করা হয় যে, সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুতকৃত ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি (থ্রি ডি বা অন্য কোনো আঙ্গিকে) ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হলো। সরকারি অনুষ্ঠানে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড নকশা সেই অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের নকশা এমনভাবে নির্মাণ করতে হবে যেন অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে ও বার্তা ও বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষ রোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা-২০২৬ উপলক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় দারুণ একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করে, যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ এবং চারপাশের দেয়ালে পরিবেশ সংক্রান্ত নানা শ্লোগান সম্বলিত মোট ২০টি ব্যানার-ফেস্টুন টানানো হয়।
এসব ব্যানার-ফেস্টুনে কীভাবে পরিবেশ রক্ষা করা হবে, কীভাবে প্রাণীকূলসহ জীববৈচিত্র্য ঠিক রাখা যাবে, কীভাবে গাছ রোপণ করা হবে এবং কীভাবে গাছের পরিচর্যা করতে হবে - সেই সম্পর্কিত পরামর্শ ও নির্দেশনা ছিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমান রাজনীতির যে গুণগত পরিবর্তনের কথা বলেছেন, এই ধরনের ঘটনা তারই বহিঃপ্রকাশ।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফরোজা রোজা বলেন, ‘অতীতে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বড় করে প্রচার করার প্রবণতা দেখা গেছে। এর ফলে মূল অনুষ্ঠানের বিষয় বোঝা যেতো না এবং অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য আড়ালে পড়ে যেতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই সংস্কৃতি থেকে বের হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন, যা অবশ্যই প্রশংসার দাবীদার। আপনি খুঁজে দেখলে দেখতে পাবেন - প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই নির্দেশ সবার মনের কথা। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রীকে থ্যাংকস জানাতে চাই।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, সরকারি ও বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং পেশাজীবীরা।
সূত্র : বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের রাজধানী দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকা বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রবল বর্ষণের ফলে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বড় বড় গাছ উপড়ে পড়েছে, একাধিক জায়গায় সড়ক নদীতে পরিণত হয়েছে, যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং ভবন ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে একটি ভবন ধসে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সাধারণ মানুষের জনজীবন সবমিলিয়ে বিপর্যস্ত।
এদিকে, ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) বৃহস্পতিবার সারাদিন ধরে আরও বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত ও ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়ে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অবিরাম বৃষ্টিতে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় অনেক এলাকায় সড়কে নদীর পানির মতো স্রোত বইছে। সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে রোহিনীতে, যেখানে প্রবল বৃষ্টির মাঝে একটি নির্মাণাধীন চারতলা ভবন ধসে পড়ে তিনজন নিহত হন।
আইএমডি’র তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লির প্রধান আবহাওয়া কেন্দ্র সফদরজংয়ে ৭২.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে লোদি রোডে ৮০.২ মিলিমিটার, রিজ-এ ৭৭.৮ মিলিমিটার, পালামে ৬৩ মিলিমিটার এবং আয়ানগরে ৫৭.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যাওয়ার খবর এসেছে। এই এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে সদর বাজার, গ্রেটার কৈলাশ, বদরপুর, নাসিরপুর, তেলিবাড়া, মহাবীর বাজার, স্বরূপ নগর, কুশক রোড, মুনিরকা, দ্বারকা, বিকাশ মার্গ, পূর্ব দিল্লি এবং নয়াদিল্লি রেলওয়ে স্টেশন এলাকা। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার ফলে এবং রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে সকালের ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে।
অবিরাম বর্ষণের কারণে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সকাল থেকে সড়কে জলাবদ্ধতা, গাছ উপড়ে পড়া এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের একাধিক অভিযোগ পেয়েছে দিল্লির বিভিন্ন পৌর সংস্থাগুলো। অভিযোগ পেয়ে পৌরসভার পক্ষে সড়ক পরিষ্কার ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য জরুরি পরিষেবা দলগুলোকে মোতায়েন করা হয়। ভারী বর্ষণের প্রভাব কেবল দিল্লির মধ্যে নয়, গুজরাট, কেরালা, মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানাতেও অত্যন্ত অনুভূত হচ্ছে।
কেরালার ওয়েনাড এলাকায় ধস ও বর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে চারজন হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবারই একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। রাজ্যটির ক্যাবিনেট মন্ত্রী এ পি অনিল কুমার জানিয়েছেন, আজ সকালে জোন-১ এলাকায় একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং বর্তমানে উদ্ধার কাজ চলছে।
মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাই এবং পুনে শহরেও একটানা বর্ষণ হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বুধবার পুনেতে একটি ভবন ধসে পড়ে, ফলে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতের ফলে গুজরাটের সুরাটে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিচু এলাকায় বসবাসকারী কয়েক হাজার মানুষকে অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কাজও চলমান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়ে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন নোয়াখালীর দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধা, সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিতে। গ্রামে এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের খবর পৌঁছানোর পর নিহতদের স্বজনদের মাঝে বুকফাটা আর্তনাদ চলছে। শোকের মাতম চলছে তাদের মাঝে।
নিহতদের মধ্যে একজন হলেন মো. ইয়াছিন আরাফাত (৩৮), যিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার অধিবাসী। অন্যজন বেলাল হোসেন সুমন (৩৪), যিনি বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে স্থানীয় সময় আনুমানিক ৩টা নাগাদ দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ হারান বেলাল হোসেন সুমন। তিনি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মহাজন বাড়ির মৃত আবদুল ওয়াদুদের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান দুই সন্তানের জনক সুমন। তার আকস্মিক ও নির্মম মৃত্যুর সংবাদে গ্রামে কান্নার রোল পড়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় পোর্ট এলিজাবেথ শহরে নিজ বাসার সামনে পৌঁছানোর সাথে সাথে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা ইয়াছিন আরাফাতকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই ধ collapse হয়ে পড়েন। এ সময় তার পাঁচ বছরের শিশুকন্যা ফারহানাও গুলিবিদ্ধ হয় এবং বর্তমানে সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। বুধবার (৮ জুলাই) তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নিহত ইয়াছিন কাদির হানিফ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাঞ্চনপুর গ্রামের মো. সুজায়েত উল্যার ছেলে। দীর্ঘ ১৫ বছরের কঠোর পরিশ্রমে তিনি সেখানে নিজের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠা গড়ে তুলেছিলেন, কিন্তু এক মুহূর্তে গুলিতে তার সব স্বপ্ন স্তব্ধ হয়ে গেছে।
নোয়াখালীর দুই গ্রামে এমন অকাল মৃত্যুতে শুধু কান্নার শব্দই শোনা যাচ্ছে। পরিবারগুলোর আহাজারি থামাতে কোনো সান্ত্বনা কাজ করছে না। নিহতদের পরিবার ও এলাকাবাসীরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, যেন কূটনৈতিকভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।
একই সাথে তারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ