বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:০১ পি.এম
জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়ে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন নোয়াখালীর দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধা, সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিতে। গ্রামে এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের খবর পৌঁছানোর পর নিহতদের স্বজনদের মাঝে বুকফাটা আর্তনাদ চলছে। শোকের মাতম চলছে তাদের মাঝে।
নিহতদের মধ্যে একজন হলেন মো. ইয়াছিন আরাফাত (৩৮), যিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার অধিবাসী। অন্যজন বেলাল হোসেন সুমন (৩৪), যিনি বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে স্থানীয় সময় আনুমানিক ৩টা নাগাদ দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ হারান বেলাল হোসেন সুমন। তিনি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মহাজন বাড়ির মৃত আবদুল ওয়াদুদের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান দুই সন্তানের জনক সুমন। তার আকস্মিক ও নির্মম মৃত্যুর সংবাদে গ্রামে কান্নার রোল পড়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় পোর্ট এলিজাবেথ শহরে নিজ বাসার সামনে পৌঁছানোর সাথে সাথে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা ইয়াছিন আরাফাতকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই ধ collapse হয়ে পড়েন। এ সময় তার পাঁচ বছরের শিশুকন্যা ফারহানাও গুলিবিদ্ধ হয় এবং বর্তমানে সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। বুধবার (৮ জুলাই) তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নিহত ইয়াছিন কাদির হানিফ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাঞ্চনপুর গ্রামের মো. সুজায়েত উল্যার ছেলে। দীর্ঘ ১৫ বছরের কঠোর পরিশ্রমে তিনি সেখানে নিজের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠা গড়ে তুলেছিলেন, কিন্তু এক মুহূর্তে গুলিতে তার সব স্বপ্ন স্তব্ধ হয়ে গেছে।
নোয়াখালীর দুই গ্রামে এমন অকাল মৃত্যুতে শুধু কান্নার শব্দই শোনা যাচ্ছে। পরিবারগুলোর আহাজারি থামাতে কোনো সান্ত্বনা কাজ করছে না। নিহতদের পরিবার ও এলাকাবাসীরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, যেন কূটনৈতিকভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।
একই সাথে তারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ও পলাতক থাকা ৫৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তারিখে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বরখাস্ত হওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন—৩৩তম বিসিএস ব্যাচের মিশু বিশ্বাস, জুয়েল চাকমা এবং ৩৬তম বিসিএস ব্যাচের মাহমুদুল হাসান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা) কাজী সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পুলিশের অন্তত ৮২ জন ক্যাডার কর্মকর্তা পলাতক আছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বরখাস্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫৭ জনের একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ তিনজনকে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে বরখাস্ত করা হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র সূত্রে জানা যায়, বরখাস্তের তালিকায় থাকা অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক ডিআইজি নূরে আলম মিনা, সাবেক ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান, ডিআইজি এ কে এম এহসানউল্লাহ, ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদার এবং ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তী।
তালিকায় আরও উপস্থিত আছেন—সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান, রিফাত রহমান শামীম, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সঞ্জিত কুমার রায়, সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, মো. ইকবাল হোসাইন, মো. নাজমুল ইসলাম, মানস কুমার পোদ্দার, কাজী মনিরুজ্জামান, মো. শাহ নূর আলম পাটওয়ারী ও এটিইউর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন।
এ ছাড়া পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে তালিকায় রয়েছেন—মো. আলী আশরাফ ভূঞা, জেসমিন কেকা, মো. আবু মারুফ হোসেন, আয়েশা সিদ্দিকা, মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী, মো. তারেক বিন রশিদ, মো. আসাদুজ্জামান, আরিফুর রহমান মন্ডল, মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, মো. শাহজাহান, গোলাম মোস্তফা রাসেল, হাসান আরাফাত, রাজীব দাস, হাসানুজ্জামান মোল্যা, মো. হাফিজ আল ফারুক, রুবাইয়াত জামান, এস এম জাহাঙ্গীর হাছান, রাজন কুমার দাস, মো. মাসুদুর রহমান মনির, মোৎ. রাশেদুল ইসলাম, তোহিদুল ইসলাম, মো. রওশানুল হক সৈকত ও এস এম শামীম।
সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে বরখাস্তের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছেন—মো. হাবিবুল্লাহ দালাল, মো. আরিফুজ্জামান, মো. আল ইমরান হোসেন, মোহাম্মদ ইমরুল, শাহ আলম মো. আখতারুজ্জামান ইসলাম, ইফতেখারুল ইসলাম, পলাশ রঞ্জন দে, মফিজুর রহমান পলাশ, মো. গোলাম রুহানী ও নাহিদ ফেরদৌস। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে সমাজ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করার লক্ষ্যে দেশজুড়ে ডিএনসি’র গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদক উদ্ধার এবং সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
গত ০৯ জুন ২০২৬ তারিখে ডিএনসি’র ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের বিশেষ অভিযানে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ১৬,০০০ পিস ইয়াবাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মো. বাবুল হোসেন কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও ধারাবাহিক নজরদারি মাধ্যমে তার মাদক পাচার নেটওয়ার্কের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। ওই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত আরেকটি বিশেষ অভিযানে যশোরগামী একজন সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারী চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, যশোরভিত্তিক একটি সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারী চক্র ঢাকা থেকে মোটরসাইকেলযোগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে যশোরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিতে যাচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসি’র ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মো. মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে ০৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে ঢাকার শ্যামপুর থানাধীন ধোলাইপাড় এলাকায় ঢাকা-যশোর মহাসড়কে দুইটি মোটরসাইকেলের গতিরোধ করা হয়। পরে মোটরসাইকেল দুটিতে থাকা চারজনকে আটক করে বিধিমত তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে মোট ১৪,৫০০ (চৌদ্দ হাজার পাঁচশত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির ১,১০,০০০ (এক লক্ষ দশ হাজার) টাকা, ৪টি মোবাইল ফোন এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ২টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. প্রিন্স মাহমুদ (৩৭), মনিরা বেগম মিষ্টি (৩০), মো. জহিরুল হক তুহিন (৩২) এবং মোছা. জলি বেগম (২০)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের সহযোগিতায় সংঘবদ্ধভাবে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। ঢাকায় ইয়াবা সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলযোগে যশোরে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে সরবরাহ করত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে তারা কৌশল বদলিয়ে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে মাদক পরিবহন করছিল।
তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সু-সংগঠিত নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করে আসছিল।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ডিএমপি’র শ্যামপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্য, অর্থদাতা ও সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে গোয়েন্দা তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
দেশে নিষিদ্ধ ইয়াবাসহ সকল ধরনের অবৈধ মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডিএনসি’র গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। বৃহস্পতিবার(৯ জুলাই) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড মোড়ে অবস্থান নিয়ে তারা কর্মসূচি পালন করেন।
এতে নেতৃত্ব দেন সাইনবোর্ড পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা মো. খোকন সানি। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মালিক ও শ্রমিকরা অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ, পরিবহন খাতে নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর একটি চক্র সাইনবোর্ড এলাকায় বিভিন্ন পরিবহন থেকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, সিএনজি অটোরিকশা, লেগুনাসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে জোরপূর্বক ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। মালিক ও শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে ওই চক্রকে প্রতিহত করার চেষ্টা করলেও তারা এখনও বিভিন্নভাবে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং মালিক-শ্রমিকদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে।
বক্তারা আরো বলেন, চাঁদাবাজির কারণে পরিবহন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ যাত্রীদেরও অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন তারা। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, সরকার দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা ও ত্রাণ সহায়তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম ও পার্বত্যাঞ্চলে পাহাড়ধস এবং বন্যাজনিত দুর্যোগের ফলে এখন পর্যন্ত কক্সবাজারে ১৯ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন, বান্দরবানে ৫ জন এবং রাঙ্গামাটিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিধি-৩০০ এর আওতায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, দুর্গত এলাকায় আশ্রয় হিসেবে চট্টগ্রামে ৪১টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙ্গামাটিতে ২১টি, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে চট্টগ্রামে ৮ হাজার ৩৪০ জন, রাঙ্গামাটিতে ১২৬ জন, খাগড়াছড়িতে ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং বান্দরবানে ২ হাজার ১৭৩ জন আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, গত ৭ জুলাই দুর্গত পাঁচ জেলায় প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ টাকা করে নগদ জিআর (জিডিপি) এবং ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। আজ পুনরায় চট্টগ্রামের জন্য ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ১০ লাখ টাকা করে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে ৩০০ মেট্রিক টন, কক্সবাজারে ২৫০ মেট্রিক টন এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলেন।
তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, শিশু খাদ্য এবং তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়ের সচিব ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন এবং জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করে চলেছে।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও প্রত্যেক দুর্গত জেলায় ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করছেন। পরিস্থিতির প্রয়োজনে আরও জরুরি বরাদ্দ প্রদান করা হবে।
পাহাড় ধসে বারবার প্রাণহানির বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে। খাসজমি ও অন্যান্য সরকারি জমিতে তাদের জন্য ঘর নির্মাণ করা হবে। এ কাজে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সচেতনতার ভূমিকা ও সহযোগিতা কামনা করে তিনি আরও বলেন, যদি সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করে, তবে ভবিষ্যতে পাহাড়ধসে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন সংসদে ৩০০ বিধিতে জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন পার্বত্য জেলায় গতকাল ১৩০০ মেট্রিক টন চাল সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান জেলা প্রশাসনকে ২০ লাখ টাকা করে দুর্যোগকালীন সহায়তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে বিশেষ বরাদ্দ আজ সকালে দেওয়া হয়েছে, যেটা তারা গ্রহণ করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ