প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি বর্ণাঢ্য ও পরিপাটি পরিবেশে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো গোছানো তৎপরতায় কোথাও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছিল না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে অনেকেই বিষয়টিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সাভার থেকে আসা পরিবেশকর্মী সোলায়মান নিলয় মন্তব্য করেন, ‘এটা খুবই দৃষ্টি আকর্ষণ হওয়ার মতো ঘটনা। আজকের অনুষ্ঠানে ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর কোনো ছবি নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুইদিন আগে পত্রিকায় একটি নিউজ দেখেছিলাম যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্দেশ দিয়েছেন যে, সরকারি অনুষ্ঠানে তার ছবি যেন ব্যবহার না করা হয়। তার নির্দেশের প্রতিফলন আমরা আজকের অনুষ্ঠানে দেখতে পাচ্ছি। আগে দেখা গেছে, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর একটি বড় ছবি থাকতো, কিন্তু আজ সেটা নেই। সত্যি অসাধারণ ব্যাপার।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সংক্রান্ত নির্দেশের প্রেক্ষিতে গত ৫ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি পরিপত্র জারি করে। ওই পরিপত্রে উল্লেখ করা হয় যে, সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুতকৃত ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি (থ্রি ডি বা অন্য কোনো আঙ্গিকে) ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হলো। সরকারি অনুষ্ঠানে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড নকশা সেই অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের নকশা এমনভাবে নির্মাণ করতে হবে যেন অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে ও বার্তা ও বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষ রোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা-২০২৬ উপলক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় দারুণ একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করে, যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ এবং চারপাশের দেয়ালে পরিবেশ সংক্রান্ত নানা শ্লোগান সম্বলিত মোট ২০টি ব্যানার-ফেস্টুন টানানো হয়।
এসব ব্যানার-ফেস্টুনে কীভাবে পরিবেশ রক্ষা করা হবে, কীভাবে প্রাণীকূলসহ জীববৈচিত্র্য ঠিক রাখা যাবে, কীভাবে গাছ রোপণ করা হবে এবং কীভাবে গাছের পরিচর্যা করতে হবে - সেই সম্পর্কিত পরামর্শ ও নির্দেশনা ছিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমান রাজনীতির যে গুণগত পরিবর্তনের কথা বলেছেন, এই ধরনের ঘটনা তারই বহিঃপ্রকাশ।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফরোজা রোজা বলেন, ‘অতীতে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বড় করে প্রচার করার প্রবণতা দেখা গেছে। এর ফলে মূল অনুষ্ঠানের বিষয় বোঝা যেতো না এবং অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য আড়ালে পড়ে যেতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই সংস্কৃতি থেকে বের হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন, যা অবশ্যই প্রশংসার দাবীদার। আপনি খুঁজে দেখলে দেখতে পাবেন - প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই নির্দেশ সবার মনের কথা। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রীকে থ্যাংকস জানাতে চাই।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, সরকারি ও বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং পেশাজীবীরা।
সূত্র : বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন