প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পাহাড়ে বৃষ্টি থামছে না। কখনো ভারি, কখনো মাঝারি, আবার কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অফিস গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। এর মধ্যে, রাঙামাটির ১৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৮০০ এর বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
রাঙামাটি সদর, বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলাবাসি পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় পাহাড় ধসে এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছে। এখনও তার নাম পরিচয় জানা যায়নি। এছাড়া, রাঙামাটি সদর এলাকার মগবানে ইউনিয়নে বানের পানিতে তলিয়ে মৃত্যু হয়েছে দলমনি চাকমা নামের এক ব্যক্তির।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচদিনের টানা ভারি বৃষ্টিতে ব্যাপক পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে রাঙামাটিতে। পাহাড় ধসে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম, কাপ্তাই-আসামবস্তি, রাজস্থলী-বাঙ্গালহালিয়া, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি দীঘিনালা ও সাজেক সড়ক চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া রাঙামাটি শহরের উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন আভ্যন্তরীণ সড়ক ভেঙে গেছে। রাঙাপানি ভেদভেদী সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, রাঙামাটিতে ১৬টি স্থানে পাহাড় ধসের ফলে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আপাতত মাটি সরিয়ে সড়ক চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা চলছে। তবে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে যানচালাচল বন্ধ হয়ে রাঙামাটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
এদিকে, পাহাড় ধসে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিলাইছড়িতে ৩৭টি স্থানে। কাউখালী উপজেলার বেশ কিছু মানুষের ঘর ভেঙে গেছে। নিন্মাঞ্চলে প্লাবিত হয়ে রাঙামাটি তিনটি উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, রাঙামাটির ১৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৮০০ এর বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে এবং তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া, ১০৪টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কাচালং নদীতে পানি বৃদ্ধি এবং দীঘিনালায় সড়কে পাহাড় ধসের কারণে পর্যটকদের সাজেকে অবস্থান করতে নিষেধ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। মাঠে কাজ করছে পুলিশ, সেনাবাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেট, ফায়ার সার্ভিস, সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং স্বেচ্ছাসেবক দলগুলো।
এদিকে, গত বুধবার রাতে রাঙামাটিতে হঠাৎ সফর করেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দীন। তিনি রাঙামাটির বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। পরে সাংবাদিকদের বলেন, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ১৩০০ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের পরবর্তীতে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।
এছাড়া, রাঙামাটির বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তিনিও আশ্রয় কেন্দ্রের মানুষদের খাবার বিতরণ করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন