প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের রাজধানী দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকা বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রবল বর্ষণের ফলে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বড় বড় গাছ উপড়ে পড়েছে, একাধিক জায়গায় সড়ক নদীতে পরিণত হয়েছে, যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং ভবন ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে একটি ভবন ধসে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সাধারণ মানুষের জনজীবন সবমিলিয়ে বিপর্যস্ত।
এদিকে, ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) বৃহস্পতিবার সারাদিন ধরে আরও বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত ও ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়ে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অবিরাম বৃষ্টিতে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় অনেক এলাকায় সড়কে নদীর পানির মতো স্রোত বইছে। সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে রোহিনীতে, যেখানে প্রবল বৃষ্টির মাঝে একটি নির্মাণাধীন চারতলা ভবন ধসে পড়ে তিনজন নিহত হন।
আইএমডি’র তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লির প্রধান আবহাওয়া কেন্দ্র সফদরজংয়ে ৭২.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে লোদি রোডে ৮০.২ মিলিমিটার, রিজ-এ ৭৭.৮ মিলিমিটার, পালামে ৬৩ মিলিমিটার এবং আয়ানগরে ৫৭.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যাওয়ার খবর এসেছে। এই এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে সদর বাজার, গ্রেটার কৈলাশ, বদরপুর, নাসিরপুর, তেলিবাড়া, মহাবীর বাজার, স্বরূপ নগর, কুশক রোড, মুনিরকা, দ্বারকা, বিকাশ মার্গ, পূর্ব দিল্লি এবং নয়াদিল্লি রেলওয়ে স্টেশন এলাকা। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার ফলে এবং রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে সকালের ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে।
অবিরাম বর্ষণের কারণে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সকাল থেকে সড়কে জলাবদ্ধতা, গাছ উপড়ে পড়া এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের একাধিক অভিযোগ পেয়েছে দিল্লির বিভিন্ন পৌর সংস্থাগুলো। অভিযোগ পেয়ে পৌরসভার পক্ষে সড়ক পরিষ্কার ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য জরুরি পরিষেবা দলগুলোকে মোতায়েন করা হয়। ভারী বর্ষণের প্রভাব কেবল দিল্লির মধ্যে নয়, গুজরাট, কেরালা, মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানাতেও অত্যন্ত অনুভূত হচ্ছে।
কেরালার ওয়েনাড এলাকায় ধস ও বর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে চারজন হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবারই একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। রাজ্যটির ক্যাবিনেট মন্ত্রী এ পি অনিল কুমার জানিয়েছেন, আজ সকালে জোন-১ এলাকায় একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং বর্তমানে উদ্ধার কাজ চলছে।
মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাই এবং পুনে শহরেও একটানা বর্ষণ হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বুধবার পুনেতে একটি ভবন ধসে পড়ে, ফলে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতের ফলে গুজরাটের সুরাটে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিচু এলাকায় বসবাসকারী কয়েক হাজার মানুষকে অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কাজও চলমান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন