০২:১৩ পি.এম
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার আসমা আক্তার (৫) নামের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে তার জেঠাতো ভাই শাহাদাত হোসেন (২৬) কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে সম্প্রতি ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে জেলার বিশেষ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তার এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাহাদাত উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে এবং নিহত শিশুর জেঠাতো ভাই।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি সেলিম শাহী নিশ্চিত করেন, রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা জানান, এর আগে তিন দফা রায়ের তারিখ পরিবর্তনের পরে ৬ জুলাই রায় ঘোষণা করার চূড়ান্ত দিন ধার্য করা হয়েছিল।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নিহত আসমা আক্তার চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা মো. শাহজাহানের কন্যা। সাজাপ্রাপ্ত একমাত্র আসামি শাহাদাত হোসেন একই গ্রামের বাবুল হোসেনের পুত্র এবং নিহত শিশুটির চাচাত ভাই।
২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুরে, পাঁচ বছরের শিশু আসমা হঠাৎ করে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ ৯ দিন পর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আসামি শাহাদাতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে আসমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পরে শাহাদাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
মামলার তদন্ত চলাকালীন, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে গা শিউরে ওঠা বর্ণনা দেন আসামি শাহাদাত। তিনি স্বীকার করেন যে ঘটনার দিন দুপুরে তিনি শিশু আসমাকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর বিষয়টি সবার কাছে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি অতি নিষ্ঠুরভাবে ওই অবুঝ শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে আলামত গোপন করার জন্য মরদেহটি তিনি বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন।
এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জানাজানি হলে নোয়াখালীজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আসমা হত্যার দ্রুত বিচার এবং আসামির ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো উদ্যোগ নেয় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং প্রতিবাদ সমাবেশের।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন