ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কক্সবাজারে রিসোর্টের আগুন ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন


কক্সবাজারে রিসোর্টের আগুন ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু এবং এক নারী পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে গভীর রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টের কর্মীরা নিজেদের পোষা কুকুর ও বিড়াল নিয়ে নিরাপদে সরে গেলেও, ভেতরে থাকা পর্যটকদের কেন সতর্ক বা উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়নি, তা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির সামনে একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে উখিয়ার মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকার ‘টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্ট’-এ বিকট বিস্ফোরণের পর এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সকাল ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করে এবং সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। উদ্ধার তৎপরতায় ফায়ার সার্ভিসকে সহায়তা করেন বিজিবি, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা। ওই রিসোর্ট থেকে একে একে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আগুনে আহত সাতজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া ১০ জনের মরদেহ বর্তমানে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে স্বজনদের পাশাপাশি মরদেহগুলো থেকে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে এবং গঠন করা হয়েছে প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি।

আরও পড়ুন: শারদীয় দুর্গোৎসবে ১৪৪ মণ্ডপে ৩৫০০ কোস্ট গার্ডের নিরাপত্তা

কুকুর-বিড়াল নিয়ে কর্মীদের পলায়ন

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটিতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পরই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। আগুন লাগার পরপরই সেখানে অবস্থানরত কিছু পর্যটক হুড়োহুড়ি করে বের হয়ে আসেন। এর ঠিক পরপরই রিসোর্টের অন্তত পাঁচজন কর্মীকে দুটো কুকুর ও চারটি বিড়াল সঙ্গে নিয়ে বের হয়ে দ্রুত পালিয়ে যেতে দেখা যায় স্থানীয়দের দ্বারা।

জানা গেছে, রিসোর্টটির মালিক তানভীর আহমদ ও নিয়াজ মোরশেদ নামের দুই ব্যক্তি। এর মধ্যে মালিক তানভীরের পোষা দুটো কুকুর ও চারটি বিড়াল রিসোর্টের দ্বিতীয় তলায় তার নিজস্ব কক্ষে রাখা হতো। আগুন লাগার পর কর্মচারীরা দ্রুত দোতলায় গিয়ে প্রাণীগুলোকে উদ্ধার করে নিয়ে নিরাপদে সটকে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কর্মচারীদের প্রাণীগুলো নিয়ে নিরাপদে বের হতে দেখা গেলেও, কক্ষে আটকে পড়া পর্যটকদের সজাগ করা কিংবা উদ্ধারের কোনো উদ্যোগ তাদের ছিল না। ফলে দ্রুতই আগুনের তীব্রতা বাড়লে ভেতরে থাকা ১০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেয়া বাসা থেকে মাদকসহ ৮৪ জন আটক, ওএসডি

ঘটনাস্থলের এক স্থানীয় যুবক জানান, রিসোর্টের মালিককে প্রায়ই এসব পোষা প্রাণী সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যেত। অগ্নিকাণ্ডের পর কর্মচারীরা প্রাণীগুলো রক্ষায় যতটা তৎপর ছিলেন, ভেতরে আটকে পড়া পর্যটকদের বাঁচাতে তাদের কোনো ভূমিকাই দেখা যায়নি। আগুনের তীব্রতা বাড়লে কয়েকজন ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ে বাঁচলেও অন্যরা ভেতরেই আটকা পড়েন।

এ ঘটনায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহানকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি রোববার (১৮ অক্টোবর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় বাসিন্দা, রিসোর্টে অবস্থানকারী জীবিত ও আহত ব্যক্তি এবং মৃতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছে।

তদন্ত কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগুনের সূত্রপাত এবং রিসোর্টের কর্মীদের সবাইকে নিরাপদে বের হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তদন্ত কমিটির নজরে এসেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান এডিএম তাসনীম জাহান জানান, অনেক প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির কী ধরনের অনিয়ম ছিল এবং ওই সময় কর্মীদের কী গাফিলতি ছিল, সে সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয় চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হবে।

আরও পড়ুন: যশোরের শার্শায় যুবকের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে প্রকাশ্যে হুমকির অভিযোগ

১০ মরদেহ শনাক্ত হলেও নিখোঁজ শিক্ষিকা

অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর স্বজনদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী রিসোর্টে অবস্থানকারী পর্যটকদের মধ্যে নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন মোট ১১ জন। উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়া কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন জানান, অভিযানের শুরুতে দুটো কক্ষ থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে অন্য একটি কক্ষ থেকে দুই শিশুসহ আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও স্বজনদের তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে প্রশাসন নিশ্চিত হয়েছে যে প্রথমে উদ্ধার হওয়া ছয়জনের মরদেহ একই সঙ্গে ভ্রমণে আসা নিকটাত্মীয়দের। তারা হলেন ঢাকার বনশ্রীর বাসিন্দা মো. আশিকুল ইসলামের স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মেলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), নাফিজের বড় বোন ফারিয়া কবির (৩৩) এবং তার পাঁচ বছর বয়সি ভাগনে ফায়িজান আহম্মেদ।

পরবর্তী সময়ে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুসহ চারজনের মরদেহ শনাক্ত হয়েছে যশোরের নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই সন্তান রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩) হিসেবে। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আরও পড়ুন: বগুড়ায় পুলিশের ওপর হামলা, আহত এএসআই; আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা

উদ্ধার হওয়া ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় তালিকার বাকি একজন অর্থাৎ ঢাকার সাভারের ‘স্বপ্ন বিলাস স্কুল’ নামের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯) নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত হয়েছে প্রশাসন। নাসরিন আক্তার ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বাদল হোসেনের স্ত্রী। তার অবস্থান শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান এডিএম তাসনীম জাহান জানান, নিখোঁজ নারী অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন নাকি বাইরে ছিলেন, তা নিশ্চিত হতে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও তদন্তকারী দল কাজ করছে। নিখোঁজের মোবাইল ফোন নম্বরের নেটওয়ার্ক লোকেশন ও কল ডেটাসহ অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

নিখোঁজ মুক্তার স্বামী বাদল হোসেন জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত রিসোর্টটিতে ফয়সালের স্ত্রীসহ তিন বান্ধবী বেড়াতে গিয়ে উঠেছিলেন। সকালে দুই বান্ধবী কক্ষ থেকে কিছুটা আগেই বাইরে বের হয়ে আসেন। তবে তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার কক্ষের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন। আগুন লাগার পর তিনি ভেতরে আটকা পড়েন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি।

ম্যানেজার গ্রেফতার, তদন্তে পুলিশ

আরও পড়ুন: বিচার ব্যবস্থায় যারা থাকে তাদেরকেও আওয়ামী লীগ কিনে ফেলে: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

ঘটনার সার্বিক বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, রিসোর্টের মালিকসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৯ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়েছে। এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ওসি জানান, তদন্তের স্বার্থে সুমনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। একই সঙ্গে মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।

নিখোঁজ শিক্ষিকার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় রিসোর্টটিতে কয়েক দফা তল্লাশি চালানো হলেও কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ফলে প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া হচ্ছে। তিনি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছেন নাকি জীবিত অবস্থায় অন্য কোথাও আছেন, তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তা জানানো হবে।

আরও পড়ুন: দেশের অস্থিতিশীলতার জন্য সীমান্তের ওপার থেকে আসছে টাকা : প্রধানমন্ত্রী

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেয়া বাসা থেকে মাদকসহ ৮৪ জন আটক, ওএসডি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৬ পি.এম


অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেয়া বাসা থেকে মাদকসহ ৮৪ জন আটক, ওএসডি

পুলিশ অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেয়া বাসা থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে এবং ৮৪ জনকে আটক করেছে, যার মধ্যে নারীও রয়েছে। ঘটনার পর জহিরকে ওএসডি করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তরা বিভাগ সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর ভাটার থানাধীন পুলিশ হাউজিং ১ আবাসিক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে, যেখানে ডিজে পার্টি এবং মাদকসেবনসহ মাদকের কারবার চলছিল, সেখানে ডিবি পুলিশের সদস্যরা অভিযান চালান।

উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ইলিয়াস কবির বিষয়টি সময় সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি এয়ারবিএনবির মাধ্যমে ওই বাসাটি ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখানে অবৈধভাবে মাদকসেবন ও ডিজে পার্টি পরিচালিত হচ্ছিল। অভিযান চলাকালে ২৬ জন মহিলা এবং ৫৮ জন পুরুষকে আটক করা হয়েছে এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে, আটক হওয়ার পর মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা এক অফিস আদেশে অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরকে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্তির বিষয়ে জানানো হয়।

আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, অতিরিক্ত ডিআইজি (রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হচ্ছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে কেন তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে সে বিষয়ে আদেশে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দীপিকা-রণবীর দ্বিতীয় কন্যার নাম রাখলেন দেবী পাড়ুকোন সিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৭ পি.এম


দীপিকা-রণবীর দ্বিতীয় কন্যার নাম রাখলেন দেবী পাড়ুকোন সিং

বলিউডের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি দীপিকা পাড়ুকোন এবং রণবীর সিংয়ের দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের নাম সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। তাদের ছোট মেয়ের নাম রাখা হয়েছে দেবী পাড়ুকোন সিং। নবরাত্রির উৎসবের প্রেক্ষাপটে, তারা পরিবারের চার সদস্যের একটি ছবি অনুরাগীদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দীপিকার কোলে নবজাতক দেবী রয়েছে এবং রণবীরের কোলে বড় মেয়ে দুয়া পাড়ুকোন সিং। ছোট বোনের গালে স্নেহের চুমু দিচ্ছে দুয়া। এই পরিবারের মিষ্টি মুহূর্তটি ভক্তদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাধাষ্টমীর দিনে দীপিকা ও রণবীর তাদের দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের জন্মের খবর জানান। তবে তারা এতদিন ছোট মেয়ের নাম প্রকাশ করেননি। এবার উৎসবের আবহে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নামটি জানান তারা।

দ্বিতীয় মেয়ের নাম ‘দেবী’ রাখার সিদ্ধান্তটি নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। নবরাত্রি ও দেবীপক্ষের আবহে নামটি প্রকাশ করায় অনেকেই এর মধ্যে বিশেষ তাৎপর্য খুঁজছেন।

বড় মেয়ে দুয়ার নাম প্রকাশের ক্ষেত্রেও দীপিকা ও রণবীর বিশেষ সময় বেছে নিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে প্রথম কন্যাসন্তানের জন্মের পর তারা মেয়েকে কিছুদিন আড়ালে রেখেছিলেন। পরে ওই বছরের দীপাবলিতে তারা মেয়ের নাম প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিং ২০১৮ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করা এই দম্পতি বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা দম্পতি। যদিও তারা সন্তানদের নিয়ে সাধারণত ব্যক্তিগত জীবন আড়ালে রাখেন, তবে বিশেষ মুহূর্তগুলো মাঝে মাঝে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ডাকাতির ঘটনায় আটক ২, উদ্ধার হলো লুণ্ঠিত মালামাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৭ পি.এম


ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ডাকাতির ঘটনায় আটক ২, উদ্ধার হলো লুণ্ঠিত মালামাল

কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের হিমছড়ি ঢালায় দুই দফা ডাকাতির ঘটনার পর ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ লুণ্ঠিত মালামাল, দেশীয় অস্ত্র এবং খেলনা পিস্তল উদ্ধার করেছে। এ অভিযানের সময় নারীসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে সাড়ে ৬টা ও দুপুর আড়াইটার দিকে হিমছড়ি ঢালায় দুটি পৃথক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। খবর পাওয়ার পর ঈদগাঁও থানা পুলিশ হিমছড়ি ঢালাসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ অভিযানে পাহাড়ি এলাকার বাড়ি থেকে লুণ্ঠিত মালামাল, দেশীয় অস্ত্র এবং খেলনা পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম শিফাতুল মাজদার বলেন, ‘ডাকাতির খবর পাওয়ার পরই পুলিশ অভিযান শুরু করে। ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা অভিযানে লুণ্ঠিত মালামাল ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় এক নারীসহ দুজনকে আটক করা হয়।’

ডাকাতির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে নারীদের অলংকারও রয়েছে।

ডাকাতির শিকার ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাত দলের সদস্য সংখ্যা ১২ থেকে ১৫ জন ছিল। তারা বেশকিছু যানবাহনে শতাধিক যাত্রীর কাছ থেকে মালামাল লুট করে। মুখোশধারী ডাকাতরা সিএনজিচালিত অটোরিকশা, জিপ এবং মোটরসাইকেলের যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরপর দুই দফা ডাকাতির ঘটনার কারণে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শারদীয় দুর্গোৎসবে ১৪৪ মণ্ডপে ৩৫০০ কোস্ট গার্ডের নিরাপত্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৮ পি.এম


শারদীয় দুর্গোৎসবে ১৪৪ মণ্ডপে ৩৫০০ কোস্ট গার্ডের নিরাপত্তা

শারদীয় দুর্গাপূজার উপলক্ষে, মোংলাসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ধর্মীয় উপাসনালয়, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং সর্বসাধারণের জান-মাল রক্ষায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন। দুর্গোৎসবের আনন্দঘন পরিবেশকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য কোস্ট গার্ড ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে, মোংলাসহ বিভিন্ন এলাকার পূজা মণ্ডপ ও নিরাপত্তা কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. মঈনুল হাসান।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে, কোস্ট গার্ড সদর দফতরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন গণমাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দীর্ঘকাল ধরে দেশের উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা বিধানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। সরকারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার আলোকে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পাশাপাশি কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের আওতাধীন খুলনা, বাগেরহাট, মোংলাসহ সাতক্ষীরা জেলার উপকূলীয় এলাকার মোট ১৪৪টি মন্দির ও পূজা মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উপকূলীয় এ মণ্ডপগুলোতে ৩৫০০ কোস্টগার্ড সদস্য নিয়োজিত করা হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বী নাগরিকরা যেন যেকোনো ধরনের শঙ্কা বা উৎকণ্ঠা ছাড়াই আনন্দমুখর ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন, সেজন্য পূজার শুরু থেকেই মাঠে সক্রিয় রয়েছে কোস্ট গার্ডের বিশেষ টিম। মোংলাসহ পুরো উপকূলীয় অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সাথে নিবিড় সমন্বয় ও যৌথ কার্যক্রমের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে, পূজা মণ্ডপগুলো ঘিরে একটি সুদৃঢ় নিরাপত্তা বলয় গড়ে উঠেছে।

এদিকে, পূজার শেষ পর্যায়ে এসে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে কোস্ট গার্ড। আগামীকাল প্রতিমা বিসর্জনের সময় নদী বা উপকূলীয় বিসর্জন ঘাটগুলোতে সম্ভাব্য নৌদুর্ঘটনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোস্ট গার্ডের সুসজ্জিত বিশেষ ডুবুরি দল ও টহল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিসর্জন কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী পুণ্যার্থী ও সাধারণ জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে চলাচল করার অনুরোধ জানিয়েছে কোস্ট গার্ড কর্তৃপক্ষ।

জরুরি যেকোনো পরিস্থিতি বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য কোস্ট গার্ডের ২৪ ঘণ্টার জরুরি সেবা নম্বর ১৬৭১১-এ যোগাযোগ করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে। নম্বরটিতে কল করার সাথে সাথেই কোস্ট গার্ডের টহল দল দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, সবার সম্মিলিত সহযোগিতা, কঠোর নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারির মাধ্যমে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজার সফল ও আনন্দঘন সমাপ্তি ঘটবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%