বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:১৮ পি.এম
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এই তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নাম হলো- মো. জীবন হোসেন, কানিজ ইয়াসমিন ইভা, মো. গোলাম হোসেন (৩০), জসীম উদ্দীন (৩০), মো. মুবাশিরা হোসেন (৩৫) এবং শাফায়েত হোসেন (৩৫)।
শেরেবাংলা নগর থানার বরাত দিয়ে নিয়াজ মেহেদী জানান, বুধবার (২২ জুলাই) শেরেবাংলা নগর থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
তিনি আরো বলেন, অভিযানে বিভিন্ন অপরাধের সাথে সম্পর্কিত ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের সংগীতপ্রেমীদের মন মাতাতে পাকিস্তানের জনপ্রিয় গায়ক আতিফ আসলাম আবারও ঢাকায় এসেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে একটি সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন তিনি। সেখানে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন জনপ্রিয় এই গায়ক।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক আতিফ আসলামের কাছে জানতে চান, বাংলাদেশের খাবারগুলি তাঁকে কেমন লাগে? কোন খাবারগুলো তাঁর বেশি প্রিয়?
জবাবে গায়ক বলেন, ‘খিচুড়ি। আর আপনাদের একটা চা আছে, সেটা খুবই মজা। এছাড়া আপনাদের বিরিয়ানিরও তুলনা হয় না।’
আতিফ আসলাম বলেন, ‘আমি পৃথিবীর যেখানেই যাই, বাংলাদেশে যে খাবারের কথা বলি, তা প্রশংসিত হয়। যখন কখনোই আমাকে মানুষ জিজ্ঞাসা করে, চাইনিজ, থাই এর মতো খাবারগুলি প্রিয় কিনা? আমি সোজা বলে দিই, একবার আপনারা বাংলাদেশ গিয়ে সেখানকার খাবার খেয়ে দেখুন। পরে আমাকে বলুন।’
অনেক বছর আগে একটি সংগীত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন আতিফ। সে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আতিফ বলেন, রুনা লায়লা ম্যামের সঙ্গে আমি একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম। আমরা দুজনেই বিচারকের আসনে ছিলেন। এর প্রেক্ষিতে তিনি ‘ও লাল মেরি’ গানটি গেয়েছিলেন, যেটি খুবই জনপ্রিয়। নিশ্চয়ই তিনি অসাধারণ শিল্পী, একজন কিংবদন্তি। তার সঙ্গে কাজ করতে পেরে দারুণ আনন্দ পেয়েছি।
পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে আতিফের বাংলাদেশে কোনো আত্মীয় রয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই আমার আত্মীয়। আমার কাছে আপনারা পরিবারের মতো। তবে হ্যাঁ, যদি আক্ষরিক অর্থে বলি, এখানে কাজের সুবাদে কিছু পরিচয় হয়েছে। এর থেকে বেশি কিছু নয়।’
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ঢাকার মাদানি এভিনিউর কোর্টসাইডে আতিফ আসলামের কনসার্ট হবে। এতে তার সঙ্গে গান পরিবেশন করবে বাংলাদেশের ব্যান্ড ‘মেঘদল’ এবং ‘লেভেল ফাইভ’।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ রেলওয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় মালবাহী ওয়াগন এবং যাত্রীবাহী কোচের সংস্কারে বিপুল পরিমাণ ভারী ও খুচরা যন্ত্রাংশের প্রয়োজন হয়। যদিও কারখানাটিতে অধিকাংশ যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে, তবুও জনবল সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব এবং প্রয়োজনীয় সময়ে কাঁচামাল না পাওয়ার কারণে প্রতিবছর টেন্ডারের মাধ্যমে দেশীয় বাজার ও বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ খুচরা এবং ভারী যন্ত্রাংশ কিনতে হচ্ছে।
এ ফলে একদিকে সরকারের রাজস্ব ব্যয় বাড়ছে আর অন্যদিকে বাইরে থেকে সরবরাহ করা যন্ত্রাংশের গুণগত মান নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ।
কারখানার বিভিন্ন শপ ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ মিলরাইট শপে ২৯টি হালকা এবং ভারী মেশিন থাকলেও প্রায় সবগুলোই অচল হয়ে আছে দীর্ঘদিন। অযত্ন ও অবহেলার কারণে মেশিনগুলোর উপর ধুলাবালি জমছে এবং কোথাও কোথাও মাকড়সার জালও দেখা যাচ্ছে। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে প্রোডাকশন শপ, টুলরুম শপসহ অন্যান্য শপেও।
কারখানার দুটি উৎপাদন শপ, প্রোডাকশন শপ এবং টুলরুম শপে, মোট ১৪২টি মেশিনের মধ্যে মাত্র ৩৮টি সচল রয়েছে। বাকি মেশিনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা সূত্র জানায়, কারখানায় মোট ৭৭৯টি মেশিন রয়েছে। এর মধ্যে ৫৮২টি (৭৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ) কার্যক্ষম এবং ১৯৭টি (২৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ) অকার্যকর পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু উৎপাদনের সক্ষম অসংখ্য মেশিন দক্ষ কারিগরের অভাব এবং রক্ষণাবেক্ষণ সংকটের কারণে ব্যবহার না হওয়ায় অচল হয়ে পড়েছে।
কারখানার বিভিন্ন শপের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, বর্তমানে সচল ৫৮২টি মেশিন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের তুলনায় কারিগর মাত্র ১৪০ জন রয়েছে। দক্ষ কারিগরদের অভাবে অনেক মেশিন অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।
তারা আরও জানিয়েছে, অনুমোদিত জনবল নিয়োগ করা হলে বাইরের বাজার থেকে যন্ত্রাংশ কেনার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে। বর্তমানে কারখানায় বহু পুরোনো এবং মান্ধাতা আমলের মেশিনারিজ দিয়েই যন্ত্রাংশ উৎপাদন চলছে।
কারখানার মেশিনগুলোর বর্তমান বয়স বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১ থেকে ২০ বছর বয়সী ৮২টি, ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী ২০৭টি এবং ৫০ বছরের বেশি পুরোনো ৪৮২টি মেশিন ব্যবহৃত হচ্ছে। অথচ এসব মেশিন পরিচালনার জন্য মোট জনবল রয়েছে মাত্র ২০১ জন।
দক্ষ জনবল সংকট থাকার পরেও প্রত্যেক মাসে মালবাহী ওয়াগন এবং যাত্রীবাহী কোচ মিলিয়ে প্রায় ৮০টি রোলিং স্টকের সংস্কার করা হচ্ছে। এই কাজ নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত বিপুল সংখ্যক ভারী ও ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের প্রয়োজন হচ্ছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার উৎপাদন প্রকৌশলী মো. জাহিদ হাসান জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের পর থেকে চীন, ভারত এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানিকৃত কোচগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ তৈরিতে আধুনিক সিএনসি মেশিন রেলওয়ে কারখানায় নেই। এ কারণে এসব যন্ত্রাংশ এখানে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি দক্ষ মেশিনম্যানের সংকটও উৎপাদনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে কারখানায় প্রায় ৬৪৩ ধরনের খুচরা যন্ত্রাংশ উৎপাদন করা হচ্ছে, কিন্তু প্রতিবছর স্থানীয় বাজার থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের ২৫০ ধরনের খুচরা যন্ত্রাংশ কিনতে হয়।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ বলেছেন, কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট চলছে। প্রয়োজনীয় সময়ে কাঁচামাল পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া আধুনিক সিএনসি টাইপ মেশিনের অভাব রয়েছে। এসব কারণে বাধ্য হয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে কিছু খুচরা যন্ত্রাংশ কেনা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জনবল সংকট সমাধান হলে এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজিত হলে বাইরের উপর নির্ভরতা অনেকটা হ্রাস পাবে। ব্রিটিশ আমলের অস্থায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরিবর্তে স্থায়ী নিয়োগ পদ্ধতি চালু থাকলে দক্ষ শ্রমিক পাওয়া সহজ হবে। আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং নিয়মিত কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে রেলওয়ে কারখানার নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এতে সরকারের ব্যয় কমবে, বিদেশি নির্ভরতা কমবে এবং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রেলওয়ে কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নে বাবাকে করাত দিয়ে হত্যাচেষ্টা করার ঘটনায়, পারিবারিক সহিংসতা ও মাদকাসক্তির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত মিরাজ আলী (২৪) নামের এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। এই সাথে তার বিরুদ্ধে ১০০ টাকা অর্থদণ্ডও আরোপ করা হয়েছে এবং অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সুলতানা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মিরাজ আলীর বিরুদ্ধে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বিশমনি গ্রামের মো. জাহিদুল ইসলাম তার ছেলে মিরাজ আলীর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এই অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন যে, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নেমেছে। একাধিকবার মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে পাঠানো হলেও ফিরে এসে পুনরায় মাদক সেবন করে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মাদক কেনার জন্য টাকা পাঠাতে না পারলে অভিযুক্ত বাড়ির মালামাল বিক্রি করে, গ্রামে বিভিন্ন বাড়িতে চুরি করার চেষ্টা করে এবং বাধা দিলে পরিবারের সদস্যদের মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পূর্বে গাঁজা বিক্রির অভিযোগে মিরাজ আলী দুইবার কারাভোগ করেছে। তার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তার স্ত্রী তালাক দিয়ে চলে গেছেন।
সর্বশেষ ২২ জুলাই, তার বাবা বাড়িতে অশান্তির সময় কারণ জানতে চাইলে মিরাজ আলী ঘর থেকে একটি করাত এনে বাবার গলায় ধরে খুনের চেষ্টা করে। এই সময় তার মা এগিয়ে এলে তাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে যায়। পরবর্তীতে তারা দৌড়ে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে শুনানির সময় মিরাজ আলী প্রকাশ্যে মাদক সেবনের বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপর তার বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় মাদক সেবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আলামত উদ্ধার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি, অভিযোগের বিবরণ এবং ঘটনার চিত্রের আলোকে আদালত তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাদক, পারিবারিক সহিংসতা এবং জনশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও খেলাপি ঋণ সামাল দেওয়ার জন্য গভর্নর বা নীতিনির্ধারকদের ব্যক্তিগতভাবে লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থাকা এবং আর্থিক স্বাধীনতার পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা থাকা অত্যন্ত জরুরি, এ কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। তিনি বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের দাসত্ব না করে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে খাতির না করার মানসিকতা ছিল বলেই চাপ সত্ত্বেও তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো খেলাপি ঋণ ২০ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছিলেন।
দেশের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ফরাসউদ্দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে তার তিন বছরের অভিজ্ঞতা এবং নানা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের চাকরিসূত্রে আর্থিক সচ্ছলতা থাকার কারণে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আর্থিক দাবি না থাকার ফলে তাকে কোনো অসাধু উপায়ে জড়াতে হয়নি। গভর্নর হিসেবে পাওয়া বেতনও তিনি নেননি, বরং তা দিয়ে দরিদ্র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য একটি আবর্তক বৃত্তি তহবিল গড়ে তুলেছিলেন।
খাতটির খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন সাবেক এই গভর্নর, তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পর্যন্ত প্রভাবশালী খেলাপি ঋণগ্রহীতার একটি তালিকা কাটার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও সুপারিশ এসেছিল। তবে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তিনি সেই ঋণ কাটতে অস্বীকৃতি জানান।
সংসদীয় কমিটি এবং নানা জায়গা থেকে তীব্র চাপ আসা সত্ত্বেও এবং তৎকালীন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার সঙ্গে মিলিতভাবে, তিনি শক্ত অবস্থানে থেকে প্রভাবশালী ঋণখেলাপির ঋণ সুবিধা বন্ধ রাখতে সক্ষম হন। এর ফলে, তার সময়ে খেলাপি ঋণ ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে ৪ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে।
তৎকালীন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ভূমিকার মূল্যায়ন করে প্রবীণ এই অর্থনীতিবিদ বলেছেন, দল নিরপেক্ষ অবস্থানে কাজ করতে গিয়ে কিবরিয়া সাহেব অত্যন্ত সাহসী ছিলেন, তবে পরবর্তী সময়ে দলীয় এমপি ও মন্ত্রী হয়ে কিছু ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখাতে বাধ্য হন। একজন সফল অর্থমন্ত্রী হতে গেলে অ্যাকাউন্টিংয়ের সাথে সাথে বড় রাজনৈতিক দর্শন ও ‘বৃহৎ কলিজা’ থাকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের শৃঙ্খলা ফেরাতে নেওয়া সংস্কারের উল্লেখ করে ফরাসউদ্দিন জানান, মেধাভিত্তিক নিয়োগে বিশেষ প্রণোদনা, মানিটারি পলিসিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ এবং ব্যাংক মালিকেরা যেন নিজ ব্যাংক থেকে ইচ্ছা অনুযায়ী লোন নিতে না পারেন—এ সংক্রান্ত কোম্পানি আইনের বিধান কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করেছিলেন তিনি।
তিনি আরও বলেছেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকা, ব্যক্তিগত সততা এবং ক্ষমতার কাছে নতিস্বীকার না করার মানসিকতাই ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ও আমূল পরিবর্তন আনতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ