প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশ রেলওয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় মালবাহী ওয়াগন এবং যাত্রীবাহী কোচের সংস্কারে বিপুল পরিমাণ ভারী ও খুচরা যন্ত্রাংশের প্রয়োজন হয়। যদিও কারখানাটিতে অধিকাংশ যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে, তবুও জনবল সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব এবং প্রয়োজনীয় সময়ে কাঁচামাল না পাওয়ার কারণে প্রতিবছর টেন্ডারের মাধ্যমে দেশীয় বাজার ও বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ খুচরা এবং ভারী যন্ত্রাংশ কিনতে হচ্ছে।
এ ফলে একদিকে সরকারের রাজস্ব ব্যয় বাড়ছে আর অন্যদিকে বাইরে থেকে সরবরাহ করা যন্ত্রাংশের গুণগত মান নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ।
কারখানার বিভিন্ন শপ ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ মিলরাইট শপে ২৯টি হালকা এবং ভারী মেশিন থাকলেও প্রায় সবগুলোই অচল হয়ে আছে দীর্ঘদিন। অযত্ন ও অবহেলার কারণে মেশিনগুলোর উপর ধুলাবালি জমছে এবং কোথাও কোথাও মাকড়সার জালও দেখা যাচ্ছে। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে প্রোডাকশন শপ, টুলরুম শপসহ অন্যান্য শপেও।
কারখানার দুটি উৎপাদন শপ, প্রোডাকশন শপ এবং টুলরুম শপে, মোট ১৪২টি মেশিনের মধ্যে মাত্র ৩৮টি সচল রয়েছে। বাকি মেশিনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা সূত্র জানায়, কারখানায় মোট ৭৭৯টি মেশিন রয়েছে। এর মধ্যে ৫৮২টি (৭৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ) কার্যক্ষম এবং ১৯৭টি (২৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ) অকার্যকর পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু উৎপাদনের সক্ষম অসংখ্য মেশিন দক্ষ কারিগরের অভাব এবং রক্ষণাবেক্ষণ সংকটের কারণে ব্যবহার না হওয়ায় অচল হয়ে পড়েছে।
কারখানার বিভিন্ন শপের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, বর্তমানে সচল ৫৮২টি মেশিন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের তুলনায় কারিগর মাত্র ১৪০ জন রয়েছে। দক্ষ কারিগরদের অভাবে অনেক মেশিন অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।
তারা আরও জানিয়েছে, অনুমোদিত জনবল নিয়োগ করা হলে বাইরের বাজার থেকে যন্ত্রাংশ কেনার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে। বর্তমানে কারখানায় বহু পুরোনো এবং মান্ধাতা আমলের মেশিনারিজ দিয়েই যন্ত্রাংশ উৎপাদন চলছে।
কারখানার মেশিনগুলোর বর্তমান বয়স বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১ থেকে ২০ বছর বয়সী ৮২টি, ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী ২০৭টি এবং ৫০ বছরের বেশি পুরোনো ৪৮২টি মেশিন ব্যবহৃত হচ্ছে। অথচ এসব মেশিন পরিচালনার জন্য মোট জনবল রয়েছে মাত্র ২০১ জন।
দক্ষ জনবল সংকট থাকার পরেও প্রত্যেক মাসে মালবাহী ওয়াগন এবং যাত্রীবাহী কোচ মিলিয়ে প্রায় ৮০টি রোলিং স্টকের সংস্কার করা হচ্ছে। এই কাজ নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত বিপুল সংখ্যক ভারী ও ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের প্রয়োজন হচ্ছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার উৎপাদন প্রকৌশলী মো. জাহিদ হাসান জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের পর থেকে চীন, ভারত এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানিকৃত কোচগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ তৈরিতে আধুনিক সিএনসি মেশিন রেলওয়ে কারখানায় নেই। এ কারণে এসব যন্ত্রাংশ এখানে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি দক্ষ মেশিনম্যানের সংকটও উৎপাদনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে কারখানায় প্রায় ৬৪৩ ধরনের খুচরা যন্ত্রাংশ উৎপাদন করা হচ্ছে, কিন্তু প্রতিবছর স্থানীয় বাজার থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের ২৫০ ধরনের খুচরা যন্ত্রাংশ কিনতে হয়।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ বলেছেন, কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট চলছে। প্রয়োজনীয় সময়ে কাঁচামাল পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া আধুনিক সিএনসি টাইপ মেশিনের অভাব রয়েছে। এসব কারণে বাধ্য হয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে কিছু খুচরা যন্ত্রাংশ কেনা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জনবল সংকট সমাধান হলে এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজিত হলে বাইরের উপর নির্ভরতা অনেকটা হ্রাস পাবে। ব্রিটিশ আমলের অস্থায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরিবর্তে স্থায়ী নিয়োগ পদ্ধতি চালু থাকলে দক্ষ শ্রমিক পাওয়া সহজ হবে। আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং নিয়মিত কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে রেলওয়ে কারখানার নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এতে সরকারের ব্যয় কমবে, বিদেশি নির্ভরতা কমবে এবং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রেলওয়ে কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন