বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:৪৫ পি.এম
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নে বাবাকে করাত দিয়ে হত্যাচেষ্টা করার ঘটনায়, পারিবারিক সহিংসতা ও মাদকাসক্তির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত মিরাজ আলী (২৪) নামের এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। এই সাথে তার বিরুদ্ধে ১০০ টাকা অর্থদণ্ডও আরোপ করা হয়েছে এবং অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সুলতানা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মিরাজ আলীর বিরুদ্ধে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বিশমনি গ্রামের মো. জাহিদুল ইসলাম তার ছেলে মিরাজ আলীর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এই অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন যে, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নেমেছে। একাধিকবার মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে পাঠানো হলেও ফিরে এসে পুনরায় মাদক সেবন করে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মাদক কেনার জন্য টাকা পাঠাতে না পারলে অভিযুক্ত বাড়ির মালামাল বিক্রি করে, গ্রামে বিভিন্ন বাড়িতে চুরি করার চেষ্টা করে এবং বাধা দিলে পরিবারের সদস্যদের মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পূর্বে গাঁজা বিক্রির অভিযোগে মিরাজ আলী দুইবার কারাভোগ করেছে। তার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তার স্ত্রী তালাক দিয়ে চলে গেছেন।
সর্বশেষ ২২ জুলাই, তার বাবা বাড়িতে অশান্তির সময় কারণ জানতে চাইলে মিরাজ আলী ঘর থেকে একটি করাত এনে বাবার গলায় ধরে খুনের চেষ্টা করে। এই সময় তার মা এগিয়ে এলে তাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে যায়। পরবর্তীতে তারা দৌড়ে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে শুনানির সময় মিরাজ আলী প্রকাশ্যে মাদক সেবনের বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপর তার বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় মাদক সেবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আলামত উদ্ধার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি, অভিযোগের বিবরণ এবং ঘটনার চিত্রের আলোকে আদালত তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাদক, পারিবারিক সহিংসতা এবং জনশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও খেলাপি ঋণ সামাল দেওয়ার জন্য গভর্নর বা নীতিনির্ধারকদের ব্যক্তিগতভাবে লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থাকা এবং আর্থিক স্বাধীনতার পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা থাকা অত্যন্ত জরুরি, এ কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। তিনি বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের দাসত্ব না করে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে খাতির না করার মানসিকতা ছিল বলেই চাপ সত্ত্বেও তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো খেলাপি ঋণ ২০ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছিলেন।
দেশের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ফরাসউদ্দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে তার তিন বছরের অভিজ্ঞতা এবং নানা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের চাকরিসূত্রে আর্থিক সচ্ছলতা থাকার কারণে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আর্থিক দাবি না থাকার ফলে তাকে কোনো অসাধু উপায়ে জড়াতে হয়নি। গভর্নর হিসেবে পাওয়া বেতনও তিনি নেননি, বরং তা দিয়ে দরিদ্র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য একটি আবর্তক বৃত্তি তহবিল গড়ে তুলেছিলেন।
খাতটির খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন সাবেক এই গভর্নর, তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পর্যন্ত প্রভাবশালী খেলাপি ঋণগ্রহীতার একটি তালিকা কাটার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও সুপারিশ এসেছিল। তবে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তিনি সেই ঋণ কাটতে অস্বীকৃতি জানান।
সংসদীয় কমিটি এবং নানা জায়গা থেকে তীব্র চাপ আসা সত্ত্বেও এবং তৎকালীন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার সঙ্গে মিলিতভাবে, তিনি শক্ত অবস্থানে থেকে প্রভাবশালী ঋণখেলাপির ঋণ সুবিধা বন্ধ রাখতে সক্ষম হন। এর ফলে, তার সময়ে খেলাপি ঋণ ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে ৪ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে।
তৎকালীন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ভূমিকার মূল্যায়ন করে প্রবীণ এই অর্থনীতিবিদ বলেছেন, দল নিরপেক্ষ অবস্থানে কাজ করতে গিয়ে কিবরিয়া সাহেব অত্যন্ত সাহসী ছিলেন, তবে পরবর্তী সময়ে দলীয় এমপি ও মন্ত্রী হয়ে কিছু ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখাতে বাধ্য হন। একজন সফল অর্থমন্ত্রী হতে গেলে অ্যাকাউন্টিংয়ের সাথে সাথে বড় রাজনৈতিক দর্শন ও ‘বৃহৎ কলিজা’ থাকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের শৃঙ্খলা ফেরাতে নেওয়া সংস্কারের উল্লেখ করে ফরাসউদ্দিন জানান, মেধাভিত্তিক নিয়োগে বিশেষ প্রণোদনা, মানিটারি পলিসিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ এবং ব্যাংক মালিকেরা যেন নিজ ব্যাংক থেকে ইচ্ছা অনুযায়ী লোন নিতে না পারেন—এ সংক্রান্ত কোম্পানি আইনের বিধান কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করেছিলেন তিনি।
তিনি আরও বলেছেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকা, ব্যক্তিগত সততা এবং ক্ষমতার কাছে নতিস্বীকার না করার মানসিকতাই ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ও আমূল পরিবর্তন আনতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) পরিচালিত এইচএসসি প্রোগ্রাম-২০২৬ এর পরীক্ষাগুলি পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে।
সারাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজ/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট ২১৬টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথম এবং দ্বিতীয় বর্ষে মোট ৪৭ হাজার ৪১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ২৭ হাজার ৭৯৬ জন পুরুষ এবং ১৯ হাজার ২৩৮ জন নারী।
প্রতি বছরের মতো এবছরও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া, বাউবি থেকে ভিজিল্যান্স টিম বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে উপস্থিত থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের জন্য স্থগিত হওয়া বাংলা ১ম পত্র এবং বাংলা ২য় পত্র বিষয়ক পরীক্ষার তারিখ পরবর্তীতে জানানো হবে। বাউবির ওয়েবসাইট www.bou.ac.bd থেকে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান চীনের প্রতি বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, তিনি দেশের প্রযুক্তিনির্ভর এবং শিল্প খাতে আরো বেশি চীনা বিনিয়োগের আহ্বানও জানান।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে গভর্নর এই আহ্বান জানান। এ সময় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-চীনের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ ও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।
বৈঠকে গভর্নর বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়নের লক্ষ্যে চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানি বাড়ানোর ওপর আরও গুরুত্বারোপ করতে হবে। এ সময় তিনি দেশে বাংলা কিউআর (বাংলা কিউআর) ব্যবস্থা বাস্তবায়নে চীনের ‘সিঙ্গেল কিউআর’ ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা এবং কারিগরি সহায়তা কামনা করেন।
চীনের রাষ্ট্রদূত যখন বিদেশি বিনিয়োগ আরও সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, গভর্নর জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে বিনিয়োগবান্ধব একাধিক নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগের ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজেই তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ও মুনাফা নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করতে পারছেন।
তিনি এসময় বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও উন্নত হচ্ছে এবং এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর এবং শিল্প খাতে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো যেতে পারে।
বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কাউন্সেলর সং ইয়াং ও অ্যাটাশে ওয়েন জিনহুয়া উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান এবং ডেপুটি গভর্নর মো. সরোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, জুলাই মাসের অভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক এবং আন্দোলনকে সফল করার ক্ষেত্রে এটি রূপান্তরের একটি পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আয়োজিত ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান 'জুলাই-২০২৪'-এ তিনি উল্লেখ করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গৌরবোজ্জ্বল অবদান এবং সকল শহীদ ও আহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে আয়োজিত স্মরণসভায় এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, আন্দোলনের সময় কিছু অংশের সরকার চেয়েছিল আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করতে, কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং অত্যাচার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে নিজেরাই রাজপথে নেমে আসেন।
তিনি আরও বলেন, ১৮ জুলাই রামপুরা এলাকায় ছয়জন শিক্ষার্থীর শহীদ হওয়া ঘটনা আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে যুক্ত হয়ে, ঐক্যবদ্ধভাবে দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটাতে সক্ষম হন।
তিনি বলেন, আমরা কোনো দিনই অন্য কোনো দেশের দাস হয়ে থাকব না। আমাদের আত্মমর্যাদা নিয়ে, বাংলাদেশি পরিচয় নিয়ে, আগামী দিনে রাষ্ট্র গড়ে তুলব এবং সামরিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক-ทุก দিক থেকে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো গড়ে তুলতে চাই।
ইশরাক হোসেন বলেন, জুলাইয়ের পুরো সময় আমি কারাগারে বন্দি ছিলাম। বাইরে থেকে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে জানতে পারি, ১৬ ও ১৭ জুলাই আন্দোলন দমনে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস দখলে নিয়েছিল। ঠিক সেই সময়ে, ১৮ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
কারাবন্দি জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, ২০ জুলাইয়ের পর বহু শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেওয়া হয় এবং তাদের অমানবিক পরিবেশে রাখা হয়েছিল। একটি ছোট কক্ষে পাঁচ-ছয়জনকে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে, কয়েক দিন পর্যন্ত পরিবারের সাথে যোগাযোগের সুযোগ কিংবা প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড় নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা মনোবল হারাননি।
তিনি বলেন, উত্তরা, রামপুরা, বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্র-জনতার ভূমিকা জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। যতবার জুলাই আসবে, ততবারই তাদের আত্মত্যাগ ও অবদান স্মরণ করা হবে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই চেতনায় যেকোনো আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সব সময় রুখে দাঁড়াবে। আয়তনে ছোট হলেও জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম দেশ, এটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কখনো অন্য কোনো দেশের দাস হয়ে থাকবে না।
ইশরাক হোসেন উল্লেখ করেন, তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং জানান, তার নিজের রাজনৈতিক উত্থানের পেছনেও তারেক রহমানের অবদান রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে তারেক রহমানের নির্দেশনা ও নেতৃত্বে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল, বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে অংশ নেন এবং আন্দোলনকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে ভূমিকা পালন করেন। ভবিষ্যতেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে তরুণদের সঙ্গে নিয়ে দেশের জন্য কাজ করে যাওয়া হবে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবু হোরায়রার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিবুল ইসলাম তালুকদারের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন– বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং জুলাই যোদ্ধা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ