ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কলাপাড়া পৌর শহর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি নজমুল, সম্পাদক রাসেল নির্বাচিত


কলাপাড়া পৌর শহর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি নজমুল, সম্পাদক রাসেল নির্বাচিত

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নির্বাচনে ১২৯৬ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নাজমুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সফিকুল ইসলাম পনির পেয়েছেন ৮১৮ ভোট। সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন সৈদয় মো. রাসেল, যিনি ১২০৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জহিরুল ইসলাম বাবু পেয়েছেন ৯০৪ ভোট। গত শুক্রবার রাত সাড়ে দশটায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্বাস আলী। শনিবার সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হয় ৮ টায় কলাপাড়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রে। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত। ২৩৯৩ ভোটারের মধ্যে ২১৪৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

এছাড়া নির্বাচনের অন্যান্য ৯ টি পদের মধ্যে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে রেহান উদ্দিন রেহান ১২২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। সহসভাপতি পদে রহিমুল হক হিরা ৮৯০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। যুগ্ন সাধারন সম্পাদক পদে আমানুল ইসলাম ১৪৬৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আকতার হোসেন তালুকদার ১১৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। অর্থ সম্পাদক পদে আবদুর রহমান ১৭২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে মোনাসেফ খান ১০৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ফরিদ উদ্দীন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন। সদস্য পদে জহিরুল ইসলাম ১১৬২ ভোট পেয়ে এবং আলমীর হোসেন ১০৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নির্বাচন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্বাস আলী বলেন, সকল ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় একটি অবাধ, সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেয়া হয়েছে। আগামী ৩ বছর এ কমিটি দায়িত্ব পালন করবে এবং আশা করি সমিতির উন্নয়নে এ কমিটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাউফলে ইউটিউবে মাদ্রাসার প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৫ এম


বাউফলে ইউটিউবে মাদ্রাসার প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস

বাউফল, পটুয়াখালীতে চলতি দাখিল (দশম শ্রেণি) প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার শুরুতে ইউটিউবজুড়ে বিভিন্ন নামকরা প্রকাশনীর লোগো ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ও বিশেষ সাজেশনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষভাবে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ‘আল ইমতেহান’, ‘লেকচার’ ও ‘দারসুন’সহ একাধিক পরিচিত প্রকাশনীর লোগো সংবলিত প্রশ্ন পরীক্ষার আগের দিনই ইন্টারনেটে প্রকাশ হচ্ছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগের দিন বিকেল বা রাত থেকে ইউটিউবে পাওয়া যাচ্ছে। ভিডিওতে প্রদর্শিত প্রশ্নপত্র পরীক্ষার হলে প্রাপ্ত মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে যাওয়ার প্রমাণও পাওয়া গেছে। এ কারণে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তা দেখা দিচ্ছে। অনুসন্ধানে এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যের অবিকল মিল পাওয়া গেছে। পরীক্ষার আগের দিন দুপুর বা বিকেল থেকে ইউটিউবে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার নাম লিখে সার্চ করলে ‘Dakhil Online Madrasah’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে চলতি বছরের ‘দাখিল দশম শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা ২০২৬’-এর প্রশ্নপত্র পাওয়া যাচ্ছে। ওই ইউটিউব চ্যানেলে ইংরেজি, বাংলা, গনিত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং কৃষি শিক্ষার বিভিন্ন বিষয়ের প্রশ্নপত্র নিয়ে ভিডিও আপলোড করা হয়েছে।

ভিডিওর থাম্বনেইলে বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে- ‘১০০% গ্যারান্টি পাস নিশ্চিত’, ‘প্রশ্ন হুবহু কমন..!!’, অথবা ‘পরীক্ষার আগের রাতেই দেখে নিন আসল প্রশ্ন’। বিশেষ করে ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের জুবায়ের নামের একজন ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, ‘আমার পরিচিত এক দশম শ্রেণির পরীক্ষার্থীর জন্য প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্ন পরীক্ষার আগের দিন বিকেলে ওই ইউটিউব চ্যানেল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরীক্ষা শেষে মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়, ইউটিউবে দেওয়া প্রশ্নের সঙ্গে হলের আসল প্রশ্নপত্রটি হুবহু মিল হয়েছে।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের অপতৎপরতা শিক্ষার্থীদের মেধা ধ্বংস করছে। পরীক্ষার আগের দিন ইউটিউব থেকে এসব প্রশ্নপত্র পাওয়া যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা বাদ দিয়ে শর্টকাট পথে ঝুঁকছে। তারা রাতে এসব প্রশ্ন মুখস্ত করে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে। এর ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে একটি ফাঁকিবাজ ও শর্টকাট নির্ভর মানসিকতা গড়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাউফলের একটি মাদ্রাসা শিক্ষক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পড়া বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার আগের দিন মোবাইলে কথিত প্রশ্ন খোঁজে। যেহেতু হলের প্রশ্নের সঙ্গে এগুলো মিল হচ্ছে, তাই শিক্ষার্থীরা প্রকৃত প্রস্তুতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এটি শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্যের পরিপন্থী এবং মেধা ধ্বংসের একটি নীরব সুনামি।’ সচেতন মহলের মতে, কোনো সুনির্দিষ্ট চক্র বা প্রকাশনী ব্যবসায়িক ফায়দা অথবা ইউটিউব থেকে ভিউ-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে পরীক্ষার গোপনীয় এই প্রশ্নপত্রগুলো আগেভাগে ফাঁস করছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি।

যদি সত্যিই পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়মিতভাবে ফাঁস হয়ে থাকে, তবে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাইবার ক্রাইম তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত তদন্ত এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মেধাবী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। এ ব্যাপারে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আকরাম খান বলেন, ‘আমার বিষয়টি জানা নেই। আপনি যদি সুনির্দিষ্ট করে তথ্য দেন অথবা ওই ইউটিউব চ্যানেলের লিংক দেন আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব। বিষয়টি সঠিক হলে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’ উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার নুর নবী বলেন, ‘আমি আপনার কাছ থেকে শুনলাম। নিয়ম হলো স্ব স্ব মাদ্রাসাগুলো নিজেদের প্রশ্নপত্র তৈরি করবে। কিন্তু তারা সমিতির মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের সেট কিনে আনে এবং সেগুলো দিয়ে পরীক্ষা নেয়। আমার ধারণা, সমিতি থেকে প্রশ্নগুলো ইউটিউবারদের কাছে চলে যেতে পারে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্লাস্টিকের আগ্রাসনে বিপন্ন পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ এম


প্লাস্টিকের আগ্রাসনে বিপন্ন পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর

একসময় বরগুনার বলেশ্বর, পায়রা ও বিষখালী নদী ছিল নানা প্রজাতির মাছের নিরাপদ আবাস। কিন্তু বর্তমানে নিয়ন্ত্রণহীন প্লাস্টিকদূষণের ভয়াবহ থাবায় বিপর্যস্ত হয়েছে এই তিন নদ-নদী। জেলা শহরসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের বাজারগুলো থেকে প্রতিদিন অপর্যাপ্তভাবে পলিথিন, থার্মোকল, কর্কশিট ও অন্যান্য বিভিন্ন প্লাস্টিক বর্জ্য নদী, খাল ও জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে।

এর ফলে নদীর পানি ও তলদেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং মাছের প্রাকৃতিক আবাস ও প্রজনন ক্ষেত্রে ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের পর প্লাস্টিকদূষণও বর্তমানে মৎস্যসম্পদের জন্য অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বরগুনার পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীতে এর বিরূপ প্রভাব ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জেলা প্রশাসনের তালতলী উপজেলার তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র-সংলগ্ন বড় অঙ্কুজানপাড়া এলাকায় দেখা যাচ্ছে, পলিথিনসহ বিভিন্ন প্লাস্টিকের বর্জ্য নদীর তীরে লেখা হয়েছে।

এখানে বর্জ্যের বিশাল স্তূপ তৈরি হওয়ায় তা নদীর পানিতে মিশে সাগরে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরের মোহনায় এসব প্লাস্টিক বর্জ্য আটকে নদীর নাব্যতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। সাগরের মোহনায় কিছু চর পড়ে জলজ প্রাণীর চলাচলেও বাধা তৈরি হচ্ছে। শুধু তালতলী উপজেলার বড় অঙ্কুজানপাড়া নয়, বরগুনা জেলার প্রায় সকল উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নের বাজারেও প্রতিদিন একই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। বাজারের পলিথিন, প্লাস্টিক, পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে পাশের নদী, খাল বা জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে দ্রুত নদীর পানি দূষিত হচ্ছে এবং জলজ পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, ফলে পরিবেশগত ঝুঁকিও বাড়ছে।

বরগুনা সদর পৌরসভায় বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ করা হলেও এটি এখনো পুরোপুরি চালু করা হয়নি। বাজার থেকে প্রতিদিন উৎপন্ন হওয়া বিশাল পরিমাণ বর্জ্যের একটি বড় অংশ নদীতীরে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে, গত বছর পাথরঘাটা পৌরসভা নদীতীরে বর্জ্য ফেলার ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কিছুদিন নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য অপসারণ করা হলেও ওই পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। পৌর এলাকার বাজার এবং মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে প্রতি দিন বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য—পলিথিন, কর্কশিট, থার্মোকল, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের থালাবাসন এবং নানা আবর্জনা বিষখালী নদী ও আশপাশের খালে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে অন্যদিকে নদী ও খালের পানি এবং জলজ পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে মাছের প্রজনন ও স্বাভাবিক বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং নদ-নদীর মৎস্যসম্পদ ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে।

সদর উপজেলার জেলে মো. সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‘প্রথমে মৌসুমে একবার জাল ফেললেই ভালো ইলিশ পাওয়া যেত। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদীতে থেকেও সেই পরিমাণ মাছ পাওয়া যায় না। জালে মাছের চেয়ে পলিথিনই বেশি ওঠে।’ একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন পাথরঘাটার জেলে আবদুল মালেক। তিনি বলেছেন, ‘নদীর অনেক জায়গায় প্লাস্টিক বর্জ্য ভাসতে দেখা যায়। এতে মাছের চলাচল ও আমাদের মাছ ধরার কাজে সমস্যা হয়। আয়ও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় এখনো খোলা জায়গায় বা নদীতীরে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা আছে। কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে প্লাস্টিক ও পলিথিনের বড় অংশ নদীতে গিয়ে পড়ছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল হক বলেছেন, ‘প্লাস্টিকদূষণ বর্তমানে নদী ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য অন্যতম বড় হুমকি। নদীতে ফেলা প্লাস্টিক ধীরে ধীরে ক্ষুদ্র কণায় (মাইক্রোপ্লাস্টিক) পরিণত হচ্ছে। এসব কণা প্ল্যাঙ্কটন, ছোট মাছসহ শেষ পর্যন্ত ইলিশ এবং বড় মাছের শরীরে প্রবেশ করে। এতে মাছের পরিপাকতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। দীর্ঘকাল মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শে থাকলে মাছের প্রজননক্ষমতাও কমে যেতে পারে।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) তাছলিমা আক্তার বলেন, ‘নদীতে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শুধু নদীর পরিবেশ নয়, মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং জনস্বাস্থ্যের জন্যও দীর্ঘমেয়াদি হুমকি সৃষ্টি করছে।’ তিনি বলেন, ‘পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নদী ও খালে বর্জ্য ফেলা বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যেখানে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তাছলিমা আক্তার আরও বলেন, ‘নদী রক্ষা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। সবাই সচেতন হলেই নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা আরও সহজ হবে এবং আমাদের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিকিৎসা শুধু পেশা নয়, মানবসেবার মহান দায়িত্ব: চিকিৎসকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০১ এম


চিকিৎসা শুধু পেশা নয়, মানবসেবার মহান দায়িত্ব: চিকিৎসকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল চিকিৎসকদের মানবিকতা, নৈতিকতা ও সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চিকিৎসা কেবল একটি পেশা নয়, এটি মানুষের জীবন রক্ষার সঙ্গে জড়িত একটি মহান দায়িত্ব। একই সঙ্গে তিনি রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমিয়ে সারা দেশে সমমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডিএমসি ডে ২০২৬’-এর উদ্বোধনের পর কলেজ অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, “চিকিৎসা শুধু একটি পেশা নয়, এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি মহান সেবা। রোগ নিরাময়ের পাশাপাশি মানবিকতা, নৈতিকতা ও সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।” পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, একজন চিকিৎসকের আন্তরিক আচরণ ও হাসিমুখে কথা বলা একজন রোগীর মানসিক শক্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই, ওষুধের পাশাপাশি রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল ও সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল আরও বলেন, মানুষের জন্য কাজ করার মধ্যেই প্রকৃত তৃপ্তি রয়েছে। চিকিৎসকদের শুধু পেশাগত দায়িত্ব পালন করলেই হবে না, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার মনোভাবও ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের মধ্যে মেডিকেল এথিকস ও নৈতিক মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

করোনা মহামারি, হাম পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক বন্যায় চিকিৎসকদের ভূমিকার প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগের সময় চিকিৎসকদের ছুটি উপেক্ষা করে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়েছে। চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় গভীর রাতেও চিকিৎসাসেবা দেওয়া তাদের পেশাগত দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল উদাহরণ।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে। পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোর আধুনিকায়নের কাজ আগামী মাস থেকে শুরু হবে।

তিনি জানান, “ঢাকার মানুষের মতো গ্রামের মানুষও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সমান অধিকার রাখে।” রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার ব্যবধান কমিয়ে সারা দেশে সমমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। তবে জনগণকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা বিলম্ব গ্রহণযোগ্য হবে না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ডা. জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও চিকিৎসকেরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতা, গুদামে পানি ঢুকে নষ্ট কোটি টাকার আমদানি পণ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৩ এম


টানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতা, গুদামে পানি ঢুকে নষ্ট কোটি টাকার আমদানি পণ্য

টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টির ফলে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বন্দরের একাধিক গুদাম ও শেডে হাঁটুপানি জমে গেছে এবং এতে আমদানি করা কোটি টাকার পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামোর কারণে প্রায় প্রতি বর্ষাতেই তাদের একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

বন্দর সূত্র জানায়, টানা বৃষ্টির ফলে বন্দরের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন পাঁচটি গুদাম ও শেডে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে বিভিন্ন ধরনের আমদানি পণ্য পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকদের দাবি, এতে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তবে এ ধরনের ক্ষতির জন্য কার্যকর কোনো ক্ষতিপূরণ তারা পান না।

যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টায় ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর থেকে শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত আরও ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এভাবে দুই দিনে মোট ২১৫ মিলিমিটার বৃষ্টির ফলে বন্দরের বিভিন্ন শেড ও গুদামে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

আমদানিকারক আল মামুন বলেন, “সামান্য বৃষ্টি হলেই বন্দরের বিভিন্ন গুদামে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় প্রতি বর্ষাতেই কোটি টাকার আমদানি পণ্য নষ্ট হয়।” তিনি আরও বলেন, পণ্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত সংরক্ষণ ফি বা ডেমারেজও দিতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল আমদানিকারকরা বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী মফিজুর রহমান সজনের অভিযোগ, “বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা অব্যবস্থাপনার কথা বলে আসলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয় না। পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে কমিটি করা হলেও তার কোনো কার্যকারিতা নেই। বীমা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কোনো ক্ষতিপূরণও পান না।”

বেনাপোল আমদানি ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আমিনুল হক বলেছেন, “সামান্য বৃষ্টিতেই বন্দর প্লাবিত হয়ে বিভিন্ন গুদামে থাকা আমদানি পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকার এই বন্দর থেকে বছরে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পায়। কিন্তু অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।” তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।

জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি জানান।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক কাজী রতন বলেন, “টানা বৃষ্টির ফলে কয়েকটি শেডে রাখা পণ্য পানিতে ভিজেছে। পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে অবিরাম বৃষ্টির কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।” তিনি জানান, বৃষ্টি কমলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা রোধে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%