০১:৫৫ এম
বাউফল, পটুয়াখালীতে চলতি দাখিল (দশম শ্রেণি) প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার শুরুতে ইউটিউবজুড়ে বিভিন্ন নামকরা প্রকাশনীর লোগো ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ও বিশেষ সাজেশনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষভাবে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ‘আল ইমতেহান’, ‘লেকচার’ ও ‘দারসুন’সহ একাধিক পরিচিত প্রকাশনীর লোগো সংবলিত প্রশ্ন পরীক্ষার আগের দিনই ইন্টারনেটে প্রকাশ হচ্ছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগের দিন বিকেল বা রাত থেকে ইউটিউবে পাওয়া যাচ্ছে। ভিডিওতে প্রদর্শিত প্রশ্নপত্র পরীক্ষার হলে প্রাপ্ত মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে যাওয়ার প্রমাণও পাওয়া গেছে। এ কারণে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তা দেখা দিচ্ছে। অনুসন্ধানে এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যের অবিকল মিল পাওয়া গেছে। পরীক্ষার আগের দিন দুপুর বা বিকেল থেকে ইউটিউবে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার নাম লিখে সার্চ করলে ‘Dakhil Online Madrasah’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে চলতি বছরের ‘দাখিল দশম শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা ২০২৬’-এর প্রশ্নপত্র পাওয়া যাচ্ছে। ওই ইউটিউব চ্যানেলে ইংরেজি, বাংলা, গনিত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং কৃষি শিক্ষার বিভিন্ন বিষয়ের প্রশ্নপত্র নিয়ে ভিডিও আপলোড করা হয়েছে।
ভিডিওর থাম্বনেইলে বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে- ‘১০০% গ্যারান্টি পাস নিশ্চিত’, ‘প্রশ্ন হুবহু কমন..!!’, অথবা ‘পরীক্ষার আগের রাতেই দেখে নিন আসল প্রশ্ন’। বিশেষ করে ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের জুবায়ের নামের একজন ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, ‘আমার পরিচিত এক দশম শ্রেণির পরীক্ষার্থীর জন্য প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্ন পরীক্ষার আগের দিন বিকেলে ওই ইউটিউব চ্যানেল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরীক্ষা শেষে মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়, ইউটিউবে দেওয়া প্রশ্নের সঙ্গে হলের আসল প্রশ্নপত্রটি হুবহু মিল হয়েছে।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের অপতৎপরতা শিক্ষার্থীদের মেধা ধ্বংস করছে। পরীক্ষার আগের দিন ইউটিউব থেকে এসব প্রশ্নপত্র পাওয়া যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা বাদ দিয়ে শর্টকাট পথে ঝুঁকছে। তারা রাতে এসব প্রশ্ন মুখস্ত করে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে। এর ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে একটি ফাঁকিবাজ ও শর্টকাট নির্ভর মানসিকতা গড়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাউফলের একটি মাদ্রাসা শিক্ষক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পড়া বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার আগের দিন মোবাইলে কথিত প্রশ্ন খোঁজে। যেহেতু হলের প্রশ্নের সঙ্গে এগুলো মিল হচ্ছে, তাই শিক্ষার্থীরা প্রকৃত প্রস্তুতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এটি শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্যের পরিপন্থী এবং মেধা ধ্বংসের একটি নীরব সুনামি।’ সচেতন মহলের মতে, কোনো সুনির্দিষ্ট চক্র বা প্রকাশনী ব্যবসায়িক ফায়দা অথবা ইউটিউব থেকে ভিউ-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে পরীক্ষার গোপনীয় এই প্রশ্নপত্রগুলো আগেভাগে ফাঁস করছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি।
যদি সত্যিই পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়মিতভাবে ফাঁস হয়ে থাকে, তবে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাইবার ক্রাইম তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত তদন্ত এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মেধাবী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। এ ব্যাপারে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আকরাম খান বলেন, ‘আমার বিষয়টি জানা নেই। আপনি যদি সুনির্দিষ্ট করে তথ্য দেন অথবা ওই ইউটিউব চ্যানেলের লিংক দেন আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব। বিষয়টি সঠিক হলে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’ উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার নুর নবী বলেন, ‘আমি আপনার কাছ থেকে শুনলাম। নিয়ম হলো স্ব স্ব মাদ্রাসাগুলো নিজেদের প্রশ্নপত্র তৈরি করবে। কিন্তু তারা সমিতির মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের সেট কিনে আনে এবং সেগুলো দিয়ে পরীক্ষা নেয়। আমার ধারণা, সমিতি থেকে প্রশ্নগুলো ইউটিউবারদের কাছে চলে যেতে পারে।’
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন