ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্লাস্টিকের আগ্রাসনে বিপন্ন পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর


প্লাস্টিকের আগ্রাসনে বিপন্ন পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর

একসময় বরগুনার বলেশ্বর, পায়রা ও বিষখালী নদী ছিল নানা প্রজাতির মাছের নিরাপদ আবাস। কিন্তু বর্তমানে নিয়ন্ত্রণহীন প্লাস্টিকদূষণের ভয়াবহ থাবায় বিপর্যস্ত হয়েছে এই তিন নদ-নদী। জেলা শহরসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের বাজারগুলো থেকে প্রতিদিন অপর্যাপ্তভাবে পলিথিন, থার্মোকল, কর্কশিট ও অন্যান্য বিভিন্ন প্লাস্টিক বর্জ্য নদী, খাল ও জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে।

এর ফলে নদীর পানি ও তলদেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং মাছের প্রাকৃতিক আবাস ও প্রজনন ক্ষেত্রে ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের পর প্লাস্টিকদূষণও বর্তমানে মৎস্যসম্পদের জন্য অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বরগুনার পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীতে এর বিরূপ প্রভাব ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জেলা প্রশাসনের তালতলী উপজেলার তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র-সংলগ্ন বড় অঙ্কুজানপাড়া এলাকায় দেখা যাচ্ছে, পলিথিনসহ বিভিন্ন প্লাস্টিকের বর্জ্য নদীর তীরে লেখা হয়েছে।

এখানে বর্জ্যের বিশাল স্তূপ তৈরি হওয়ায় তা নদীর পানিতে মিশে সাগরে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরের মোহনায় এসব প্লাস্টিক বর্জ্য আটকে নদীর নাব্যতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। সাগরের মোহনায় কিছু চর পড়ে জলজ প্রাণীর চলাচলেও বাধা তৈরি হচ্ছে। শুধু তালতলী উপজেলার বড় অঙ্কুজানপাড়া নয়, বরগুনা জেলার প্রায় সকল উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নের বাজারেও প্রতিদিন একই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। বাজারের পলিথিন, প্লাস্টিক, পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে পাশের নদী, খাল বা জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে দ্রুত নদীর পানি দূষিত হচ্ছে এবং জলজ পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, ফলে পরিবেশগত ঝুঁকিও বাড়ছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

বরগুনা সদর পৌরসভায় বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ করা হলেও এটি এখনো পুরোপুরি চালু করা হয়নি। বাজার থেকে প্রতিদিন উৎপন্ন হওয়া বিশাল পরিমাণ বর্জ্যের একটি বড় অংশ নদীতীরে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে, গত বছর পাথরঘাটা পৌরসভা নদীতীরে বর্জ্য ফেলার ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কিছুদিন নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য অপসারণ করা হলেও ওই পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। পৌর এলাকার বাজার এবং মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে প্রতি দিন বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য—পলিথিন, কর্কশিট, থার্মোকল, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের থালাবাসন এবং নানা আবর্জনা বিষখালী নদী ও আশপাশের খালে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে অন্যদিকে নদী ও খালের পানি এবং জলজ পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে মাছের প্রজনন ও স্বাভাবিক বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং নদ-নদীর মৎস্যসম্পদ ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে।

সদর উপজেলার জেলে মো. সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‘প্রথমে মৌসুমে একবার জাল ফেললেই ভালো ইলিশ পাওয়া যেত। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদীতে থেকেও সেই পরিমাণ মাছ পাওয়া যায় না। জালে মাছের চেয়ে পলিথিনই বেশি ওঠে।’ একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন পাথরঘাটার জেলে আবদুল মালেক। তিনি বলেছেন, ‘নদীর অনেক জায়গায় প্লাস্টিক বর্জ্য ভাসতে দেখা যায়। এতে মাছের চলাচল ও আমাদের মাছ ধরার কাজে সমস্যা হয়। আয়ও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় এখনো খোলা জায়গায় বা নদীতীরে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা আছে। কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে প্লাস্টিক ও পলিথিনের বড় অংশ নদীতে গিয়ে পড়ছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল হক বলেছেন, ‘প্লাস্টিকদূষণ বর্তমানে নদী ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য অন্যতম বড় হুমকি। নদীতে ফেলা প্লাস্টিক ধীরে ধীরে ক্ষুদ্র কণায় (মাইক্রোপ্লাস্টিক) পরিণত হচ্ছে। এসব কণা প্ল্যাঙ্কটন, ছোট মাছসহ শেষ পর্যন্ত ইলিশ এবং বড় মাছের শরীরে প্রবেশ করে। এতে মাছের পরিপাকতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। দীর্ঘকাল মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শে থাকলে মাছের প্রজননক্ষমতাও কমে যেতে পারে।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) তাছলিমা আক্তার বলেন, ‘নদীতে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শুধু নদীর পরিবেশ নয়, মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং জনস্বাস্থ্যের জন্যও দীর্ঘমেয়াদি হুমকি সৃষ্টি করছে।’ তিনি বলেন, ‘পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নদী ও খালে বর্জ্য ফেলা বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যেখানে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তাছলিমা আক্তার আরও বলেন, ‘নদী রক্ষা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। সবাই সচেতন হলেই নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা আরও সহজ হবে এবং আমাদের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিকিৎসা শুধু পেশা নয়, মানবসেবার মহান দায়িত্ব: চিকিৎসকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০১ এম


চিকিৎসা শুধু পেশা নয়, মানবসেবার মহান দায়িত্ব: চিকিৎসকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল চিকিৎসকদের মানবিকতা, নৈতিকতা ও সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চিকিৎসা কেবল একটি পেশা নয়, এটি মানুষের জীবন রক্ষার সঙ্গে জড়িত একটি মহান দায়িত্ব। একই সঙ্গে তিনি রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমিয়ে সারা দেশে সমমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডিএমসি ডে ২০২৬’-এর উদ্বোধনের পর কলেজ অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, “চিকিৎসা শুধু একটি পেশা নয়, এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি মহান সেবা। রোগ নিরাময়ের পাশাপাশি মানবিকতা, নৈতিকতা ও সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।” পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, একজন চিকিৎসকের আন্তরিক আচরণ ও হাসিমুখে কথা বলা একজন রোগীর মানসিক শক্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই, ওষুধের পাশাপাশি রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল ও সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল আরও বলেন, মানুষের জন্য কাজ করার মধ্যেই প্রকৃত তৃপ্তি রয়েছে। চিকিৎসকদের শুধু পেশাগত দায়িত্ব পালন করলেই হবে না, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার মনোভাবও ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের মধ্যে মেডিকেল এথিকস ও নৈতিক মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

করোনা মহামারি, হাম পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক বন্যায় চিকিৎসকদের ভূমিকার প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগের সময় চিকিৎসকদের ছুটি উপেক্ষা করে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়েছে। চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় গভীর রাতেও চিকিৎসাসেবা দেওয়া তাদের পেশাগত দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল উদাহরণ।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে। পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোর আধুনিকায়নের কাজ আগামী মাস থেকে শুরু হবে।

তিনি জানান, “ঢাকার মানুষের মতো গ্রামের মানুষও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সমান অধিকার রাখে।” রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার ব্যবধান কমিয়ে সারা দেশে সমমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। তবে জনগণকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা বিলম্ব গ্রহণযোগ্য হবে না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ডা. জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও চিকিৎসকেরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতা, গুদামে পানি ঢুকে নষ্ট কোটি টাকার আমদানি পণ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৩ এম


টানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতা, গুদামে পানি ঢুকে নষ্ট কোটি টাকার আমদানি পণ্য

টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টির ফলে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বন্দরের একাধিক গুদাম ও শেডে হাঁটুপানি জমে গেছে এবং এতে আমদানি করা কোটি টাকার পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামোর কারণে প্রায় প্রতি বর্ষাতেই তাদের একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

বন্দর সূত্র জানায়, টানা বৃষ্টির ফলে বন্দরের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন পাঁচটি গুদাম ও শেডে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে বিভিন্ন ধরনের আমদানি পণ্য পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকদের দাবি, এতে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তবে এ ধরনের ক্ষতির জন্য কার্যকর কোনো ক্ষতিপূরণ তারা পান না।

যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টায় ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর থেকে শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত আরও ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এভাবে দুই দিনে মোট ২১৫ মিলিমিটার বৃষ্টির ফলে বন্দরের বিভিন্ন শেড ও গুদামে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

আমদানিকারক আল মামুন বলেন, “সামান্য বৃষ্টি হলেই বন্দরের বিভিন্ন গুদামে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় প্রতি বর্ষাতেই কোটি টাকার আমদানি পণ্য নষ্ট হয়।” তিনি আরও বলেন, পণ্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত সংরক্ষণ ফি বা ডেমারেজও দিতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল আমদানিকারকরা বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী মফিজুর রহমান সজনের অভিযোগ, “বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা অব্যবস্থাপনার কথা বলে আসলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয় না। পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে কমিটি করা হলেও তার কোনো কার্যকারিতা নেই। বীমা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কোনো ক্ষতিপূরণও পান না।”

বেনাপোল আমদানি ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আমিনুল হক বলেছেন, “সামান্য বৃষ্টিতেই বন্দর প্লাবিত হয়ে বিভিন্ন গুদামে থাকা আমদানি পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকার এই বন্দর থেকে বছরে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পায়। কিন্তু অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।” তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।

জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি জানান।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক কাজী রতন বলেন, “টানা বৃষ্টির ফলে কয়েকটি শেডে রাখা পণ্য পানিতে ভিজেছে। পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে অবিরাম বৃষ্টির কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।” তিনি জানান, বৃষ্টি কমলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা রোধে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করার হুঁশিয়ারি শফিকুর রহমানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৫ এম


গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করার হুঁশিয়ারি শফিকুর রহমানের

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন যে, সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে। একই সঙ্গে তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধের দাবিসহ জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত চার দফা দাবির বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর করা, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবি জানানো হয়।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদেরকে বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে। আমরা জাতির সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না। জাতিকে কথা দিয়েছি, লড়াই করে গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব। এর থেকে এক চুলও সরব না।”

তিনি দাবি করেন, বৈষম্য দূর করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়েই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে গণভোটের পক্ষে অবস্থানের কথা বলা হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়নি।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, “নির্বাচনের আগে তিস্তা নিয়ে আন্দোলনের কথা বলা হয়েছিল। অথচ বর্তমান বাজেটে এ প্রকল্পের জন্য ১০ টাকারও বরাদ্দ নেই। আমরা কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে ১১ দল সরকার গঠন করতে পারলে এ দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সীমান্তে উত্তেজনা ও পুশইনের ঘটনায় জনগণ এবং বিজিবি একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট নয়। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান না নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রংপুরকে কৃষির রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শুধু ঘোষণা দিয়ে হবে না, এর জন্য মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন। আলুচাষিদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, হিমাগারে আলু সংরক্ষণে প্রতি বস্তায় ৬০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য বড় চাপ। এই ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

দ্রব্যমূল্য, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিষয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ মূল্যস্ফীতির চাপে কষ্টে থাকলেও দুর্নীতিবাজরা সেই কষ্ট অনুভব করে না। ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, “প্রধানমন্ত্রী হলেও দুর্নীতি করলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।”

দেশের সার্বভৌমত্য প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই দেশের এক ইঞ্চি জমিও কাউকে নিয়ন্ত্রণ করতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের মানুষই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ না করলে দেশ এখনও পাকিস্তান থাকত: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৮ এম


ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ না করলে দেশ এখনও পাকিস্তান থাকত: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন, "পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু না করলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না, বরং দেশ এখনও পাকিস্তানের অংশ হিসেবেই থেকে যেত।" তিনি পাশাপাশি দাবী করেছেন, মুক্তিযুদ্ধ কোন রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল গোটা বাঙালি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।

এই মন্তব্য তিনি শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকার মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে করেছেন।

স্পিকার এসময় বলেন, "ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট যদি ১৯৭১ সালে পাক বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু না করত, তাহলে এই দেশ এখনো পাকিস্তান থাকত।" তিনি আরও জানান, সে সময় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল। তারা আলাদাভাবে বিদ্রোহ করে জনগণকে সংগঠিত করে এবং মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি গড়ে তোলে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ নয়, বরং একটি জাতির যুদ্ধ। তার ভাষায়, "১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনতার যুদ্ধ। একটি জাতির যুদ্ধ।" তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক কারণে মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধরত বাহিনী ও যোদ্ধাদের অবদান যথাযথভাবে ইতিহাসে স্থান পায়নি।

আলোচনায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও বক্তব্য দেন স্পিকার। তিনি বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদ শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানি বাহিনীর সম্ভাব্য হামলার আগে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তবে শেখ মুজিবুর রহমান বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে চাননি এবং পাকিস্তান ভাঙার দায় নিজের ওপর নিতে রাজি ছিলেন না বলে স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

হাফিজ উদ্দিনের ভাষ্য, পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরু হওয়ার পর জনগণের জীবন ও সম্ভ্রম রক্ষায় ইস্ট বেঙ্গাল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ গড়ে তোলে। "এই সময় স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন মেজর জিয়াউর রহমান। এটি হলো প্রকৃত সত্য। যে ঘোষণায় জাতি উদ্দীপ্ত হয়েছে, অনুপ্রাণিত হয়েছে। হাজার হাজার ছাত্র-যুবক ঘরবাড়ি ছেড়ে যুদ্ধে অংশ নিতে এগিয়ে এসেছে।"

নিজের সেনাজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে স্পিকার জানান, সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার ছিল না। পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় থাকার সময় ফুটবল ফেডারেশনের তৎকালীন সেক্রেটারি মেজর মোহাম্মদ মালিক তাকে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে উৎসাহিত করেন। পরে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি কাকুলে প্রশিক্ষণের সময় তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের সঙ্গে পরিচয় হয় এবং তার অনুপ্রেরণায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, "আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি স্বাধীনতার মহান ঘোষক, এ দেশের মহান রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে, যিনি আমাকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। তার কথাতেই আমি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়েছি।"

মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বাস্তবতা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী কোনো সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়, পুরো বাঙালি জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়েছিল। আর এ কারণেই তাদের পরাজয় অনিবার্য হয়ে ওঠে।

তিনি আরও বলেন, আজও রাস্তায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কোনো সৈনিককে দেখলে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। "কিসের স্পিকার, কিসের প্রধানমন্ত্রী, কিসের রাষ্ট্রপতি। নাথিং লাইক ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। নাথিং লাইক বিইং এ সোলজার। এটা হলো আমার অনুভূতি।"

বক্তব্যে একাত্তরের যুদ্ধের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন স্পিকার। তিনি দাবী করেন, মুক্তিবাহিনী একক প্রচেষ্টায় সিলেট জেলা শহর দখল করেছিল এবং ১৫ ডিসেম্বর এমসি কলেজ এলাকায় সংঘটিত যুদ্ধে তিনি দুটি কোম্পানির নেতৃত্ব দেন। ওই যুদ্ধে তার কোম্পানির আটজন সদস্য শহীদ হন বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষদিকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবদান স্মরণ করে স্পিকার উপস্থিত সবার উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, "ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতায় গৌরবময় অবদান রেখেছে, এ কথাটি আপনারা কি স্বীকার করেন?" উপস্থিত অতিথিদের সম্মতিসূচক সাড়া পাওয়ার পর তিনি আরো বলেন, "আমার মনে হয়, হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%