মোঃ জাহিদ মিয়া নরসিংদী প্রতিনিধি
১০:৫৯ পি.এম
নরসিংদীতে বিজিবি সদস্য মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন টিটুর অকাল প্রয়াণের ফলে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি দেশের সীমান্ত পাহারায় নিবেদিতপ্রাণ এক বীর সন্তান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের দরগারবন গ্রামের গর্ব হিসেবে পরিচিত এই বিজিবি সদস্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। পরিবার সূত্রে জানা যায় যে, গত ২০ জুলাই হঠাৎ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (স্ট্রোক) হওয়ায় তাঁকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে দীর্ঘদিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকার পরে আজ আনুমানিক দুপুর ৩টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে দরগারবন গ্রামসহ গোটা এলাকা গভীর শোকের ছায়ায় নিমজ্জিত হয়েছে। ২১ বছর ধরে বিজিবি সদস্য হিসেবে পূর্বাপর দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি মেধা, সততা ও সাহসিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পেশাগত জীবনে তিনি দেশের সীমান্ত রক্ষা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষাকে সর্বদা অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কেবল একজন দায়িত্ববান সরকারি চাকুরিজীবী হিসেবেই নয়, তিনি এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ডেও ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদক ও অসৎ সঙ্গ থেকে দূরে রাখতে এবং ক্রীড়া ও সামাজিক কার্যক্রমে উৎসাহিত করতে তিনি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তরুণদের কাছে তিনি ছিলেন এক অনুপ্রেরণা ও প্রিয় অভিভাবক। সকল বয়সের মানুষের কাছে সোহরাব হোসেন টিটু ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় ও শ্রদ্ধাজন। তাঁর পরোপকারী মানসিকতা, নীতি-নৈতিকতা এবং বিনয়ী আচরণের জন্য তিনি সবার হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন। বিপদে-আপদে যেকোনো মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল তাঁর সহজাত স্বভাব। মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাকেরগঞ্জে একটি বাড়ির সামনে ঝোলানো চিপসের প্যাকেটে একটি বোমা সদৃশ বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়েছেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে প্রায় সাড়ে ৬টার দিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল মৌ ইউনিয়নের ভরপাশা গ্রামে এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে।
দগ্ধদের নাম হলো: হনুফা বেগম (৫৫), তার নাতি ফাহিম (১৪) এবং মেয়ে ইতি (১৯)। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধদের মধ্যে দুজনের শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের মুখমণ্ডল, হাত ও পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দগ্ধ ফাহিমের মামি ইসরাত জাহান জানান, বৃহস্পতিবার সকালে অসুস্থ ফাহিমকে নিয়ে হালকা ব্যায়াম করাতে ঘরের সামনে বের হন তার নানি হনুফা বেগম। এ সময়ে ঘরের বেড়ার সঙ্গে দড়িতে একটা চিপসের প্যাকেট ঝোলানো এবং ঠিক তার নিচে একটি নতুন বাজারের ব্যাগ রাখা ছিল। দুঃখবশত কৌতূহলবশত তা দেখতে ফাহিমের খালা ইতি এগিয়ে যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার পা পিছলে ইতি সোজা গিয়ে পড়ে ওই দড়িটির ওপর। স্পর্শের সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে চিপসের প্যাকেটটি ফেটে যায়। চোখের পলকে আগুন আর ধোঁয়ায় তিনজনই দগ্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, ফাহিমের খালু ও আহত ইতির স্বামী সুজন বলেন, ‘সকালে বিকট শব্দে আমার ঘুম ভেঙে যায়। ওই সময়ে ঘর থেকে দৌড়ে বাইরে বের হয়ে দেখি পুরো উঠান ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। ধোঁয়ার মধ্য থেকেই তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয় এবং তারপর সেখান থেকে তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ জেএম মোস্তাফিজুর রহমান এই বিষয়ে জানান, আলামত ও ঘটনার ধরন দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, চিপসের প্যাকেটের ভেতরে শক্তিশালী কোনো বিস্ফোরক বা বোমা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। অপরাধীদের শনাক্ত করতে এবং আলামত সংরক্ষণের জন্য এলাকাটি সিলগালা করে রাখা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে ঢাকা থেকে বোম ডিসপোজাল টিম রওয়ানা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরে শিশু সাব্বির হত্যা মামলায় আরফিন মোল্লা (৩৫) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (০৩ আগস্ট) বিকালে বিশেষ জজ আদালতের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শরিফ উদ্দিন এ আদেশ দেন।
রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরফিন মোল্লা পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলী এলাকায় ভাড়াটিয়া বাসায় বসবাস করতেন নাজমা বেগম ও তার ছেলে সাব্বির (১৪)। একই বাড়িতে আরফিন মোল্লা নামে এক যুবকও বসবাস করতেন।
আরফিন মোল্লা মাদকাসক্ত ছিলেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আরফিন মোল্লার বাসায় অভিযান চালায়। ওই সময় তিনি সন্দেহ করেন যে নাজমা বেগমের ছেলে সাব্বির পুলিশকে জানিয়েছে মাদক সেবনের বিষয়ে।
এরই জের ধরে ২০২০ সালের ১৭ আগস্ট সাব্বিরকে খাবার খাওয়ানোর কথা বলে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় আরফিন মোল্লা। এরপর ঝিলটুলী এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের ১২ তলায় নিয়ে গিয়ে সাব্বিরকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং মরদেহ ফেলে রেখে চলে আসে আরফিন মোল্লা।
পরদিন সকালে নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিকরা কাজ করতে গিয়ে মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের মা নাজমা বেগম এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ সাক্ষ্য ও শুনানি শেষে আদালতের বিচারক সোমবার বিকালে এ রায় ঘোষণা করেন।
এই বিষয়ে বিশেষ জজ আদালতের পিপি এস এম আজিজুর রহমান বিকু জানান, শিশু ছাব্বির হত্যা মামলায় আরফিন মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালতের বিচারক। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আরফিন মোল্লা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। এ রায় আমাদের সন্তুষ্ট করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গত পাঁচ মাসে একের পর এক কৌশল ব্যবহার করে ইরানকে ঘায়েল করার চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এসব কৌশল কোনোভাবেই কার্যকর হয়নি। এখন মার্কিন প্রশাসন, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর জন্য নতুন ও ব্যতিক্রমী কৌশল খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। খবরটি সিএনএনে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বিষয়টিতে অবগত কিছু সূত্রের মাধ্যমে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে সেন্টকমের গোয়েন্দা শাখার একজন কর্মকর্তা ই-মেইলের মাধ্যমে সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে ‘ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি ও শাস্তি দেওয়ার নতুন, সৃজনশীল এবং অপ্রচলিত উপায়’ প্রস্তাব চেয়েছেন।
সিএনএন উল্লেখ করে জানিয়েছে, ই-মেইলের মাধ্যমে এই ধরনের মতামত আহ্বান অস্বাভাবিক। এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে ইরানকে ওয়াশিংটনের শর্তে একটি চুক্তিতে রাজি করানোর সীমিত বিকল্পের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স এক বিবৃতিতে জানান, বাহিনীর কার্যক্রম আরও কার্যকরী করার জন্য সব স্তরের সদস্যদের কাছ থেকে নতুন ধারণা নেওয়ার দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘অ্যাডমিরাল কুপার বিশেষভাবে পদমর্যাদা নির্বিশেষে আমাদের দলের সদস্যদের কাছ থেকে মতামত নিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ের অপারেশনাল সক্ষমতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন।’
সিএনএলের প্রতিবেদনে আরও বলা হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) এবং ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) উভয়ই মূল্যায়ন করেছে যে, বর্তমান বোমা হামলা ইরানের আলোচনার অবস্থান পরিবর্তন করতে সক্ষম হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সাম্প্রতিক কিছু সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে তেহরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ কয়েকটি আরব দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে।
এই উত্তেজনা জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এবং চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে শুরু হওয়া আলোচনার পর থেকেই আরও বেড়ে যায়। পরে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুরের ফেসবুক পেজ, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ই-মেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, অজ্ঞাত পরিচয়ে এই হ্যাকিং চেষ্টা চলমান রয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে, তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফেসবুক পোস্টে গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা ও সরকারের প্রতিমন্ত্রী নিশ্চিত করে লেখেন, ‘বিভিন্ন নোটিফিকেশন থেকে দেখলাম গত ৩ দিন ধরে আমার ফেসবুক, What’s App ও ই-মেইল হ্যাক করার চেষ্টা চলছে।’
এর আগের একটি স্বতন্ত্র পোস্টে, তিনি নিজের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ‘আমার নাম ব্যবহার করে অনিয়ম, অপকর্ম করে পার পাবার সুযোগ নেই। দশমিনা এক্সপ্রেস নামে গলাচিপা, দশমিনা, বাউফল রুটে অনভিজ্ঞ চালক দিয়ে ফিটনেসবিহীন গাড়ি পরিচালনা করে যারা মানুষকে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তরা এদের বিরুদ্ধে মামলা করুন। এদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। বরং মামলা করলে আপনাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ