ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রক্তাক্ত ১৭ জুলাই: দেশজুড়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’-এর ঘোষণা


রক্তাক্ত ১৭ জুলাই: দেশজুড়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’-এর ঘোষণা

রক্তাক্ত ১৭ জুলাই গোটা দেশ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই দিনটি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো বন্ধ করে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করে সরকার ও তার পেটোয়া বাহিনী। একই সঙ্গে চলতে থাকে সরকারের হুমকি ও পুলিশি হামলা। পরদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সারা দেশে কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দেয়। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র এদিন দেশের মানুষের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সহায়তা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন। ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই, রাজপথে ওঠে প্রতিবাদের ঝড়। আগের সব দাবি ও চাওয়াকে ছাপিয়ে ভাইয়ের মৃত্যুর ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে ছাত্রসমাজ। নানা শ্রেণিপেশার মানুষ আসতে শুরু করে। কোটা বনাম মেধার দাবিকে ছাপিয়ে ভাই হত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথ তখন প্রকম্পিত। সকালের দিকে ‘রাজনীতিমুক্ত’ ঘোষণা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়কে। হামলার পাল্টা হামলার পর শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করে। এদিকে আন্দোলন দমাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বাসভবনে কয়েক দফা সিন্ডিকেট বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। রাত ছয়টার মধ্যে হল ত্যাগের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ১৭ জুলাই, সরকারি ছুটি থাকলেও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, বিক্ষোভ, মিছিল, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ চলতে থাকে। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিহতদের স্মরণে গায়েবানা জানাজার জন্য ঢাবির টিএসসিতে যাওয়ার সময় পুলিশের বাঁধার মুখে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। শহীদ মিনারসহ আশপাশের এলাকা তখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে চলমান সহিংসতার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব দায়ী বলে তৎকালীন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন। এর পর কিছু সময়ের জন্য ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। গ্রেফতার হন ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী। আন্দোলনকে অন্য খাতে নিতে একটি দল ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেন পুলিশের তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা মৌলিক মানবাধিকারের অধিকার।’ বাংলাদেশ সরকারের উচিত মানুষের এ অধিকার নিশ্চিত করা। সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কোটাবিরোধীদের আন্দোলনে সন্ত্রাসী কার্যক্রম কারা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে বের করা হবে বলে ঘোষণা দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কোনো অপশক্তির সঙ্গে আপস করা যাবে না। সারাদিন চলমান ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষের পর ১৮ জুলাই সারা দেশে কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ১৭ জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করেন জাতীয় যুবশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ। তিনি বলেন, ‘আজকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বিতাড়ি করে হল রক্ষা করা হয়। শুরুটা হয়েছিল বেগম রকেয় এবং হাজী মুহাম্মদ মহসীন হলে এবং পরে ধীরে ধীরে সমস্ত হলেই ছড়িয়ে পড়ে। তাদের বের করার পর ক্যাম্পাসটাকে খুবই হালকা মনে হয়েছিল, যেন মন ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম শহীদদের লাশ ক্যাম্পাসে নিয়ে আসতে। কিন্তু সেই সুযোগ আমাদের দেয়া হয়নি। হাসপাতাল এবং মর্গে মর্গে ঘুরেছি। আমরা গায়েবানা জানাজার সিদ্ধান্ত নিই। গায়েবানা জানাজার যখন ঘোষণা দিই, তখন আমি ডান দিকে দেখছিলাম ক্যাম্পাসের দুপাশে ফোর্স জমায়েত করা হচ্ছে।’ রিফাত বলেন, ‘জানাজা শেষ করে আমরা যখন কফিন মিছিল নিয়ে টিএসসির মাঝ দিয়ে যাই, তখন একপাশ থেকে টিএসসির দিকে আক্রমণ করা হয় এবং অপর দিক থেকে ভিসি চত্বরের দিক থেকে আক্রমণ করা হয়। সেই মুহূর্তে একটা রাবার বুলেট আমার হাতে এসে পড়ে।’ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত বলেন, ‘গায়েবানা জানাজা পড়ানোর জন্য আসার পথে নিউমার্কেট ও নিলক্ষেত মোড়ে আমাদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সেখানে আমাদের তিন-চারজন ভাই মারাত্মকভাবে আহত হয়। প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়েছিল, পরে রাবার বুলেট এরপর সরাসরি গুলিতে চলে গিয়েছিল তখনকার সময়ের ফ্যাসিস্ট পুলিশ লীগ।’ ঢাবির গণসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন বলেন, ‘যখন রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আবু সাঈদকে মেরে ফেলা হলো, এই দৃশ্য দেখার পরে আমাদের পক্ষে আসলেই আর থেমে থাকা সম্ভব হয়নি। ঘটনা সেদিন থেকে দ্রুত বদলাতে শুরু করে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘুষ না পেয়ে চাকরিচ্যুতির অভিযোগে রেলওয়ে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৪ পি.এম


ঘুষ না পেয়ে চাকরিচ্যুতির অভিযোগে রেলওয়ে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা

কিশোরগঞ্জ রেলওয়ের এক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, বেতনের টাকা থেকে মাসোহারা ও মোটা অঙ্কের চাঁদা না দেয়ায় এক গেটকিপারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার পর কিশোরগঞ্জ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুলহাসসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

অস্থায়ী গেটকিপার তৌফিকুর রহমান সামান্য বেতনে চাকরি করেন কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে। অভিযোগ রয়েছে, মাস শেষে বিভাগের অন্য দুই কর্মচারীর মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুলহাসকে ২ হাজার ২৫০ টাকা করে মাসোহারা দিতে হতো। তবে সম্প্রতি তার কাছে ৪ হাজার টাকা দাবি করা হয়, যা বেতন বাড়ানোর অজুহাতে বলা হয়। বাড়তি টাকা দিতে আপত্তি জানালে বিপত্তি বাধে।

তৌফিকুর রহমান জানান, ভৈরব-আঠারবাড়ী রুটে দায়িত্ব পালনকারী অন্য অস্থায়ী গেটকিপারদেরও প্রতি মাসে ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুলহাসকে টাকা দিতে হয়। একই বিভাগের হেড মিস্ত্রি উজ্জ্বল ও গেটকিপার সাদিকুরের মাধ্যমে এই মাসোহারার টাকা আদায় হয়ে থাকে।

তিনি আরও জানান, গত এপ্রিলে মাসিক চাঁদা বাড়িয়ে ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং আপত্তি জানানোর পর বিনা কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এমনকি চাকরি ফিরে পেতে অনুরোধ করলে ওই প্রকৌশলী তার কাছে আরও ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী গেটকিপার তৌফিকুর রহমান গত ১১ মে তিনজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করছে।

এদিকে, জানা গেছে, মামলা দায়েরের পর থেকে চাকরি হারানোর ভয় থাকা কারণে অন্যান্য গেটকিপাররা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এই বিষয়ে সত্য তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তৌফিকের স্ত্রী জেরীন।

অন্যদিকে, চাঁদা দাবি ও চাকরিচ্যুতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কিশোরগঞ্জ রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুলহাস। মামলাটি বিচারাধীন থাকায় এ সম্পর্কিত বিস্তারিত কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।

এদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে, কিশোরগঞ্জের পাশাপাশি নরসিংদী জেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন জুলহাস। এ কারণে তাকে কিশোরগঞ্জ অফিসে নিয়মিতভাবে পাওয়া যায় না।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ-ভৈরব রেলপথে মোট ৬৯ জন গেটকিপার কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে ১৩ জন অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্ষা এলেই প্রাণ ফিরে পায় ঘিওরের নৌকার হাট, বেচাকেনা ছাড়ায় ১০ লাখ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৫ পি.এম


বর্ষা এলেই প্রাণ ফিরে পায় ঘিওরের নৌকার হাট, বেচাকেনা ছাড়ায় ১০ লাখ টাকা

বর্ষায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে বেড়ে গেছে নৌকার চাহিদা। এই চাহিদা কেন্দ্র করে আবারও জমজমাট হয়ে উঠেছে মানিকগঞ্জের ঘিওরের প্রায় তিনশো বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট। তবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিযোগ রয়েছে, এত পুরোনো ও জনপ্রিয় হাট হওয়া সত্ত্বেও এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

প্রতি বার্ষিক বর্ষা মৌসুমে এই হাটে নৌকার কদর বেড়ে যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে জমজমাট বেচাকেনা। ছোট ছোট যানবাহনে করে চাহিদামতো ডিঙ্গি নৌকা আনা হয়। সাথে থাকেন কাঠমিস্ত্রি ও ব্যবসায়ীরা। নৌকার আকার ও মান অনুযায়ী দাম ৩ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

বর্তমানে ১০ হাত লম্বা ও আড়াই হাত প্রস্থের একটি নৌকার দাম ৭ হাজার টাকা। ১১ হাত লম্বা ও ৩ হাত প্রস্থের নৌকাও বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার টাকায়। ১৩ হাত লম্বা ও ৩ হাত প্রস্থের এক নৌকার দাম ৮ হাজার টাকা। আর ১৫ হাত লম্বা ও ৩ হাত প্রস্থের নৌকা বিক্রি হচ্ছে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকায়।

ক্রেতারা উল্লেখ করছেন, বর্ষায় পানি বাড়ার সাথে সাথে নৌকার দামও বেড়ে যায়। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার আলতাফ হোসেন বলেন, "কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে বাড়ির চারপাশে পানি জমে গেছে। নৌকা ছাড়া বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। কিন্তু নৌকার দাম অনেক বেশি হওয়ায় বিপাকে পড়েছি।"

দৌলতপুরের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, "বাড়ির পাশেই নদী। গরু-ছাগলের দেখাশোনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজের জন্য নৌকা প্রয়োজন। তাই বাধ্য হয়ে ৮ হাজার টাকা দিয়ে একটি নৌকা কিনেছি।"

শিবালয়ের জরিনা বেগমও একটি ডিঙ্গি নৌকা কিনেছেন। তবে তার অভিযোগ হলো, "প্রতি নৌকার দাম আগের তুলনায় ১ থেকে দেড় হাজার টাকা বেশি।"

অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, কাঠ, লোহাসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বেড়েছে। সাথে বেড়েছে কারিগরদের মজুরিও। ফলে নৌকার দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই।

দিন দিন ঘিওরের এই ঐতিহ্যবাহী হাটের পরিধি বাড়ছে। কিন্তু এখনো ড্রেনেজ, টিউবওয়েল ও টয়লেটের মতো মৌলিক সুবিধার অভাব রয়েছে। হাটের ইজারাদার মো. মনির উদ্দিন বলেন, "প্রতি বছর ডিঙ্গি নৌকার সংখ্যা বাড়ছে। তবে জায়গার সংকটের কারণে এখন ঈদগাহ ও কলেজ মাঠেও হাট বসাতে হচ্ছে। তবে ড্রেনেজ, টিউবওয়েল ও টয়লেটের অভাব দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।"

প্রতি বুধবার ঘিওরের এই নৌকার হাটে ৯ থেকে ১০ লাখ টাকার নৌকা কেনাবেচা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিরক্ষামন্ত্রী অপসারণের ঘোষণায় উত্তাল ইউক্রেন, বিক্ষোভের নেপথ্যে কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৬ পি.এম


প্রতিরক্ষামন্ত্রী অপসারণের ঘোষণায় উত্তাল ইউক্রেন, বিক্ষোভের নেপথ্যে কী?

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে অপসারণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সারা দিচ্ছেন শত শত মানুষ। রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নেমে তারা এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। সেনাপ্রধান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফকে বদলানোর প্রস্তাবে রাজি না হওয়াতেই দ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে বলে ফেদোরভ জানান। কিন্তু প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জেনারেল স্টাফের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল সমন্বয়হীনতা।

কিয়েভের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভকারীদের ভিড় জমে যায়। তারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সরানোর প্রতিবাদে স্লোগান দেন। একই ধরনের প্রতিবাদ দেখা যায় ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহরেও। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, যুদ্ধের এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ করে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ‘বড় ধরনের ভুল’ করেছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিখাইলো ফেদোরভ দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ, ড্রোনভিত্তিক যুদ্ধকৌশল, প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক সংস্কার এবং অস্ত্র সংগ্রহ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের জন্য তিনি ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের ড্রোন সক্ষমতা বাড়ানো এবং ক্রিমিয়ায় সাম্প্রতিক অভিযানের পেছনে তার মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলেও বিশ্লেষকরা মনে করেন।

ফেদোরভ জানান, তিনি সেনাপ্রধান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফকে বদলানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি, যার ফলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছিল। জেলেনস্কি যদিও এ বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জেনারেল স্টাফের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে সমন্বয়হীনতা চলছিল। নির্ধারিত জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি সচেতন বলে জানান প্রেসিডেন্ট।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের কৌশল এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পৌরসভা, তবু নাগরিক দুর্ভোগ অব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৭ পি.এম


১৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পৌরসভা, তবু নাগরিক দুর্ভোগ অব্যাহত

ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী মহেশপুর পৌরসভা জেলার সবচেয়ে পুরানো, কিন্তু নাগরিক সেবার মান নিয়ে বাসিন্দাদের ক্ষোভের শেষ নেই। বছরের পর বছর পৌরকর পরিশোধ করেও বাসিন্দাদের প্রতিদিন ভাঙাচোরা সড়ক, অকেজো সড়কবাতি, কাঁচা ও অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সুপেয় পানির সংকটে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

মহেশপুর পৌরসভা ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০০৪ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। বর্তমানে পৌরসভাটি প্রায় ২২ বর্গকিলোমিটার জায়গা জুড়ে রয়েছে এবং এখানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।

১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, 'এটি জেলার সবচেয়ে পুরানো পৌরসভা। অথচ নাগরিক সুবিধার দিক থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। পৌরসভার সামগ্রিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।'

পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও কোথাও সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিয়মিত হয়ে দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আমরা নিয়মিত পৌরকর দিচ্ছি। কিন্তু নাগরিক সুবিধা বলতে তেমন কিছুই পাচ্ছি না। রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে।'

মহেশপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা শারমিন সুলতানা বলেন, 'রাতে অনেক এলাকায় সড়কবাতি জ্বলে না। অন্ধকারে নারী ও শিশুদের চলাচলে নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।'

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর পৌরসভায় প্রায় ৩ হাজার সড়কবাতির প্রয়োজন হলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ২ হাজার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাতি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় রয়েছে। ফলে রাতের অন্ধকারে পৌর শহরের অনেক এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। এছাড়া সুপেয় পানির সংকট নিয়েও রয়েছে ব্যাপক অভিযোগ। অনেক এলাকায় যথেষ্ট পানি সরবরাহ না থাকায় বাসিন্দাদের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হচ্ছে। আধুনিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী।

মহেশপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, 'সেবার মানোন্নয়নে ইতোমধ্যে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সড়ক সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ, সড়কবাতি স্থাপন ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।' তিনি আশা প্রকাশ করেন যে প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটা কমে আসবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%