প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কিশোরগঞ্জ রেলওয়ের এক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, বেতনের টাকা থেকে মাসোহারা ও মোটা অঙ্কের চাঁদা না দেয়ায় এক গেটকিপারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার পর কিশোরগঞ্জ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুলহাসসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
অস্থায়ী গেটকিপার তৌফিকুর রহমান সামান্য বেতনে চাকরি করেন কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে। অভিযোগ রয়েছে, মাস শেষে বিভাগের অন্য দুই কর্মচারীর মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুলহাসকে ২ হাজার ২৫০ টাকা করে মাসোহারা দিতে হতো। তবে সম্প্রতি তার কাছে ৪ হাজার টাকা দাবি করা হয়, যা বেতন বাড়ানোর অজুহাতে বলা হয়। বাড়তি টাকা দিতে আপত্তি জানালে বিপত্তি বাধে।
তৌফিকুর রহমান জানান, ভৈরব-আঠারবাড়ী রুটে দায়িত্ব পালনকারী অন্য অস্থায়ী গেটকিপারদেরও প্রতি মাসে ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুলহাসকে টাকা দিতে হয়। একই বিভাগের হেড মিস্ত্রি উজ্জ্বল ও গেটকিপার সাদিকুরের মাধ্যমে এই মাসোহারার টাকা আদায় হয়ে থাকে।
তিনি আরও জানান, গত এপ্রিলে মাসিক চাঁদা বাড়িয়ে ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং আপত্তি জানানোর পর বিনা কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এমনকি চাকরি ফিরে পেতে অনুরোধ করলে ওই প্রকৌশলী তার কাছে আরও ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী গেটকিপার তৌফিকুর রহমান গত ১১ মে তিনজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করছে।
এদিকে, জানা গেছে, মামলা দায়েরের পর থেকে চাকরি হারানোর ভয় থাকা কারণে অন্যান্য গেটকিপাররা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এই বিষয়ে সত্য তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তৌফিকের স্ত্রী জেরীন।
অন্যদিকে, চাঁদা দাবি ও চাকরিচ্যুতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কিশোরগঞ্জ রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুলহাস। মামলাটি বিচারাধীন থাকায় এ সম্পর্কিত বিস্তারিত কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।
এদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে, কিশোরগঞ্জের পাশাপাশি নরসিংদী জেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন জুলহাস। এ কারণে তাকে কিশোরগঞ্জ অফিসে নিয়মিতভাবে পাওয়া যায় না।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ-ভৈরব রেলপথে মোট ৬৯ জন গেটকিপার কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে ১৩ জন অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন