প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রক্তাক্ত ১৭ জুলাই গোটা দেশ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই দিনটি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো বন্ধ করে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করে সরকার ও তার পেটোয়া বাহিনী। একই সঙ্গে চলতে থাকে সরকারের হুমকি ও পুলিশি হামলা। পরদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সারা দেশে কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দেয়। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র এদিন দেশের মানুষের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সহায়তা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন। ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই, রাজপথে ওঠে প্রতিবাদের ঝড়। আগের সব দাবি ও চাওয়াকে ছাপিয়ে ভাইয়ের মৃত্যুর ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে ছাত্রসমাজ। নানা শ্রেণিপেশার মানুষ আসতে শুরু করে। কোটা বনাম মেধার দাবিকে ছাপিয়ে ভাই হত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথ তখন প্রকম্পিত। সকালের দিকে ‘রাজনীতিমুক্ত’ ঘোষণা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়কে। হামলার পাল্টা হামলার পর শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করে। এদিকে আন্দোলন দমাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বাসভবনে কয়েক দফা সিন্ডিকেট বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। রাত ছয়টার মধ্যে হল ত্যাগের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ১৭ জুলাই, সরকারি ছুটি থাকলেও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, বিক্ষোভ, মিছিল, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ চলতে থাকে। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিহতদের স্মরণে গায়েবানা জানাজার জন্য ঢাবির টিএসসিতে যাওয়ার সময় পুলিশের বাঁধার মুখে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। শহীদ মিনারসহ আশপাশের এলাকা তখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে চলমান সহিংসতার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব দায়ী বলে তৎকালীন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন। এর পর কিছু সময়ের জন্য ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। গ্রেফতার হন ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী। আন্দোলনকে অন্য খাতে নিতে একটি দল ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেন পুলিশের তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা মৌলিক মানবাধিকারের অধিকার।’ বাংলাদেশ সরকারের উচিত মানুষের এ অধিকার নিশ্চিত করা। সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কোটাবিরোধীদের আন্দোলনে সন্ত্রাসী কার্যক্রম কারা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে বের করা হবে বলে ঘোষণা দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কোনো অপশক্তির সঙ্গে আপস করা যাবে না। সারাদিন চলমান ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষের পর ১৮ জুলাই সারা দেশে কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ১৭ জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করেন জাতীয় যুবশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ। তিনি বলেন, ‘আজকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বিতাড়ি করে হল রক্ষা করা হয়। শুরুটা হয়েছিল বেগম রকেয় এবং হাজী মুহাম্মদ মহসীন হলে এবং পরে ধীরে ধীরে সমস্ত হলেই ছড়িয়ে পড়ে। তাদের বের করার পর ক্যাম্পাসটাকে খুবই হালকা মনে হয়েছিল, যেন মন ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম শহীদদের লাশ ক্যাম্পাসে নিয়ে আসতে। কিন্তু সেই সুযোগ আমাদের দেয়া হয়নি। হাসপাতাল এবং মর্গে মর্গে ঘুরেছি। আমরা গায়েবানা জানাজার সিদ্ধান্ত নিই। গায়েবানা জানাজার যখন ঘোষণা দিই, তখন আমি ডান দিকে দেখছিলাম ক্যাম্পাসের দুপাশে ফোর্স জমায়েত করা হচ্ছে।’ রিফাত বলেন, ‘জানাজা শেষ করে আমরা যখন কফিন মিছিল নিয়ে টিএসসির মাঝ দিয়ে যাই, তখন একপাশ থেকে টিএসসির দিকে আক্রমণ করা হয় এবং অপর দিক থেকে ভিসি চত্বরের দিক থেকে আক্রমণ করা হয়। সেই মুহূর্তে একটা রাবার বুলেট আমার হাতে এসে পড়ে।’ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত বলেন, ‘গায়েবানা জানাজা পড়ানোর জন্য আসার পথে নিউমার্কেট ও নিলক্ষেত মোড়ে আমাদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সেখানে আমাদের তিন-চারজন ভাই মারাত্মকভাবে আহত হয়। প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়েছিল, পরে রাবার বুলেট এরপর সরাসরি গুলিতে চলে গিয়েছিল তখনকার সময়ের ফ্যাসিস্ট পুলিশ লীগ।’ ঢাবির গণসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন বলেন, ‘যখন রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আবু সাঈদকে মেরে ফেলা হলো, এই দৃশ্য দেখার পরে আমাদের পক্ষে আসলেই আর থেমে থাকা সম্ভব হয়নি। ঘটনা সেদিন থেকে দ্রুত বদলাতে শুরু করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন