প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী মহেশপুর পৌরসভা জেলার সবচেয়ে পুরানো, কিন্তু নাগরিক সেবার মান নিয়ে বাসিন্দাদের ক্ষোভের শেষ নেই। বছরের পর বছর পৌরকর পরিশোধ করেও বাসিন্দাদের প্রতিদিন ভাঙাচোরা সড়ক, অকেজো সড়কবাতি, কাঁচা ও অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সুপেয় পানির সংকটে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
মহেশপুর পৌরসভা ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০০৪ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। বর্তমানে পৌরসভাটি প্রায় ২২ বর্গকিলোমিটার জায়গা জুড়ে রয়েছে এবং এখানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।
১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, 'এটি জেলার সবচেয়ে পুরানো পৌরসভা। অথচ নাগরিক সুবিধার দিক থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। পৌরসভার সামগ্রিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।'
পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও কোথাও সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিয়মিত হয়ে দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আমরা নিয়মিত পৌরকর দিচ্ছি। কিন্তু নাগরিক সুবিধা বলতে তেমন কিছুই পাচ্ছি না। রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে।'
মহেশপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা শারমিন সুলতানা বলেন, 'রাতে অনেক এলাকায় সড়কবাতি জ্বলে না। অন্ধকারে নারী ও শিশুদের চলাচলে নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।'
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর পৌরসভায় প্রায় ৩ হাজার সড়কবাতির প্রয়োজন হলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ২ হাজার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাতি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় রয়েছে। ফলে রাতের অন্ধকারে পৌর শহরের অনেক এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। এছাড়া সুপেয় পানির সংকট নিয়েও রয়েছে ব্যাপক অভিযোগ। অনেক এলাকায় যথেষ্ট পানি সরবরাহ না থাকায় বাসিন্দাদের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হচ্ছে। আধুনিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী।
মহেশপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, 'সেবার মানোন্নয়নে ইতোমধ্যে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সড়ক সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ, সড়কবাতি স্থাপন ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।' তিনি আশা প্রকাশ করেন যে প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটা কমে আসবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন