বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:০০ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ সামরিক হামলার পর, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইরাকে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর একাধিক ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলার পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লিখিত হয়েছে যে, বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রিন্স খালিদের গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে সফরটি পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল। তিনি ওয়াশিংটনে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান করেন এবং বৈঠকের পর ভ্যান্সের সঙ্গে আলোচনা সেরে দেশটি ত্যাগ করেন।
সূত্রগুলোর মতে, এই বৈঠকে ভ্যান্স এবং প্রিন্স খালিদ যৌথ হামলা, সৌদি অবকাঠামোর ওপর হামলার জবাব এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ ছাড়া সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একটি বিশেষ বার্তা তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভ্যান্সের কাছে পৌঁছে দেন। আরেকটি সূত্র সিএনএনকে জানায়, চলমান যুদ্ধের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের অবস্থান তুলে ধরার জন্যই এই সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের মূল্যায়ন হলো—ইরান উত্তেজনা বাড়িয়ে কৌশলগত সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করবে। এ জন্য ইরাকের ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া ও ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীকে ব্যবহার অব্যাহত রাখতে পারে। সৌদি আরবের মতে, তাদের সামরিক প্রতিক্রিয়ার উদ্দেশ্য ছিল বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলাকে ‘লাল রেখা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, যার জবাব দেয়া হবে। তবে একই সঙ্গে রিয়াদ এখনও উত্তেজনা কমিয়ে আনার পক্ষেই রয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের বার্তা ছিল যে, এটি ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর যুদ্ধ নয় এবং তাদের এই সংঘাতে জড়ানো উচিৎ নয়।
রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলায় পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) নামের গোষ্ঠীটির অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত হন এবং ৩০ জনের বেশি আহত হন। একই সময়ে, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে ইরান, যার জন্য ইরানকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
এদিকে, বুধাবার রাতে মিশরের দামিয়েত্তা বন্দরের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে একটি গ্যাস সংরক্ষণ ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এতে জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং পরে সেই আগুন পাশের আরেকটি গ্যাসবাহী জাহাজেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রে জানিয়েছে, বুধবার (২৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ ট্যাংকার এনারগোস উইন্টার-এ একটি ড্রোন আঘাত হানে। হামলার পর জাহাজে আগুন লাগে এবং তা পরে গ্যাসলগ সালেম নামের আরেকটি জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে।
বন্দরসেবা প্রতিষ্ঠান ইঞ্চকেপ পৃথক এক বার্তায় জানিয়েছে, দামিয়েত্তা বন্দরে দুটি গ্যাসবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীও সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে এর আগে মিশর ইরান-সংশ্লিষ্ট কোনো ড্রোন হামলার শিকার হয়নি বলে জানা গেছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন, আল জাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের বাজারে বর্তমানে সোনা বিক্রির ক্ষেত্রে ভালো মানের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট সোনার গহনার দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস), যা দেশে সোনা ও রুপার দাম নির্ধারণ করে, ২৮ জুলাই সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর করেছে। পরবর্তীতে কোনো নতুন ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই দামেই সোনা ও রূপার গহনা দেশের বাজারে বিক্রি হতে থাকবে।
বাজুসের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম হচ্ছে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা। একই ভাবে, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনাও বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকায়।
অন্যদিকে, রুপার ক্ষেত্রেও নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনার দাম ৪ হাজার ৬০৭ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। ২১ ক্যারেটের রুপার প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৩ হাজার ৯৭১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, এসব দাম আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য এবং দেশীয় পরিস্থিতি কে বিবেচনায় রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কোনো মূল্য ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে এই মূল্য কার্যকর থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনের শ্যানডং প্রদেশের দুটি শীর্ষ ব্যাংক এবং একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির চলমান আর্থিক জটিলতা কাটিয়ে তাড়াতাড়ি নির্মাণকাজ সমাপ্ত করার লক্ষ্যে সেতু বিভাগের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর।
বৃহspaতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদারের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (এফডিইই)-এর শেয়ার হস্তান্তরের বৈধতা সংক্রান্ত আইনগত জটিলতার কারণে সিঙ্গাপুরে সালিশি কার্যক্রম (আরবিট্রেশন) চলছে। এই কারণে গত দুবছরের অধিক সময় ধরে প্রকল্পে অর্থায়নকারী দুটি চীনা ব্যাংকের ঋণের কিস্তি ছাড় বন্ধ রয়েছে। তবে, এই সময়ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পের কাজ চালিয়ে এসেছে।
এ অবস্থায় ২৯ জুলাই সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সঙ্গে তার অফিসে চীনের শ্যানডং প্রদেশের দুটি ব্যাংক এবং একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে প্রকল্পের বিকল্প অর্থায়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের সময় সেতু সচিব উল্লেখ করেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আংশিক অংশ চালু হওয়ার পর প্রত্যাশার চেয়ে অধিক যানবাহন চলাচল করছে। পুরো এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে বিনিয়োগ করা অর্থ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।
সভায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) আলতাফ হোসেন সেখ, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী এ এইচ এম এস আকতার এবং চীনা প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মহেশখালীতে অবস্থিত এলএনজি (এলএনজি) টার্মিনালগুলোতে কারিগরি ত্রুটির কারণে রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ প্রতিদিন প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) হ্রাস পাওয়া গেছে। এর ফলে, তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় যে সব গ্রাহক রয়েছে, তাদের আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজিসহ সব ধরনের গ্রাহকের জন্য তীব্র গ্যাসের স্বল্পচাপের পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে বলে আঁচ করা হচ্ছে, এই বিষয়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড জানিয়ে দেয়, মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনালগুলোর কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে আরএলএনজি সরবরাহ কমে প্রায় ৫৫০ এমএমসিএফডি হয়ে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত, তিতাস গ্যাসের অধিভুক্ত সব শ্রেণির গ্রাহকরা প্রান্তে তীব্র স্বল্পচাপের সম্মুখীন হবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া অবধি গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধা চলতে থাকবে। এ কারণে, গ্রাহকদের কাছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।
অপরদিকে, গ্যাস সরবরাহের এই হ্রাসের ফলে রাজধানী এবং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন অঞ্চলের বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে বিঘ্ন ঘটছে। অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে, স্বাভাবিকভাবে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। একইসাথে, শিল্পকারখানার উৎপাদনে প্রভাব পড়ছে এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতেও গ্যাস সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের ওপর অতিনির্ভরতা কমানোর উদ্দেশ্যে রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্য নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফরজে)’ প্রকল্পটি দেশের অন্যতম সফল শিল্পোন্নয়ন উদ্যোগ হয়ে উঠেছে। এই প্রকল্পটির মাধ্যমে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, প্লাস্টিক এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছে। এদিকে, প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার নতুন ও শোভন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে এবং বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) অর্থায়নে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০১৭ সালের জুলাইয়ে এই প্রকল্পটি শুরু করে। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে, রপ্তানি বহুমুখীকরণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং তাই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি চালু হওয়ার সময়, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আগত ছিল তৈরি পোশাক খাত থেকে, যা অর্থনীতিকে একটি নির্দিষ্ট খাতের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীল করে তুলেছিল।
এ প্রেক্ষাপটে সম্ভাবনাময় চারটি উৎপাদন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার, উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর, এবং নতুন রপ্তানি বাজারে প্রবেশের সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই ইসিফরজে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান জানান, প্রকল্পটি প্রায় সব প্রধান কর্মপরিচালনা সূচকেই নির্ধারিত লক্ষ্য ছাড়িয়েছে এবং একটি টেকসই ভিত্তি তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদে শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পের উদ্দেশ্য শুধু রপ্তানি বৃদ্ধি নয়, বরং বাংলাদেশি শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য সক্ষম করে মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাও। প্রকল্পের ফলাফল প্রমাণ করে যে, রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দিলে শিল্পখাতের রূপান্তর উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত হতে পারে।
আব্দুর রহমান জানান, প্রকল্পের অন্যতম কার্যকর উদ্যোগ ছিল ‘এক্সপোর্ট রেডিনেস ফান্ড (ইআরএফ)’। এই ম্যাচিং গ্রান্ট কর্মসূচির আওতায় নারী উদ্যোক্তাপ্রতিষ্ঠানসহ ৫৭০টি প্রতিষ্ঠান আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা পেয়েছে। এসব সহায়তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানেরা পরিবেশ, সামাজিক ও গুণগত মান (ইএসকিউ) সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ, দক্ষতা উন্নয়ন, উৎপাদনব্যবস্থার আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক সনদ অর্জন, এবং নতুন বিদেশি বাজারে প্রবেশের সক্ষমতা অর্জন করেছে।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, উপকারভোগী প্রতিষ্ঠানগুলো ২৬০টি আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স সনদ অর্জন করেছে। একই সঙ্গে ইআরএফের মাধ্যমে বেসরকারি খাত থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি সহ-অর্থায়ন (কো-ইনভেস্টমেন্ট) এসেছে, যা সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি অতিরিক্ত বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করেছে।
প্রকল্পের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি ৫৯ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান ২২টি নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করেছে।
প্রকল্প শুরুর আগে উপকারভোগী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রপ্তানিকারকের হার ছিল ৫৯ শতাংশ, যা বেড়ে ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে, তাদের গড় রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে ১৯২ শতাংশ।
এছাড়া, ৭৩টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানকে ১৪টি আন্তর্জাতিক সোর্সিং প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, শিল্প অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নেও বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে ইসিফরজে প্রকল্প। এর আওতায়, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লাস্টিকস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বিআইপিইটি) সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বর্তমানে শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এছাড়া, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাংলাদেশ হাইটেক সিটিতে সেন্টার অব এক্সেলেন্স ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (সিইইটি) এবং গাজীপুরের কাশিমপুরে ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার ফর লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার (ডিটিসিএলএফ)-এর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।
ভবিষ্যৎ শিল্পায়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে বিসিক কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে প্রস্তাবিত ইনস্টিটিউট অব জেনারেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (আইজিইটি) এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এনএসইজেড) প্রস্তাবিত ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জেনারেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (আইআইজিইটি)-এর জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও সাইট উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক জানান, এসব প্রতিষ্ঠান রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য উন্নত প্রযুক্তিসেবা, পণ্য উন্নয়ন, পরীক্ষাগার সুবিধা এবং দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং কমপ্লায়েন্স বিষয়ক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রকল্পটি সরাসরি ১ লাখ ৭ হাজারের বেশি মানুষকে উপকৃত করেছে। তাদের মধ্যে ৩৮ শতাংশই নারী।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার নতুন ও শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজারের প্রায় তিন গুণ।
বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন তুলে ধরে আব্দুর রহমান বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার এবং বেসরকারি খাতের সফল অংশীদারিত্বের একটি উদাহরণ হিসেবে ইসিফরজে প্রকল্পের কথা উল্লেখ করা হয়েছে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা দ্বারা।
বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রকল্পের আওতাভুক্ত তৈরি পোশাকবহির্ভূত খাতগুলোর রপ্তানি প্রায় ৮৩ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পটির অন্যতম উদ্ভাবনী দিক ছিল অনুদান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি। একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের সংস্থা আন্তর্জাতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে উপকারভোগী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকি, এবং নির্ধারিত অগ্রগতি যাচাইয়ের ভিত্তিতে অর্থ ছাড়ের কাজ পরিচালনা করেছে। এর ফলে একদিকে জবাবদিহি নিশ্চিত হয়েছে, অন্যদিকে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগও উৎসাহিত হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক বলেছে, আর্থিক প্রণোদনার পাশাপাশি কারিগরি সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন ও সচেতনতার কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলি ক্রমেই বৈশ্বিক মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হতে পারে। ইসিফরজে প্রকল্পের সাফল্য তা প্রমাণ করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ