প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ সামরিক হামলার পর, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইরাকে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর একাধিক ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলার পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লিখিত হয়েছে যে, বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রিন্স খালিদের গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে সফরটি পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল। তিনি ওয়াশিংটনে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান করেন এবং বৈঠকের পর ভ্যান্সের সঙ্গে আলোচনা সেরে দেশটি ত্যাগ করেন।
সূত্রগুলোর মতে, এই বৈঠকে ভ্যান্স এবং প্রিন্স খালিদ যৌথ হামলা, সৌদি অবকাঠামোর ওপর হামলার জবাব এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ ছাড়া সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একটি বিশেষ বার্তা তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভ্যান্সের কাছে পৌঁছে দেন। আরেকটি সূত্র সিএনএনকে জানায়, চলমান যুদ্ধের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের অবস্থান তুলে ধরার জন্যই এই সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের মূল্যায়ন হলো—ইরান উত্তেজনা বাড়িয়ে কৌশলগত সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করবে। এ জন্য ইরাকের ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া ও ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীকে ব্যবহার অব্যাহত রাখতে পারে। সৌদি আরবের মতে, তাদের সামরিক প্রতিক্রিয়ার উদ্দেশ্য ছিল বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলাকে ‘লাল রেখা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, যার জবাব দেয়া হবে। তবে একই সঙ্গে রিয়াদ এখনও উত্তেজনা কমিয়ে আনার পক্ষেই রয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের বার্তা ছিল যে, এটি ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর যুদ্ধ নয় এবং তাদের এই সংঘাতে জড়ানো উচিৎ নয়।
রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলায় পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) নামের গোষ্ঠীটির অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত হন এবং ৩০ জনের বেশি আহত হন। একই সময়ে, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে ইরান, যার জন্য ইরানকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
এদিকে, বুধাবার রাতে মিশরের দামিয়েত্তা বন্দরের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে একটি গ্যাস সংরক্ষণ ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এতে জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং পরে সেই আগুন পাশের আরেকটি গ্যাসবাহী জাহাজেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রে জানিয়েছে, বুধবার (২৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ ট্যাংকার এনারগোস উইন্টার-এ একটি ড্রোন আঘাত হানে। হামলার পর জাহাজে আগুন লাগে এবং তা পরে গ্যাসলগ সালেম নামের আরেকটি জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে।
বন্দরসেবা প্রতিষ্ঠান ইঞ্চকেপ পৃথক এক বার্তায় জানিয়েছে, দামিয়েত্তা বন্দরে দুটি গ্যাসবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীও সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে এর আগে মিশর ইরান-সংশ্লিষ্ট কোনো ড্রোন হামলার শিকার হয়নি বলে জানা গেছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন, আল জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন