বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:০৪ পি.এম
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় এক আসামির মৃত্যুর গুজব নিয়ে থানায় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় লোকজনসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে। হামলার ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ ফকির (২৭) নামে একজন যুবককে মাদক মামলায় বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাকে আগৈলঝাড়া থানার হাজতে রাখা হয়।
থানা হেফাজতের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাতের দিকে হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ নিজের মাথা গারদের লোহার গ্রীলের সাথে আঘাত করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ওই রাতেই তাকে অজ্ঞান অবস্থায় প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) বিকেলে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে, তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানার সামনে জড়ো হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে থানার ভেতরে প্রবেশ করে বিক্ষোভ ও হামলার ঘটনা ঘটে।
এ সময়, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিম, কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল-আমিন হোসেন এবং মেহেদী হাসান আহত হন। আহতদের মধ্যে এএসআই আব্দুল হালিমকে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম, বোন শারমিন আক্তার, মমতাজ বেগমসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং কিছু আহত ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।
রিয়াজ ফকিরের পরিবারের অভিযোগ, তাকে অন্যায়ভাবে আটক করে নির্যাতন করা হয়েছে। তার মা নাছরিন বেগম ও বাবা সিদ্দিক ফকির দাবী করেন, তাদের ছেলেকে মারধর করার কারণে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খাঁন বলেন, রিয়াজ ফকিরকে গত বছরের ১৬ মে মাদকসহ আটক করা হয়েছিল। ওই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে, তাকে গ্রেফতার করে থানার হাজতে রাখা হয়। ওই রাতে রিয়াজ নিজেই হাজতখানার লোহার গ্রীলে আঘাত করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে একদল লোক থানায় হামলা চালায় এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে আহত করে।
ওসি আরও জানান, 'পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।'
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তার ডিসি হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে।
এর আগে, গত ২৮ জুন কুমিল্লার ডিসি মু. রেজা হাসানকে সিলেটের ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার যোগদান হয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নজরুল বর্ষ উপলক্ষে হবিগঞ্জে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি ও নজরুল সঙ্গীতের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৬টায় হবিগঞ্জ সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে স্থানীয় সুরবিতানে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এই আলোচনা সভাটি সভাপতিত্ব করেছেন হবিগঞ্জ সাহিত্য পরিষদের সভাপতি তাহমিনা বেগম গিনি, এবং এর বিস্তারিত কার্যক্রম পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এম এ ওয়াহিদ। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মঈনুল হক।
এছাড়া, বিশেষ অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার গোলাম মোস্তফা রফিক, জেলা কালচারার অফিসার অসীত বরন দাশ গুপ্ত।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ সরকারি বৃন্দাবন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ইলিয়াস বখত চৌধুরী জালাল, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও কবি জাহানারা আফসর, সিনিয়র সাংবাদিক মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল, বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. জমির আলীসহ আরও অনেকেই। পরে শিল্পীরা কবিতা আবৃত্তি ও নজরুল সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতি মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
জেলায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা জানান, আগামী এক মাস মাদক ও জুয়া মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কোনো আসামির পক্ষে আদালতে জামিন আবেদন বা আইনি সহায়তা প্রদান করবেন না জেলার আইনজীবীরা।
আজ সকালে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এ সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর ঘোষিত 'আলোকিত লালমনিরহাট' কর্মসূচির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
মাদক ও জুয়ার বিস্তার রোধ এবং যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হলো।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট কে. এম. হুমায়ুন কবীর স্বপন বলেন, ‘মাদক ও জুয়া শুধুমাত্র একজন ব্যক্তিকে নয়, এটি একটি পরিবার এবং পুরো সমাজকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। এ অবস্থায় সামাজিক প্রতিরোধ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আইনজীবী সমাজও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।’
সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ‘এটি একটি সামাজিক বার্তা।
মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে জেলা আইনজীবী সমিতির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য যে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর নেতৃত্বে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে গত ৪ জুলাই থেকে জেলায় মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ ও যৌতুকসহ চারটি সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক আন্দোলন শুরু হয়েছে। সেই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতি এ কর্মসূচি ঘোষণা করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে ভবিষ্যতে শুধুমাত্র সিটি বাসের টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার করা হবে এমনটি জানিয়েছেন দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম। অন্যদিকে, আন্তঃজেলা বাসগুলোর পর্যায়ক্রমে কাঁচপুরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে এবং উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি গুলিস্তানের বাস টার্মিনালও নদীর ওপারে স্থানান্তরের পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনা করেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, সায়েদাবাদ একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল হওয়া সত্ত্বেও এটি দীর্ঘ সময় ধরে নির্ধারিত উদ্দেশ্যের জন্য ব্যবহার করা হয়নি। যাত্রীদের ওঠানামার কেন্দ্র হওয়ার পরিবর্তে এটি কেবল বাসের গ্যারেজ ও ডাম্পিং স্টেশনে রূপান্তরিত হয়েছে। একটি টার্মিনালের মূল উদ্দেশ্য হলো দূরপাল্লার যাত্রীদের ওঠানামার সুবিধা দেওয়া।
তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, টার্মিনালটি পরিষ্কার ও সুশৃঙ্খল রাখতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রতিটি পরিবহন কোম্পানি সর্বোচ্চ একটি বা দুটি বাস টার্মিনালের ভেতরে অপেক্ষা করার অনুমতি পাবে। তার চেয়ে বেশি বাস রাখা যাবে না। যান চলাচল আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য টার্মিনালে তিনটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের একান্ত অনুরোধে চলতি মাসের ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এরপর নির্ধারিত টার্মিনাল ছাড়া অন্য কোথাও বাস থামিয়ে যাত্রীদের ওঠানামা করতে দেওয়া হবে না।
আবদুস সালাম আরও বলেন, রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ছাড়া পরিচ্ছন্ন এবং বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এই লক্ষ্য পূরণে পরিবহন মালিক এবং শ্রমিকদের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক করা হয়েছে এবং তারা সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছেন।
তিনি জানান, টার্মিনালের বিভিন্ন সুবিধা উন্নত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের জন্য একটি পৃথক স্থান নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
টার্মিনালের ভেতরে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করার কথাও উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রথমে সব দোকান সরিয়ে নিতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে নিয়মের মধ্যে হকার ও ভেন্ডরদের জন্য নির্ধারিত স্থান বরাদ্দ দেওয়া হবে।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত অভিযানে কাউকে জরিমানা করা হয়নি। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টার্মিনাল পুরোপুরি শৃঙ্খলায় না এলে মোবাইল কোর্টের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবদুস সালাম বলেন, এবারের মতো আর অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। সায়েদাবাদ টার্মিনালকে পুরোপুরি শৃঙ্খলের আওতায় আনা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সায়েদাবাদকে শুধু সিটি বাসের টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার, আন্তঃজেলা বাস কাঁচপুরে স্থানান্তর এবং গুলিস্তানের বাস টার্মিনাল নদীর ওপারে স্থাপন করা হলে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ