প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে ভবিষ্যতে শুধুমাত্র সিটি বাসের টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার করা হবে এমনটি জানিয়েছেন দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম। অন্যদিকে, আন্তঃজেলা বাসগুলোর পর্যায়ক্রমে কাঁচপুরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে এবং উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি গুলিস্তানের বাস টার্মিনালও নদীর ওপারে স্থানান্তরের পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনা করেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, সায়েদাবাদ একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল হওয়া সত্ত্বেও এটি দীর্ঘ সময় ধরে নির্ধারিত উদ্দেশ্যের জন্য ব্যবহার করা হয়নি। যাত্রীদের ওঠানামার কেন্দ্র হওয়ার পরিবর্তে এটি কেবল বাসের গ্যারেজ ও ডাম্পিং স্টেশনে রূপান্তরিত হয়েছে। একটি টার্মিনালের মূল উদ্দেশ্য হলো দূরপাল্লার যাত্রীদের ওঠানামার সুবিধা দেওয়া।
তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, টার্মিনালটি পরিষ্কার ও সুশৃঙ্খল রাখতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রতিটি পরিবহন কোম্পানি সর্বোচ্চ একটি বা দুটি বাস টার্মিনালের ভেতরে অপেক্ষা করার অনুমতি পাবে। তার চেয়ে বেশি বাস রাখা যাবে না। যান চলাচল আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য টার্মিনালে তিনটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের একান্ত অনুরোধে চলতি মাসের ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এরপর নির্ধারিত টার্মিনাল ছাড়া অন্য কোথাও বাস থামিয়ে যাত্রীদের ওঠানামা করতে দেওয়া হবে না।
আবদুস সালাম আরও বলেন, রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ছাড়া পরিচ্ছন্ন এবং বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এই লক্ষ্য পূরণে পরিবহন মালিক এবং শ্রমিকদের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক করা হয়েছে এবং তারা সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছেন।
তিনি জানান, টার্মিনালের বিভিন্ন সুবিধা উন্নত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের জন্য একটি পৃথক স্থান নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
টার্মিনালের ভেতরে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করার কথাও উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রথমে সব দোকান সরিয়ে নিতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে নিয়মের মধ্যে হকার ও ভেন্ডরদের জন্য নির্ধারিত স্থান বরাদ্দ দেওয়া হবে।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত অভিযানে কাউকে জরিমানা করা হয়নি। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টার্মিনাল পুরোপুরি শৃঙ্খলায় না এলে মোবাইল কোর্টের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবদুস সালাম বলেন, এবারের মতো আর অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। সায়েদাবাদ টার্মিনালকে পুরোপুরি শৃঙ্খলের আওতায় আনা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সায়েদাবাদকে শুধু সিটি বাসের টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার, আন্তঃজেলা বাস কাঁচপুরে স্থানান্তর এবং গুলিস্তানের বাস টার্মিনাল নদীর ওপারে স্থাপন করা হলে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন