ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কৈশোর পেরোতেই পিতৃত্বের স্বাদ, ১৯ বছর বয়সে বাবা হচ্ছেন এনদ্রিক


কৈশোর পেরোতেই পিতৃত্বের স্বাদ, ১৯ বছর বয়সে বাবা হচ্ছেন এনদ্রিক

ফুটবল ছাপিয়ে এক নতুন সুখবর নিয়ে ব্যক্তিগত জীবনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ ব্রাজিলিয়ান সেনসেশন এনদ্রিক। মাত্র ১৯ বছর বয়সে বাবা হতে চলেছেন তিনি। স্ত্রী গ্যাব্রিয়েলি মিরান্দাকে নিয়ে এনদ্রিক নিজের জীবনের নতুন এক অধ্যায় শুরু করার অপেক্ষায় রয়েছেন।

সম্প্রতি ব্রাজিলের সাও পাওলোতে এক জাঁকজমকপূর্ণ বেবি শাওয়ারের আয়োজন করেছিলেন এই তারকা দম্পতি।

আকাশি ও সাদা ফুলের স্নিগ্ধ সাজসজ্জায় মোড়ানো সেই অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো সন্তানের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন এনদ্রিক এবং গ্যাব্রিয়েলি। তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, তাদের ঘরে আসতে যাওয়া পুত্রসন্তানের নাম রাখা হয়েছে ‘কেনদ্রিক’ নাম।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

সন্তানের এই নাম প্রকাশের পর থেকেই নেট দুনিয়ায় এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ ‘কেনদ্রিক’ নামটি শুনলেই বিশ্বখ্যাত মার্কিন র‌্যাপার কেনদ্রিক লামারের মুখ মনে পড়ে। রেকর্ডসংখ্যক ২৭টি গ্র্যামি পুরস্কারজয়ী এই সংগীতশিল্পীর বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা রয়েছে।

তবে এই নামটির পেছনে আমেরিকান কোনো তারকার অনুপ্রেরণা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে দম্পতি এখনও মুখ খোলেননি। তবুও ক্রীড়াঙ্গন ও হিপ-হপ সংস্কৃতির এই নামের মিল নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে।

এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগময় পোস্টের মাধ্যমে গ্যাব্রিয়েলি প্রথম সন্তান আসার বার্তাটি ভক্তদের জানিয়েছেন।

নিজেদের পোষ্য দুই কুকুরসহ হবু সন্তানকে নিয়ে তারা পাঁচজন লিখে সেই পোস্টটি বেশ সাড়া ফেলেছিল। পরবর্তীতে তারা নিশ্চিত করেন যে, তাদের কোল আলো করে আসছে পুত্রসন্তান।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাইট্রোজেনবাহী ট্রাক উল্টে গ্যাস লিক, মহাসড়ক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২৬ পি.এম


নাইট্রোজেনবাহী ট্রাক উল্টে গ্যাস লিক, মহাসড়ক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নাটোর-ঢাকা মহাসড়কের শ্রীরামপুর তরমুজ পেট্রোল পাম্প এলাকায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (নাইট্রোজেন) বহনকারী একটি ট্রাক উল্টে যাওয়ার ফলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকে থাকা নাইট্রোজেন সংরক্ষণ ট্যাংকার থেকে গ্যাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার জুড়ে সাদা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এবং মহাসড়কের পথচারীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে ১০টার দিকে নাটোর-ঢাকা মহাসড়কের শ্রীরামপুর তরমুজ পাম্প সংলগ্ন এলাকায় নাইট্রোজেনবাহী ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। ট্রাকটি উল্টানোর পর বিকট শব্দে সিলিন্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হলে গ্যাস লিক হতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই গ্যাস বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে এবং সাদা ঘন কুয়াশার মতো ধোঁয়ায় এই এলাকা ঢেকে যায়।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিউল আলম জানান, ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয়রা নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। পরে হাইওয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে এবং যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করে।

তিনি আরও জানান, ট্রাকটিতে গরু, ছাগল ও মহিষের প্রজননের বীজ নাইট্রোজেন গ্যাসের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা ছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় আটটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২৮ পি.এম


খুলনায় আটটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে

খুলনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে নগরীর লবণচরা থানার সাচিবুনিয়া বাজারের বন্ধু চার্জিং পয়েন্ট থেকে ৭টি মোটরসাইকেল এবং যমুনা চার্জিং পয়েন্ট থেকে ১টিসহ মোট ৮টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

এই ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার নেতৃত্বে লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেনের সহযোগিতায় পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় লবণচরা থানার সাচিবুনিয়া বাজারের বন্ধু চার্জিং পয়েন্ট থেকে ৭টি মোটরসাইকেল এবং যমুনা চার্জিং পয়েন্ট থেকে ১টি মোটরসাইকেলসহ সর্বমোট ৮টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলগুলোর মালিকানা সম্পর্কে চার্জিং পয়েন্ট বা গ্যারেজের মালিক সন্তোষজনক কোনো তথ্য বা বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি।

সহকারী এই পুলিশ কমিশনার আরও জানান, এসব মোটরসাইকেল বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে অথবা এগুলো দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি হয়ে থাকতে পারে। এটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলগুলো বর্তমানে লবণচরা থানা হেফাজতে রয়েছে। এই প্রসঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন ধর্মেন্দ্র প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২৯ পি.এম


ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন ধর্মেন্দ্র প্রধান

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।

তেলাপোকা জনতা পার্টি এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা আলোচনার শুরু কিছুকাল আগে, তিনি তার এক্স হ্যান্ডেলে এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দিল্লির জন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি ও কেন্দ্রের মধ্যে আলোচনা অচলাবস্থায় ছিল। সকালে ভারতের প্রধান বিচারপতি স্পষ্টভাবে জানান যে, সরকার ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে অস্বীকার করলে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।

প্রধানের পদত্যাগের ফলে সরকার বিক্ষোভকারীদের সব দাবি পূরণ করেছে। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবিগুলো ছিল- ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

এর আগে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) কেন্দ্র প্রধান বিচারপতিকে শেষের দুটি দাবির বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিল, তবে পদত্যাগের দাবির বিষয়ে সরকার নীরব ছিল।

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে দেওয়া তার পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন: ‘আমি এই দেশের যুবকদের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি এবং ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করি। ভারতের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণ করাই আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নৈতিক সংকল্প। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে জাতির সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

এদিকে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর পৌঁছানোর পরপরই যন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থলে উল্লাস ফেটে পড়ে। পদত্যাগের খবরের প্রতিক্রিয়ায় সিজেপি মন্তব্য করেছে: ‘ছাত্রশক্তির জয় হোক।’

যন্তর মন্তরের মঞ্চ থেকে প্রধানের পদত্যাগের খবর ঘোষণা করে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘আমরা এটা করে দেখিয়েছি।’

তারা বলেন, এই সরকারে কেউ পদত্যাগ করে না। কিন্তু আমরা তা করে দেখিয়েছি।

গত কয়েক দিন ধরে দেশজুড়ে কয়েক ডজন শহরে ছড়িয়ে পড়া ছাত্র বিক্ষোভ একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে বিরোধী দলগুলো এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরকারকে কোণঠাসা করে ফেলেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধামরাইয়ে আলোচিত ৩ খুনের ঘটনায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ পি.এম


ধামরাইয়ে আলোচিত ৩ খুনের ঘটনায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

এক বছর আগে ঢাকার ধামরাইয়ে নারগিস বেগম ও তার দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর খাবারে বিষক্রিয়ার কথা প্রকাশ পায়। এই কারণে মামলাটি অপমৃত্যুর হিসেবে সমস্যামূলক হয়। কিন্তু একটি নতুন তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তার মনে সংশয় সৃষ্টি হয়। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে এই হত্যা মামলা প্রকাশ্যে আসে। বর্তমানে নারগিসের মেয়ের স্বামী মো. রবিন আসামি হয়ে বিচারাধীন রয়েছে।

রবিন (২২) বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তিনি বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১৪ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনজুর রহমান ঢাকার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। মামলাটি এখন ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘরজামাই রবিন শ্বশুরবাড়ির ডেকোরেটারের ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। তবে তার শাশুড়ির ব্যবসাটি বিক্রি করে দেওয়ার কারণে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শুরুতে এই মামলার কোনো ক্লু ছিল না। রবিন অত্যন্ত সুকৌশলে বিষয়টি চালাচ্ছিলেন। মূলত একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে পুরো হত্যাকাণ্ডের রহস্য সামনে আসে।

২০২৫ সালের ২ জুন দিবাগত রাতে ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে মৃত রাজা মিয়ার স্ত্রী নারগিস (৪২) এবং তার দুই ছেলে মো. শামীম (১৭) ও সোলাইমানের (৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নারগিসের মেয়ে নাসরিন আক্তার সে সময় জানিয়েছিলেন, ঘরের ভেতরে বিছানার ওপর কাঁথা জড়ানো অবস্থায় ছিল তার মা ও ভাইয়ের মরদেহ। নারগিসের পরিবার তখন ধারণা দিয়েছিল খাবারে বিষক্রিয়াই এই মৃত্যুর কারণ।

এছাড়া সম্পত্তির বিরোধের কারণে শ্বশুরবাড়ির লোকজন খাবারে বিষ মিশিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছিল। নাসরিনের স্বামী রবিনও তখন এই দাবি করেছিলেন। তিনি জানান, রাতে ডিম-ভাত কিংবা জুসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তিনজনকে মারা হয়েছে।

পুলিশ প্রথমে খাবারে বিষক্রিয়ার সন্দেহে সেদিন অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন। কিন্তু দুই দিন পর ৪ জুন মামলার তদন্তভার নেন ঢাকা জেলা পিবিআই কর্মকর্তা মনজুর রহমান।

তদন্ত শুরু করে মনজুর রহমান জানতে পারেন, সেদিন রবিন ও তার স্ত্রী-সন্তানও নারগিসের বাড়িতে রাতের খাবার খেয়েছিলেন। তখন তার মনে প্রশ্ন ওঠে, একই খাবার খেয়ে কেউ মারা গেলেন, আবার কেউ বেঁচে থাকলেন কীভাবে?

মনজুর রহমান জানান, শুরু থেকেই বিষক্রিয়ার তত্ত্ব বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। মোবাইল ফোনের অবস্থান, ঘটনাস্থলের আলামত, জব্দ করা মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর রবিনকে সন্দেহের তালিকায় আনা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, সন্ধ্যা রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে রবিন নিজ বাড়িতে ফিরে যান। কিন্তু তার মুঠোফোনের অবস্থান বিশ্লেষণ করে জানা যায়, রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে তিনি আবার শ্বশুরবাড়িতে যান।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে শ্বশুরবাড়ি ছাড়ার পর গভীর রাতে রবিনের ঘটনাস্থলে উপস্থিতির তথ্যই তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায়।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, রবিন শাশুড়িকে কোনো হিসাব দিতেন না। তাই শাশুড়ি তাকে না জানিয়ে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ব্যবসাটি বিক্রি করে দেন। এ কারণেই রবিন খুব ক্ষুব্ধ হন এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে চলে যান।

সালিশে ব্যবসা বিক্রির টাকা নিয়ে রবিনের স্ত্রী নাসরিনের সঙ্গে তার মায়ের কথোপকথন হয়। এর ফলে শাশুড়ির প্রতি রবিনের ক্ষোভ আরও বাড়ে। রাতে খেয়ে স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও মধ্যরাতে আবার শ্বশুরবাড়িতে ফেরেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রবিন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, সে প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শ্বশুরবাড়ির লোকদের নিয়ে তার সঙ্গে বড় শ্যালক শামীমের মাঝে ঝগড়া ছিল। তাই সকলের ওপর তার ক্ষোভ ছিল।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঘরজামাই রবিন শ্বশুরবাড়ির ডেকোরেটর ব্যবসা দেখাশোনা করতেন এবং তার প্রতিশোধ নিতেই শাশুড়ি ও শ্যালকদের হত্যা করেন রবিন।

সে জানিয়েছে, গভীর রাতে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রথমে বড় শ্যালক শামীমের মুখে বালিশ চেপে ধরতে গিয়ে তাকে হত্যা করে। পরে একই কায়দায় শাশুড়ি নারগিস ও সোলাইমানকে হত্যা করে। তিনজনের মরদেহ একই খাটের উপর কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখে, যাতে মনে হয় তারা ঘুমিয়ে আছেন।

রবিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত কর্মকর্তা দুটি বালিশ এবং মুঠোফোন উদ্ধারের কথা জানান।

রবিনের বাড়ি থেকে তার শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব বেশি নয়; মাঝে দুটি গ্রাম রয়েছে। তাই তার যাতায়াতের সুযোগ ছিল।

মরদেহ উদ্ধারের পর রবিন শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে নিজেই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিষক্রিয়ার গল্প বলেছিলেন। তিনি শ্বশুরের সৎভাইকেও দোষারোপ করেন।

স্বামী রবিনই মা-ভাইদের হত্যা করেছেন কি না, তা নিয়ে এখনও সন্দিহান নাসরিন আক্তার। নাসরিন গণমাধ্যমকে বলেন, রবিন মেরেছে কি না, আমি জানি না। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছি। সে আমাকে বলেছে যে সে আমার মা ও ভাইকে মারেনি। রবিন মেরেছে, এটা আমার বিশ্বাস হয় না। তিনি বলেন, পুলিশের ভয়ে সে জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে।

তবে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে ব্যবসা নিয়ে স্বামীর দ্বন্দ্ব ছিল বলে স্বীকার করেছেন নাসরিন। তিনি জানান, এই কারণেই তার মা ডেকোরেটরের ব্যবসা বন্ধ করে বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

নাসরিনের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান বলেন, প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে করেছিলেন নাসরিন ও রবিন। নাসরিন শুরু থেকেই রবিনকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। তবে তদন্ত ভিন্ন তথ্যই দিচ্ছে।

মামলাটি নিহত নারগিসের ভাই আবদুর রশীদ দায়ের করেছিলেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমি ওই খুনির ফাঁসি চাই। আমার বোন ওই খুনিরে খুব ভালোবাসত। কিন্তু ওই (রবিন) আমার বোন-ভাগনেরে খুন করে ফেলল।

এই মামলার একজন সাক্ষী শাহিনুর রহমান দোষীর শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেছেন, একসঙ্গে একই পরিবারের তিনজন খুন হওয়ার ঘটনা এলাকায় ভীতি ছড়িয়ে ছিল। তাই দোষীর শাস্তি হওয়া দরকার।

তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান জানান, ১৪ জনের সাক্ষ্য এবং তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে গত ১৪ জানুয়ারি তিনি আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে রবিনকে একমাত্র আসামি করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%