ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন ধর্মেন্দ্র প্রধান


ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন ধর্মেন্দ্র প্রধান

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।

তেলাপোকা জনতা পার্টি এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা আলোচনার শুরু কিছুকাল আগে, তিনি তার এক্স হ্যান্ডেলে এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দিল্লির জন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি ও কেন্দ্রের মধ্যে আলোচনা অচলাবস্থায় ছিল। সকালে ভারতের প্রধান বিচারপতি স্পষ্টভাবে জানান যে, সরকার ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে অস্বীকার করলে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।

প্রধানের পদত্যাগের ফলে সরকার বিক্ষোভকারীদের সব দাবি পূরণ করেছে। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবিগুলো ছিল- ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

এর আগে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) কেন্দ্র প্রধান বিচারপতিকে শেষের দুটি দাবির বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিল, তবে পদত্যাগের দাবির বিষয়ে সরকার নীরব ছিল।

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে দেওয়া তার পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন: ‘আমি এই দেশের যুবকদের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি এবং ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করি। ভারতের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণ করাই আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নৈতিক সংকল্প। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে জাতির সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

এদিকে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর পৌঁছানোর পরপরই যন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থলে উল্লাস ফেটে পড়ে। পদত্যাগের খবরের প্রতিক্রিয়ায় সিজেপি মন্তব্য করেছে: ‘ছাত্রশক্তির জয় হোক।’

যন্তর মন্তরের মঞ্চ থেকে প্রধানের পদত্যাগের খবর ঘোষণা করে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘আমরা এটা করে দেখিয়েছি।’

তারা বলেন, এই সরকারে কেউ পদত্যাগ করে না। কিন্তু আমরা তা করে দেখিয়েছি।

গত কয়েক দিন ধরে দেশজুড়ে কয়েক ডজন শহরে ছড়িয়ে পড়া ছাত্র বিক্ষোভ একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে বিরোধী দলগুলো এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরকারকে কোণঠাসা করে ফেলেছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধামরাইয়ে আলোচিত ৩ খুনের ঘটনায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ পি.এম


ধামরাইয়ে আলোচিত ৩ খুনের ঘটনায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

এক বছর আগে ঢাকার ধামরাইয়ে নারগিস বেগম ও তার দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর খাবারে বিষক্রিয়ার কথা প্রকাশ পায়। এই কারণে মামলাটি অপমৃত্যুর হিসেবে সমস্যামূলক হয়। কিন্তু একটি নতুন তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তার মনে সংশয় সৃষ্টি হয়। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে এই হত্যা মামলা প্রকাশ্যে আসে। বর্তমানে নারগিসের মেয়ের স্বামী মো. রবিন আসামি হয়ে বিচারাধীন রয়েছে।

রবিন (২২) বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তিনি বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১৪ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনজুর রহমান ঢাকার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। মামলাটি এখন ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘরজামাই রবিন শ্বশুরবাড়ির ডেকোরেটারের ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। তবে তার শাশুড়ির ব্যবসাটি বিক্রি করে দেওয়ার কারণে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শুরুতে এই মামলার কোনো ক্লু ছিল না। রবিন অত্যন্ত সুকৌশলে বিষয়টি চালাচ্ছিলেন। মূলত একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে পুরো হত্যাকাণ্ডের রহস্য সামনে আসে।

২০২৫ সালের ২ জুন দিবাগত রাতে ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে মৃত রাজা মিয়ার স্ত্রী নারগিস (৪২) এবং তার দুই ছেলে মো. শামীম (১৭) ও সোলাইমানের (৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নারগিসের মেয়ে নাসরিন আক্তার সে সময় জানিয়েছিলেন, ঘরের ভেতরে বিছানার ওপর কাঁথা জড়ানো অবস্থায় ছিল তার মা ও ভাইয়ের মরদেহ। নারগিসের পরিবার তখন ধারণা দিয়েছিল খাবারে বিষক্রিয়াই এই মৃত্যুর কারণ।

এছাড়া সম্পত্তির বিরোধের কারণে শ্বশুরবাড়ির লোকজন খাবারে বিষ মিশিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছিল। নাসরিনের স্বামী রবিনও তখন এই দাবি করেছিলেন। তিনি জানান, রাতে ডিম-ভাত কিংবা জুসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তিনজনকে মারা হয়েছে।

পুলিশ প্রথমে খাবারে বিষক্রিয়ার সন্দেহে সেদিন অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন। কিন্তু দুই দিন পর ৪ জুন মামলার তদন্তভার নেন ঢাকা জেলা পিবিআই কর্মকর্তা মনজুর রহমান।

তদন্ত শুরু করে মনজুর রহমান জানতে পারেন, সেদিন রবিন ও তার স্ত্রী-সন্তানও নারগিসের বাড়িতে রাতের খাবার খেয়েছিলেন। তখন তার মনে প্রশ্ন ওঠে, একই খাবার খেয়ে কেউ মারা গেলেন, আবার কেউ বেঁচে থাকলেন কীভাবে?

মনজুর রহমান জানান, শুরু থেকেই বিষক্রিয়ার তত্ত্ব বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। মোবাইল ফোনের অবস্থান, ঘটনাস্থলের আলামত, জব্দ করা মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর রবিনকে সন্দেহের তালিকায় আনা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, সন্ধ্যা রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে রবিন নিজ বাড়িতে ফিরে যান। কিন্তু তার মুঠোফোনের অবস্থান বিশ্লেষণ করে জানা যায়, রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে তিনি আবার শ্বশুরবাড়িতে যান।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে শ্বশুরবাড়ি ছাড়ার পর গভীর রাতে রবিনের ঘটনাস্থলে উপস্থিতির তথ্যই তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায়।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, রবিন শাশুড়িকে কোনো হিসাব দিতেন না। তাই শাশুড়ি তাকে না জানিয়ে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ব্যবসাটি বিক্রি করে দেন। এ কারণেই রবিন খুব ক্ষুব্ধ হন এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে চলে যান।

সালিশে ব্যবসা বিক্রির টাকা নিয়ে রবিনের স্ত্রী নাসরিনের সঙ্গে তার মায়ের কথোপকথন হয়। এর ফলে শাশুড়ির প্রতি রবিনের ক্ষোভ আরও বাড়ে। রাতে খেয়ে স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও মধ্যরাতে আবার শ্বশুরবাড়িতে ফেরেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রবিন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, সে প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শ্বশুরবাড়ির লোকদের নিয়ে তার সঙ্গে বড় শ্যালক শামীমের মাঝে ঝগড়া ছিল। তাই সকলের ওপর তার ক্ষোভ ছিল।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঘরজামাই রবিন শ্বশুরবাড়ির ডেকোরেটর ব্যবসা দেখাশোনা করতেন এবং তার প্রতিশোধ নিতেই শাশুড়ি ও শ্যালকদের হত্যা করেন রবিন।

সে জানিয়েছে, গভীর রাতে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রথমে বড় শ্যালক শামীমের মুখে বালিশ চেপে ধরতে গিয়ে তাকে হত্যা করে। পরে একই কায়দায় শাশুড়ি নারগিস ও সোলাইমানকে হত্যা করে। তিনজনের মরদেহ একই খাটের উপর কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখে, যাতে মনে হয় তারা ঘুমিয়ে আছেন।

রবিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত কর্মকর্তা দুটি বালিশ এবং মুঠোফোন উদ্ধারের কথা জানান।

রবিনের বাড়ি থেকে তার শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব বেশি নয়; মাঝে দুটি গ্রাম রয়েছে। তাই তার যাতায়াতের সুযোগ ছিল।

মরদেহ উদ্ধারের পর রবিন শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে নিজেই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিষক্রিয়ার গল্প বলেছিলেন। তিনি শ্বশুরের সৎভাইকেও দোষারোপ করেন।

স্বামী রবিনই মা-ভাইদের হত্যা করেছেন কি না, তা নিয়ে এখনও সন্দিহান নাসরিন আক্তার। নাসরিন গণমাধ্যমকে বলেন, রবিন মেরেছে কি না, আমি জানি না। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছি। সে আমাকে বলেছে যে সে আমার মা ও ভাইকে মারেনি। রবিন মেরেছে, এটা আমার বিশ্বাস হয় না। তিনি বলেন, পুলিশের ভয়ে সে জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে।

তবে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে ব্যবসা নিয়ে স্বামীর দ্বন্দ্ব ছিল বলে স্বীকার করেছেন নাসরিন। তিনি জানান, এই কারণেই তার মা ডেকোরেটরের ব্যবসা বন্ধ করে বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

নাসরিনের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান বলেন, প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে করেছিলেন নাসরিন ও রবিন। নাসরিন শুরু থেকেই রবিনকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। তবে তদন্ত ভিন্ন তথ্যই দিচ্ছে।

মামলাটি নিহত নারগিসের ভাই আবদুর রশীদ দায়ের করেছিলেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমি ওই খুনির ফাঁসি চাই। আমার বোন ওই খুনিরে খুব ভালোবাসত। কিন্তু ওই (রবিন) আমার বোন-ভাগনেরে খুন করে ফেলল।

এই মামলার একজন সাক্ষী শাহিনুর রহমান দোষীর শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেছেন, একসঙ্গে একই পরিবারের তিনজন খুন হওয়ার ঘটনা এলাকায় ভীতি ছড়িয়ে ছিল। তাই দোষীর শাস্তি হওয়া দরকার।

তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান জানান, ১৪ জনের সাক্ষ্য এবং তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে গত ১৪ জানুয়ারি তিনি আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে রবিনকে একমাত্র আসামি করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন বিএনপির ১২ নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩২ পি.এম


জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন বিএনপির ১২ নেতা

সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পাওয়া বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ১২ নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরের সময় রাজধানীর জিয়া উদ্যানে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলম, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক এবং দলের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু), দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ টিটো, এবং দলের ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী।

যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান মো. মামুন হাসান, সংগঠনের সাবেক সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন সিদ্দিকী এবং শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন সরকার।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামসুজ্জামান সুরুজ, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) এবং বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক, এবং যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান দুলাল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আওয়ামী লীগ নেত্রী পালিয়ে থেকেও ৬ মাসের বেতন পেলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৫ পি.এম


আওয়ামী লীগ নেত্রী পালিয়ে থেকেও ৬ মাসের বেতন পেলেন

দীর্ঘদিন মাদরাসায় অনুপস্থিত থেকে একজন সহকারী অধ্যাপকের সহযোগিতার মাধ্যমে ছয় মাসের বেতন পেয়েছেন রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী যুব মহিলা লীগের নেত্রী শাহনাজ বিউটি।

অভিযুক্ত শাহনাজ বিউটি উপজেলার ভাংনী আদমদিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুব মহিলা লীগের রংপুর মহানগর কমিটির সভানেত্রী।

জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করা, নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, শিক্ষাগত সনদে অসংগতির অভিযোগ এবং অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটিতে বেশ কিছু দিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করার জন্য ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তর, আদালত এবং সংশ্লিষ্ট মাদরাসার বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব নথিতে শাহনাজ বিউটির নিয়োগ, চাকরির অবস্থান, বেতন-ভাতা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সম্পর্কে একাধিক নানা তথ্য উঠে এসেছে।

নথি অনুযায়ী, শাহনাজ বিউটি ২০০৩ সালের ১ মার্চ ভাংনী আহমদিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসায় ইংরেজি প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তার নিয়োগের আগে ২০০২ সালের আগস্টে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনার্সসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং নির্ধারিত ফলাফলের শর্ত উল্লেখ ছিল। কিন্তু তার স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ফল তৃতীয় বিভাগ হওয়ায় তিনি তৎকালীন যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেছিলেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

এছাড়া জানা গেছে, ২০০৮ সালের পর শাহনাজ বিউটি সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে যুব মহিলা লীগের রংপুর মহানগর কমিটির নেতৃত্বে আসেন। অভিযোগ করা হচ্ছে, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের পর থেকেই তিনি নিয়মিত মাদরাসায় ক্লাস নিতেন না। বরং বেতন উত্তোলনের সময় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তার কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে আসতেন। এই কারণে ইংরেজি বিভাগের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছিল এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। তবে সে সময়ে তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে ২০২৩ সালে নতুন অধ্যক্ষ দায়িত্ব গ্রহণ করার পর। ওই বছর শিক্ষার্থীরা লিখিতভাবে অভিযোগ করেন যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস না নেওয়ায় তাদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে গভর্নিং বডি প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে দুটি পৃথক কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও শাহনাজ বিউটির পক্ষ থেকে কোনও জবাব পাওয়া যায়নি বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এরপর বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটি নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়ম, শিক্ষাগত সনদে অসংগতি, দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডসহ আটটি বিষয় উল্লেখ করে তাকে সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ করে। ওই সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গভর্নিং বডি তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়। তার পরের দিন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে তিনি কর্মস্থলে ফিরে আসেননি বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে, জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় শাহনাজ বিউটির বিরুদ্ধে দুটি মামলার তথ্যও নথিতে দেখা যায়। একটি মামলায় তাকে হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এবং অন্যটিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় আসামি করা হয়েছে। তবে এসব মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে শাহনাজ বিউটি এক দিনের জন্য মাদরাসায় যান এবং সেদিন হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করেই চলে যান। তখন অধ্যক্ষ এবং কয়েকজন শিক্ষক তাকে নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তিনি অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন এবং মামলায় সাবেক অধ্যক্ষসহ কয়েকজনকে সাক্ষী করা হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রও দাখিল করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর এবং দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি শাহনাজ বিউটির নামে ছয় মাসের বেতন উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হয় সহকারী অধ্যাপক আকরামুল ইসলামের দ্বারা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো কমিটি না থাকায় শিক্ষকদের বেতন ছয় মাস বন্ধ ছিল। এর মধ্যে, বেতনের জন্য সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আকরামুল ইসলাম হাইকোর্টে রিট করলে, জরুরি ভিত্তিতে বেতন-ভাতা প্রদানের আদেশ প্রদান করে আদালত। এ সময় সহকারী অধ্যাপক আকরামুল ইসলাম শাহনাজ বিউটির সাময়িক বরখাস্ত এবং দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির তথ্য গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে বেতন শিটে নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে নাম দাখিল করে তার ছয় মাসের বেতন উত্তোলনের ব্যবস্থা করে দেন।

এদিকে, একদিকে দ্বৈত বেতন শিটের মাধ্যমে জালিয়াতি করে ছয় মাসের বেতন উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হয়, অপরদিকে সেই সময়টি তাকে বিনা বেতনের ছুটিতে দেখানো হয়। তবে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির শর্তাবলি অনুযায়ী রোগ বা শিক্ষাসংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট ক্ষেত্র ব্যতীত দীর্ঘমেয়াদি ‘বিনাবেতনের ছুটি’ অনুমোদনের বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিতে শাহনাজ বিউটির ক্ষেত্রে সেই বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বর্তমান অধ্যক্ষ আবু ছালেহ মোহাম্মদ জাকারিয়া গণমাধ্যমকে জানান, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শাহনাজ বিউটিকে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তা না করেই উল্টো তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন অনুপস্থিতের পর প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে বেতন ও বিভিন্ন সুবিধা নেওয়া হয়েছে, যার ফলস্বরূপ প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা ও প্রশাসনিক— উভয় ক্ষেত্রেই সংকটে পড়েছে। তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অন্যদিকে সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আকরামুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শাহনাজ বিউটির ছয় মাসের বেতন এবং পরবর্তী ছুটির বিষয়গুলো জেলা প্রশাসন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের জ্ঞাতসারে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসাসহ অন্যান্য কারণে তাকে ছুটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

রংপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনায়েন হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ওই মাদরাসার সভাপতি রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) শরিফুল ইসলাম। মাদ্রাসার বেতন-ভাতাসহ সার্বিক বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠানের সভাপতি দেখভাল করেন। এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এডিসি (শিক্ষা) স্যারকে অভিযোগ করলে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। অভিযোগ পেলে আমি নিজে পরিদর্শনে যাব।

এ বিষয়ে বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) শরিফুল ইসলাম জানান, শাহনাজ বিউটিকে ছয় মাসের বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার দায়িত্বকালীন সময়ে হয়নি। কিন্তু শাহনাজ বিউটির দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি তার জানা রয়েছে। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে পরবর্তী সময় পর্যন্ত কীভাবে তাকে ধারাবাহিকভাবে ‘বিনা বেতনের ছুটিতে’ দেখানো হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের পর চিকিৎসাজনিত আবেদনের ভিত্তিতে সীমিত সময়ের জন্য ছুটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল; এর আগের সময়ের সম্পর্কে তিনি অবহিত নন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লার ৩০০ বছরের পুরোনো মসজিদ সংরক্ষণের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৭ পি.এম


কুমিল্লার ৩০০ বছরের পুরোনো মসজিদ সংরক্ষণের দাবি

কুমিল্লার গোমতী নদীর উত্তর তীরে প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো নুরজাহান মসজিদ সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইতিহাস, জনশ্রুতি এবং অবহেলায় জীর্ণ এই স্থাপনাটি বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। বিশাল বটগাছের শেকড় যেন মসজিদটির অস্তিত্বকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই মসজিদে কোনো দিন আজান দেওয়া হয়নি। এমনকি জামাতের সঙ্গে নামাজও আদায় হয়নি। কারণ, এর নির্মাতা ছিলেন ত্রিপুরা মহারাজা দ্বিতীয় ধর্ম-মানিক্যের রাজদরবারের একজন নর্তকী।

অবহেলায় ক্ষয়ে যাওয়া এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে রক্ষায় স্থানীয়দের সাথে সক্রিয় হয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। ভূমির তফশিল নির্ধারণের উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করেছে সংস্থাটি। একই দাবিতে আবেদন করেছেন শিক্ষানুরাগী মোশাররফ খান চৌধুরী।

জনশ্রুতি অনুযায়ী, গোমতীর উত্তরপাড়ের মাঝিগাছা গ্রামে তিন বোন— নুরজাহান, মোগরজান ও ফুলজান বাস করতেন। শৈশবে সাপে কাটা নুরজাহানকে ভেলায় তুলে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার পর ত্রিপুরা রাজদরবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে রাজপ্রাসাদে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার পর রাজদরবারের মেনেকার তত্ত্বাবধানে তিনি নাচ-গান শেখেন এবং সময়ের অন্যতম খ্যাতিমান নর্তকীতে পরিণত হন।

দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর রাজদরবারে কাটানোর পর তিনি মধ্যবয়সে নিজ গ্রাম মাঝিগাছায় ফিরে আসেন। একজন জমিদারের বিধবা স্ত্রী পরিচয়ে জীবনের পদযাত্রা শুরু করেন। বিদায়ের সময় ত্রিপুরার মহারাজা তাকে কিছু একর জমি, বিপুল অর্থ ও স্বর্ণালংকার উপহার দেন। সেই সম্পদ কাজে লাগিয়ে তিনি গ্রামের মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসেন। অতীত জীবনের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে ১৭১৪ থেকে ১৭৩৪ সালের মধ্যে তিনি নির্মাণ করেন একটি মসজিদ।

মসজিদ নির্মাণ শেষের পর নামাজ শুরুর দিন নির্ধারণে গ্রামবাসীকে নিয়ে বৈঠক করার উদ্যোগ নেন নুরজাহান। কিন্তু তার পূর্বে তার অতীত জীবন নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়ে যায়। পরে গ্রামের প্রভাবশালীরা সিদ্ধান্ত নেন, তার অর্থে নির্মিত মসজিদে কেউ নামাজ আদায় করবে না। সেই সিদ্ধান্তই আজও জনশ্রুতির অংশ হয়ে রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এরপর থেকে এই মসজিদে আর কখনো আজান দেওয়া হয়নি এবং নামাজও অনুষ্ঠিত হয়নি।

এই ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন নুরজাহান। কয়েক বছর নিভৃতে জীবন কাটানোর পর তিনি এলাকাটি ছেড়ে চলে যান বলে একটি প্রচলিত মত রয়েছে। আবার অন্য একটি জনশ্রুতি বলছে, সামাজিক অপবাদ সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেন। পরে মসজিদের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুমিল্লা নগরীর চাঁনপুর গোমতী সেতু পার হয়ে মাঝিগাছা-নন্দীর বাজার সড়কের বাম পাশে ঐতিহাসিক মসজিদটি দাঁড়িয়ে আছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা এটি দেখতে এলেও চারপাশে গড়ে ওঠা স'মিল ও দোকানপাটের কারণে স্থাপনাটি অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে।

মসজিদের গম্বুজের একাংশ ইতোমধ্যে ধসে পড়েছে এবং দেয়ালজুড়ে বড় বড় ফাটল দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। কিছু জায়গায় বটগাছের শেকড় ইটের গাঁথুনিকে ভেদ করে নেমে এসেছে। ভেতরে জমে থাকা পানি এবং অযত্নে পুরো স্থাপনাটি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। মসজিদের উত্তর পাশে রয়েছে একটি কবরস্থান।

শিক্ষানুরাগী মোশাররফ খান চৌধুরী বলেন, প্রতিদিন এই পথে যাতায়াতের সময় মসজিদটির করুণ অবস্থা চোখে পড়ে। দ্রুত সংরক্ষণ না করলে এটি একসময় হারিয়ে যাবে। আশপাশের দখল বন্ধ করতে হবে। যদি যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কুমিল্লা কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার সজিব মিয়া বলেন, গোমতী নদীর তীরের এই ঐতিহাসিক মসজিদ প্রত্ন-পর্যটনের সম্ভাবনাময় একটি স্থাপনা। ভূমির তফসিল নির্ধারণের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংরক্ষণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবিএম মশিউজ্জামান জানান, মসজিদের ভূমি নির্ধারণ ও সংরক্ষণসংক্রান্ত আবেদন পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আদর্শ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর মতামত চাওয়া হয়েছে। মতামত পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%