শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১৮ পি.এম
দেশজুড়ে চলমান তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যে পাবনায় সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে। পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পাগলা ও সুজানগরের মোবারকপুর থেকে আগামী ২০ বছর ধরে দৈনিক অন্তত ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
এমন আশাবাদে সাঁথিয়ার পাগলা গ্রামে গ্যাস কূপ পরিত্যক্ত না করে দ্বিতীয় কূপ খননের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লেরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। বর্তমানে পাবনার সুজানগর উপজেলায় গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ছয় কিলোমিটার গভীরে কূপ খনন করবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি।
মোবারকপুর ডিপ-১ প্রকল্পের পরিচালক ও বাপেক্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) এস এ এম মেরাজুল আলম জানিয়েছেন, সুজানগর উপজেলার মোবারকপুরে এই কূপ খনন করা হবে। তিনি জানান, বর্তমানে আহমেদপুর ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামে প্রকল্পের উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে একনেক তিনটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের প্রকল্প অনুমোদন করেছে, যার ব্যয় ১ হাজার ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে একটি হচ্ছে মোবারকপুর ডিপ-১। যদি এটি সফল হয়, তাহলে এটি হবে উত্তরবঙ্গের প্রথম পূর্ণাঙ্গ গ্যাস কূপ। সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসন ওই জমি বাপেক্সের কাছে হস্তান্তর করেছে। অন্যদিকে, বাপেক্স জানায়, জমি উন্নয়ন ও রিগ ফাউন্ডেশনের জন্য ২৭ জুলাই থেকে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। মূল কূপ খননের কাজ শুরু হবে ২০২৮ সালের জুনের মাঝামাঝি। খনন সফল হলে ওই বছরের শেষ নাগাদ গ্যাস উত্তোলন শুরু হতে পারে। প্রাথমিক হিসাবে, এখান থেকে আগামী ২০ বছর দৈনিক অন্তত ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে প্রায় ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মোবারকপুরে সাড়ে চার কিলোমিটার গভীরে কূপ খননের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ভূগর্ভে গ্যাসের চাপ বেশি থাকায় এবং সে সময়ের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কাজটি স্থগিত করা হয়। এবার আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলেও তিনি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এবার ছয় কিলোমিটারের বেশি গভীরে কূপ খনন করা হবে। এ কাজে চীনের প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানচিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।
পাবনার এই এলাকায় গ্যাসের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানা যায় কয়েক দশক আগে। ১৯৮০-৮১ সালে পেট্রোবাংলা প্রথম জরিপ চালায়। পরে ১৯৮৩-৮৪ সালে একটি জার্মান প্রতিষ্ঠান এবং ২০০৬ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে বাপেক্স কয়েক দফা জরিপ করে। এসব জরিপে এলাকায় গ্যাসের সম্ভাবনার তথ্য পাওয়া যায়। ২০০৯ সালের দিকে সাঁথিয়ার পাগলা গ্রামে ২৮ বিঘা জমি লিজ নিয়ে গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খনন করা হয়। কূপ খননের পর তা থেকে পাইপ লাইনে আগুন জ্বালানো হলেও পরবর্তীতে তা ফেলে অন্যত্র চলে যায় বাপেক্স। বাপেক্স জানিয়েছে, আগের পাগলা অনুসন্ধানস্থল থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে এবার নতুন গভীর কূপ খনন করা হচ্ছে। এই কূপে সাফল্য এলে আশপাশের এলাকায় আরও কূপ খননের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া চন্দনা নদীর কচুরিপানা ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করেছেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ আহমেদ আশিক। তিনি ১০ জন শ্রমিক নিয়োগ করে নদীর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা কচুরিপানা অপসারণের কাজ শুরু করেছেন। স্থানীয়দের মতে, এর ফলে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে চন্দনা নদীতে কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রম শ্রমিকদের মাধ্যমে টানা দুই দিন ধরে চলবে।
বালিয়াকান্দি বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চন্দনা নদীর বালিয়াকান্দি ব্রীজের নিকট কচুরীপনা জমে পচা ও দুগন্ধ ছড়াচ্ছিল। বিষয়টি বিএনপি নেতা আশিককে জানানো হলে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে কচুরীপনা অপসারণের কাজ শুরু করেছেন। সমাজের এই ধরনের ভালো কাজে সকলের এগিয়ে আসা উচিত।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক ফরিদ আহমেদ আশিক বলেন, “চন্দনা নদী বালিয়াকান্দির মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে নদীর বিভিন্ন স্থানে কচুরিপানা জমে দুগন্ধ সৃষ্টি ও পানি প্রবাহে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। তাই মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে নিজস্ব অর্থায়নে ১০ জন শ্রমিক দিয়ে কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছি। শ্রমিকদের বেতনও আমার নিজস্ব অর্থায়নে দেওয়া হবে। কাজটি সম্পন্ন করতে দুই দিন সময় লাগতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “জনস্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।”
স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নদীর কচুরিপানা অপসারণের ফলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং নদীর সৌন্দর্যও অনেকটা ফিরে আসবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া মন্তব্য করেছেন যে, মানুষের বিদ্যুৎ ও গ্যাস পাওয়ার অধিকারটি তারা নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে অর্জন করে। তিনি উল্লেখ করেন, "এটা তো সরকার ফ্রিতে দেয় না।" বর্তমানে বিদ্যুতের অভাব দেখা দিয়েছে এবং বিদ্যুতের বিল যেখানে ১২শ টাকা ছিল, সেখানে তা এখন ৪ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। তিনি প্রশ্ন করেন, "এই অর্থ কোথায় যায় এটার কোনো হিসাব আমরা আজ পর্যন্ত পাইনি।" বিদ্যুৎ মন্ত্রী বিদ্যুতের পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে আইসিইউতে চলে গেছেন, মাশাআল্লাহ।
শনিবার (৫ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা পদুয়ার বাজারে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের কুমিল্লার পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, বাংলাদেশ আজ এক কঠিন সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, যারা বলেছিলেন নির্বাচনের পর সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, তারা এখন ক্ষমতায় আসার ছয় মাস পরও জনগণের জন্য কোনো সংস্কার আনতে পারেনি। তিনি বলেন, "এখন এদেশের মানুষ সংস্কার তো পায়ইনি, এখন তিনবেলা ভাতও খাওয়ার সুযোগ নেই, বাসায় বিদ্যুৎ নাই, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল আসছে। গ্যাসের চুলায় আগুন নাই, গরিবের কাজ নাই। লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাচ্ছে।"
তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনারা নির্বাচনের আগে ভালো ভালো কথা বলবেন। গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে আপনারা ক্যাম্পেইন করেছেন। কিন্তু নির্বাচনের পরে ১৮ কোটি মানুষকে দেওয়া কথা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেননি।"
এনসিপির এই নেতা উপস্থিত জনতাকে জানান, নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু তিনি জানেন যে, জনগণ তাদের ১১ দলীয় জোটকে সমর্থন দিয়েছে। তিনি বলেন, "১১ দলীয় জোট এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি আপনাদের এই সমর্থনকে সাথে নিয়ে সামনের দিনেও আপনাদের অধিকারের কথা বলে যাবে।" তিনি আরো বলেন, "কোনো ধরনের হামলা-মামলা, হুমকির ভয় না করে এই জোট আপনাদের প্রতিবাদের ভাষা হয়ে থাকবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "২০২৪ সালের ১১ জুলাই প্রথম প্রতিরোধ গড়েছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্বরোড ব্লক করে রেখেছিল।" তিনি বলেন, "সেজন্য তিনি (শেখ হাসিনা) কুমিল্লার মানুষকে দেখতে পারতেন না, কুমিল্লার মানুষকে বঞ্চিত করতেন। কিন্তু কুমিল্লার মানুষ প্রতিদান দিয়েছে তাকে ভারতে পাঠিয়ে দিয়ে।"
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপি প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ অন্যান্যরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে গত সাত মাস ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অভাব রয়েছে, ফলে উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রমে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রে জানা গেছে, সাত মাস আগে মুকসুদপুর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদে শাহাদাৎ আলী মোল্লা দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি অবসরে যাওয়ার পর থেকে এখানে নতুন কোন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পোস্টিং হয়নি। এক সপ্তাহ পরে কাশিয়ানী উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাফুজা বেগমকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে মুকসুদপুরে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সাবের মিয়া জসিমউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল চন্দ্র মন্ডল মন্তব্য করেন, "সাত মাস ধরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর অফিসিয়াল কার্যক্রম এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।"
যদিও কাশিয়ানী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন, তবে দুই উপজেলার কাজ পরিচালনায় তার জন্য সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। জরুরি কাজ, কাগজপত্র জমা দেওয়া এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তার পরামর্শ প্রয়োজন হয়। নতুন শিক্ষা কর্মকর্তার নিয়োগ জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির জানান, "মুকসুদপুর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার কার্যক্রমে প্রভাব পড়বে। পূর্ববর্তী কর্মকর্তা গত সাত মাস আগে অবসর গ্রহণ করেছেন। আমরা এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। যত দ্রুত সম্ভব নতুন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মুকসুদপুরে আসবেন।"
গোপালগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খোন্দকার রুহুল আমিন বলেন, "মুকসুদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার শূন্য পদে আপাতত কাশিয়ানী যিনি দায়িত্বে আছেন, তাকে অতিরিক্ত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সারা বাংলাদেশে প্রায় সকল উপজেলায় একই পরিস্থিতি বিরাজমান, এই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানেন। যত দ্রুত সম্ভব এর সমাধান হবে। তবে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অভাবের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে। তাই আমরা মুকসুদপুরে নতুন কর্মকর্তার নিয়োগের চেষ্টা করছি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় রাজনীতিতে সিলেট অঞ্চলের মর্যাদা রক্ষা এবং উন্নয়নের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
দেশের সংকটকাল এবং অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের গুরুত্ব তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন বলেন, "স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রবাসীদের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।" রেমিট্যান্স পাঠানোর পাশাপাশি বিশ্বদরবারে প্রবাসীরা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, "একটি ক্ষুদ্র স্বার্থান্বেষী বা দালাল গোষ্ঠী প্রবাসীদের এই অবদান ও ত্যাগকে খাটো করে দেখার অপচেষ্টা করছে।" এ ধরনের অপচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় রাজনীতি ও দলীয় কার্যক্রম প্রসঙ্গে হুমায়ুন বলেন, "দেশের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা, দেশপ্রেম ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হচ্ছে।" তিনি জানান, দেশের সার্বিক স্বার্থ রক্ষা এবং বিশ্বমঞ্চে স্বাধীন ও প্রভাবমুক্ত পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।
বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, "সরকার একটি স্বাধীন, স্বাবলম্বী ও প্রভাবমুক্ত পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।" অতীতে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পররাষ্ট্রনীতির ওপর নির্ভরশীলতার জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখা। বিএনপি জনগণের নির্বাচিত ও প্রতিনিধিত্বকারী দল হিসেবে আগামী স্থানীয় সরকারের যেকোনো নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তৃণমূলের গতিশীল নেতৃত্ব এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।
সিলেট অঞ্চলের উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তনের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, আগামী বাজেটে সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যৌথভাবে পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে আম্বরখানা থেকে এয়ারপোর্ট রোড, হুমায়ূন রশীদ চত্বর এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা -সিলেট ছয় লেন মহাসড়কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগের সরকারের কাজের ধীরগতি এবং বিভিন্ন জটিলতা কাটিয়ে এ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পটিকে সন্তোষজনক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া বালাগঞ্জ সড়ক সংস্কার, ‘গ্রিন সিটি’ প্রকল্পের আওতায় নগরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আখাউড়া-সিলেট রুটে নতুন রেল সংযোগের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তিনি।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এবং ছাত্র-জনতার বিপ্লবে আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গঠনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালিক, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান ও বিএনপি কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাহের শামীম, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ক্ষুদ্র ও ঋণবিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ