প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দেশজুড়ে চলমান তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যে পাবনায় সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে। পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পাগলা ও সুজানগরের মোবারকপুর থেকে আগামী ২০ বছর ধরে দৈনিক অন্তত ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
এমন আশাবাদে সাঁথিয়ার পাগলা গ্রামে গ্যাস কূপ পরিত্যক্ত না করে দ্বিতীয় কূপ খননের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লেরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। বর্তমানে পাবনার সুজানগর উপজেলায় গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ছয় কিলোমিটার গভীরে কূপ খনন করবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি।
মোবারকপুর ডিপ-১ প্রকল্পের পরিচালক ও বাপেক্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) এস এ এম মেরাজুল আলম জানিয়েছেন, সুজানগর উপজেলার মোবারকপুরে এই কূপ খনন করা হবে। তিনি জানান, বর্তমানে আহমেদপুর ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামে প্রকল্পের উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে একনেক তিনটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের প্রকল্প অনুমোদন করেছে, যার ব্যয় ১ হাজার ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে একটি হচ্ছে মোবারকপুর ডিপ-১। যদি এটি সফল হয়, তাহলে এটি হবে উত্তরবঙ্গের প্রথম পূর্ণাঙ্গ গ্যাস কূপ। সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসন ওই জমি বাপেক্সের কাছে হস্তান্তর করেছে। অন্যদিকে, বাপেক্স জানায়, জমি উন্নয়ন ও রিগ ফাউন্ডেশনের জন্য ২৭ জুলাই থেকে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। মূল কূপ খননের কাজ শুরু হবে ২০২৮ সালের জুনের মাঝামাঝি। খনন সফল হলে ওই বছরের শেষ নাগাদ গ্যাস উত্তোলন শুরু হতে পারে। প্রাথমিক হিসাবে, এখান থেকে আগামী ২০ বছর দৈনিক অন্তত ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে প্রায় ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মোবারকপুরে সাড়ে চার কিলোমিটার গভীরে কূপ খননের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ভূগর্ভে গ্যাসের চাপ বেশি থাকায় এবং সে সময়ের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কাজটি স্থগিত করা হয়। এবার আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলেও তিনি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এবার ছয় কিলোমিটারের বেশি গভীরে কূপ খনন করা হবে। এ কাজে চীনের প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানচিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।
পাবনার এই এলাকায় গ্যাসের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানা যায় কয়েক দশক আগে। ১৯৮০-৮১ সালে পেট্রোবাংলা প্রথম জরিপ চালায়। পরে ১৯৮৩-৮৪ সালে একটি জার্মান প্রতিষ্ঠান এবং ২০০৬ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে বাপেক্স কয়েক দফা জরিপ করে। এসব জরিপে এলাকায় গ্যাসের সম্ভাবনার তথ্য পাওয়া যায়। ২০০৯ সালের দিকে সাঁথিয়ার পাগলা গ্রামে ২৮ বিঘা জমি লিজ নিয়ে গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খনন করা হয়। কূপ খননের পর তা থেকে পাইপ লাইনে আগুন জ্বালানো হলেও পরবর্তীতে তা ফেলে অন্যত্র চলে যায় বাপেক্স। বাপেক্স জানিয়েছে, আগের পাগলা অনুসন্ধানস্থল থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে এবার নতুন গভীর কূপ খনন করা হচ্ছে। এই কূপে সাফল্য এলে আশপাশের এলাকায় আরও কূপ খননের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন