০৯:২৪ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার মধ্যে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি রফিকুল ইসলাম সোহাগ (৪৭) মারা গেছেন।
ঘটনার ২১ দিন পর শনিবার (১৮ জুলাই) ব্রুকলিনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে স্থানীয় বাইতুল মামুন মসজিদে তার জানাজা সম্পন্ন হয় এবং এরপর নিউ জার্সির একটি মুসলিম কবরস্থানে মরহুমের দাফন করা হয়।
নিহত রফিকুল ইসলাম সোহাগ নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ২ নম্বর নদনা ইউনিয়নের দক্ষিণ শাকতলা গ্রামের একজন বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিউইয়র্কে বসবাস করে আসছিলেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৬ জুন ভোরে নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন দুইতলা আবাসিক ভবনের বেজমেন্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (এফডিএনওয়াই) প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি লিথিয়াম-আয়ন চালিত ডেলিভারি ই-বাইকের ব্যাটারি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুন লাগার সময় সোহাগের স্ত্রী ও দুই সন্তান গভীর ঘুমে ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই বিষাক্ত ধোঁয়া ও আগুন পুরো বেজমেন্টে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে ছিলেন সোহাগ, যে নিজের জীবনের পরোয়া না করে স্ত্রী ও সন্তানদের নিরাপদ স্থানে বের করে আনেন।
তবে, পরিবারের সকল সদস্যকে নিরাপদে বের করে আনতে পারলেও, তিনি নিজে মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ হন এবং ফুসফুসে বিষাক্ত ধোঁয়া প্রবেশ করায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের ভর্তি করা হয়েছিল।
সোহাগের এই মৃত্যুতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ অনেকেই তাকে একজন প্রকৃত ‘সুপারহিরো বাবা’ এবং আত্মত্যাগী মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন