ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বোরহানউদ্দিনে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পরও ইজারাবিহীন বাজারে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ


বোরহানউদ্দিনে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পরও ইজারাবিহীন বাজারে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

ভোলার বোরহানউদ্দিনে সরকারি ইজারা না থাকা সত্ত্বেও, বাজার থেকে ‘খাজনা’র নামে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ওঠেছে। স্থানীয়দের মতে, কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সম্প্রতি একজন স্থানীয় বিএনপি নেতা আবারও অর্থ উত্তোলন শুরু করেছেন। এ বিষয়ে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুজাহিদুর রহমান (২২) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার টবগী ইউনিয়নের নতুন হাকিমউদ্দিন বাজারটি সরকারি ইজারার আওতায় না থাকলেও সেখানে দীর্ঘ দিন ধরে ‘খাজনা’র নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছিল। এ অবস্থায় প্রতিবাদ করতে গিয়ে গত বছরের ১৩ জুন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুজাহিদুর রহমান বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরেন। পরবর্তীতে ১৪ জুন তিনি বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের অবৈধ চাঁদা না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যবসায়ীদের অবৈধ চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ করার কারণে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীরা তাকে মারধর করে।

এই ঘটনায় তার ব্যবহৃত মোবাইলও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। মুজাহিদুর রহমান দাবি করেন, টবগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুহিন ফরাজি মোবাইল কলের মাধ্যমে লোকজন জড়ো করে হামলায় নেতৃত্ব দেন। এরপর থেকে ঘটনাটি বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ পায়। পরে, তৎকালীন ইউএনও রায়হানুজ্জামানের নির্দেশে ১৫ জুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান সরেজমিনে বাজার পরিদর্শন করেন। তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের বক্তব্য শুনে নিশ্চিত হন যে, বাজারটি তখনও সরকারিভাবে ইজারাভুক্ত হয়নি। ফলে ‘খাজনা’র নামে অর্থ আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে চাঁদা আদায় বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই পরিস্থিতিতে, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে অভিযুক্তদের তলব করা হলেও তারা সেখানে উপস্থিত হননি, এ বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, হামলার ঘটনাটির পর বোরহানউদ্দিন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি দানেশ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক তানজিল হাওলাদার টবগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুহিন ফরাজিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কিছুদিন চাঁদা আদায় বন্ধ থাকলেও, এ বছরের ১৪ এপ্রিল থেকে স্থানীয় আরেক বিএনপি নেতা বাবুল ফরাজির নেতৃত্বে আবার ‘খাজনা’র নামে অর্থ আদায় শুরু হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের দাবি। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মুজাহিদুর রহমান ৩০ জুন ইউএনও মনোরঞ্জন বর্মণের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি গ্রহণ করে ইউএনও বিষয়টি তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) রঞ্জিত কুমার দাসকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে কথা বললে তারা জানান, এটি আওয়ামী লীগের সময় থেকেই ঐ বাজারে দীর্ঘ সময় ধরে খাজনা উত্তোলন হচ্ছিল। তাদের মতে, যদি কেউ বাধা না দেয়, তাহলে এখন কেন এত অভিযোগ উঠছে। সতর্কতার সাথে, তারা উল্লেখ করেন যে, এই বাজার টবগী রাস্তার মাথা বাজারের সাথে সংযুক্ত রয়েছে। তবে স্থানীয়দের আশা, প্রশাসন দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে এবং ইজারাবিহীন বাজারে অবৈধ অর্থ আদায় স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুলাদীতে ত্রাণের ভাগ না মেলায় প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৯ এম


মুলাদীতে ত্রাণের ভাগ না মেলায় প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

বরিশালের মুলাদীতে ইউনিয়ন পরিষদে ত্রাণের চাল বিতরণের ভাগ না মেলায় একটি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর এবং গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা মুলাদী সদর ইউনিয়ন পরিষদে এই ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নদীভাঙন কবলিত অসহায় মানুষের জন্য সরকারি ত্রাণের চাল বিতরণের জন্য তালিকা প্রস্তুত করার সময় ৬ নম্বর মুলাদী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. জাকির হোসেন সিকদারকে তার কার্যালয়ে ঢুকে মারধর করা হয়। এই সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব বেল্লাল হোসেন সরদার এবং তার লোকজন ডাকাতি করে মারধর ও হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন জাকির হোসেন সিকদার। এ ঘটনা নিয়ে জাকির হোসেন বাদী হয়ে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ ও জিডি সূত্রে জানা যায়, মুলাদী সদর ইউনিয়নের নদীভাঙন কবলিত অসহায় মানুষের জন্য মোট ৩ টন চাল বরাদ্দ করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন সিকদার তার অফিস কক্ষে বসে ওই চাল প্রদানের জন্য সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করছিলেন। এ সময় বেল্লাল হোসেন সরদার এবং সুজন চৌকিদারসহ ৫ থেকে ৬ ছাত্রদল নেতাকর্মী হঠাৎ তার রুমে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা জানতে চান, কার অনুমতিতে এই তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে— তা নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করে ওই কর্মকর্তাকে চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুসি মেরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এরপর বের হয়ে যাওয়ার সময় তারা ওই কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করার হুমকি প্রদান করেন। ভুক্তভোগী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন সিকদার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, বেল্লাল সরদার এর আগেও তার অফিসের আসবাবপত্র তছনছ করেছিলেন। এছাড়া বিগত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় ভিজিএফ চাল বিতরণে বাধা সৃষ্টি করে বরাদ্দের ৫০ শতাংশ চাল তাদের দেওয়ার দাবি করেছিলেন। এমনকি দরিদ্র মহিলাদের দুই বছর মেয়াদী ভিডব্লিউবি চালের কার্ড বিতরণের সময়ও তারা জোরপূর্বক কার্ড ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুলাদী সদর ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, নদী ভাঙন কবলিত ১৫০ জন মানুষের জন্য ২০ কেজি করে ৩ টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। ওই চালের ২০ শতাংশ হিসেবে ৩০ জনের তালিকা দিতে চেয়েছিলেন বেল্লাল সরদার। কিন্তু পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে ২০ জনের নাম দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। এতে তিনি রাজি না হলে চেয়ারম্যান তাকে ২৫ জনের নাম দিতে বলেন। পরে চেয়ারম্যান পরিষদ থেকে বের হওয়ার পর ছাত্রদল নেতা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর ও গুলি করার হুমকি দেন। মুলাদী সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. কামরুল আহসান এ ঘটনার বিষয়ে বলেছেন, "আমি ঘটনাটি শুনেছি। অসুস্থ থাকায় ঘটনার দিন পরিষদ থেকে তাড়াতাড়ি বের হয়েছিলাম।

এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।" উপজেলা ছাত্রদল সদস্য সচিব বেল্লাল হোসেন সরদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর কিংবা হত্যার হুমকি দেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার আমি পরিষদে যাইনি। তবে ওইদিন কয়েকজনের সঙ্গে জাকির হোসেনের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির বিষয়ে শুনেছি। আমি মুলাদী সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও জিডি করা হয়েছে।" মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, "ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা জিডি করেছেন। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার বলেছেন, "মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিখিত অভিযোগ করেছেন। থানায় জিডি হয়েছে এবং জিডি কপি আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আদালতের নির্দেশনা পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গৌরনদীতে কচুরিপানা ও বাঁচাতে পারল না চোর সুজনকে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪১ এম


গৌরনদীতে কচুরিপানা ও বাঁচাতে পারল না চোর সুজনকে!

গল্পের এই বাস্তব ঘটনা থ্রিলার সিনেমাকেও হার মানিয়ে দেয়। গ্রামবাসীর তাড়া খেয়ে, খালের ঠাণ্ডা পানিতে, কচুরিপানার নিচে মাত্র তিন ঘণ্টা লুকিয়ে রইলেন এক যুবক। তবে বিধিবাম! প্রকৃতির নিয়মে শরীর সায় না দিলেও, শেষ রক্ষা হলো না। অবশেষে বুধবার ভোরে অর্ধ-অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাকে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের পূর্ব শরিফাবাদ গ্রামে। আটক যুবকের নাম সুজন হাওলাদার (৩২)। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার সময়। পূর্ব শরিফাবাদ গ্রামের ব্যবসায়ী ইউনুস হাওলাদারের বন্ধ দোকানের টিনের বেড়া সন্তর্পণে কাটতে শুরু করে সুজন। তার মনে হয়েছিল কাজ শেষ করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাবে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা সজীব হাওলাদার বিষয়টি টের পেয়ে যান। তাঁর একটি চিৎকারেই পুরো গ্রামের ঘুম ভেঙে যায়। জেগে ওঠা গ্রামবাসীদের মারমুখী তাড়া খেয়ে সুজন দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে দৌড়াতে শুরু করে। পালানোর পথ না পেয়ে সে দক্ষিণের দোকানের পাশের একটি খালে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

গ্রেপ্তারের ভয়ে খালের ঘন কচুরিপানার নিচে নিজেকে সম্পূর্ণ ডুবিয়ে রাখে সুজন। শুধুমাত্র শ্বাস নিতে নাকটুকু পানির ওপরে জাগিয়ে রেখেছিল। সেই সময় ঘড়ির কাঁটায় ভোর সাড়ে ৩টা বাজিয়ে ছিল। এদিকে গ্রামবাসীও দমবার পাত্র ছিল না। তারা চোরের খোঁজে টর্চের আলো ফেলে খালের চারপাশে চলতে থাকে চিরুনি তল্লাশি। জলরাশির নিচে শীত এবং ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সময়ের সাথে যুদ্ধ করতে থাকে সুজন। অবশেষে টানা সাড়ে তিন ঘণ্টার লুকোচুরি শেষে, ভোর সাড়ে ৬টার দিকে কচুরিপানার জঙ্গল থেকে তাকে খুঁজে বের করে জীবিতভাবে আবিষ্কার করেন গ্রামবাসী।

দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকার কারণে সুজন মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। গ্রামবাসীরা গণপিটুনি না দিয়ে মানবিকতা দেখান। স্থানীয় ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন জানান, “যুবকের শারীরিক অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক ছিল। এজন্য মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তার বড় ভাইয়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তবে ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই; সে সুস্থ হলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল বরিশালটাইমসকে জানান, ঘটনাটি এখনো থানায় কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চরবাড়িয়ায় শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে মারধর, অভিভাবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৮ এম


চরবাড়িয়ায় শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে মারধর, অভিভাবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

বরিশালে শ্রেণি কক্ষে ঢুকে পঞ্চম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী পাশাপাশি বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের উপর মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক অভিভাবকের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল শহরের সংলগ্ন চরবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই বর্বর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত তিন শিক্ষার্থী বর্তমানে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আবুজাফর। তিনি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাবা। জানা গেছে, বিদ্যালয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে আবুজাফরের ছেলে মাশরাফির একটি বাগ্‌বিতণ্ডা ঘটে। ছেলে বাড়িতে বিষয়টি জানালে আবুজাফর ক্ষিপ্ত হয়ে সে সময় বিদ্যালয়ে এসে ক্লাস চলাকালীন শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ৩ শিক্ষার্থী ও দুই শিক্ষককে মারধর করতে শুরু করেন।

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযুক্ত আবুজাফরের ছেলে মাশরাফি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুদিন আগে মাশরাফির সহপাঠীদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল। বিষয়টি তার কাছে জানতে পেরে গতকাল বেলা ১২টার দিকে শ্রেণি কক্ষে ঢুকে সানীম, অভি শীল ও শাহাদাত হোসেনকে মারধর করতে শুরু করেন আবুজাফর। বাধা দিতে গেলে শ্রেণির শিক্ষক শাহিন হোসেন ও মহিউদ্দিনও মারধরের শিকার হন। এ বিষয় নিয়ে অভিযুক্ত আবুজাফরের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহিদুল আলম তুহিন এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘আবুজাফর শ্রেণি কক্ষে প্রবেশ করে ৩ শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন।

তিনি থামাতে গেলে শিক্ষকদেরও লাঞ্ছিত করা হয়।’ বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল জানাচ্ছেন, তিনি এই ঘটনার বিষয়ে শুনেছেন। ঐ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজিৎ চন্দ্র নাথ জানান, ‘পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত পালিয়ে গেছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উজিরপুরে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, ধামাচাপায় সালিশ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০২ এম


উজিরপুরে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, ধামাচাপায় সালিশ!

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়নের মধ্য শোলক গ্রামে এক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেনের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ রয়েছে যে, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার উদ্দেশ্যে স্থানীয়ভাবে সালিশের আয়োজন করা হয়।

সালিশের সময় অভিযুক্তকে প্রতীকীভাবে একটি জুতার আঘাত করা হয়। একইসাথে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মধ্য শোলক গ্রামের মৃত মোসলেম আলী খানের ছেলে এবং তিন সন্তানের জনক মনির হোসেন স্থানীয় এক অসহায় পরিবারের প্রতিবন্ধী তরুণীকে একটি পানবরজে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এই সময় তরুণীর চিৎকার শুনে পাশের এক গৃহবধূ ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে অভিযুক্ত দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত সোমবার রাতে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্দেশ্যে আলাউদ্দিন চকদারের ছেলে হেমায়েত চকদার, সালাম আলী হাওলাদারের ছেলে মোহল কামাল, মৃত মালেক হাওলাদারের ছেলে খোসরু এবং ছরোয়ার খানের স্ত্রী তাছলিমা অভিযুক্ত মনির হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান। সেখানে অভিযুক্তকে প্রতীকীভাবে একটি জুতার আঘাত করা হয় এবং ভুক্তভোগীর মায়ের হাতে ১৫ হাজার টাকা তুলে দিয়ে বিষয়ে আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করে বলেন, “আমি ওই টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানাই। এরপর আমাকে বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে সমস্যা হবে।” তিনি আরও দাবি করেন, মনির হোসেন এর আগেও একবার তাঁর মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনির হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে মোহল কামাল বলেন, “আমরা শুধুমীমাংসার জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। এর বেশি কিছু জানি না। বিষয়টি হেমায়েত চকদার ভালো বলতে পারবেন।”

হেমায়েত চকদার বলেন, “পাঁচ বছর আগে একটি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি কোনো ঘটনা সম্পর্কে আমার জানা নেই। আমি সালিশের শেষ পর্যায়ে সেখানে গিয়েছিলাম। শুরু থেকেই বাদী পক্ষকে থানায় যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।” উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, মনির হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও নারীদের উত্ত্যক্ত ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্য শোলকসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%