প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বরিশালের মুলাদীতে ইউনিয়ন পরিষদে ত্রাণের চাল বিতরণের ভাগ না মেলায় একটি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর এবং গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা মুলাদী সদর ইউনিয়ন পরিষদে এই ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নদীভাঙন কবলিত অসহায় মানুষের জন্য সরকারি ত্রাণের চাল বিতরণের জন্য তালিকা প্রস্তুত করার সময় ৬ নম্বর মুলাদী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. জাকির হোসেন সিকদারকে তার কার্যালয়ে ঢুকে মারধর করা হয়। এই সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব বেল্লাল হোসেন সরদার এবং তার লোকজন ডাকাতি করে মারধর ও হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন জাকির হোসেন সিকদার। এ ঘটনা নিয়ে জাকির হোসেন বাদী হয়ে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ ও জিডি সূত্রে জানা যায়, মুলাদী সদর ইউনিয়নের নদীভাঙন কবলিত অসহায় মানুষের জন্য মোট ৩ টন চাল বরাদ্দ করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন সিকদার তার অফিস কক্ষে বসে ওই চাল প্রদানের জন্য সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করছিলেন। এ সময় বেল্লাল হোসেন সরদার এবং সুজন চৌকিদারসহ ৫ থেকে ৬ ছাত্রদল নেতাকর্মী হঠাৎ তার রুমে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা জানতে চান, কার অনুমতিতে এই তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে— তা নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করে ওই কর্মকর্তাকে চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুসি মেরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এরপর বের হয়ে যাওয়ার সময় তারা ওই কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করার হুমকি প্রদান করেন। ভুক্তভোগী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন সিকদার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, বেল্লাল সরদার এর আগেও তার অফিসের আসবাবপত্র তছনছ করেছিলেন। এছাড়া বিগত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় ভিজিএফ চাল বিতরণে বাধা সৃষ্টি করে বরাদ্দের ৫০ শতাংশ চাল তাদের দেওয়ার দাবি করেছিলেন। এমনকি দরিদ্র মহিলাদের দুই বছর মেয়াদী ভিডব্লিউবি চালের কার্ড বিতরণের সময়ও তারা জোরপূর্বক কার্ড ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুলাদী সদর ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, নদী ভাঙন কবলিত ১৫০ জন মানুষের জন্য ২০ কেজি করে ৩ টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। ওই চালের ২০ শতাংশ হিসেবে ৩০ জনের তালিকা দিতে চেয়েছিলেন বেল্লাল সরদার। কিন্তু পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে ২০ জনের নাম দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। এতে তিনি রাজি না হলে চেয়ারম্যান তাকে ২৫ জনের নাম দিতে বলেন। পরে চেয়ারম্যান পরিষদ থেকে বের হওয়ার পর ছাত্রদল নেতা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর ও গুলি করার হুমকি দেন। মুলাদী সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. কামরুল আহসান এ ঘটনার বিষয়ে বলেছেন, "আমি ঘটনাটি শুনেছি। অসুস্থ থাকায় ঘটনার দিন পরিষদ থেকে তাড়াতাড়ি বের হয়েছিলাম।
এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।" উপজেলা ছাত্রদল সদস্য সচিব বেল্লাল হোসেন সরদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর কিংবা হত্যার হুমকি দেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার আমি পরিষদে যাইনি। তবে ওইদিন কয়েকজনের সঙ্গে জাকির হোসেনের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির বিষয়ে শুনেছি। আমি মুলাদী সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও জিডি করা হয়েছে।" মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, "ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা জিডি করেছেন। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার বলেছেন, "মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিখিত অভিযোগ করেছেন। থানায় জিডি হয়েছে এবং জিডি কপি আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আদালতের নির্দেশনা পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন