প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভোলার বোরহানউদ্দিনে সরকারি ইজারা না থাকা সত্ত্বেও, বাজার থেকে ‘খাজনা’র নামে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ওঠেছে। স্থানীয়দের মতে, কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সম্প্রতি একজন স্থানীয় বিএনপি নেতা আবারও অর্থ উত্তোলন শুরু করেছেন। এ বিষয়ে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুজাহিদুর রহমান (২২) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার টবগী ইউনিয়নের নতুন হাকিমউদ্দিন বাজারটি সরকারি ইজারার আওতায় না থাকলেও সেখানে দীর্ঘ দিন ধরে ‘খাজনা’র নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছিল। এ অবস্থায় প্রতিবাদ করতে গিয়ে গত বছরের ১৩ জুন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুজাহিদুর রহমান বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরেন। পরবর্তীতে ১৪ জুন তিনি বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের অবৈধ চাঁদা না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যবসায়ীদের অবৈধ চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ করার কারণে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীরা তাকে মারধর করে।
এই ঘটনায় তার ব্যবহৃত মোবাইলও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। মুজাহিদুর রহমান দাবি করেন, টবগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুহিন ফরাজি মোবাইল কলের মাধ্যমে লোকজন জড়ো করে হামলায় নেতৃত্ব দেন। এরপর থেকে ঘটনাটি বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ পায়। পরে, তৎকালীন ইউএনও রায়হানুজ্জামানের নির্দেশে ১৫ জুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান সরেজমিনে বাজার পরিদর্শন করেন। তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের বক্তব্য শুনে নিশ্চিত হন যে, বাজারটি তখনও সরকারিভাবে ইজারাভুক্ত হয়নি। ফলে ‘খাজনা’র নামে অর্থ আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে চাঁদা আদায় বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই পরিস্থিতিতে, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে অভিযুক্তদের তলব করা হলেও তারা সেখানে উপস্থিত হননি, এ বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, হামলার ঘটনাটির পর বোরহানউদ্দিন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি দানেশ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক তানজিল হাওলাদার টবগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুহিন ফরাজিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কিছুদিন চাঁদা আদায় বন্ধ থাকলেও, এ বছরের ১৪ এপ্রিল থেকে স্থানীয় আরেক বিএনপি নেতা বাবুল ফরাজির নেতৃত্বে আবার ‘খাজনা’র নামে অর্থ আদায় শুরু হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের দাবি। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মুজাহিদুর রহমান ৩০ জুন ইউএনও মনোরঞ্জন বর্মণের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি গ্রহণ করে ইউএনও বিষয়টি তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) রঞ্জিত কুমার দাসকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে কথা বললে তারা জানান, এটি আওয়ামী লীগের সময় থেকেই ঐ বাজারে দীর্ঘ সময় ধরে খাজনা উত্তোলন হচ্ছিল। তাদের মতে, যদি কেউ বাধা না দেয়, তাহলে এখন কেন এত অভিযোগ উঠছে। সতর্কতার সাথে, তারা উল্লেখ করেন যে, এই বাজার টবগী রাস্তার মাথা বাজারের সাথে সংযুক্ত রয়েছে। তবে স্থানীয়দের আশা, প্রশাসন দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে এবং ইজারাবিহীন বাজারে অবৈধ অর্থ আদায় স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন