বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:৪১ এম
গল্পের এই বাস্তব ঘটনা থ্রিলার সিনেমাকেও হার মানিয়ে দেয়। গ্রামবাসীর তাড়া খেয়ে, খালের ঠাণ্ডা পানিতে, কচুরিপানার নিচে মাত্র তিন ঘণ্টা লুকিয়ে রইলেন এক যুবক। তবে বিধিবাম! প্রকৃতির নিয়মে শরীর সায় না দিলেও, শেষ রক্ষা হলো না। অবশেষে বুধবার ভোরে অর্ধ-অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাকে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের পূর্ব শরিফাবাদ গ্রামে। আটক যুবকের নাম সুজন হাওলাদার (৩২)। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার সময়। পূর্ব শরিফাবাদ গ্রামের ব্যবসায়ী ইউনুস হাওলাদারের বন্ধ দোকানের টিনের বেড়া সন্তর্পণে কাটতে শুরু করে সুজন। তার মনে হয়েছিল কাজ শেষ করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাবে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা সজীব হাওলাদার বিষয়টি টের পেয়ে যান। তাঁর একটি চিৎকারেই পুরো গ্রামের ঘুম ভেঙে যায়। জেগে ওঠা গ্রামবাসীদের মারমুখী তাড়া খেয়ে সুজন দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে দৌড়াতে শুরু করে। পালানোর পথ না পেয়ে সে দক্ষিণের দোকানের পাশের একটি খালে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
গ্রেপ্তারের ভয়ে খালের ঘন কচুরিপানার নিচে নিজেকে সম্পূর্ণ ডুবিয়ে রাখে সুজন। শুধুমাত্র শ্বাস নিতে নাকটুকু পানির ওপরে জাগিয়ে রেখেছিল। সেই সময় ঘড়ির কাঁটায় ভোর সাড়ে ৩টা বাজিয়ে ছিল। এদিকে গ্রামবাসীও দমবার পাত্র ছিল না। তারা চোরের খোঁজে টর্চের আলো ফেলে খালের চারপাশে চলতে থাকে চিরুনি তল্লাশি। জলরাশির নিচে শীত এবং ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সময়ের সাথে যুদ্ধ করতে থাকে সুজন। অবশেষে টানা সাড়ে তিন ঘণ্টার লুকোচুরি শেষে, ভোর সাড়ে ৬টার দিকে কচুরিপানার জঙ্গল থেকে তাকে খুঁজে বের করে জীবিতভাবে আবিষ্কার করেন গ্রামবাসী।
দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকার কারণে সুজন মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। গ্রামবাসীরা গণপিটুনি না দিয়ে মানবিকতা দেখান। স্থানীয় ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন জানান, “যুবকের শারীরিক অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক ছিল। এজন্য মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তার বড় ভাইয়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তবে ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই; সে সুস্থ হলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল বরিশালটাইমসকে জানান, ঘটনাটি এখনো থানায় কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশালে শ্রেণি কক্ষে ঢুকে পঞ্চম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী পাশাপাশি বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের উপর মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক অভিভাবকের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল শহরের সংলগ্ন চরবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই বর্বর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত তিন শিক্ষার্থী বর্তমানে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আবুজাফর। তিনি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাবা। জানা গেছে, বিদ্যালয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে আবুজাফরের ছেলে মাশরাফির একটি বাগ্বিতণ্ডা ঘটে। ছেলে বাড়িতে বিষয়টি জানালে আবুজাফর ক্ষিপ্ত হয়ে সে সময় বিদ্যালয়ে এসে ক্লাস চলাকালীন শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ৩ শিক্ষার্থী ও দুই শিক্ষককে মারধর করতে শুরু করেন।
বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযুক্ত আবুজাফরের ছেলে মাশরাফি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুদিন আগে মাশরাফির সহপাঠীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়েছিল। বিষয়টি তার কাছে জানতে পেরে গতকাল বেলা ১২টার দিকে শ্রেণি কক্ষে ঢুকে সানীম, অভি শীল ও শাহাদাত হোসেনকে মারধর করতে শুরু করেন আবুজাফর। বাধা দিতে গেলে শ্রেণির শিক্ষক শাহিন হোসেন ও মহিউদ্দিনও মারধরের শিকার হন। এ বিষয় নিয়ে অভিযুক্ত আবুজাফরের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহিদুল আলম তুহিন এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘আবুজাফর শ্রেণি কক্ষে প্রবেশ করে ৩ শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন।
তিনি থামাতে গেলে শিক্ষকদেরও লাঞ্ছিত করা হয়।’ বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল জানাচ্ছেন, তিনি এই ঘটনার বিষয়ে শুনেছেন। ঐ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজিৎ চন্দ্র নাথ জানান, ‘পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত পালিয়ে গেছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়নের মধ্য শোলক গ্রামে এক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেনের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ রয়েছে যে, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার উদ্দেশ্যে স্থানীয়ভাবে সালিশের আয়োজন করা হয়।
সালিশের সময় অভিযুক্তকে প্রতীকীভাবে একটি জুতার আঘাত করা হয়। একইসাথে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মধ্য শোলক গ্রামের মৃত মোসলেম আলী খানের ছেলে এবং তিন সন্তানের জনক মনির হোসেন স্থানীয় এক অসহায় পরিবারের প্রতিবন্ধী তরুণীকে একটি পানবরজে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এই সময় তরুণীর চিৎকার শুনে পাশের এক গৃহবধূ ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে অভিযুক্ত দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত সোমবার রাতে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্দেশ্যে আলাউদ্দিন চকদারের ছেলে হেমায়েত চকদার, সালাম আলী হাওলাদারের ছেলে মোহল কামাল, মৃত মালেক হাওলাদারের ছেলে খোসরু এবং ছরোয়ার খানের স্ত্রী তাছলিমা অভিযুক্ত মনির হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান। সেখানে অভিযুক্তকে প্রতীকীভাবে একটি জুতার আঘাত করা হয় এবং ভুক্তভোগীর মায়ের হাতে ১৫ হাজার টাকা তুলে দিয়ে বিষয়ে আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করে বলেন, “আমি ওই টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানাই। এরপর আমাকে বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে সমস্যা হবে।” তিনি আরও দাবি করেন, মনির হোসেন এর আগেও একবার তাঁর মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনির হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে মোহল কামাল বলেন, “আমরা শুধুমীমাংসার জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। এর বেশি কিছু জানি না। বিষয়টি হেমায়েত চকদার ভালো বলতে পারবেন।”
হেমায়েত চকদার বলেন, “পাঁচ বছর আগে একটি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি কোনো ঘটনা সম্পর্কে আমার জানা নেই। আমি সালিশের শেষ পর্যায়ে সেখানে গিয়েছিলাম। শুরু থেকেই বাদী পক্ষকে থানায় যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।” উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, মনির হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও নারীদের উত্ত্যক্ত ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্য শোলকসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকারী চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করার কারণে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়নের ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা সাজাপ্রাপ্ত আসামী আছমা আক্তারকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। জানা গেছে, বিভাগীয় মামলার শুনানী শেষে অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ উল্লেখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের দুনীতি বন্ধ করার জন্য এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার অফিস সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আছমা আক্তার অন্যায়ভাবে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাছরং ও জম্বুদীপ মৌজার এস.এ খতিয়ান রেকর্ড সংশোধন করেন। উল্লেখিত কাজ করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত অফিসার না হওয়া সত্ত্বেও তিনি এমন অনিয়মের সাথে যুক্ত ছিলেন।
বিষয়টি আছমা আক্তার লিখিতভাবে স্বীকার করায় তার বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার শুনানীতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) এর ২০১৮ এর বিধিমালা অনুসারে আছমা আক্তারকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। গত রবিবার শুনানী শেষে বিভাগীয় কমিশনার উল্লেখিত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও বিষয়টি বুধবার দুপুরের পর প্রকাশ্যে আসে। এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ জানান, বিভাগীয় মামলার পর শুনানী শেষে ওই ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় উল্লেখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এমন পদক্ষেপে ভবিষ্যতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এ ধরনের অনিয়মের সাথে জড়ানো থেকে বিরত থাকবে বলেও তিনি মনে করেছেন। এর আগে আদালতের রায়ের চার মাস পর বাদীর অভিযোগ পেয়ে ৮ মাসের সাজা ও ৮ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রাপ্ত আসামী উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা আছমা আক্তারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তিনি ওই মামলার কথা গোপন রেখে নিয়মিত অফিস করার পাশাপাশি বেতন-ভাতা নিতেন। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিসের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন ওই মামলার বাদী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডাক্তার মো. খোরশেদ আলম সেলিম।
গত ৩ মার্চ তিনি সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী বিশারকান্দি ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা আছমা আক্তারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত ও গ্রেফতার দাবিতে বরিশাল জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করেন। ফলে জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন সাজাপ্রাপ্ত আছমা আক্তারকে বরখাস্ত করেন। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল ডাঃ খোরশেদ আলম সেলিম বাদী হয়ে বিশারকান্দি ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা আছমা আক্তারের বিরুদ্ধে বরিশাল প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে অর্থ আত্মসাৎ ও চেক ডিজনার মামলা দায়ের করেন।
এ মামলার পর থেকে আছমা আক্তার আদালতে হাজির না হয়ে পলাতক থাকা অবস্থায় নিয়মিত অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকেন। এ সময় আদালতের বিচারক ওই মামলায় আছমাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য একাধিকবার নোটিশ করেন। কিন্তু আছমা আক্তার আদালতে হাজির না হওয়ার কারণে বিচারক তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই বছরের ৬ নভেম্বর আদালতের বিচারক ওই মামলায় আছমা আক্তারের বিরুদ্ধে ৮ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৮ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের রায় দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। গতবারের তুলনায় এবারের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৯ হাজার ৪৭২ জন। এদের মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন এবং মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অংশ নিচ্ছেন ২ লাখ ৮৬৯ জন শিক্ষার্থী।
এবার দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষায় একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে তাই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই।
আজ বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হবে এবারের পরীক্ষা। সারা দেশে ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসবের মধ্যে ৪০টি কেন্দ্র ঢাকায় রয়েছে।
প্রস্ততকৃত ৩৫টি নির্দেশনার মধ্যে প্রশ্নপত্র বিতরণ, উত্তরপত্র সংরক্ষণ, ক্যালকুলেটর ব্যবহার, শৌচাগার তল্লাশিসহ পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বেশ কিছু নিয়মাবলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেছেন, প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। যদি প্রশ্নফাঁসের মতো কোনো ঘটনা ঘটে, তাহলে সারা দেশে ওই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করে পরে নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, যদি কোনো কেন্দ্রে নকল ধরা পড়ে, তাহলে শুধু পরীক্ষার্থী নয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষাবিদরা মন্তব্য করেছেন, সব বোর্ডে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগটি ইতিবাচক। তবে প্রশ্নফাঁস রোধ এবং সব বোর্ডে একই মানদণ্ডে উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
এবারের লিখিত পরীক্ষা ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৫ আগস্টের মধ্যে শেষ হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ