ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সীমান্ত পেরিয়ে বাড়ছে চোরাচালান, ময়মনসিংহে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক


সীমান্ত পেরিয়ে বাড়ছে চোরাচালান, ময়মনসিংহে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক

ময়মনসিংহ, যা শিক্ষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী জেলা হিসেবে পরিচিত, সেখানে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সীমান্তবর্তী উপজেলা দিয়ে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল, এসকাফ সিরাপ ও মদসহ বিভিন্ন প্রকারের মাদক দেশে প্রবেশ করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চললেও মাদক চোরাচালান থামছে না। ফলে সরাসরি এবং অনলাইন— দুই মাধ্যমেই মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে তরুণ সমাজ।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, দেশে মাদক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি ময়মনসিংহ বিভাগে, যা ৬ দশমিক ০২ শতাংশ। জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভাগে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮১২ জন।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, ময়মনসিংহ জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা দিয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের মাদক পাচার হয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান ও নজরদারির পরও চোরাচালান বন্ধ করা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে, ময়মনসিংহ নগরের বলাশপুর এলাকায় দিনের আলোতেই প্রকাশ্যে মাদক কেনা-বেচা হয়। অল্প টাকায় সহজেই মাদক সংগ্রহ করে অনেকেই নেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মাদক সেবনের কারণে অনেকেই শারীরিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হলেও তারা নেশার বৃত্ত থেকে বের হতে পারছেন না। উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত— সব শ্রেণির মানুষের মধ্যেই মাদকাসক্তি বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি করা হচ্ছে, নগরের পুরোহিতপাড়া, কিষ্টপুর, বলাশপুর ও কেওয়াটখালী বর্তমানে মাদকের অন্যতম স্পটে পরিণত হয়েছে। এসব এলাকা থেকেই শহরের বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর জেলা সাধারণ সম্পাদক ইয়াজদানী কোরাইশী জানান, মাদক এখন ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণ সমাজ। শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

ময়মনসিংহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশে উৎপাদন না হলেও অধিকাংশ মাদক সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করছে। মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ বলেন, সীমান্তে মাদক চোরাচালান রোধে আমাদের অভিযান ও টহল অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান জিরো টলারেন্স।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ আ.লীগ কর্মী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১৮ পি.এম


চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ আ.লীগ কর্মী

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে এনায়েত আলী (৫৫) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক কর্মী আহত হয়েছেন। 

সোমবার (২৯ জুন) রাত ১১টার দিকে উপজেলার আমিলাইশ ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়া সোলতান আহমদের বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য লোকমান হাকিম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, আহত এনায়েত আলী একই এলাকার বাসিন্দা। 

এ বিষয়ে লোকমান হাকিম বলেন, এনায়েত আলী গ্রামের দোকান থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন। বাড়ির পাশে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ১০ থেকে ১২ সদস্যের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তার ওপর এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। গুলির আওয়াজ শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে এনায়েতকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় বর্তমানে তাকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

এনায়েত আলীর ছোট ভাই লিয়াকত আলী বলেন, এলাকায় মসজিদ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে আমার ভাইয়ের বিরোধ চলছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক কারণেও তার ওপর হামলা হয়ে থাকতে পারে। তিনি হাতে, পায়ে ও বুকে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাসেল মিয়া বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং অভিযান চালিয়ে মো. রায়হান (২৬) নামে স্থানীয় এক তরুণকে আটক করে। হামলাকারীদের ছোড়া ছররা গুলিতে এনায়েত আলী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্জ্যমুক্ত করা হচ্ছে নগরীর প্রতিটি ড্রেন, জানালেন কেসিসি প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২১ পি.এম


বর্জ্যমুক্ত করা হচ্ছে নগরীর প্রতিটি ড্রেন, জানালেন কেসিসি প্রশাসক

 খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, সরকার দেশজুড়ে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার ঘোষণা করেছে।

একইসঙ্গে বৃক্ষরোপণের সেই অভিযানের অংশ হিসেবে নগরীর প্রত্যেকটি ড্রেনকে বর্জ্য মুক্ত করা হচ্ছে। এডিস মশার বংশ বিস্তারের স্থানসমূহও ধ্বংস করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের শেষ পর্যন্ত এ অভিযান চলবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আজ মঙ্গলবার সকালে নগরীর নতুন বাজার আবু হানিফ মাদরাসা প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর মাহবুব কায়সারের উদ্যোগে ২২নং ওয়ার্ড এলাকায় এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কেসিসি প্রশাসক আরও বলেন, ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশা সাধারণত সকালবেলা আক্রমণ করে থাকে। এ কারণে শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মশকমুক্ত করার চেষ্টা করছি।

বিশেষ এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান একদিকে যেমন ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করবে অন্যদিকে ড্রেনসমূহের পানি প্রবাহ বাড়বে। ফলে জলাবদ্ধতা থেকেও মুক্তি পাওয়া যাবে।

প্রশাসক মাদরাসা প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং এলাকাবাসীর মাঝে গাছের চারা বিতরণ করেন।

কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, ২২নং ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান হাবিবুর রহমান, সমাজসেবক ইউসুফ হারুন মজনু, তরিকুল্লাহ খান, জাহিদ কামাল টিটু, জিয়াউর রহমান জিয়া, সিরাজুল ইসলাম লিটন, খান মঈনুল হাসান মিঠুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পরে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর ২৯নং ওয়ার্ডের লোয়ার যশোর রোড ও হাজী মহসিন রোড সংলগ্ন ড্রেনের পেড়িমাটি উত্তোলন, বর্জ্য ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভিক্টোরিয়া ইনফ্যান্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সানফাওয়ার স্কুলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, মশক নিধন ও পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে প্রশাসক স্কুলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান এবং যে কোনো প্রয়োজনে কেসিসি’র সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন। 

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এজলাসে তোলার সময় পুলিশকে তিরস্কার করলেন হাসানুল হক ইনু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪৪ পি.এম


এজলাসে তোলার সময় পুলিশকে তিরস্কার করলেন হাসানুল হক ইনু

এজলাসে তোলার সময় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু দায়িত্বরত পুলিশকে শাসিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর এজলাসে তোলার সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে হাজতখানা থেকে নেওয়া হয়। এদিন হাসিমুখের সঙ্গে কাঠগড়ায় উঠতে দেখা যায় ইনুকে।

ওই ঘটনার সময় ধারণকৃত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আদালতে তোলার সময়ে ইনু একটি পুলিশ সদস্যকে আঙুল উঁচিয়ে শাসাচ্ছেন। যখন ওই পুলিশ সদস্য ইনুর হাত ধরতে যান, তখন ইনু উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘হাত ধরবেন না, ভদ্রতা শিখুন’।

এদিকে, এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা করেছেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল, এর মধ্যে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নাম্বার অভিযোগে আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছয় মাসেই ৮৪ বার দাম সমন্বয়, কোন পথে স্বর্ণের বাজার?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪৭ পি.এম


ছয় মাসেই ৮৪ বার দাম সমন্বয়, কোন পথে স্বর্ণের বাজার?

চলতি বছরের শুরু থেকেই অস্থিরতা চোখে পড়ছে স্বর্ণের বাজারে। যার ফলস্বরূপ চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই স্বর্ণের দাম সমন্বয় হয়েছে ৮৪ বার।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে দেশের বাজারে ৪১ বার বেড়েছে স্বর্ণের দাম, ৪২ দফা দাম কমানো হয়েছে এবং ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে স্বর্ণের দাম সমন্বয় হয়েছিল মাত্র ৪০ বার।

চলতি বছর শুরু হয়েছিল স্বর্ণের দাম পতনের মাধ্যমে। ১ জানুয়ারি ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা। সেই মাসের মধ্যে মোট ১৯ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, এর মধ্যে দাম বেড়েছিল ১৪ বার; এবং কমেছিল মাত্র ৫ বার।

এর মধ্যে ৪ ও ৫ জানুয়ারি টানা ২ দফা বাড়ানো হয় স্বর্ণের দাম। এরপর ৮ জানুয়ারি স্বর্ণের দাম কমিয়ে মূল্যবান এই ধাতুর মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা। তবে এরপরেই স্বর্ণের বাজারে টানা দাম বৃদ্ধির দৃশ্য দেখা যায়। ১০, ১২, ১৪, ১৯, ২০ ও ২১ জানুয়ারি টানা ৬ দফা বাড়ানো হয়। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম গিয়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকায়। এর মধ্যে ১২, ১৪, ১৯, ২০ ও ২১ তারিখে দাম বেড়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

গত ২২ জানুয়ারি ভরিতে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা কমিয়ে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৮ টাকা। তার পর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে গত ২৩ জানুয়ারি ৬ হাজার ২৯৯ টাকা বাড়িয়ে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এরপর ২৫, ২৬, ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি মূল্যবান এই ধাতুর দাম টানা বাড়ানো হয়। প্রতিবারেই নতুন রেকর্ড তৈরি হয়। গত ২৯ জানুয়ারি রেকর্ড ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকায় পৌঁছায়।

আবার এরপর ঘটে ছন্দপতন। গত ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি টানা ২ দফায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাজুস। এই দুই দিনে যথাক্রমে দাম কমানো হয় ভরিতে ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা ও ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা। ফলে দুই দিনে মোট ৩০ হাজার ৩৮৪ টাকা কমে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নিযুক্ত হয় ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকায়।

তবে ৩১ জানুয়ারি সকালে দাম কমানোর ১২ ঘণ্টার মধ্যে আবারও মূল্যবান এই ধাতুর দাম বাড়ানো হয়। ভরিতে ৪ হাজার ৮২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা।

ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে চলেছিল স্বর্ণের উত্থান-পতন। এই মাসে দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ১৫ বার। যেখানে বেড়েছে ৮ বার, আর কমেছে ৭ বার। মার্চ মাসে দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ১৬ বার। যেখানে বেড়েছে ৭ বার, আর কমেছে ৯ বার।

গত এপ্রিল মাসে মূল্যবান এই ধাতুর দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ১০ বার। যেখানে বেড়েছে ৪ বার; আর কমেছে ৬ বার। এরপর মে মাসে দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ৯ বার; যেখানে বেড়েছে ৪ বার এবং কমেছে ৫ বার।

চলতি জুন মাসে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ১৫ বার; যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ৪ বার, কমেছে ১০ দফা এবং ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

শেষে ৩০ জুন সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমানো হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাট নিয়ে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কেন এই অস্থিরতা?

বাজুস জানাচ্ছে, বিশ্ব বাজারে দাম ওঠা-নামা হলে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। এই কারণে দেশের বাজারে দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দেয়।

সম্প্রতি বাজুস সভাপতি এনামুল হক খান উল্লেখ করেছেন, স্বর্ণের বাজারে অস্থিতিশীলতার জন্য বাজুস বা বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি দায়ী নয়। মূলত বিদেশে স্টক করা বা কাগজে কলমে লেনদেনের কারণে এই ওঠা-নামা ঘটছে। বাজুস কেবল দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করে।

তিনি আরও বলেন, দাম সমন্বয়ের উদ্দেশ্য হচ্ছে পাচার রোধ করা এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতি না হওয়া নিশ্চিত করা। যদি দাম সমন্বয় না করা হয়, তাহলে দেশে দাম কম থাকলে স্বর্ণ পাচার হয়ে যাবে। তাই বিশ্ববাজারে ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারের দামও সমন্বয় করা হয়।

বাজুস সভাপতি জানিয়েছেন, বর্তমানে মানুষ স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে গ্রহণ করছে। তবে বিশ্বের বাজারে বিক্রিত স্বর্ণের অনেকাংশই কাগজে কলমের মাধ্যমে (পেপার ট্রেডিং) মজুদ করা হয়। বাস্তবে কতটা ফিজিক্যাল স্বর্ণ আছে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%