ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ছয় মাসেই ৮৪ বার দাম সমন্বয়, কোন পথে স্বর্ণের বাজার?


ছয় মাসেই ৮৪ বার দাম সমন্বয়, কোন পথে স্বর্ণের বাজার?

চলতি বছরের শুরু থেকেই অস্থিরতা চোখে পড়ছে স্বর্ণের বাজারে। যার ফলস্বরূপ চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই স্বর্ণের দাম সমন্বয় হয়েছে ৮৪ বার।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে দেশের বাজারে ৪১ বার বেড়েছে স্বর্ণের দাম, ৪২ দফা দাম কমানো হয়েছে এবং ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে স্বর্ণের দাম সমন্বয় হয়েছিল মাত্র ৪০ বার।

চলতি বছর শুরু হয়েছিল স্বর্ণের দাম পতনের মাধ্যমে। ১ জানুয়ারি ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা। সেই মাসের মধ্যে মোট ১৯ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, এর মধ্যে দাম বেড়েছিল ১৪ বার; এবং কমেছিল মাত্র ৫ বার।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এর মধ্যে ৪ ও ৫ জানুয়ারি টানা ২ দফা বাড়ানো হয় স্বর্ণের দাম। এরপর ৮ জানুয়ারি স্বর্ণের দাম কমিয়ে মূল্যবান এই ধাতুর মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা। তবে এরপরেই স্বর্ণের বাজারে টানা দাম বৃদ্ধির দৃশ্য দেখা যায়। ১০, ১২, ১৪, ১৯, ২০ ও ২১ জানুয়ারি টানা ৬ দফা বাড়ানো হয়। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম গিয়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকায়। এর মধ্যে ১২, ১৪, ১৯, ২০ ও ২১ তারিখে দাম বেড়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

গত ২২ জানুয়ারি ভরিতে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা কমিয়ে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৮ টাকা। তার পর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে গত ২৩ জানুয়ারি ৬ হাজার ২৯৯ টাকা বাড়িয়ে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এরপর ২৫, ২৬, ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি মূল্যবান এই ধাতুর দাম টানা বাড়ানো হয়। প্রতিবারেই নতুন রেকর্ড তৈরি হয়। গত ২৯ জানুয়ারি রেকর্ড ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকায় পৌঁছায়।

আবার এরপর ঘটে ছন্দপতন। গত ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি টানা ২ দফায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাজুস। এই দুই দিনে যথাক্রমে দাম কমানো হয় ভরিতে ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা ও ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা। ফলে দুই দিনে মোট ৩০ হাজার ৩৮৪ টাকা কমে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নিযুক্ত হয় ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকায়।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

তবে ৩১ জানুয়ারি সকালে দাম কমানোর ১২ ঘণ্টার মধ্যে আবারও মূল্যবান এই ধাতুর দাম বাড়ানো হয়। ভরিতে ৪ হাজার ৮২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা।

ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে চলেছিল স্বর্ণের উত্থান-পতন। এই মাসে দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ১৫ বার। যেখানে বেড়েছে ৮ বার, আর কমেছে ৭ বার। মার্চ মাসে দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ১৬ বার। যেখানে বেড়েছে ৭ বার, আর কমেছে ৯ বার।

গত এপ্রিল মাসে মূল্যবান এই ধাতুর দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ১০ বার। যেখানে বেড়েছে ৪ বার; আর কমেছে ৬ বার। এরপর মে মাসে দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ৯ বার; যেখানে বেড়েছে ৪ বার এবং কমেছে ৫ বার।

চলতি জুন মাসে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ১৫ বার; যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ৪ বার, কমেছে ১০ দফা এবং ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

শেষে ৩০ জুন সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমানো হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাট নিয়ে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কেন এই অস্থিরতা?

বাজুস জানাচ্ছে, বিশ্ব বাজারে দাম ওঠা-নামা হলে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। এই কারণে দেশের বাজারে দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দেয়।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

সম্প্রতি বাজুস সভাপতি এনামুল হক খান উল্লেখ করেছেন, স্বর্ণের বাজারে অস্থিতিশীলতার জন্য বাজুস বা বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি দায়ী নয়। মূলত বিদেশে স্টক করা বা কাগজে কলমে লেনদেনের কারণে এই ওঠা-নামা ঘটছে। বাজুস কেবল দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করে।

তিনি আরও বলেন, দাম সমন্বয়ের উদ্দেশ্য হচ্ছে পাচার রোধ করা এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতি না হওয়া নিশ্চিত করা। যদি দাম সমন্বয় না করা হয়, তাহলে দেশে দাম কম থাকলে স্বর্ণ পাচার হয়ে যাবে। তাই বিশ্ববাজারে ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারের দামও সমন্বয় করা হয়।

বাজুস সভাপতি জানিয়েছেন, বর্তমানে মানুষ স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে গ্রহণ করছে। তবে বিশ্বের বাজারে বিক্রিত স্বর্ণের অনেকাংশই কাগজে কলমের মাধ্যমে (পেপার ট্রেডিং) মজুদ করা হয়। বাস্তবে কতটা ফিজিক্যাল স্বর্ণ আছে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ চোখের ছানি: জিয়াউদ্দিন হায়দার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৫০ পি.এম


দেশে অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ চোখের ছানি: জিয়াউদ্দিন হায়দার

 প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, চোখের ছানি রোগ এখনও বাংলাদেশে অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। তবে সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগীই সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে পারেন।

আজ মঙ্গলবার বিশ্বব্যাপী পালিত ‘ছানি সচেতনতা মাস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে আয়োজিত সচেতনতামূলক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্যাটারাক্ট অ্যান্ড রিফ্র্যাকটিভ সার্জনস (বিএসসিআরএস) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ডা. জিয়াউদ্দিন বলেন, চোখের ছানি রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানসম্মত চক্ষুসেবা সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বে অন্ধত্বের প্রায় ৫১ শতাংশের কারণ ছানি হলেও, বাংলাদেশে এ হার প্রায় ৮০ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা চিকিৎসানির্ভর থাকায় রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণে ঘাটতি রয়েছে। সরকার এখন চিকিৎসাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে।

জিয়াউদ্দিন হায়দার  বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রোগ শনাক্তকরণের ব্যবস্থা জোরদার করা হবে, যাতে চোখের রোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা যায়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শওকত কবির। স্বাগত বক্তব্য দেন ছানি সচেতনতা মাস উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম. নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয় করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এ. এস. এম. মইন উদ্দিন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ডা. মইন উদ্দিন জানান, দেশে বর্তমানে ছানি অস্ত্রোপচারের ব্যাকলগ প্রায় ১০ লাখ। প্রতি ৮৩৩ জন অপেক্ষমাণ রোগীর বিপরীতে রয়েছেন মাত্র একজন যোগ্য সার্জন। দেশে চক্ষু বিশেষজ্ঞ রয়েছেন প্রায় ২ হাজার ২০০ জন, যা আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় প্রায় চার গুণ কম।

তিনি আরও জানান, দেশে আনুমানিক ৪০ হাজার অন্ধ শিশুর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার শিশু চিকিৎসাযোগ্য হলেও এখনো শৈশবকালীন ছানির অস্ত্রোপচার পায়নি। একজন সার্জনের ওপর যদি ১ হাজারের কাছাকাছি রোগীর দায়িত্ব পড়ে, তাহলে জমে থাকা রোগীর চাপ কমানো সম্ভব নয়। প্রতিরোধযোগ্য এই অন্ধত্ব নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ছানি অস্ত্রোপচার অত্যন্ত নিরাপদ, কার্যকর এবং দ্রুত আরোগ্য নিশ্চিত করছে। তাই দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে গেলে ভয়, কুসংস্কার বা অবহেলা না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৪০ বছর বয়সের পর নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, ঝাপসা দেখা বা ছানির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। তাদের ভাষায়, ‘দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে গেলে অবহেলা নয়—চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সময়মতো ছানি অপারেশনই অন্ধত্ব প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করা হলো সংসদের অধিবেশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৫৩ পি.এম


৭ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করা হলো সংসদের অধিবেশন

জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এ মুলতবির কথা ঘোষণা করেন।

এর আগে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। যা বুধবার (১ জুলাই) থেকে নতুন বাজেট কার্যকর হবে। নতুন বাজেটে কর, ভ্যাট ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেট্রোরেল যাত্রীদের স্বস্তি বাড়াতে আসছে নতুন উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৫৫ পি.এম


মেট্রোরেল যাত্রীদের স্বস্তি বাড়াতে আসছে নতুন উদ্যোগ

রাজধানীর মেট্রোরেলের কমলাপুর স্টেশন আগামী বছরের মার্চে চালু করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এ বছরের জন্য কর্তৃপক্ষ বাড়তি যাত্রীর চাপ সামাল দিতেও মেট্রোরেল চলাচলের সময় ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৬-এর তৃতীয় ধাপের আওতায় মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ডিএমটিসিএল সূত্রে পাওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ, সিগন্যাল, মেকানিক্যালসহ অন্যান্য কারিগরি কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। প্রকল্পের প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। আগামী বছরের মার্চে কমলাপুর স্টেশন চালু করতে হলে কাজ দ্রুততার সাথে এগোতে হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষামূলক চলাচল বা ট্রায়াল রান শুরু করারও পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

এদিকে, মেট্রোরেল চলাচলে রাতের সময় আরও বাড়ানোর জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, গত ৭ জুন রাতের সেবা ২০ মিনিট বাড়ানোর পর দৈনিক প্রায় ১০ হাজার নতুন যাত্রী যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে মেট্রোরেলে দৈনিক গড় চার লাখ ১০ হাজার যাত্রী চলাচল করছেন। কিছু দিন যাত্রীসংখ্যা চার লাখ ২৫ হাজারও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আগে এই সংখ্যা ছিল দৈনিক প্রায় চার লাখ।

ডিএমটিসিএল কর্মকর্তারা বলেন, মেট্রোরেল চলাচলের সময় ধীরে ধীরে বাড়ানোর পরিকল্পনা তাদের আগের থেকেই ছিল, তবে সার্বিক কারিগরি বিষয়গুলো বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। রাতে চলাচল বন্ধ হওয়ার পর মূল রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হয়। ট্রেন ডিপোতে নিখুঁতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করে পরে পরদিন ভোরে নিয়মিত চলাচলের আগে প্রায় দুই ঘণ্টার ট্রায়াল রান সম্পন্ন করতে হয়। তাই রাতারাতি সময় বাড়ানো সম্ভব নয়। তবে সম্প্রতি সময় বাড়ানোর পর যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আবারও জানান, কমলাপুর স্টেশন পুরোপুরি চালু হলে সেবার পরিধি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত নিয়মিত ১২ সেট ট্রেন চলাচল করছে। ভবিষ্যতে চলাচলের সময় আরও বাড়ানো হলে একযোগে ১৪ সেট ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে ডিএমটিসিএলের।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জার্মানির রেকর্ড স্পর্শ করে ইতিহাস গড়ল ব্রাজিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৫৯ পি.এম


জার্মানির রেকর্ড স্পর্শ করে ইতিহাস গড়ল ব্রাজিল

পিছিয়ে থেকেও ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে অর্জন করে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। গতকাল রাতে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে score ছিল ১-১ সমতা। ইনজুরি সময়ের পঞ্চম মিনিটে বদলী খেলোয়াড় গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলির গোলে ব্রাজিল জয়ের স্বাদ পেতে সক্ষম হয়েছে এবং শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে পিছিয়ে থেকে ১৬তমবারের মত জয় নিয়ে মাঠ ছেড়ে জার্মানির রেকর্ড স্পর্শ করল ব্রাজিল। এছাড়া, জার্মানিও বিশ্বকাপের মঞ্চে ১৬বার পিছিয়ে থেকে জয় লাভ করেছে।

এনিয়ে টানা ১১ বার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল ব্রাজিল। ১৯৮৬ সালে এই রাউন্ডটি পুনরায় চালু হওয়ার পর থেকে প্রতিটি টুর্নামেন্টেই শেষ ষোলোতে খেলেছে ব্রাজিল।

ম্যাচের ৯৫ মিনিটে জাপানের বিপক্ষে জয়সূচক গোলটি করেন মার্টিনেলি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নক আউট পর্বে যেকোন দলের এটি সবচেয়ে দেরিতে করা ম্যাচজয়ী গোল।

জাপানের বিপক্ষে প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল ব্রাজিল। তারপরও ব্রাজিল জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়ে। দীর্ঘ ৮৮ বছর পর প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেও বিশ্বকাপের নক আউট ম্যাচে জয় পেয়ে তারা। সর্বশেষ ১৯৩৮ সালে চেকোস্লোভাকিয়ার বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেও জয় পেয়েছিল তারা,  ছিল ২-১। ১৯৩৮ সালের পর এমন পরিস্থিতিতে ৪টি ম্যাচ হেরেছে ব্রাজিল।

চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের চারটি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন ব্রুনো গিমারেস। বিশ্বকাপের এক আসরে ব্রাজিলের হয়ে এর চেয়ে অধিক অ্যাসিস্টের রেকর্ড কেবল পেলের রয়েছে। পেলে ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে ৬টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন।

জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোর গোলে ম্যাচের সমতা ফেরায় ব্রাজিল। ৩৪ বছর ১২৬ দিনে গোল করে রেকর্ড বইয়ে নাম তুলেছেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিলের হয়ে গোল করার ক্ষেত্রে তিনি দ্বিতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তবে এক্ষেত্রে রেকর্ডটি বেবেতোর। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ৩৪ বছর ১৩৭ দিন বয়সে গোল করেছিলেন বেবেতো।

জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে ২১০টি সফল পাস দিয়েছে ব্রাজিল। এটি বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ পাসের রেকর্ড।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%