প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ময়মনসিংহ, যা শিক্ষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী জেলা হিসেবে পরিচিত, সেখানে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সীমান্তবর্তী উপজেলা দিয়ে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল, এসকাফ সিরাপ ও মদসহ বিভিন্ন প্রকারের মাদক দেশে প্রবেশ করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চললেও মাদক চোরাচালান থামছে না। ফলে সরাসরি এবং অনলাইন— দুই মাধ্যমেই মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে তরুণ সমাজ।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, দেশে মাদক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি ময়মনসিংহ বিভাগে, যা ৬ দশমিক ০২ শতাংশ। জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভাগে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮১২ জন।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, ময়মনসিংহ জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা দিয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের মাদক পাচার হয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান ও নজরদারির পরও চোরাচালান বন্ধ করা যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে, ময়মনসিংহ নগরের বলাশপুর এলাকায় দিনের আলোতেই প্রকাশ্যে মাদক কেনা-বেচা হয়। অল্প টাকায় সহজেই মাদক সংগ্রহ করে অনেকেই নেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মাদক সেবনের কারণে অনেকেই শারীরিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হলেও তারা নেশার বৃত্ত থেকে বের হতে পারছেন না। উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত— সব শ্রেণির মানুষের মধ্যেই মাদকাসক্তি বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি করা হচ্ছে, নগরের পুরোহিতপাড়া, কিষ্টপুর, বলাশপুর ও কেওয়াটখালী বর্তমানে মাদকের অন্যতম স্পটে পরিণত হয়েছে। এসব এলাকা থেকেই শহরের বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর জেলা সাধারণ সম্পাদক ইয়াজদানী কোরাইশী জানান, মাদক এখন ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণ সমাজ। শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
ময়মনসিংহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশে উৎপাদন না হলেও অধিকাংশ মাদক সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করছে। মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ বলেন, সীমান্তে মাদক চোরাচালান রোধে আমাদের অভিযান ও টহল অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান জিরো টলারেন্স।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন